ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কটিয়াদীর অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক বেহাল, দুর্ভোগে এলাকাবাসী


কটিয়াদীর অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক বেহাল, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

বেতাল বাজার থেকে পং মসূয়া পর্যন্ত সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় চার কিলোমিটার। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত এবং খানাখন্দ দেখা যাচ্ছে। পর্যাপ্ত মাটি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকার কারণে বৃষ্টির ফলে সড়কের পাশ দেবে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী এই সড়কে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এটি একমাত্র সড়ক নয়, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার অধিকাংশ সড়কই বর্তমানে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে যানবাহন চলাচলে সড়কগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কটিয়াদী উপজেলায় ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে, যেখানে প্রায় তিন লাখ ৫১ হাজার মানুষের বসবাস। গত এক মাসে কয়েক দফা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আগে থেকেই নাজুক অবস্থায় থাকা সড়কগুলোর অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে।

আরও পড়ুন: সরকারি নির্দেশনা ও হাইকোর্টের আদেশ উপেক্ষার অভিযোগ: মানিকগঞ্জ-টাঙ্গাইলে স্কুল-কলেজের মাঠে মেলা, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের যথাযথ তদারকির অভাব এবং কিছু ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের দায়সারা ও নিম্নমানের কাজের কারণে সংস্কারের কয়েক মাসের মধ্যেই সড়কে আবারও খানাখন্দ সৃষ্টি হচ্ছে। তাদের দাবি, বরাদ্দ অনুযায়ী কাজের মান নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহিতা বাড়ানো প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, যদি কাজের মান পর্যবেক্ষণের জন্য তাদের যুক্ত করা হয়, তাহলে সড়কগুলো আরও টেকসই হতে পারে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেতাল বাজার থেকে পং মসূয়া বাজার, বানিয়াগ্রাম বাজার থেকে পাইকসা-অষ্টঘড়িয়া, মানিকখালী-গচিহাটা, করগাঁও রোড, বেতাল বাজার মাদ্রাসা রোড, মসূয়া-শিমুলকান্দি, বৈরাগীরচর গ্রাম, বাচ্চু মেম্বারের বাড়ি থেকে বৈরাগীরচর-কাজীরচর, অরিয়াধর-পাইকান, চরপুক্ষিয়া আতকাপাড়া থেকে পাইকান ব্রিজ এবং গচিহাটা-ধনকিপাড়া সড়ক প্রায় একই রকম বেহাল অবস্থায় রয়েছে।

এছাড়া পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডসহ ৯টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার অনেক সড়কের অবস্থাও নাজুক। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় এসব সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির সময় গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যায়, ফলে গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সড়ক বেহাল হওয়ার কারণে কৃষিপণ্য হাট-বাজারে নিয়ে যেতেও কৃষকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: এবার একুশে বইমেলা শুরু ৭ জানুয়ারি

মসূয়া-বেতাল গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হান্নান মন্তব্য করেন, ‘সরকার যে টাকা দেয়, তা ঠিকমতো খরচ করলে রাস্তা ১০ বছরেও এভাবে নষ্ট হতো না। যে দেখার কথা, সে-ই যদি অনিয়ম করে, তাহলে ভালো কাজ হবে কীভাবে? সড়কে চলাচল করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছি।’

একই এলাকার মো. আসাদ মিয়া ও আব্দুল কুদ্দুস নামের দুই প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, ‘সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে গিয়ে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। কৃষিপণ্য হাটে নিতে পরিবহন খরচও বেড়ে যায়। টেকসই কাজ না হলে এই সমস্যা শেষ হবে না।’

লোহাজুরী ইউনিয়নের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম সিরাজী বলেন, ‘আমাদের অনেক গ্রামের রাস্তা খানাখন্দে ভরা। মানুষের কষ্টের শেষ নেই। গ্রামের রাস্তা তৈরি বা মেরামতের ক্ষেত্রে সরকারের কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। পিচের পরিবর্তে পাথরের ব্লক দিয়ে রাস্তা করলে তা আরও টেকসই হতে পারে।’

কটিয়াদী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. এহেতেশামুল হক কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, ‘গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়কগুলো রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। আশা করছি, অনুমোদন পাওয়া গেলে কাজ বাস্তবায়ন শুরু করতে পারব। নতুন সড়কের কাজগুলো টেকসই করতে যথাযথ তদারকি করা হবে।’

আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে মাদক নিয়ে প্রতিবেদন করায় সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদেশি শক্তির কাছে মাথা নত করবে না সরকার : রাশেদ খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৩২ পি.এম


বিদেশি শক্তির কাছে মাথা নত করবে না সরকার : রাশেদ খান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা রাশেদ খান মন্তব্য করেছেন যে, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকার বিদেশি শক্তির কাছে মাথা নত করবে না। তিনি উল্লেখ করেন, দিল্লির চাপের কাছে নতি স্বীকার করে সরকার পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাশেদ খান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি হচ্ছে জনগণের সরকার এবং জনগণের প্রদত্ত ম্যান্ডেট নিয়েই তারা দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। দেশের জনগণ জুলাই গণহত্যার সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার চায় এবং সরকার সেই বিচার নিশ্চিত করছে। অন্যায় ও অপরাধের সঙ্গে আপস করার কোনো সুযোগ নেই।

আওয়ামী লীগ সরকারের পূর্ববর্তী কূটনৈতিক নীতির সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকার ভারতকে স্বামী-স্ত্রী কিংবা রাখীবন্ধনের মতো সম্পর্ক তৈরির কথা বলত। তবে বাংলাদেশ ও ভারত দুটিই পৃথক ও স্বাধীন রাষ্ট্র। দিল্লির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে পারস্পরিক মূল্যবোধ, সম্মান ও ন্যায়নিষ্ঠার ভিত্তিতে গড়ে তুলতে হবে।

 

ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাশেদ খান বলেন, কোনো বিশেষ সরকার বা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে হবে।

তিনি দুই দেশের মধ্যে প্রকৃত পিপল-টু-পিপল বা জনগণ পর্যায়ে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাবনায় শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের ১৩৯তম আবির্ভাব দিবস উদযাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৩২ পি.এম


পাবনায় শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের ১৩৯তম আবির্ভাব দিবস উদযাপন

পাবনায় সৎসঙ্গের প্রতিষ্ঠাতা ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের ১৩৯ তম আবির্ভাব দিবসটি বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে প্রার্থনা সভা, গঙ্গা স্নান ও ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প। এই আয়োজনটি সৎসঙ্গ বাংলাদেশের উদ্যোগে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে হিমাইতপুর বিশ্ববিজ্ঞান কেন্দ্র প্রাঙ্গণে ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের জন্মলগ্ন ঘোষণার মাধ্যমে শুরু হয়।

এরপর, প্রতীকী গঙ্গাস্নান সম্পন্ন হওয়ার পর শহরের পাথরতলা ঠাকুরবাড়ি, সিটি কলেজ ও গোপালচন্দ্র ইনস্টিটিউট মাঠে বেদমাঙ্গলিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন ভক্তরা। জন্মোৎসব উপলক্ষে পাবনা মানসিক হাসপাতালের রোগীদের মাঝে ফল ও মিষ্টান্ন বিতরণ করা হয়, এবং সাধারণ মানুষের জন্য মেডিক্যাল ক্যাম্পে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান করা হয়। এসব অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের কয়েক হাজার সৎসঙ্গী অংশগ্রহণ করেন।

 

প্রার্থনা সভা ও ঋত্বিক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সভাপতি কুঞ্জবিহারী আদিত্য, সম্পাদক ধৃতব্রত আদিত্য, সহসম্পাদক সুব্রত আদিত্য, অমল চন্দ্র রায়, সৎসঙ্গ বাংলাদেশ ঢাকার সহসম্পাদক নিখিল মজুমদার, ডাক্তার সুব্রত রায় পিন্টু ও ডাক্তার সুদীপ চৌধুরীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ঠাকুর ভক্তরা।

সিলেট থেকে আসা ঠাকুর ভক্ত সুস্মিতা, শ্যামলী মজুমদার ও প্রদীপ কুমার বলেন, "কোনো ধর্ম বর্ণ আলাদা করে নয়, ঠাকুরের চাওয়া ছিলো সবাই যেনো ভালো থাকি। আজ ঠাকুরের ১৩৯ তম আবির্ভাব দিবসে আমাদের চাওয়াও একই। সারা বিশ্বের সব ধর্ম বর্ণের মানুষ যেনো একসঙ্গে ভালো থাকি। সবার মঙ্গল হোক।"

