ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কিশোরগঞ্জে দুটি হাসপাতাল থেকে ১৭ দালাল গ্রেফতার


কিশোরগঞ্জে দুটি হাসপাতাল থেকে ১৭ দালাল গ্রেফতার

কিশোরগঞ্জ, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ‘কম খরচে চিকিৎসা’, ‘দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা’ কিংবা ‘উন্নত চিকিৎসা’র প্রলোভন দেখিয়ে সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়ার অভিযোগে দালাল চক্রের ১৭ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আজ মঙ্গলবার দিনভর কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ও শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে ৩২ জনকে আটক করা হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে দালাল চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

সন্ধ্যা ৬টার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

আরও পড়ুন: লিবিয়ায় জিম্মি করে ২৫ লাখ টাকা আদায়, দেশে ফিরেও হামলার শিকার প্রবাসী

পুলিশ সুপার বলেন, সরকারি হাসপাতালকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে একটি দালাল চক্র সক্রিয় থাকার তথ্য পুলিশের কাছে ছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জড়িতদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়।

ওই তালিকার ভিত্তিতে মঙ্গলবার পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সমন্বয়ে দুই হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৩২ জনকে আটক করার পর তাদের বিষয়ে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করা হয়। পরে দালাল চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল এলাকায় অবস্থান করে গ্রাম ও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের টার্গেট করতেন। প্রথমে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলতেন তারা। এরপর ‘কম খরচে চিকিৎসা’, ‘দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা’ কিংবা ‘উন্নত চিকিৎসা’র কথা বলে তাদের সরকারি হাসপাতালের বাইরে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যেতেন।

পুলিশের ভাষ্য, দালালদের এমন প্রলোভনে পড়ে অনেক রোগী ও স্বজন হয়রানির শিকার হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থও ব্যয় করতেন। বিশেষ করে জেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে চিকিৎসার জন্য আসা অসহায় ও সাধারণ রোগীরাই এসব দালালের প্রধান টার্গেট ছিলেন।

আরও পড়ুন: আদা-রসুনের ঝাঁজ বেড়েছে, অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম আগের মতোই

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, দালাল চক্রের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারি হাসপাতাল এলাকায় কোনো ধরনের দালালচক্রের তৎপরতা সহ্য করা হবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাষ্ট্রপতির এপিএস হিসেবে নিয়োগ পেলেন তৈমোর হোসেন খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:১০ পি.এম


রাষ্ট্রপতির এপিএস হিসেবে নিয়োগ পেলেন তৈমোর হোসেন খান

রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) পদে নিয়োগ পেয়েছেন মো. তৈমোর হোসেন খান।

মঙ্গলবার তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এতে বলা হয়, তৈমোর হোসেন খানকে অন্য যেকোনও পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব পদে যোগদানের তারিখ থেকে রাষ্ট্রপতির মেয়াদকাল অথবা তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হলো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজে মার্কিন সাবমার্সিবল আটক করার দাবি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:১২ পি.এম


হরমুজে মার্কিন সাবমার্সিবল আটক করার দাবি ইরানের

হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে একটি মার্কিন মানববিহীন সাবমার্সিবল বা পানির নিচে চলাচলকারী স্বয়ংক্রিয় যান আটক করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছে, তাদের বাহিনী হরমুজ প্রণালির প্রবেশপথে অভিযান চালিয়ে ওই মার্কিন সাবমার্সিবলটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

ইরানি বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, আটক করা যানটি একটি আধুনিক প্রযুক্তির মানববিহীন সাবমার্সিবল, যাতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে। তবে যানটির মডেল, আকার, পরিচালন পদ্ধতি কিংবা এটি কী ধরনের নজরদারি বা সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল—এসব বিষয়ে বিস্তারিত কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি।

আইআরজিসি নৌবাহিনী জানিয়েছে, আটক করা যানটির ছবি শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। এর মাধ্যমে নিজেদের দাবির পক্ষে দৃশ্যমান প্রমাণ উপস্থাপনের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরানি বাহিনী।

তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ইরান যে মার্কিন মানববিহীন সাবমার্সিবল আটক করেছে বলে দাবি করেছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি
ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস রফতানির একটি বড় অংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। ফলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যেকোনও সামরিক তৎপরতা বা উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক নৌবাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

এই জলপথের প্রবেশমুখে মার্কিন কোনও মানববিহীন সামুদ্রিক যান আটক করার ইরানি দাবি সত্য হলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

মানববিহীন সাবমার্সিবল সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সমুদ্রপথ পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন সামরিক বা প্রযুক্তিগত মিশনে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ইরান যে যানটি আটক করার দাবি করেছে, সেটির নির্দিষ্ট সক্ষমতা বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্বাধীনভাবে কোনও তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।

ইরানি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে আইআরজিসি নৌবাহিনীর বক্তব্য প্রচারিত হলেও ঘটনাটির বিষয়ে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত স্বাধীন কোনও সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে আটক করা যানটির ছবি বা অন্যান্য প্রমাণ প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত দাবিটির বিস্তারিত যাচাই করা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া না আসায় ঘটনাটি নিয়ে আরও তথ্যের অপেক্ষা তৈরি হয়েছে।

ইরানের এমন দাবি এর আগেও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও নজরদারি কার্যক্রম ঘিরে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সামনে এসেছে। ফলে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে এ ধরনের কোনও ঘটনা ঘটলে তা দুই দেশের সামরিক তৎপরতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা, গ্রেফতার ৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:১৫ পি.এম


সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা, গ্রেফতার ৩

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ভূমি মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন পদে সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে আসছিল একটি চক্র। দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা তাদের এজেন্টরা চাকরি প্রার্থীদের টার্গেট করে পরিচিতজনদের মাধ্যমে টোপ ফেলতো। শুরুতে বলা হতো মাস্টার রোলে নিয়োগে ৩ মাস চাকরি করতে হবে। এরপর নিয়োগের প্রজ্ঞাপন দেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। ওই প্রজ্ঞাপনেই পূর্ণাঙ্গ সরকারি চাকরি হবে। চাকরির মাধ্যম হিসেবে মধ্যবয়সী একজনকে সাজানো হতো যুগ্ম সচিব। এরপর সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের ওয়েটিং রুমে ডাকা হতো চাকরি প্রত্যাশীদের। সেখান থেকে ক্যান্টিনে বা আশপাশের কোনো রেস্টুরেন্টে নিয়ে হাতে দেওয়া হতো চাকরির নিয়োগপত্র।

অনেককে সংশ্লিষ্ট অফিসের সামনে ডেকে হাজিরা নেওয়া হতো। কাউকে কাউকে গ্রেড অনুযায়ী একমাসের বেতন অগ্রিমও দেওয়া হতো। ১৪ লাখ টাকার বিনিময়ে অফিস সহকারী পদের চাকরি দেওয়ার নামে ভুয়া কাগজ ও অভিনব কৌশলে প্রতারণা করা একটি চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন-মূলহোতা নিশিথ ওরফে রুবেল, তার দুই সহযোগী মিজানুর রহমান ওরফে মিজান ও রিংকু হোসেন। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ভূমি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের চাকরির নিয়োগপত্র, নিয়োগের পর কথিত হাজিরা খাতা, প্রজ্ঞাপন এবং পরিচয়পত্র। মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ডিসি মোল্লা মোহাম্মদ শাহিন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, পল্লবী থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার সূত্র ধরে সোমবার পৃথক অভিযানে এই চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়। তারা মাত্র ৬ জন চাকরি প্রত্যাশীর কাছ থেকেই হাতিয়ে নিয়েছে অর্ধকোটি টাকা।

ডিসি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় এই চক্রের সদস্যরা চাকরি প্রার্থীদের ফাঁদে ফেলছে। এই চক্রের হাতে প্রতারণার শিকার হয়েছেন সাবেক পুলিশ সদস্যের সন্তান থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও অন্য পেশার সন্তানরা। অনেকে জমিজমা বিক্রি করে মোটা অঙ্কের টাকা তুলে দিতো এই প্রতারক চক্রের সদস্যদের কাছে।

প্রতারণার শিকার চাকরি প্রত্যাশীরা জানিয়েছেন, অধিদপ্তরে ডেকে ৭-৮ জনের একটি চক্র এমন অভিনয় করতো মনে হতো তারা ওই অফিসের প্রভাবশালী কেউ। এই চক্রে সংশ্লিষ্ট অফিসের কেউ জড়িত কিনা সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

মোল্লা মোহাম্মদ শাহিন বলেন, কেউ যদি বিশেষ সুবিধায় চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব দেয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট অফিস বা মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে যাচাই করা উচিত। তাহলে এই প্রতারণা কমে আসবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউএনও অফিসের হিসাব সহকারীর ওপর হামলার অভিযোগ মুক্তিযোদ্ধা আলমের বিরুদ্ধে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:২১ পি.এম


ইউএনও অফিসের হিসাব সহকারীর ওপর হামলার অভিযোগ মুক্তিযোদ্ধা আলমের বিরুদ্ধে

 

 

 

 

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের হিসাব সহকারী ইসমাইল হোসেনের ওপর মুক্তিযোদ্ধা আলম মণ্ডল হামলা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। রোববার (৭ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ ভবনের দ্বিতীয় তলায় হিসাব সহকারীর নিজ কক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
 
স্থানীয় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুইজন মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন-কাফনের অনুদানের নতুন চেক হস্তান্তরের জন্য আসেন। এ সময় উপজেলা পরিষদ ভবনের তৃতীয় তলা থেকে দ্বিতীয় তলায় আসার পথে হিসাব সহকারী ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে আলম মণ্ডলের দেখা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ধমক-ধমকি দেন এবং হাতে থাকা লাঠি দিয়ে আঘাত করার পর তার কক্ষে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তিনি ইসমাইল হোসেনকে শুয়োরের বাচ্ছাসহ অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং সাত দিনের মধ্যে বদলি করার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
 
একপর্যায়ে ইসমাইল হোসেন এর প্রতিবাদ করলে আলম মণ্ডল তার হাতে থাকা কনুই লাঠি বা ক্রাচ দিয়ে ইসমাইলের কাঁধে দুইবার আঘাত করেন বলে অভিযোগ। এ সময় অফিসে উপস্থিত স্টাফ রোজিনা, মনিরসহ কয়েকজন ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে কয়েকজন কর্মচারীর সাথে কথা বলে সত্যতা জানা গেছে। ঘটনার বিষয়ে তারা ইউএনওকে অবগত করেছেন তিনি অফিস প্রধান হিসাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশা করেন।
 
অফিসের অন্য কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে তিনি সার বিক্রির ডিলার পয়েন্ট পরিদর্শনে মাঠে থাকায় আক্রান্ত হিসাব সহকারীকে নিরাপত্তার স্বার্থে ডাকবাংলোয় থাকার নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে।
 
সূত্র জানায়, অফিস কক্ষের বাইরে সিসি ক্যামেরা থাকলেও ভেতরে কোনো সিসি ক্যামেরা নেই। তাই কক্ষের ভেতরের ঘটনার কোনো ফুটেজ পাওয়া যাবে না। জানা গেছে, এর আগে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ওই দুই মৃত মুক্তিযোদ্ধার নামে ইস্যু করা চেক গ্রহণ করেছিলেন। তবে বর্তমানে তিনি প্যারালাইজড ও মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় চেক দুটির কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে আগের চেক দুটি বাতিল করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে নতুন চেক ইস্যু করা হয়।
 
ভুক্তভোগী হিসাব সহকারী ইসমাইল হোসেন বলেন, “আলম মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরেই অফিসে কিংবা রাস্তায় দেখা হলে আমাকে কটু কথা বলে অপমান করতেন। আজ তিনি সরাসরি আমার কক্ষে ঢুকে গালিগালাজ করার পর ক্রাচ দিয়ে আমাকে আঘাত করেছেন। তিনি প্রায়ই অফিসে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন।” যেহেতু তিনি উপজেলা একটি দপ্তরে চাকরি করে তাই তিনি এর সঠিক বিচার চান।
 
ওয়েব তথ্য অনুযায়ী কুড়িগ্রাম জেলায় মোট বীর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার। এর মধ্যে ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় ৯৩০ জন, কুড়িগ্রাম সদরে ৬২৯ জন, নাগেশ্বরীতে ৪৫০ জনের বেশি, উলিপুরে ৩৮০ জন, চিলমারীতে ৩৬২ জন, রৌমারীতে ৩০০ জনের বেশি, ফুলবাড়ীতে ২৫০ জনের বেশি, রাজারহাটে ২০০ জনের বেশি এবং চর রাজিবপুরে ১৫০ জনের বেশি বীর মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
 
বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা যায়, ভূরুঙ্গামারীতে এত বেশি মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরি করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মূল কাগজপত্র না থাকায় অন্যের কাগজপত্র কম্পিউটারে এডিট করে এসব তালিকা তৈরি করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের মূল কাগজপত্র যাচাই করলে সহজেই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্ত করা সম্ভব। তারা বিভিন্ন সময় এসব ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বিষয়ে অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরির সঙ্গে উপজেলা ও জেলার বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মুক্তিযোদ্ধা এবং মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা জড়িত বলেও অভিযোগ রয়েছে।
 
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেলায় কয়েক হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। এর মধ্যে ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন বলে বিভিন্ন সরকারি ও স্থানীয় সূত্রে তথ্য পাওয়া যায়। অন্যদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, আলম মণ্ডল অতীতে স্থানীয় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন। উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় ও ইউএনও কার্যালয়ে তার নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
 
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আলম মণ্ডলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার বিষয়ে তো কয়েকজন লিখছে। আমি কিছু বললে মুক্তিযোদ্ধা অফিসে সাংবাদিকদের বলব।”
 
এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ বলেন, “ইসমাইলকে মারধরের ঘটনা শুনেছি। তবে এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ বা মামলা হয়নি। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, আলম মণ্ডল উত্তেজিত হয়ে লাঠি দিয়ে গুঁতো দিতে দেখা গেছে।”
 
আলম মণ্ডলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “কিছু অভিযোগ আমরা পেয়েছি। এ বিষয়ে একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা রয়েছেন, তিনি তদন্ত করবেন। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরির অভিযোগটি আমার জানা নেই। তবে কাগজপত্র নিজ দায়িত্বে রেখে না দেওয়ার বিষয়ে একটি অভিযোগ রয়েছে।”
 
সাধারণ মানুষ হলে এমন ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হলেও মুক্তিযোদ্ধা হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইউএনও বলেন, “সার নিয়ে ব্যস্ত থাকায় জানা হয়নি। আমরা উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনব, আসলে কী হয়েছিল তা জানব। একজনের বক্তব্য শুনে কোনো মতামত দেওয়া ঠিক নয়।”
 
ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সরকারি কার্যালয়ে একজন কর্মচারীর ওপর হামলার অভিযোগের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
 
উল্লেখ্য, কয়েকমাস পূর্বে উপজেলা প্রকৌশলীকে তার অফিস কক্ষে স্থানীয় কয়েজন ব্যক্তির কথাকাটাকাটির ঘটনার তাদের বিরুদ্ধে জিডি দায়ের করা হয়েছিলো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%