ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সাক্ষাৎ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উদ্যোগের প্রশংসা


তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সাক্ষাৎ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উদ্যোগের প্রশংসা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিনজন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, যাঁরা নিজেদের কর্ম ও উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁদের জীবনসংগ্রাম এবং ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা শোনার পর প্রধানমন্ত্রী প্রশংসা করেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন নায়লা শারাফ, যিনি বুয়েট থেকে পাস করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নিয়েছেন, মো. আলতাফ হোসেন, যাঁর দুই হাত নেই কিন্তু বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন, এবং রেজাউল কিবরিয়া বাবুল, যিনি নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন।

সাক্ষাৎকালে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের জীবনসংগ্রাম, ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এবং সমাজের কল্যাণে পরিচালিত কার্যক্রম মনোযোগ দিয়ে শোনেন।

আরও পড়ুন: ইশরাকের মাদকবিরোধী অভিযানে ইসলামী আন্দোলনের নেতার ক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

নায়লা শারাফের ব্যতিক্রমী পেশা নির্বাচনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়ালেখা শেষ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন।

নায়লা গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে তিনি নিজেই শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করেন।

অন্যদিকে, নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন জন্ম থেকেই দুই হাতহীন। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। পা দিয়ে লেখালেখি শিখে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল।

আরও পড়ুন: নেছারাবাদে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর

নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থ দিয়ে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে এবং সেখানে ১০ জন শিক্ষক রয়েছেন। আলতাফ পা দিয়েই লেখালেখি ও বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর কথা শুনে নতুন স্কুল ভবন নির্মাণের আশ্বাস দেন।

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুল দীর্ঘদিন ধরে নিজ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ করে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম দিয়ে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন।

পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলার পর সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন বাবুল। তাঁর লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁদের প্রত্যেকের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

আরও পড়ুন: এমআরটি-৫ এর ডিপো নির্মাণে ১ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকার প্রাক-চুক্তি আলোচনা

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁদের নিজ নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে উৎসাহ দেন এবং সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চার কোটির অক্সিজেন প্ল্যান্ট থাকতেও ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশের অভাবে রোগীরা ধুঁকছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৯ পি.এম


কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চার কোটির অক্সিজেন প্ল্যান্ট থাকতেও ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশের অভাবে রোগীরা ধুঁকছেন

হাসপাতালের মেঝেতে শীতল পাটিতে শুয়ে আছেন গুরুতর অসুস্থ এক রোগী। তাঁর পাশের বেড থেকে অক্সিজেনের জন্য একটি নল টেনে আনা হয়েছে।

এটি কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের দৃশ্য। অথচ এই হাসপাতালেই রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট ও লিকুইড অক্সিজেন ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছিল। বিশাল এই অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও, সামান্য হিউমিডিফায়ার বোতল ও ফ্লোমিটারের অভাবে রোগীরা মানবেতর অবস্থায় রয়েছেন।

করোনাকালে ২০২০-২১ অর্থবছরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ উদ্যোগে যখন এই সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থা চালু হয়, তখন সবার মাঝে স্বস্তির অনুভূতি ছিল। কিন্তু আজ সেই স্বস্তি চরম অব্যবস্থাপনার কারণে হারিয়ে গেছে। হাসপাতালের অন্তত ১০টি ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে করুণ পরিস্থিতি। জীবন বাঁচানোর জন্য রোগীদের অক্সিজেন পেতে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। কোথাও অন্য রোগীর বেডের নিচে বসে, আবার কোথাও মেঝেতে বিছানা পেতে অক্সিজেন নিচ্ছেন মুমূর্ষু রোগীরা। চার কোটি টাকার এই আয়োজন যেন মুখ থুবড়ে পড়েছে কিছু ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশের অভাবে। অক্সিজেন সরবরাহের বেশ কয়েকটি আউটারও দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে রয়েছে।

পুরুষ সার্জারি (১০ নম্বর) এবং মহিলা সার্জারি (৬ নম্বর) ওয়ার্ডের অবস্থা সবচেয়ে করুণ। ১৮ শয্যার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সচল হিউমিডিফায়ার ও ফ্লোমিটার আছে মাত্র দুটি। অন্যদিকে ২৮ শয্যার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে মাত্র পাঁচটি সচল রয়েছে। ৩ নম্বর ওয়ার্ডেরও একই অবস্থা, যেখানে ২০টি বেডের মধ্যে অন্তত ছয়টি অক্সিজেন সংযোগ একেবারেই অচল। রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা এই সংকটের নির্মম শিকার। ভর্তি থাকা এক রোগীর স্বজন আব্বাসের কণ্ঠে অসহায়ত্বের চিত্র ফুটে উঠেছে। রোগীর অবস্থা গুরুতর হলেও নির্দিষ্ট বেডে অক্সিজেনের ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে মেঝেতে পাটি বিছিয়ে তাঁকে অক্সিজেন দিতে হয়েছে। পোড়াদহের কালীনাথপুর থেকে আসা মুক্তা ১৬ দিন ধরে ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন।

