বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৮:৫৭ পি.এম
বাংলাদেশ ২-১ উজবেকিস্তান
বাংলাদেশ ম্যাচের শুরুতে এগিয়ে গেলেও পরে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি। উজবেকিস্তান সমতায় ফেরার পর জয়লাভের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। তবে শেষ মুহূর্তে লাল-সবুজের দল বাজিমাত করেছে।
যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে রুনা আক্তারের গোলে বাংলাদেশ উজবেকিস্তানকে তাদের মাঠে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করেছে। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী ফুটবল দল এই গুরুত্বপূর্ণ জয়টি তাসখন্দে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের ‘এইচ’ গ্রুপের ম্যাচে অর্জন করেছে। ১১ অক্টোবর ফিলিপাইনকে পরাজিত করতে পারলে বাংলাদেশ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে মূল পর্বে খেলার টিকিট নিশ্চিত করবে।
দোস্তলিক স্টেডিয়ামের অনুশীলন মাঠে বাংলাদেশ শুরু থেকেই দারুণ খেলে। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে সাইফুল বারী টিটুর দল এগিয়ে যায়।
মাঝমাঠ থেকে ফাতেমা আক্তারের বাড়ানো পাস ডান প্রান্তে পূর্ণিমা মারমার কাছে পৌঁছায়। এ সময় উজবেকিস্তানের গোলকিপার মারিয়া খালকুলোভা গোলবার ছেড়ে এগিয়ে আসেন। পূর্ণিমা সুযোগ বুঝে চিপে বল জালে পাঠিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন।
তবে বাংলাদেশ বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে পারেনি। ১৭ মিনিটে নিজেদের বক্সের কাছে আইরিন খাতুনের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে লারাঙ্গিজ লাকায়েভা বল কেড়ে নিয়ে বাংলাদেশের গোলকিপার মেঘলা রানি রায়ের পাশ দিয়ে শট নেন। এর ফলে উজবেকিস্তান সমতায় ফিরে আসে।
বিরতির পরও লড়াই সমানে-সমান ছিল। দুই প্রান্তে আক্রমণ হয়েছে এবং গোলের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের আলপি আক্তার ডান দিক দিয়ে বল নিয়ে উজবেকিস্তানের বক্সে ঢুকে গোলের চেষ্টা করেন। তবে তার শট উজবেক গোলকিপার খালকুলোভা ঠেকিয়ে দেন।
ম্যাচের শেষ দিকে উজবেকিস্তানের আক্রমণের মাত্রা বাড়তে থাকে। তবে জয়লাভের জন্য মরিয়া বাংলাদেশও সুযোগের অপেক্ষায় ছিল।
অবশেষে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে সেই সুযোগ আসে। সুরভী রানির থ্রু বল ধরে উজবেকিস্তানের গোলকিপারকে একা পেয়ে যান রুনা আক্তার। তিনি কোনো ভুল না করে দারুণ শটে বল জালে পাঠান।
বাছাইপর্বের আট গ্রুপের আট চ্যাম্পিয়ন দল ২০২৭ চীনে অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়েছে ২২ দিনব্যাপী ‘মা-ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’। এই সরকারঘোষিত নিষেধাজ্ঞার বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনী সমুদ্র, উপকূলীয় এলাকা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ প্রধান প্রজনন নদ-নদীতে সমন্বিত টহল ও তদারকি কার্যক্রম জোরদার করেছে।
সারা দেশে আগামী ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। একই সঙ্গে সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ এলাকায় সব ধরনের মৎস্য নৌযান দ্বারা মাছ ধরা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
নৌবাহিনী সূত্র জানায়, ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় নৌবাহিনীর জাহাজ ও বিশেষ কন্টিনজেন্ট দেশের অন্তত ৯টি জেলা ও প্রজনন এলাকায় মাঠে নেমেছে। নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ এবং বিশেষায়িত ‘মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট’ সমুদ্রসীমায় দেশি-বিদেশি ট্রলারের অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং বেআইনি মৎস্য শিকার ঠেকাতে সার্বক্ষণিক আকাশ ও জলপথে নজরদারি চালাচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও মৎস্য পরিদপ্তরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রেখে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ফ্লিটের বিভিন্ন জাহাজ, স্পিডবোট ও কন্টিনজেন্ট কাজ করছে।
অভিযান চলাকালে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ আহরণে লিপ্ত অসাধু ব্যক্তি ও অননুমোদিত যান্ত্রিক ট্রলারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি জেলে ও উপকূলীয় বাসিন্দাদের সচেতন করতে প্রচারণা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
দেশের মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও নিরাপদ প্রজনন পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে নৌবাহিনীর এই বিশেষ অভিযান আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে আড়াই বছরের এক শিশুকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগে পুলিশ সৎমা আকলিমা ও বাবা আব্দুল কাদিরকে আটক করেছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে তাদের আটক করা হয়।
