মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:২২ পি.এম
ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) নিনমাসে উদ্বোধন করা হয়েছে দেশের প্রথম লিভারের চর্বির পরিমাপক, লিভারের ক্যান্সার ও থাইরয়েড ক্যান্সার নির্ণয়ক রেজোনা এ২০ আল্ট্রা হাই রেজুলিউশন মেশিন।
আজ মঙ্গলবার নিনমাসের রিসার্চ সেল এবং আল্ট্রাসাউন্ড ও কালার ডপলার ডিভিশন আয়োজনে কামাল উদ্দিন আহমেদ অডিটরিয়ামে বিয়ন্ড কনভেনশনাল আল্ট্রাসাউন্ড: ইলাসটোস্ক্যান এন্ড ফ্যাট কোয়ানটিফিকেশনাল উয়িথ হাই রেজুলেশন আলাট্রাসাউন্ড বিষয়ে এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে সভাপতি ছিলেন নিনমাসের পরিচালক এবং বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ৩৩ শতাংশ মানুষ ফ্যাটি লিভার বা লিভারের চর্বিজনিত সমস্যা রোগে ভুগছেন। তাছাড়া প্রায় ১৬ শতাংশ মানুষ ক্রনিক লিভার ডিজিজ এবং লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে এবং ২ শতাংশ মানুষ থাউরয়েড ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো রেজোনা এ২০ এর মতো আল্ট্রা হাই রেজোলিউশন মেশিন সরবরাহ করেছে মিনডারি কোম্পানি।
তিনি বলেন, এই নতুন মেশিনের মাধ্যমে নিনমাসে প্রথমবারের মতো লিভারে চর্বি নির্ণয়ের আধুনিক প্রযুক্তি ইলাসটোস্ক্যান সংযোজিত হলো।
দেশের রোগীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বৈজ্ঞানিক সেমিনারে লিভার ইলাস্টোগ্রাফি’র ওপর বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অনুপ কুমার কুন্ডু। এছাড়া আল্ট্রা হাই রেজোলিউশন থাইরয়েড ইলাস্টোগ্রাফি এবং ফ্যাট কোয়ান্টিফিকেশন উপর বক্তব্য রাখেন জোহান্না অং।
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিন্টিগ্রাফি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. নাসরিন সুলতানা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : শিশুদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন করতে হলে তাদের মৌলিক বা বুনিয়াদি শিখন দক্ষতা যেমন পড়া, যুক্তি তৈরি ও তথ্য যাচাইয়ের উন্নয়ন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে শিশুদের বুনিয়াদি শিখনে কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের জন্য তাদের শিখন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা জরুরি। একই সঙ্গে, যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এআই চালু বা ক্রয়ের আগে পরীক্ষামূলক প্রকল্প ও মূল্যায়নে শিক্ষকদের সরাসরি যুক্ত করা উচিত।’
মঙ্গলবার, স্থানীয় সময় ফ্রান্সের প্যারিসে ইউনেস্কো সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত চার দিনব্যাপী ‘ডিজিটাল লার্নিং উইক ২০২৬’-এর ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে শিক্ষা’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সেশনে তিনি এসব কথা বলেন।
এই আন্তর্জাতিক ফোরামে বিশ্বের ২৫টি দেশের মন্ত্রী ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করছেন। এবারের ডিজিটাল লার্নিং উইকের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে শিক্ষা: সত্য, দ্বন্দ্ব, সীমানা’ এবং এটি ৮ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।
শিক্ষা ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের সুযোগ ও সীমারেখা তুলে ধরে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের অনেক সময় বাঁচালেও সব ক্ষেত্রে এর ব্যাপক ব্যবহারের সুযোগ নেই। তবে যুগের চাহিদায় পিছিয়ে থাকার উপায় নেই। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষকদের নিয়োগ, পদোন্নতি, পারফরম্যান্স মূল্যায়ন কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে কেবল স্বয়ংক্রিয় এআই ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করা সমীচীন হবে না।
বিশ্বব্যাপী এআই’র জনপ্রিয়তা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কতজন ব্যবহার করছে বা কতগুলো পাইলট প্রকল্প চলছে—তা দেখে এআই’র সফলতা বিচার করা যাবে না। বাংলাদেশে শিক্ষার সুনির্দিষ্ট ফলাফল, শিক্ষকের কাজের চাপ হ্রাস, শিক্ষা সমতা, তথ্য সুরক্ষা ও ব্যয়-সাশ্রয়ের মূলদণ্ডে এআই ব্যবস্থার বাস্তব মূল্যায়ন করা উচিত।
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন আগামীকাল বুধবার শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলনের ‘টিচার্স এট দ্য সেন্টার: এজেন্সি, কম্পিটেন্সিস অ্যান্ড দ্য টিচার-স্টুডেন্ট রিলেশনশিপ’ শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ প্লেনারি সেশনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে কানাডার মধ্যে। মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হয়েছে মার্কিন পণ্যের ওপর কানাডার আরোপিত পাল্টা শুল্ক। তবে দুই দেশের মধ্যে নতুন কোনও বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে এখনও দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি।
কানাডার নতুন পাল্টা শুল্কের আওতায় আসছে প্রায় ২৮ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার (প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) মূল্যের মার্কিন পণ্য। ইস্পাত, আসবাবপত্র ও তুলার টি-শার্টসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর এসব শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কের হার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত রয়েছে।
তবে, তালিকায় থাকা তাজা মাছ ও লবস্টারের ওপর শুল্ক আরোপ থেকে কানাডা পরে সরে এসেছে। দেশটির সামুদ্রিক খাদ্যশিল্পের তীব্র আপত্তির পর এসব পণ্য বাদ দেওয়া হয়েছে। এটি স্পষ্ট করে যে, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে কানাডাকে সতর্কভাবে ভারসাম্য রক্ষা করতে হচ্ছে।
আলোচনা ফের শুরুর উদ্যোগ নেই
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার কর্মকর্তারা উভয়েই বাণিজ্যচুক্তিতে পৌঁছানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে আগস্টের শেষ দিকে আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর তা আবার শুরু করার বিষয়ে এখনও কোনও অগ্রগতি হয়নি।
গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ‘টেকসই’ চুক্তি চায় তার দেশ, যা উভয় দেশের স্বার্থ রক্ষা করবে।
কার্নি বলেন, “আমেরিকানরা প্রস্তুত হলেই আমরা আলোচনার টেবিলে বসে চুক্তি করতে প্রস্তুত।”
তবে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার দাবি করেছেন, পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্ব এখন কানাডার।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গ্রিয়ার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কানাডাকে ‘সেরা চুক্তির প্রস্তাব’ দিয়েছিল, কিন্তু কানাডা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগও খুব সীমিত রয়েছে বলে তিনি জানান।
কানাডার সম্প্রচারমাধ্যম সিবিসিকে দেওয়া পৃথক এক সাক্ষাৎকারে গ্রিয়ার পাল্টা শুল্ক আরোপের ব্যাপারে সতর্ক করে বলেন, এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র কানাডার কিছু পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করার মতো পদক্ষেপ নিতে পারে।
বোম্বার্ডিয়ার নিয়েও ট্রাম্পের হুমকি
বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যে কানাডার বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোম্বার্ডিয়ার নিয়েও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কানাডাভিত্তিক বোম্বার্ডিয়ার যুক্তরাষ্ট্রে তাদের উৎপাদন সরিয়ে না নিলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠানটির সব ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার পদক্ষেপ নিতে পারেন তিনি।
বোম্বার্ডিয়ার কানাডার অন্যতম বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান। হিসাবরক্ষণ প্রতিষ্ঠান পিডব্লিউসির এক প্রতিবেদনের মতে, ২০২৪ সালে কানাডার বার্ষিক মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রতিষ্ঠানটি ৭ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারের বেশি অবদান রেখেছে।
এর আগে সপ্তাহান্তে ট্রাম্প একাধিক ট্রুথ সোশ্যালে পোস্টে কানাডার সমালোচনা করেন। একটি পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার বিনিময় হারকে তিনি ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন। আরেকটি পোস্টে উত্তর আমেরিকার মানচিত্রে কানাডা, মেক্সিকো ও গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা বসানো একটি ছবি প্রকাশ করেন।
প্রায় ৯০০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্কগুলোর একটি বিদ্যমান। ২০২৫ সালে দুই দেশের মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
নতুন মার্কিন শুল্ক এবং কানাডার পাল্টা শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর দুই দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো সম্ভাব্য নতুন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বর্তমানে কানাডার গাড়ি ও ট্রাকের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। একই সঙ্গে কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও কাঠের ওপরও শুল্ক রয়েছে। আগস্টের শেষ দিকে ট্রাম্প আরও কিছু পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। এর মধ্যে রয়েছে দুগ্ধজাত পণ্য, অ্যালকোহল, হকি স্টিক ও সুগন্ধির মতো পণ্য।
এর জবাবে কানাডা মঙ্গলবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা শত শত পণ্যের ওপর ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে। প্রধানমন্ত্রী কার্নি এসব শুল্ককে ‘ডলার-ফর-ডলার’ ভিত্তিক প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
কোন পণ্যে কত শুল্ক?