তিনি জানালেন, রোগীকে প্রয়োজন হলে সচল ব্যবস্থা থাকা বেডে নিয়ে যেতে হয়, কখনো আবার একটি বেডের বোতল খুলে অন্য জায়গায় লাগিয়ে জোড়াতালি দিয়ে কাজ চালানো হয়। সদর উপজেলার আসাননগরের আব্দুর রাজ্জাকও জানালেন, বেড ফাঁকা থাকলেও সংযোগযুক্ত বেডে অক্সিজেনের বোতল নেই।

নার্স ও ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা প্রতিদিন এই সংকটের সঙ্গে লড়াই করছেন। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইনচার্জ বিলকিস খাতুন এবং ১০ নম্বর ওয়ার্ডের নার্স রাবেয়া জানান, এত কম সচল যন্ত্র দিয়ে রোগীদের সেবা দেওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাধ্য হয়ে তাঁদের গুরুতর অসুস্থ রোগীদের অন্য বেডের পাশে বসিয়ে অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। ওয়ার্ড সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্ল্যান্ট স্থাপনের পর থেকেই বিভিন্ন ওয়ার্ডের কয়েকটি আউটার নষ্ট হয়ে যায়। টেকনিশিয়ানরা এসে দেখে গেলেও সেগুলো সচল করার কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নষ্ট বা হারিয়ে যাওয়া হিউমিডিফায়ার বোতল ও ফ্লোমিটারের জায়গায় নতুন সরঞ্জামও মাসের পর মাস সরবরাহ করা হয়নি।

চিকিৎসকরা বারবার সতর্ক করছেন, যাঁদের নিয়মিত বা উচ্চমাত্রায় অক্সিজেন প্রয়োজন, তাঁদের ক্ষেত্রে সরবরাহে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেও তা বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এত বড় ঝুঁকির পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্লিপ্ততা বিস্ময়কর। কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, তাঁকে এখনো কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।

তবে খোঁজখবর নিয়ে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। চার কোটি টাকার সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট যখন কয়েক শ টাকার যন্ত্রাংশের অভাবে অকেজো হয়ে মুমূর্ষু রোগীদের মেঝেতে আশ্রয় নিতে বাধ্য করছে, তখন কর্তৃপক্ষের এমন 'খোঁজ নেওয়ার' অপেক্ষায় থাকা রোগীদের জন্য এক চরম ট্র্যাজেডি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাভাবিপ্রবিতে আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৪০ পি.এম


মাভাবিপ্রবিতে আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও রূপান্তর ত্বরান্বিতকরণ প্রকল্পের (হিট) আওতায় উপ-প্রকল্প দলের সদস্যদের জন্য আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে একটি দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।

এই প্রশিক্ষণ বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি (বিএমবি) বিভাগের সেমিনার হলে শুরু হয়। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) হিট প্রকল্পের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উপ-প্রকল্পের সদস্য ও এটিএফসহ মোট ৩০ জন অংশগ্রহণ করেন।

প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি ও মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক মোঃ আনিছুর রহমান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ও হিট প্রকল্পের উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান মোগল। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ খাইরুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, প্রকল্পে দায়িত্ব পালনকারী সকলকে অত্যন্ত ন্যায় ও সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা অর্জন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রকল্পের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার, সরকারি আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ এবং ব্যয়ের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান নিজ নিজ উপ-প্রকল্পের বাস্তবায়নে কাজে লাগানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক মোঃ আনিছুর রহমান বলেন, প্রকল্পের লক্ষ্য অর্জনে পরিকল্পিত আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বাজেট অনুযায়ী ব্যয় ও অডিট আপডেট রাখা অপরিহার্য। নিয়মতান্ত্রিক হিসাব সংরক্ষণ এবং যথাযথভাবে বিল-ভাউচার প্রস্তুত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আর্থিক ব্যবস্থাপনার নিয়ম ও পদ্ধতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকলে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা কমবে এবং কাজের গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে।