তারা আরও বলেন, "জন্মলগ্ন পালনের পর গঙ্গাস্নান, এই স্নানে যেনো আমাদের সকল পাপ ধুয়ে মুছে যায় এমন কামনা থাকে। একইসাথে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হচ্ছে, এ থেকে যেনো আমরা মুক্ত থাকি সেই কামনাও থাকবে ঠাকুরের কাছে।"

সৎসঙ্গ বাংলাদেশ ঢাকার সহ সম্পাদক নিখিল মজুমদার বলেন, "ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র ধর্ম বর্ণ ভেদ প্রথা বিরোধী ছিলেন, তিনি মানবতার জয়গান গেয়েছেন, খাঁটি মানুষের সন্ধান করেছেন। ঠাকুরের দীক্ষানুসারে খাঁটি মানুষ হতে পারলে মানবজীবন পূর্ণতা পাবে। ঠাকুরের দর্শন বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতে সৎসঙ্গীরা কাজ করছেন।"

সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সম্পাদক ধৃতব্রত আদিত্য বলেন, "ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র পাবনার হিমাইতপুরে জন্মগ্রহণ করেন। এ জায়গাটি ঠাকুরভক্তদের কাছে পুন্যভূমি। কিন্ত মানসিক হাসপাতালের প্রাঙ্গণে ঠাকুরের জন্মস্থান ও বিশ্ববিজ্ঞানকেন্দ্র অরক্ষিত পড়ে আছে। আমরা এখানে ঠাকুরের স্মৃতি রক্ষায় মন্দির প্রতিষ্ঠা করতে সরকারের সহায়তা চাই।"

১৩৯ বছর আগে মানবতার সাধক শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র পাবনার হিমাইতপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার বাণী দিয়ে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের মন জয় করেন। তাই এ মহাপুরুষের জন্মদিনকে ভক্তরা প্রতি বছর ঠাকুরের আবির্ভাব দিবস হিসেবে পালন করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনের সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে কাজ করতে চান স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৩৩ পি.এম


চীনের সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে কাজ করতে চান স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ওষুধ ও স্বাস্থ্য প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল স্বাস্থ্য, টিকা এবং স্বাস্থ্য নিরাপত্তার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধি করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চীনের হাইকোতে অনুষ্ঠিত ‘বিএফএ গ্লোবাল হেলথ ফোরাম ২০২৬ হাইকো কনফারেন্স’-এ বক্তৃতা দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

সম্মেলনে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য চারটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেন তিনি। এই অগ্রাধিকারগুলো হলো—ওষুধ ও স্বাস্থ্য প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল স্বাস্থ্য, সুস্থ বার্ধক্য এবং টিকা ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা।

 

বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের সক্ষমতা তুলে ধরে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের ওষুধ বর্তমানে প্রায় ১৬০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। তিনি চীনের বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ প্রবেশের সুযোগ আরও সহজ করার পাশাপাশি এপিআই উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, গবেষণা এবং স্মার্ট স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়নে দেশটির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা এবং চিকিৎসা শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে অনকোলজি, প্রিসিশন মেডিসিন, রোবোটিক সার্জারি, দীর্ঘমেয়াদি রোগ ব্যবস্থাপনা এবং দূরবর্তী রোগী পর্যবেক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে।

এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

বয়স্ক জনগণের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টিও মন্ত্রীর বক্তব্যে গুরুত্ব পায়। তিনি বলেন, এশিয়ায় প্রবীণ জনগণের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে পুনর্বাসন সেবা, সহায়ক প্রযুক্তি, জেরিয়াট্রিক সেবা এবং প্রবীণবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রয়োজন।

টিকা ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও দেশগুলোর যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তার মতে, টিকা গবেষণা, উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।

 

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এশিয়ার স্বাস্থ্য খাতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে আমরা সামনে কতটা ভালোভাবে সহযোগিতা করি, উদ্ভাবন করি এবং যৌথভাবে দায়িত্ব ভাগ করে নিই তার ওপর।’

এশিয়ার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে চীনের ১৪তম জাতীয় গণরাজনৈতিক পরামর্শ সম্মেলনের জাতীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও হংকং বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলের চতুর্থ প্রধান নির্বাহী লিয়াং চুন-ইংসহ চীন, লাওস, মিশর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজায় বোমা হামলায় ধসে পড়া ভবনে ১২ ফিলিস্তিনি নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৩৩ পি.এম