নতুন শুল্ক কাঠামো অনুযায়ী—
মার্কিন দুধ, গলফ ক্লাব, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম এবং জ্যাকেট ও টি-শার্টের মতো কিছু পোশাকে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে;
চিজ, টয়লেট পেপার ও এয়ার কন্ডিশনারের মতো কিছু গৃহস্থালি পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক;
ফর্কলিফট ট্রাক ও শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের ছাঁচে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করা মার্কিন গাড়ি ও ট্রাকের ওপর কানাডার যে পাল্টা শুল্ক রয়েছে, সেটিও বহাল থাকছে।
ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপের আশঙ্কা
সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দেখা গেছে, অধিকাংশ কানাডীয় নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক আরোপের পক্ষে রয়েছেন। তবে অর্থনীতিবিদেরা সতর্ক করেছেন, নতুন শুল্কের কারণে পোশাক, খাদ্য ও আসবাবপত্রের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে পারে।
কানাডিয়ান চেম্বার অব কমার্সও সরকারকে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে ‘সুনির্দিষ্ট ও সীমিত’ পন্থা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।
সংগঠনটির প্রধান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যান্ডেস লেইং বলেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারছে। তবে তারা ‘অন্তহীন উত্তেজনা বৃদ্ধির’ পরিস্থিতি চায় না। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরা এই বাণিজ্য বিরোধ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে ধরে নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
লবস্টার শিল্পে পারস্পরিক নির্ভরতা
কানাডার মৎস্যশিল্পের চাপের মুখে সরকার পাল্টা শুল্কের তালিকা থেকে কয়েক ডজন সামুদ্রিক খাদ্যপণ্য বাদ দিয়েছে। এর অন্যতম কারণ কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের লবস্টার শিল্পের মধ্যে গভীর পারস্পরিক নির্ভরতা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ধরা অনেক লবস্টার প্রথমে প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য কানাডায় পাঠানো হয়। পরে সেগুলো আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নিয়ে বাজারজাত করা হয়। ফলে একতরফা শুল্ক আরোপ করলে দুই দেশের শিল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অর্থনীতিতে মিশ্র সংকেত
সাম্প্রতিক বাণিজ্য উত্তেজনার আগে কানাডার অর্থনীতিতে কিছুটা স্থিতিস্থাপকতার লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির জিডিপি ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৮১ হাজার নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছিল।
তবে আগস্টে প্রায় ৪১ হাজার কর্মসংস্থান কমেছে। বাণিজ্য আলোচনার ভেঙে পড়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপের সময়ের সঙ্গেই এই কর্মসংস্থান কমার ঘটনা মিলে গেছে।
এর মধ্যেও উৎপাদন খাতে সামান্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। কানাডার সরকার বলছে, দেশীয় পণ্য কেনার প্রবণতা বাড়ায় ভোক্তা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের চাহিদা বৃদ্ধিই এর অন্যতম কারণ।
যুক্তরাষ্ট্রনির্ভরতা কমাতে চান কার্নি
দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাণিজ্যিক নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা করছেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। কানাডার রফতানি বাজারকে আরও বৈচিত্র্যময় করার ওপর তিনি জোর দিচ্ছেন।
জুলাইয়ের পরিসংখ্যানেও এর কিছুটা প্রতিফলন দেখা গেছে। কানাডার মোট রফতানির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রগামী পণ্যের অংশ কমে ৬৬ শতাংশে নেমে এসেছে। বাণিজ্যযুদ্ধ শুরুর আগে এই হার গড়ে প্রায় ৭৫ শতাংশ ছিল।
তবে দুই দেশের অর্থনীতি ও সরবরাহব্যবস্থার গভীর আন্তঃনির্ভরতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দ্রুত সরে গিয়ে বিকল্প বাজার তৈরি করা কানাডার জন্য সহজ হবে না। ফলে পাল্টা শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—ওয়াশিংটন ও অটোয়া শেষ পর্যন্ত সমঝোতার পথে ফিরবে, নাকি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক আরও দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল বাণিজ্যযুদ্ধে পরিণত হবে। সূত্র:
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে ‘ডাবল শিফট’ চালু করার পরিকল্পনা সরকারের নেই। প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদন এবং বাস্তব সক্ষমতা যাচাই-বাছাই করে এই সিদ্ধান্তটি প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নেওয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান। এদিন সংসদ অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জানতে চান, ঢাকাসহ সব বিভাগীয় শহরে ও জেলা পর্যায়ে চাহিদা অনুসারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দুই শিফট চালু করে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না। যদি থাকে, তবে কবে নাগাদ তা বাস্তবায়ন করা হবে?