প্রশিক্ষণে রিসোর্স পারসন হিসেবে সেশন পরিচালনা করেন হিট প্রকল্পের সিনিয়র ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট মো. মনসুরুজ্জামান খান। তিনি প্রকল্পের আর্থিক চুক্তি, ডাবল এন্ট্রি হিসাব পদ্ধতি এবং উপ-প্রকল্পের তহবিল ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এছাড়া উন্নয়নকাজে আর্থিক ক্ষমতা অর্পণসংক্রান্ত ২০২৬ সালের বিধান, সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) ২০২৫ অনুযায়ী সম্মানী প্রদান, বিল পরিশোধের বিভিন্ন সমস্যা এবং নগদ ক্রয়, আরএফকিউ ও ওটিএম পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণার্থীদের ধারণা প্রদান করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাগরে নিখোঁজ স্বামী, সৌদিতে নিহত ছেলের মরদেহের অপেক্ষায় মা ছাহেরা বেগম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৪০ পি.এম


সাগরে নিখোঁজ স্বামী, সৌদিতে নিহত ছেলের মরদেহের অপেক্ষায় মা ছাহেরা বেগম

যে সাগর স্বামী জালাল মিয়াকে কেড়ে নিয়েছিল, সেই সাগরেই ছেলেকে হারানোর ভয় ছিল মা ছাহেরা বেগমের। তাই স্বামীকে হারানোর পর একমাত্র ছেলেকে বাঁচানোর আকুল প্রয়াসে ধারদেনা করে তাকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন।

তিনি ভেবেছিলেন, দূরদেশে অন্তত সাগরের অনিশ্চিত জীবনের মুখোমুখি হতে হবে না ছেলেকে। কিন্তু ৩৪ বছর পর সেই ছেলেও মারা গেছেন বিদেশের মাটিতে। স্বামীর মরদেহ তো পাননি, এবার একমাত্র ছেলের মুখটি শেষবারের মতো দেখতে চান হতভাগ্য এই মা।

বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের নলবুনিয়া গ্রামের বাড়িতে বসে এখন শুধু ছেলের নাম ধরে বিলাপ করছেন ছাহেরা বেগম।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, বহু বছর আগে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হন জালাল মিয়া। তখন তার ছেলে হানিফের বয়স ছিল মাত্র দুই বছর। পিতৃহীন হানিফই ছিল মায়ের একমাত্র বেঁচে থাকার অবলম্বন। স্বামীর পরিণতি যেন ছেলের জীবনেও না আসে, সেজন্য দালালের মাধ্যমে আড়াই বছর আগে হানিফকে সৌদি আরবে পাঠান তারা। বিদেশ যাওয়ার জন্য সে সময় ধারদেনা করে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা জোগাড় করতে হয়েছিল পরিবারটিকে। সৌদি আরবে একটি পাথর প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় শ্রমিকের কাজ করতেন হানিফ। তবে ভিসার জটিলতায় প্রায় দুই বছর তাকে অবৈধ অবস্থায় কাটাতে হয়।

সেই অনিশ্চয়তা কাটাতে পাঁচ মাস আগে ফের টাকা জোগাড় করেন হানিফ। ভিসা বৈধ করার আশায় ছয়টি এনজিও ও একটি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আরও চার লাখ ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন দালালের হাতে। এত চেষ্টা ও ঋণের বোঝা সবই ছিল একটু নিশ্চিন্তে বাঁচার আশায়। কিন্তু ৩ অক্টোবর সৌদি আরবে হানিফের মৃত্যু হয়। সে দিনই পরিবারের কাছে তার মৃত্যুসংবাদ আসে। তবে ঠিক কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও জানতে পারেনি পরিবার।

হানিফের মৃত্যুর পর পরিবারটি এখন দ্বিমুখী সংকটের মুখে। বৈধ কাগজপত্র না থাকা এবং চরম আর্থিক সংকটের কারণে তার মরদেহ দেশে ফেরানো নিয়ে তৈরি হয়েছে শংকা। হানিফের সংসারেও নেমে এসেছে শোকের অন্ধকার। তার স্ত্রী কাজল আক্তারের কোলে রয়েছে ১১ বছরের ছেলে মো. জেনায়েদ ও পাঁচ বছরের মেয়ে মোসা. ছামিরা। স্বামীর মৃত্যুর পর দুই সন্তানকে নিয়ে চরম ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কাজল। মাথার ওপর চেপে বসেছে বিদেশযাত্রা ও ভিসা বৈধ করার জন্য বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংক থেকে নেওয়া ১০ লাখ টাকার ঋণের পাহাড়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কাজল আক্তার বলেন, "স্বামী বিদেশ যাওয়ার সময় ধারদেনা করে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। পরে আবার ভিসা বৈধ করার আশায় ছটি এনজিও ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে চার লাখ ৫০ হাজার টাকা দিই। এখন দুটি অবুঝ সন্তান নিয়ে সংসার চালানোর কোনো উপায় নেই, উল্টো মাথার ওপর ঋণের পাহাড়। সরকারের কাছে আমাদের একটাই আবেদন, হানিফের মরদেহ যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়, যাতে অন্তত সন্তান দুটি তাদের বাবার কবর দেখতে পায়।"