গাজায় বোমা হামলায় ধসে পড়া ভবনে ১২ ফিলিস্তিনি নিহত

গাজা শহরে বোমা হামলার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত একটি সাততলা ভবন রাতের মধ্যে ধসে পড়েছে। এই ঘটনায় অন্তত ১২ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন শিশু রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ১০০ মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন। বুধবার সকালে উদ্ধারকর্মীরা ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি কার্যক্রম শুরু করেন। গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, এ ঘটনায় ১৪ জন আহত হয়েছেন।

ধসে পড়ার আগে ভবনটিতে অন্তত ১০টি পরিবার বসবাস করত। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরো মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের উদ্ধারকর্মীরা জীবিতদের খুঁজে বের করার জন্য ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ অব্যাহত রেখেছেন। রয়টার্সের কাছে আসা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা ধসে পড়া দেয়ালের নিচ থেকে দুজনকে বের করার চেষ্টা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র মাহমুদ বাসালকে একটি ছোট মেয়েকে কোলে করে নিয়ে যেতে দেখা যায়, যার গায়ে রক্তমাখা একটি স্কার্ফ ছিল। গাজা শহরের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের পরিচালক রায়েদ আল-দাহশান জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখনো মানুষের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। তাই সেখানে আটকা পড়াদের জীবিত উদ্ধারের আশা রয়েছে। ভবনটি ঘুমানোর সময় ধসে পড়ায় হতাহতের সংখ্যা বেশি হয়েছে।

 

উদ্ধারকাজে জাতিসংঘের কয়েকটি সংস্থার কর্মীরাও অংশ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির গাজা কার্যালয়ের প্রধান আলেসান্দ্রো ম্রাকিচ। তবে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। মিসরের ত্রাণ সংস্থার কর্মীরাও উদ্ধারকাজে সহায়তা করছেন। ম্রাকিচ বলেন, উদ্ধারকর্মীদের অনেক কাজই খালি হাতে করতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় আরো প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি জানান, গাজায় প্রায় ৪০০টি ভবন এখন ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। সামনে শীতকাল আসায় পরিস্থিতি আরো কঠিন হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

গাজায় ভারী উদ্ধারযন্ত্রের সংকটের জন্য ফিলিস্তিনি ও জাতিসংঘের কর্মকর্তারা ইসরায়েলের বিধিনিষেধকে দায়ী করেছেন। তাদের অভিযোগ, ধ্বংসস্তূপ সরানো ও আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি গাজায় প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে ইসরায়েল বলছে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে এসব সরঞ্জাম যাতে না যায়, সে কারণেই এই বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ টন ধ্বংসস্তূপ ও আবর্জনা জমেছে। এসব সরাতে সাত বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

 

গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, প্রায় ২ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে এখনো পরিবার বসবাস করছে। রায়েদ আল-দাহশান এসব ভবন থেকে বাসিন্দাদের দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, ক্ষতিগ্রস্ত ভবন যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। তবে গাজায় নিরাপদ আশ্রয়ের জায়গা খুবই সীমিত। এ কারণে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে ফিরে যাচ্ছে। দাহশান বলেন, অনেক বাসিন্দা মনে করেছিলেন ভবনগুলো এখনো নিরাপদ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের ঘুমের মধ্যেই ভবন ধসে পড়েছে। গত কয়েক মাসে অনেক পরিবার রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ঝড়, বাতাস ও বৃষ্টি থেকে বাঁচতে তারা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। গৃহহীন মানুষের জন্য নতুন তাঁবুর সংকটও তাদের এমন ভবনে থাকার অন্যতম কারণ।

 

২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে গাজায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর ফলে বড় পরিসরের লড়াই অনেকটা কমে আসে। তবে ইসরায়েলি হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। স্থায়ী শান্তির পথেও এখন পর্যন্ত বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। হামাস ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা সংঘাত বন্ধের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা দেওয়ারও অভিযোগ করেছে। ওই পরিকল্পনার মধ্যে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং হামাসকে নিরস্ত্র করার বিষয় রয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের দাবি, যুদ্ধবিরতি চুক্তি হামাসই লঙ্ঘন করছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের হিসাবে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ১ হাজার ৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাদের বেশির ভাগই বেসামরিক নাগরিক। অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, একই সময়ে চারজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। হামাস সাধারণত তাদের যোদ্ধাদের মধ্যে কতজন নিহত হয়েছেন, সেই সংখ্যা আলাদাভাবে প্রকাশ করে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%