বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৮:৪৫ পি.এম
রাজশাহী মহানগরীতে মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে পৃথক অভিযানে ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডলসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত ৬ থেকে ৮ অক্টোবর নগরীর শাহমখদুম, মতিহার, বোয়ালিয়া ও দামকুড়া থানা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ে ব্যবহৃত স্মার্টফোন, মোটরসাইকেল, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার (সদর), মোঃ গাজিউর রহমান।
তিনি জানান, নগরীতে মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানে শাহমখদুম থানা এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযানে নুর ইসলাম (১৮) নামে একজনকে দুই পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ২১ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দেন। অপর এক অভিযানে শাহমখদ থানার বড়বনগ্রাম মাস্টারপাড়া গ্রামের মৃত জানুর ছেলে মোঃ মফিজকে (৪০) মাদকদ্রব্য সেবনরত অবস্থায় আটক করা হয়। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত (নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) মফিজকে ৫ (পাঁচ) দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৫০ (পঞ্চাশ) টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন।
মতিহার থানার মির্জাপুর পুলিশ ফাঁড়ির অভিযানে ৪০ পিস ট্যাপেন্টাডল সহ মুসফিক এলাহী মাহিনকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। একই থানার তালাইমারী মোড় এলাকা থেকে তিন পিস ট্যাপেন্টাডল সহ ফারজানা স্বপ্না (২২) ও রতন আলীকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়। বোয়ালিয়া থানার শিল্পনগর পুলিশ ফাঁড়ির অভিযানে ৭ হাজার ৩০০ টাকা, একটি মোটরসাইকেল ও দুটি মোবাইল ফোন ও ২৪ পিস ইয়াবাসহ লিমন আহম্মেদ (২৩), তোফাজ্জল হোসেন ওরফে সাগর (২২) ও সজিব হোসেনকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়।
অন্যদিকে, বিশেষ মাদকবিরোধী টিমের অভিযানে বোয়ালিয়ার কেদুরমোড় নদীর ধারে তছলিমা খাতুন ওরফে তছলি (৪৫) নামে এক নারীকে ছয় পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ৪ হাজার ১২০ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
এ ছাড়া দামকুড়া থানার সোনাইকান্দি এলাকায় রনি (৩২) নামে একজনকে অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। তার ব্যবহৃত স্মার্টফোনে দুটি জিমেইল আইডি ও ১৬টি জুয়া-বেটিং অ্যাপ পাওয়া গেছে। জব্দ করা হয়েছে একটি মোটরসাইকেল।
এ ব্যপারে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও জুয়া প্রতিরোধ আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।#
মাসুদ রানা রাব্বানী
রাজশাহী-০১৭১১-৯৫৪৬৪৭
০৮-১০-২০২৬
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ২-১ উজবেকিস্তান
বাংলাদেশ ম্যাচের শুরুতে এগিয়ে গেলেও পরে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি। উজবেকিস্তান সমতায় ফেরার পর জয়লাভের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। তবে শেষ মুহূর্তে লাল-সবুজের দল বাজিমাত করেছে।
যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে রুনা আক্তারের গোলে বাংলাদেশ উজবেকিস্তানকে তাদের মাঠে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করেছে। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী ফুটবল দল এই গুরুত্বপূর্ণ জয়টি তাসখন্দে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের ‘এইচ’ গ্রুপের ম্যাচে অর্জন করেছে। ১১ অক্টোবর ফিলিপাইনকে পরাজিত করতে পারলে বাংলাদেশ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে মূল পর্বে খেলার টিকিট নিশ্চিত করবে।
দোস্তলিক স্টেডিয়ামের অনুশীলন মাঠে বাংলাদেশ শুরু থেকেই দারুণ খেলে। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে সাইফুল বারী টিটুর দল এগিয়ে যায়।
মাঝমাঠ থেকে ফাতেমা আক্তারের বাড়ানো পাস ডান প্রান্তে পূর্ণিমা মারমার কাছে পৌঁছায়। এ সময় উজবেকিস্তানের গোলকিপার মারিয়া খালকুলোভা গোলবার ছেড়ে এগিয়ে আসেন। পূর্ণিমা সুযোগ বুঝে চিপে বল জালে পাঠিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন।
তবে বাংলাদেশ বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে পারেনি। ১৭ মিনিটে নিজেদের বক্সের কাছে আইরিন খাতুনের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে লারাঙ্গিজ লাকায়েভা বল কেড়ে নিয়ে বাংলাদেশের গোলকিপার মেঘলা রানি রায়ের পাশ দিয়ে শট নেন। এর ফলে উজবেকিস্তান সমতায় ফিরে আসে।
বিরতির পরও লড়াই সমানে-সমান ছিল। দুই প্রান্তে আক্রমণ হয়েছে এবং গোলের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের আলপি আক্তার ডান দিক দিয়ে বল নিয়ে উজবেকিস্তানের বক্সে ঢুকে গোলের চেষ্টা করেন। তবে তার শট উজবেক গোলকিপার খালকুলোভা ঠেকিয়ে দেন।
ম্যাচের শেষ দিকে উজবেকিস্তানের আক্রমণের মাত্রা বাড়তে থাকে। তবে জয়লাভের জন্য মরিয়া বাংলাদেশও সুযোগের অপেক্ষায় ছিল।
অবশেষে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে সেই সুযোগ আসে। সুরভী রানির থ্রু বল ধরে উজবেকিস্তানের গোলকিপারকে একা পেয়ে যান রুনা আক্তার। তিনি কোনো ভুল না করে দারুণ শটে বল জালে পাঠান।
বাছাইপর্বের আট গ্রুপের আট চ্যাম্পিয়ন দল ২০২৭ চীনে অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়েছে ২২ দিনব্যাপী ‘মা-ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’। এই সরকারঘোষিত নিষেধাজ্ঞার বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনী সমুদ্র, উপকূলীয় এলাকা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ প্রধান প্রজনন নদ-নদীতে সমন্বিত টহল ও তদারকি কার্যক্রম জোরদার করেছে।
সারা দেশে আগামী ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। একই সঙ্গে সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ এলাকায় সব ধরনের মৎস্য নৌযান দ্বারা মাছ ধরা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
নৌবাহিনী সূত্র জানায়, ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় নৌবাহিনীর জাহাজ ও বিশেষ কন্টিনজেন্ট দেশের অন্তত ৯টি জেলা ও প্রজনন এলাকায় মাঠে নেমেছে। নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ এবং বিশেষায়িত ‘মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট’ সমুদ্রসীমায় দেশি-বিদেশি ট্রলারের অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং বেআইনি মৎস্য শিকার ঠেকাতে সার্বক্ষণিক আকাশ ও জলপথে নজরদারি চালাচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও মৎস্য পরিদপ্তরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রেখে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ফ্লিটের বিভিন্ন জাহাজ, স্পিডবোট ও কন্টিনজেন্ট কাজ করছে।
অভিযান চলাকালে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ আহরণে লিপ্ত অসাধু ব্যক্তি ও অননুমোদিত যান্ত্রিক ট্রলারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি জেলে ও উপকূলীয় বাসিন্দাদের সচেতন করতে প্রচারণা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
দেশের মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও নিরাপদ প্রজনন পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে নৌবাহিনীর এই বিশেষ অভিযান আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে আড়াই বছরের এক শিশুকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগে পুলিশ সৎমা আকলিমা ও বাবা আব্দুল কাদিরকে আটক করেছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে তাদের আটক করা হয়।
মৃত শিশুর মা মোছা. শেফালী গৌরীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে সৎমা ও বাবাকে আসামি হিসেবে উল্লেখ করেন।
ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গের উপ-পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, শিশু মৃত্যুর ফরমে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ৬ অক্টোবর দুপুরে সৎমা আকলিমা শিশুটিকে ডিম ও পানি খাইয়ে বিছানায় শুইয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর শিশুটি কাশতে শুরু করলে তার দাদি আছিয়া আক্তার ঘরে গিয়ে তার মুখ থেকে বিষের গন্ধ পান। পরে শিশুটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।
মৃত শিশুর মা শেফালীর অভিযোগ, এক বছর আগে আব্দুল কাদির পরকীয়ায় জড়িয়ে তাকে তালাক দিয়ে আকলিমাকে বিয়ে করেন। তিনি দাবি করেন, স্বামী ও সতীন মিলে তার ছোট ছেলেকে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে। এমনকি তাকে না জানিয়ে লাশ তড়িঘড়ি দাফনের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে অভিযুক্ত বাবা আব্দুল কাদির বিষ খাওয়ানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গৌরীপুর থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে সৎমা ও বাবাকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