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতীশ সরকার জানান, হানিফের মৃত্যুর খবর তার পরিবার তাকে জানিয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এ ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।

নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ড. কামরুজ্জামান বাচ্চু বলেন, হানিফের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।

সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ছেলের মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় এখন দিন কাটছে মা ছাহেরা বেগম ও স্ত্রী কাজলের। যে ছেলেকে সমুদ্রের ভয় থেকে বাঁচাতে ঋণ করে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন, সেই সন্তানের মরদেহ শেষবারের মতো চোখের দেখা দেখতে পাওয়ার আকুতি এখন তাদের বুকজুড়ে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মনোহরগঞ্জে ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্পে ৩শতাধিক মানুষের সেবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৪১ পি.এম


মনোহরগঞ্জে ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্পে ৩শতাধিক মানুষের সেবা

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ছোট উত্তর হাওলা নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা মাঠে সামাজিক সংগঠন ‘উত্তর হাওলা সমাজকল্যাণ পরিষদ’-এর উদ্যোগে এবং নাথেরপেটুয়া জেনারেল হসপিটালের সহযোগিতায় একটি দিনব্যাপী ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ৩শতাধিক মানুষ চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন।

বুধবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে, ক্যাম্পটি বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলেছিল। সকাল ৯টার পর থেকেই উত্তর হাওলা ও আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ চিকিৎসা সেবা নিতে মাদরাসা মাঠে আসতে শুরু করেন। এতে ৩শতাধিক মানুষ বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন।

ফ্রি ক্যাম্পে রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন নাথেরপেটুয়া জেনারেল হসপিটালের স্ত্রী, গাইনি ও প্রসূতী রোগের চিকিৎসক ডাক্তার জ্যোতি হান্নান এবং মা, শিশু ও মেডিসিন রোগের চিকিৎসক ডাক্তার রোবায়েদ মাহমুদুল হাসান রাজন।

চিকিৎসকগণ সাধারণ রোগীদের আন্তরিকভাবে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন।

সকাল সাড়ে ১১টায় ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প পরিদর্শনে আসেন উত্তর হাওলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ও নাথেরপেটুয়া জেনারেল হসপিটালের পরিচালক মো. সালেহ আহমেদ চৌধুরী।

এসময় তিনি আয়োজক কমিটি, ডাক্তার ও রোগীদের সাথে ঘুরে ঘুরে খোঁজ খবর নেন। তিনি বলেন, "আজকের এই দিনটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের এবং তাৎপর্যপূর্ণ। কেননা, স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল—এই বাক্যটি আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সচেতনতার অভাব কিংবা অর্থনৈতিক নানা সীমাবদ্ধতার কারণে আমাদের সমাজের বহু মানুষ সময়মতো সঠিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হন। অনেক সময় সামান্য সচেতনতা বা প্রাথমিক চিকিৎসার অভাবেই ছোটখাটো শারীরিক সমস্যা জটিল আকার ধারণ করে।"

মানুষের মৌলিক অধিকার ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি মাথায় রেখে আজ উত্তর হাওলা সমাজকল্যাণ পরিষদ ও নাথেরপেটুয়া জেনারেল হসপিটালের যৌথ উদ্যোগে ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। এতে স্বাস্থ্য সেবাকে আপনাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি করাই আয়োজকদের মূল উদ্দেশ্য।

ক্যাম্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় উপস্থিত ছিলেন উত্তর হাওলা সমাজকল্যাণ পরিষদের উদ্যোক্তা মোঃ ওমর ফারুক দুলাল, পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ইউনুস মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক (সেক্রেটারী) মাস্টার জসিম উদ্দিন, সহ-সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ জোবায়ের মোল্লা এবং সহ-কোষাধ্যক্ষ মোঃ শাহাদাত হোসেনসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, মানুষের মৌলিক অধিকার ও স্বাস্থ্যসেবা সুনিশ্চিত করতে সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় এলাকাবাসী এমন ব্যতিক্রমী ও সেবামূলক উদ্যোগের জন্য উত্তর হাওলা সমাজকল্যাণ পরিষদ ও নাথেরপেটুয়া জেনারেল হসপিটালের প্রশংসা করেন।

সংবাদ প্রেরক:

আবুল কালাম আজাদ

মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) উপজেলা সংবাদদাতা

মোবাইল: ০১৭১৬২৯৪১৮২

One attachment

• Scanned by Gmail

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%