মৃত শিশুর মা মোছা. শেফালী গৌরীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে সৎমা ও বাবাকে আসামি হিসেবে উল্লেখ করেন।
ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গের উপ-পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, শিশু মৃত্যুর ফরমে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ৬ অক্টোবর দুপুরে সৎমা আকলিমা শিশুটিকে ডিম ও পানি খাইয়ে বিছানায় শুইয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর শিশুটি কাশতে শুরু করলে তার দাদি আছিয়া আক্তার ঘরে গিয়ে তার মুখ থেকে বিষের গন্ধ পান। পরে শিশুটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।
মৃত শিশুর মা শেফালীর অভিযোগ, এক বছর আগে আব্দুল কাদির পরকীয়ায় জড়িয়ে তাকে তালাক দিয়ে আকলিমাকে বিয়ে করেন। তিনি দাবি করেন, স্বামী ও সতীন মিলে তার ছোট ছেলেকে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে। এমনকি তাকে না জানিয়ে লাশ তড়িঘড়ি দাফনের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে অভিযুক্ত বাবা আব্দুল কাদির বিষ খাওয়ানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গৌরীপুর থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে সৎমা ও বাবাকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সউদী আরবের রাজধানী রিয়াদে হুথি বিদ্রোহীদের দ্বারা ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সামরিক বাহিনী সফলভাবে আকাশে ধ্বংস করার পর, এর ধ্বংসাবশেষ বা স্প্লিন্টার বেশ কয়েকটি ভবনে অবকাঠামোগত ক্ষতির সৃষ্টি করেছে।
সউদী সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি নিশ্চিত করেছে যে, খসে পড়া টুকরোর আঘাতে একটি কিন্ডারগার্টেন (শিশু বিদ্যালয়) এবং একটি মেডিকেল ক্লিনিক কমপ্লেক্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর আগে, সউদী নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, রাজধানীর দিকে ধেয়ে আসা একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে যে, তাদের এই হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল রিয়াদস্থিত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এ ঘটনার পর এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর নিশ্চিত করা হয়নি, তবে সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সূত্র: রয়্যাল সউদী সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাটের ফকিরহাটে একটি বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে চেতনানাশক ওষুধ স্প্রে করা হয়েছে। এই ঘটনার ফলে মোঃ হাফিজুর রহমান শিকারী (৭৭) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা (এসআই) মারা গেছেন।
পুলিশ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাটি উপজেলার বেতাগা এলাকায় সংঘটিত হয়েছে।
নিহতের স্ত্রী নুরজাহান বেগম রিনা (৬৮) অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
হাফিজুর রহমান বেতাগা এলাকার মৃত ইজার উদ্দিন শিকারীর ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত রাতের কোনো এক সময় দুষ্কৃতকারীরা সুকৌশলে বাড়ির ঘরের ভেতর চেতনানাশক ওষুধ স্প্রে করে। এরপর তারা ঘর থেকে স্বর্ণালংকারসহ অন্যান্য জিনিসপত্র চুরি করে পালিয়ে যায়।
পরদিন বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয়রা ওই বাড়িতে হাফিজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রীকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। তাঁদের দ্রুত খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক হাফিজুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তাঁর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
এ ঘটনার খবর পেয়ে ফকিরহাট থানা পুলিশ, সিআইডি ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। স্থানীয়রা জানান, ওই বাড়িতে হাফিজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী নুরজাহান বেগম রিনা বসবাস করতেন। তাঁদের একমাত্র ছেলে নুরুল ইসলাম রিপন চাকরির সুবাদে সপরিবারে ঢাকায় বসবাস করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির ঘরের ভেতরের মালামাল ও জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। ঘরের একটি জানালা খোলা পাওয়া গেছে। তবে স্থানীয়দের ধারণা, ঘরের ভেতর আগে থেকেই কেউ লুকিয়ে থাকতে পারে।
ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রজিউল্লাহ খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ওসি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই বাড়িতে চেতনানাশক ওষুধ স্প্রে করে চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা। ওষুধের বিষক্রিয়ায় ওই ব্যক্তি মারা গিয়ে থাকতে পারেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে তাঁর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