শিক্ষামন্ত্রী সংসদে প্রশ্নের লিখিত উত্তরে জানান, শিক্ষার্থীর চাপ এবং স্থানীয় চাহিদা বিবেচনায় প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী দুই শিফট চালুর সুযোগ রয়েছে।
তবে সরকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে দুই শিফট চালু করে না; বরং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আবেদন ও বাস্তব সক্ষমতা যাচাই করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুই শিফট চালুর প্রস্তাব এলে তা পর্যালোচনা করার বিষয়গুলো সংসদে তুলে ধরেন মন্ত্রী।
এ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে- সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং অতিরিক্ত আসনের চাহিদা; প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ, আসবাবপত্র, স্যানিটেশন এবং অন্যান্য অবকাঠামোর সক্ষমতা; প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক ও কর্মচারীর প্রাপ্যতা; উভয় শিফটে নির্ধারিত পাঠঘণ্টা ও পাঠ্যসূচি সম্পন্ন করার সক্ষমতা; প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ফলাফল এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা; শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় অতিরিক্ত আর্থিক সংশ্লেষ এবং দুই শিফট চালুর ফলে শিক্ষার গুণগত মান বজায় থাকবে কি না।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুপারিশ পাওয়া গেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দুই শিফট চালুর বিষয়টি বিবেচনা করবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত শর্ত অনুসরণ করে পরবর্তী উপযুক্ত শিক্ষাবর্ষ থেকে দ্বিতীয় শিফট চালু করতে পারবে।
দেশব্যাপী এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের সময়সীমা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেহেতু এটি প্রতিষ্ঠানভিত্তিক আবেদন, যাচাই এবং অনুমোদনসাপেক্ষ প্রক্রিয়া, তাই দেশব্যাপী বাস্তবায়নের জন্য কোনো অভিন্ন সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব পাওয়া গেলে প্রচলিত নীতিমালা এবং নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, নিজেদের ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, "ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে। নিজেদের ঘরবাড়ি ও আশপাশে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।"
মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে নেত্রকোনার কলমাকান্দা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।
এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা করার এবং প্রাণী ও জীবজন্তুর প্রতি যত্নশীল হওয়ার পরামর্শও দেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ তথ্য জানান।
পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস নিজের পরিবার থেকেই শুরু করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "তোমরা নিজেরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে এবং পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও প্রতিবেশীদেরকেও সচেতন করবে। তোমাদের ছোট ছোট উদ্যোগই একটি পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।"
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খোঁজখবর নেন। তারা কোন শ্রেণিতে পড়ে, কীভাবে পড়াশোনা করছে এবং ভবিষ্যতে কী হতে চায়; এসব বিষয়েও তাদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "শুধু পাঠ্যবইয়ে মনোযোগ দিলেই হবে না; সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চা করতে হবে। সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে হবে এবং নিজেদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।"
মানুষের পাশাপাশি প্রাণী ও জীবজন্তুর প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমাদের চারপাশের অসহায় ও অবলা প্রাণীদের প্রতিও যত্নবান হতে হবে। কোনো প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করা যাবে না। জীবজন্তুর প্রতি মমতা ও দায়িত্ববোধ মানবিক সমাজের পরিচয়।"
ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ৪২ জন শিক্ষার্থী আজ জাতীয় সংসদের অধিবেশন দেখতে সংসদ ভবনে আসেন।
তাদের সঙ্গে বিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষক এবং পরিচালনা কমিটির দু’জন সদস্যও ছিলেন। সংসদ অধিবেশন প্রত্যক্ষ করার একপর্যায়ে তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া পরামর্শ নিজেদের জীবনে অনুসরণ করার পাশাপাশি পরিবার, বিদ্যালয় ও এলাকার মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