১১:২৯ পি.এম
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন যে, ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় বিশিষ্ট আলেম-ওলামাদের ওপর অকথ্য নির্যাতন করা হতো এবং তাদেরকে কারাগারে দুঃসহ বন্দিজীবনে রাখা হতো।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘স্বৈরাচারের পতনের পর মহান আল্লাহ আমাদের দেশ গড়ার যে সুযোগ দিয়েছেন, আমরা যেনো ঐক্যবদ্ধভাবে তা কাজে লাগাতে পারি।’
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বঙ্গভবনে বিশিষ্ট আলেম ও ইসলামী ব্যক্তিবর্গের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: জাতীয়কৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য জরুরি এমপিও নির্দেশনা
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুফতি বশিরুল্লাহ্-র নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুফতী হারুন ইজহার, মাওলানা মীর ইদরীস নদভি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা রফিকুল ইসলাম, জাতীয় ইমাম খতীব কাউন্সিলের কো-অর্ডিনেটর মাওলানা ফয়সাল এবং খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশের প্রচার সম্পাদক মাওলানা আফসার মাহমুদ।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় আলেম-ওলামাদের ওপর অকথ্য নির্যাতন ও কারাগারে দুঃসহ বন্দিজীবনের বেদনার স্মৃতি স্মরণ করে বলেন, ‘স্বৈরাচারের পতনের পর মহান আল্লাহ আমাদের দেশ গড়ার যে সুযোগ দিয়েছেন, আমরা যেনো ঐক্যবদ্ধভাবে তা কাজে লাগাতে পারি।’
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন যেনো দেশে কখনো ফিরে না আসে এবং ধর্মের নামে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে, সে ব্যাপারে সবার সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ইসলামি পন্ডিত ও আলেম-ওলামাদের প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শন করতেন। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ইসলামের প্রতি মমতাবোধ থেকে সংবিধানে ‘বিস্মিল্লাহির্-রাহ্মানির্-রহিম’ সংযোজন করেছিলেন। এছাড়া, আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।
আরও পড়ুন: শফিকুল আলমের মন্তব্য: ইশরাকের পদত্যাগ ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমানে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ব্যক্তি। তবে তিনি ইসলামী মূল্যবোধ ও শরীয়ায় আঘাত আসা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে লক্ষ্য রাখবেন।
প্রতিনিধিদলটি মধ্যপ্রাচ্যের ধনী ও উন্নত দেশ থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে এবং অনুদান সহায়তা আনার জন্য তাদের আরবী ভাষা ও যোগাযোগের দক্ষতা এবং ব্যক্তিগত সংযোগ ব্যবহারের অনুরোধ করেন। রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অব্যাহত যোগাযোগের পরামর্শ দেন এবং সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
প্রতিনিধিদলটি রাষ্ট্রপতিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী দারুল উলুম মাদ্রাসা ও ফটিকছড়িতে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসা সফরের আমন্ত্রণ জানান।
রাষ্ট্রপতি সুবিধাজনক সময়ে মাদ্রাসাগুলিতে সফরের এবং হেফাজতের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী: জুলাই অভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে একটি মহল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন