০৩:৩১ পি.এম
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় ক্ষমতার প্রভাবের মাধ্যমে স্থানীয় দোলন মল্লিক নামের এক ব্যক্তি শতবর্ষী খাল দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। খালের পাশে এক শতক জমি ক্রয় করে, সরকারি খাসজমি দখল করে নিয়েছেন। বহুতল ভবন নির্মাণের ফলে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়ভাবে নিষেধ করা হলেও তিনি কারও কথা শুনছেন না। গায়ের জোরে ভবন নির্মাণের কাজ অব্যাহত রেখেছেন।
এদিকে, ভূমি অফিসের নাকের ডগায় খাল বন্ধ করে স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ জানালে ভূমি অফিসের কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে না।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার ঘরিসার ইউনিয়ন ভূমি অফিসসংলগ্ন নড়িয়া-ঘরিসার এলজিইডি রাস্তার পাশে পন্ডিতসার বাজার টিএম গিয়াস উদ্দিন কলেজের পাশে শতবর্ষী খাল দখল করে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান
স্থানীয়রা জানান, খালটি উপজেলা সদরের কৃতিনাশা নদী থেকে ঘরিসারের পদ্মা-হোগলা নদী পর্যন্ত বিস্তৃত, যা বিভিন্ন নৌ-যানের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়। এই খাল দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের জন্য পণ্য ও নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে ট্রলার, কার্গো ও নৌকা চলাচল করে।
খাল ভরাট করে ভবন নির্মাণের ফলে খালের পরিধি ছোট হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে জোয়ার-ভাটার স্রোত কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা খাল ভরাট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রবাহিত খালের ওপর অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করছেন স্থানীয় দোলন মল্লিক। সরকারি খাস এবং খাল দখল করে ভবন নির্মাণের প্রতিবাদ করলেও তিনি তা শোনেননি। পরে স্থানীয়রা ইউনিয়ন ভূমি অফিসারের কাছে অভিযোগ করেছেন, কিন্তু ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা এখনও নীরব রয়েছেন।
স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক কামাল খান ও বিপ্লব সরদার জানিয়েছেন, গায়ের জোরে খাল বন্ধ করে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। নিষেধ করার পরও তিনি শুনছেন না।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নতুন তথ্য দিলেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত জুলি বিশপ
তারা আরও জানান, প্রভাব খাটিয়ে দ্রুতগতিতে নির্মাণকাজ করছেন তিনি। এতে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে এবং ধীরে ধীরে খালটি ভরাট হয়ে যাবে। খালটি ঘরিসার ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কৃষিজমিতে পানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান উৎস।
এ খালে স্থাপনা নির্মাণ হলে শুকনো মৌসুমে পানির প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যাবে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়বে, যা কৃষি উৎপাদনকে ব্যাহত করতে পারে।
খাল দখল করে ভবন নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে দোলন মল্লিক সাংবাদিকদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে বলেন, "আমি খাল দখল করে বিল্ডিং করতেছি, তুই যা পারিস করিস। আমি কাউকে ভয় পাই না।"
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সবুজ চৌধুরী মন্তব্য করেন, প্রবহমান খালের মধ্যে কোনো অবস্থাতেই স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না।
আরও পড়ুন: কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আগামীকাল বৃষ্টি হবে কি না জানবেন কৃষকরা: প্রধানমন্ত্রী
ঘরিসার ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পুনরায় খাল দখল করে সরকারি খাসজমিতে ভবন নির্মাণের সুযোগ নেই।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল কাইউম খান জানান, সরকারি জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। কেউ ভবন নির্মাণ করলে অবশ্যই সেটি উচ্ছেদ করা হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, পানিপ্রবাহ বন্ধ করে এভাবে বহুতল ভবন নির্মাণের কোনো যুক্তি নেই। ক্ষমতার দাপটে যা ইচ্ছে তা করতে দিলে এসব পানির ছড়া অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।
আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে নারীদের উদ্যোগেই হচ্ছে দুর্গাপূজা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন