শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৪০ এম
চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত জিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি। এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক পরিচয় গঠনে মধ্য এশিয়ার সঙ্গে ঐতিহাসিক যোগাযোগ, প্রাচীন সিল্ক রোডের বাণিজ্যপথ এবং তুর্কি ভাষাভাষী জনগণের বসবাসের প্রভাব রয়েছে। এখানে প্রধান জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে উইঘুর, কাজাখ, কিরগিজ ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী বিদ্যমান। তাদের মধ্যে অনেকেই মুসলমান। বিশেষ করে উইঘুররা প্রধানত সুন্নি মুসলিম এবং তাদের ভাষা, সাহিত্য, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও জীবনযাপন চীনের সংখ্যাগরিষ্ঠ হান জনগণের সংস্কৃতি থেকে আলাদা।
তবে গত এক দশকে জিনজিয়াং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ব্যাপক আটক, দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড, নজরদারি, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার ওপর নিয়ন্ত্রণ, জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ এবং পরিবার বিচ্ছিন্নতার মতো বিষয় নিয়ে চীনা সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। চীনা সরকার এসব অভিযোগের একটি বড় অংশ প্রত্যাখ্যান করে বলছে, সন্ত্রাসবাদ ও ধর্মীয় উগ্রবাদ দমনের জন্য, সামাজিক স্থিতিশীলতা, শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এসব নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
তাহলে জিনজিয়াংয়ের মুসলমানদের বর্তমান অবস্থা কেমন? পরিস্থিতি কি আগের চেয়ে স্বাভাবিক হয়েছে, নাকি বন্দিশিবিরের বিতর্কের বাইরে অন্য ধরনের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রয়েছে? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে চীনা সরকারের বক্তব্য, জাতিসংঘের মূল্যায়ন, স্বাধীন গবেষণা, মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদন এবং জনসংখ্যার সরকারি পরিসংখ্যানের পাশাপাশি বিচার করতে হবে।
নিরাপত্তানীতির পটভূমি: কীভাবে সংকটের বিস্তার?
জিনজিয়াংয়ে সহিংসতা, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযান চীনা সরকারের নিরাপত্তানীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০১৪ সালে চীন ‘সহিংস সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান’ শুরু করে। পরবর্তী সময়ে বিশেষ করে ২০১৬ সালের পর অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা ও নজরদারিব্যবস্থা ব্যাপকভাবে জোরদার হয়। ২০১৭ সাল থেকে উইঘুর ও অন্যান্য তুর্কি মুসলিমদের বিপুলসংখ্যক মানুষকে তথাকথিত ‘রাজনৈতিক শিক্ষা’ বা ‘বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রে’ আটক রাখার খবর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
চীনা সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব কেন্দ্রের উদ্দেশ্য ছিল সন্ত্রাসবাদ ও ধর্মীয় উগ্রবাদ প্রতিরোধ, ভাষা ও পেশাগত দক্ষতা শেখানো এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। সরকার দাবি করে, প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা চরমপন্থা থেকে দূরে সরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। বেইজিং আরও বলেছে, জিনজিয়াংয়ে স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বেড়েছে।
কিন্তু মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, এসব কেন্দ্রের অনেক ক্ষেত্রে মানুষকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ ছাড়াই আটক রাখা হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের স্বচ্ছ বিবরণ, বিচারপ্রক্রিয়া, আইনজীবীর সহায়তা এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। অর্থাৎ বিতর্কটি শুধু সন্ত্রাসবাদ দমনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নয়; বরং নিরাপত্তার নামে রাষ্ট্র কতটা ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে এবং সেই ক্ষমতার ওপর কার্যকর আইনি নিয়ন্ত্রণ রয়েছে কি না, তা নিয়েও।
২০২৬ সালের ২৭ আগস্ট প্রকাশিত হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উইঘুর ও অন্যান্য তুর্কি মুসলিমদের বিরুদ্ধে দমনমূলক ব্যবস্থা এখনো গুরুতর উদ্বেগের কারণ। সংস্থাটি নির্বিচার আটক, অন্যায্য কারাদণ্ড, ব্যাপক নজরদারি, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং বিদেশে বসবাসকারী উইঘুরদের ওপর চাপের কথা উল্লেখ করেছে। এসব সংস্থার মূল্যায়নকে চূড়ান্ত আদালতের রায় হিসেবে নয়, বরং নথি, সাক্ষ্য ও উপলব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে করা মানবাধিকার মূল্যায়ন হিসেবে দেখা প্রয়োজন।
জাতিসংঘের মূল্যায়ন: মানবতাবিরোধী অপরাধের আশঙ্কা
জিনজিয়াং নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিলগুলোর একটি হলো জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের ২০২২ সালের প্রতিবেদন। ৩১ আগস্ট প্রকাশিত এই মূল্যায়নে বলা হয়, সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ দমনের নামে চীনা সরকারের নীতি ও ব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটেছে। প্রতিবেদনের উপসংহারে উল্লেখ করা হয়, এসব লঙ্ঘনের কিছু আন্তর্জাতিক অপরাধ—বিশেষ করে মানবতাবিরোধী অপরাধ—হিসেবে গণ্য হতে পারে।
প্রতিবেদনটিতে নির্বিচার ও বৈষম্যমূলক আটক, নির্যাতন ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ, যৌন ও প্রজনন অধিকার, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, চলাচলের স্বাধীনতা এবং পরিবার বিচ্ছিন্নতার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়। জাতিসংঘের দপ্তর চীনা সরকারের আইন, নীতিমালা, প্রকাশিত তথ্য ও বক্তব্যও বিবেচনায় নিয়েছিল।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন কোনো আন্তর্জাতিক আদালতের চূড়ান্ত রায় নয়; এটি মানবাধিকার পরিস্থিতির একটি অনুসন্ধানমূলক মূল্যায়ন। ফলে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের আশঙ্কা’ এবং আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। কিন্তু জাতিসংঘের মতো প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়নে এ ধরনের গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশিত হওয়া আন্তর্জাতিক জবাবদিহির প্রশ্নকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।
চীনা সরকার জাতিসংঘের মূল্যায়ন প্রত্যাখ্যান করেছে। বেইজিংয়ের বক্তব্য, প্রতিবেদনটি ভুল তথ্যের ওপর নির্ভরশীল এবং সন্ত্রাসবাদবিরোধী বৈধ পদক্ষেপকে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে উপস্থাপন করেছে। অন্যদিকে জাতিসংঘের দপ্তর ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বলছে, নিরাপত্তার প্রয়োজন থাকলেও তা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অজুহাত হতে পারে না।
বন্দিশিবিরের পর: কারাগার ও আটকব্যবস্থার বর্তমান চিত্র
জিনজিয়াং নিয়ে বহুল আলোচিত প্রশ্ন হলো, তথাকথিত প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলো বন্ধ হওয়ার পর আটক মানুষদের কী হয়েছে। চীনা সরকার জানিয়েছে, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে এবং অংশগ্রহণকারীরা কর্মসংস্থান ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেছেন। কিন্তু মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বক্তব্য, কিছু কেন্দ্র বন্ধ হয়ে থাকলেও বহু উইঘুর ও অন্যান্য তুর্কি মুসলিম দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২০২৬ সালের আগস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপলব্ধ সরকারি পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে কয়েক লাখ উইঘুর ও অন্যান্য তুর্কি মুসলিম এখনো কারাগারে থাকতে পারেন। সংস্থাটি ইলহাম তোহতি, রাহিলে দাওত, গুলশান আব্বাস, ইয়ালকুন রোজি ও একপার আসাতের মতো পরিচিত ব্যক্তিদের কারাবন্দিত্বের বিষয়ও উল্লেখ করেছে। তবে বর্তমান সময়ে আটক থাকা প্রত্যেক ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত তালিকা প্রকাশ্যে নেই। ফলে সুনির্দিষ্ট মোট সংখ্যা নির্ধারণ কঠিন।
বন্দিশিবির ও কারাগারকে এক করে দেখাও ঠিক নয়। কোনো ব্যক্তি প্রশাসনিকভাবে আটক ছিলেন, কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়েছে, আবার কেউ দীর্ঘমেয়াদি সাজা পেয়েছেন—এসব আলাদা পরিস্থিতি। একইভাবে অতীতে আটক মানুষের সংখ্যা থেকে বর্তমান বন্দির সংখ্যা সরাসরি নির্ধারণ করা যায় না।
তবে বর্তমান চিত্রের একটি বড় সমস্যা হলো তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব। আটক ব্যক্তিদের নাম, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিচারসংক্রান্ত নথি, আইনজীবীর সহায়তা এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য না থাকলে পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন কঠিন হয়। মানবাধিকারের প্রশ্নে তাই শুধু কেন্দ্র বন্ধ হওয়ার ঘোষণা যথেষ্ট নয়; মানুষ সত্যিকার অর্থে মুক্তি পেয়েছেন কি না, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা কীভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং মুক্তির পর তাঁরা স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে পারছেন কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
ধর্মীয় স্বাধীনতা: মসজিদ আছে, কিন্তু স্বাধীনতা কতটা?
উইঘুর মুসলমানদের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় ধর্মীয় স্বাধীনতা একটি কেন্দ্রীয় বিষয়। মসজিদে নামাজ, ধর্মীয় শিক্ষা, রোজা, ইসলামি পোশাক, দাড়ি, ধর্মীয় বই এবং ধর্মীয় নেতাদের কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিধিনিষেধের অভিযোগ উঠেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলেছে, ‘ধর্মীয় উগ্রবাদ’ দমনের বিস্তৃত সংজ্ঞার কারণে কিছু বৈধ ধর্মীয় আচরণও সন্দেহের আওতায় পড়েছে।
চীনা সরকার অবশ্য বলছে, দেশটির সংবিধান ধর্মবিশ্বাসের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে এবং জিনজিয়াংয়ে ইসলামসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ আইন অনুযায়ী ধর্ম পালন করতে পারেন। ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত চীনা সরকারের একটি শ্বেতপত্রে বলা হয়, অঞ্চলটিতে ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষিত হচ্ছে এবং ধর্মীয় বিষয়গুলো আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকার ধর্মীয় কার্যক্রমকে রাষ্ট্রীয় নীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার কথা বলেছে।
কিন্তু ধর্মীয় স্বাধীনতা শুধু মসজিদের অস্তিত্ব দিয়ে বিচার করা যায় না। মানুষ বাধাহীনভাবে নামাজ পড়তে পারছেন কি না, রমজানে রোজা রাখতে পারছেন কি না, ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ ও প্রদান করতে পারছেন কি না, নিজের ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশের কারণে হয়রানির আশঙ্কা রয়েছে কি না এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা স্বাধীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে—এসব প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ২০২৫ সালের জুলাইয়ের দেশভিত্তিক মূল্যায়ন, যা ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর হালনাগাদ করা হয়েছে, বলেছে যে জিনজিয়াংয়ের মুসলমানেরা রাষ্ট্রের কাছ থেকে নিপীড়ন বা গুরুতর ক্ষতির বাস্তব ঝুঁকিতে থাকতে পারেন। ওই মূল্যায়নে ধর্মীয় বিধিনিষেধ, নজরদারি, আটক, সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং মসজিদ ও ধর্মীয় স্থাপনার পরিবর্তনসংক্রান্ত বিভিন্ন সূত্রের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। এটি যুক্তরাজ্যের আশ্রয়-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে ব্যবহৃত একটি দেশভিত্তিক মূল্যায়ন; চীনের প্রতিটি নাগরিকের অভিজ্ঞতার পূর্ণাঙ্গ জরিপ নয়।
মসজিদ ভাঙা বা বন্ধ করার সব ঘটনাকে একই কারণের ফল হিসেবে দেখাও যথার্থ নয়। কোনো স্থাপনা নগর উন্নয়ন, পুনর্নির্মাণ বা অন্য কারণে পরিবর্তিত হতে পারে। কিন্তু ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস, ধর্মীয় কার্যক্রম সীমিত করা কিংবা উপাসনালয়ের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ থাকলে প্রতিটি ঘটনা ও নীতির স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।
ভাষা, শিক্ষা ও পরিচয়ের ভবিষ্যৎ
উইঘুর ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এর সঙ্গে তাদের সাহিত্য, ইতিহাস, ধর্মীয় জ্ঞান, পারিবারিক সম্পর্ক এবং সাংস্কৃতিক স্মৃতি যুক্ত। তাই শিক্ষাব্যবস্থায় মাতৃভাষার অবস্থান জিনজিয়াংয়ের মানবাধিকার আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
২০২৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, জিনজিয়াংয়ে রাষ্ট্রীয় আবাসিক বিদ্যালয়ব্যবস্থার সম্প্রসারণের ফলে উইঘুর ও অন্যান্য সংখ্যালঘু মুসলিম শিশুদের পরিবার ও সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের কাছে আসা তথ্য অনুযায়ী, এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষাদানের প্রধান ভাষা ম্যান্ডারিন; উইঘুর ভাষার ব্যবহার সীমিত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এভাবে শিশুদের মাতৃভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্ক দুর্বল হতে পারে।
চীনা সরকারের বক্তব্য, ম্যান্ডারিন ভাষায় দক্ষতা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং বৃহত্তর চীনা সমাজে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ায়। ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করা নিজে কোনো অধিকার লঙ্ঘন নয়। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় মাতৃভাষার শিক্ষা, পারিবারিক বন্ধন ও সাংস্কৃতিক পরিচয় দুর্বল হয়ে পড়লে প্রশ্ন দেখা দেয়—শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের নিজস্ব পরিচয় রক্ষার ব্যবস্থা কতটা কার্যকর?
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যকে প্রতিটি বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জরিপ হিসেবে দেখা উচিত নয়। তবে শিশুদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা, মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ কমে যাওয়া এবং একক সাংস্কৃতিক কাঠামোর দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ, যাতে স্বাধীন তদন্ত ও স্বচ্ছ তথ্যপ্রাপ্তি প্রয়োজন।
নজরদারি প্রযুক্তি: ব্যক্তিগত জীবন কতটা স্বাধীন?
জিনজিয়াংয়ের পরিস্থিতি শুধু বন্দিশিবির বা কারাগারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের দৈনন্দিন চলাচল, ফোন ব্যবহার, যোগাযোগ, সামাজিক সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের ওপর নজরদারিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিভিন্ন মানবাধিকার প্রতিবেদন ও গবেষণায় ব্যাপক সিসিটিভি ক্যামেরা, মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি, মোবাইল ফোন পরীক্ষা এবং ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থা উইঘুর ও অন্যান্য মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর বিশেষভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের দেশভিত্তিক মূল্যায়নেও জিনজিয়াংয়ে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, চলাচলের বিধিনিষেধ এবং পরিবারের ভেতর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ পৌঁছানোর অভিযোগ পর্যালোচনা করা হয়েছে।
রাষ্ট্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু সেই প্রযুক্তি যদি নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠী বা ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্যমূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়, কিংবা মানুষের ব্যক্তিগত জীবন ও চলাচলের স্বাধীনতাকে অযৌক্তিকভাবে সীমিত করে, তাহলে তা মানবাধিকারের প্রশ্ন তৈরি করে।
এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন: কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, কত দিন তা সংরক্ষণ করা হচ্ছে, কারা ব্যবহার করছে, ভুল শনাক্তকরণের বিরুদ্ধে প্রতিকার আছে কি না এবং নাগরিকেরা স্বাধীনভাবে অভিযোগ জানাতে পারেন কি না। প্রযুক্তির ব্যবহারকে শুধু আধুনিকায়নের মাপকাঠিতে বিচার করলে এর সম্ভাব্য মানবিক ক্ষতি আড়ালে থেকে যেতে পারে।
জনসংখ্যার পরিসংখ্যান: পরিবর্তন কী বোঝায়?
চীনের ২০২০ সালের জাতীয় জনশুমারি অনুযায়ী, জিনজিয়াংয়ের মোট জনসংখ্যা ছিল ২ কোটি ৫৮ লাখ ৫২ হাজার ৩৪৫। এর মধ্যে উইঘুর জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৬ লাখ ২৪ হাজার ২৫৭, যা মোট জনসংখ্যার ৪৪.৯৬ শতাংশ। হান জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৯ লাখ ২০ হাজার ৯৮, অর্থাৎ ৪২.২৪ শতাংশ। অন্যান্য জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী মিলিয়ে ছিল ১২.৮০ শতাংশ। একই সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে উইঘুর জনসংখ্যা ১৬.২ শতাংশ বেড়েছিল।
এই উপাত্ত থেকে বোঝা যায়, জিনজিয়াং বহু জাতিগোষ্ঠীর আবাসভূমি এবং উইঘুররা অঞ্চলটির বৃহত্তম একক জাতিগোষ্ঠী। তবে জনসংখ্যার অনুপাত বা পরিবর্তনের তথ্য একা দিয়ে জোরপূর্বক জনসংখ্যাগত পরিবর্তন, পরিকল্পিত জাতিগত প্রতিস্থাপন কিংবা কোনো নির্দিষ্ট নীতির উদ্দেশ্য প্রমাণ করা যায় না। এসব দাবি যাচাই করতে জন্মহার, অভিবাসন, অঞ্চলভিত্তিক জনসংখ্যা, পরিবার পরিকল্পনা নীতি এবং সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনের তুলনামূলক তথ্য প্রয়োজন।
অন্যদিকে, জনসংখ্যা বেড়েছে বলেই কোনো জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে উদ্বেগ অমূলক হয়ে যায় না। জনসংখ্যার সংখ্যা এবং ব্যক্তির ধর্মীয় স্বাধীনতা, ভাষার অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা—দুটি আলাদা প্রশ্ন। তাই পরিসংখ্যানের পাশাপাশি নীতির বাস্তব প্রয়োগ এবং মানুষের অভিজ্ঞতাও বিবেচনায় নিতে হবে।
জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ: জিনজিয়াং থেকে বিশ্ববাজার
জিনজিয়াংয়ের মানবাধিকার পরিস্থিতি চীনের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্ববাজারের সঙ্গেও যুক্ত। তুলা ও বস্ত্র, কৃষিপণ্য, সৌরশক্তি শিল্পের কাঁচামাল এবং বিভিন্ন উৎপাদন খাতে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক ভূমিকা রয়েছে। ফলে শ্রমিকের অধিকার লঙ্ঘিত হলে তার প্রভাব আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থাতেও পড়তে পারে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে, উইঘুর ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর কিছু মানুষকে এমন শ্রম কর্মসূচিতে যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে কাজ বেছে নেওয়া, প্রত্যাখ্যান করা বা কর্মস্থল পরিবর্তনের স্বাধীনতা বাস্তবে সীমিত হতে পারে। চীনা সরকার এসব কর্মসূচিকে দারিদ্র্য হ্রাস, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করে।
কোনো সরকারি কর্মসূচির আওতায় কাজ করলেই তা জোরপূর্বক শ্রম হয়ে যায় না। মূল প্রশ্ন হলো, শ্রমিক স্বাধীনভাবে কাজ গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করতে পারছেন কি না, কাজ ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ আছে কি না, জবরদস্তি বা শাস্তির ভয় রয়েছে কি না এবং মজুরি ও কর্মপরিবেশের বিষয়ে স্বচ্ছতা আছে কি না।
এই প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের ২০২১ সালের উইঘুর ফোর্সড লেবার প্রিভেনশন অ্যাক্ট বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আইনটি জিনজিয়াংয়ে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রে জোরপূর্বক শ্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার একটি আইনগত অনুমান প্রতিষ্ঠা করে এবং প্রযোজ্য শর্তে সেসব পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করে। এর ফলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরবরাহব্যবস্থার উৎস ও শ্রমিকের অধিকার যাচাই করার চাপ বেড়েছে।
তবে জিনজিয়াংয়ের প্রতিটি পণ্য বা প্রতিটি শ্রমিককে জোরপূর্বক শ্রমের সঙ্গে যুক্ত বলে ঘোষণা করা সঠিক নয়। নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান, পণ্য ও সরবরাহব্যবস্থার ক্ষেত্রে নথি, শ্রমিকের স্বাধীন সাক্ষ্য এবং স্বাধীন পরিদর্শনের মাধ্যমে যাচাই প্রয়োজন।
পরিবার বিচ্ছিন্নতা ও প্রবাসী উইঘুরদের উদ্বেগ
জিনজিয়াংয়ের পরিস্থিতির একটি গভীর মানবিক দিক হলো পরিবার বিচ্ছিন্নতা। কোনো ব্যক্তি আটক থাকলে তাঁর সন্তান, স্ত্রী, স্বামী, বাবা-মা ও আত্মীয়দের জীবনেও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়ে। অনেক উইঘুর বিদেশে বসবাস করেন; তাঁদের অভিযোগ, চীনে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা কঠিন, কখনো কখনো দীর্ঘদিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে। কিছু প্রবাসী আরও অভিযোগ করেছেন, বিদেশে থাকা অধিকারকর্মী বা সমালোচকদের সম্পর্কে তথ্য দিতে তাঁদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে দক্ষিণ জিনজিয়াংয়ে এক লাখ ৪০ হাজারের বেশি শিশু বাবা-মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল বলে জিনজিয়াং ভিকটিমস ডেটাবেস নামের একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগের ২০২৬ সালের জুলাইয়ের বিশ্লেষণে অনুমান করা হয়েছে। এই সংখ্যা ওই উদ্যোগের হিসাব; জাতিসংঘের যাচাইকৃত সরকারি গণনা নয়। এসব শিশুর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কেও পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন তথ্য নেই।
পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের অনিশ্চয়তা নিজেই গভীর মানসিক ও সামাজিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রতিটি বিচ্ছিন্নতার কারণ এক নয়—কেউ কারাবন্দি, কেউ বিদেশে, আবার কারও ক্ষেত্রে প্রশাসনিক বিধিনিষেধ বা যোগাযোগের অন্য বাধা থাকতে পারে। তাই প্রতিটি পরিবারের পরিস্থিতি আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি।
মুসলিম বিশ্বের প্রতিক্রিয়া: সংহতি ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের টানাপোড়েন
জিনজিয়াংয়ের উইঘুরদের বিষয়ে মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া একরকম ছিল না। কিছু দেশ মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, আবার কিছু দেশ চীনের নিরাপত্তানীতি বা উন্নয়নমূলক কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে কিংবা প্রকাশ্য সমালোচনা এড়িয়ে গেছে। ২০১৯ সালে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে চীনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত উদ্বেগের বিপরীতে চীন-সমর্থিত একটি চিঠিতে এক ডজনেরও বেশি ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার সদস্যরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ চীনের নীতির প্রতি সমর্থন জানায়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ওই সময় মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর অবস্থান নিয়ে সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছিল।
এই অবস্থানের পেছনে কূটনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক স্বার্থ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সব দেশের নীতিকে একই বলে ধরে নেওয়া যাবে না; রাষ্ট্রভেদে অবস্থান এবং সময়ের সঙ্গে নীতিও পরিবর্তিত হতে পারে। কোনো দেশ চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বজায় রাখলেই সে জিনজিয়াংয়ের প্রতিটি নীতিকে সমর্থন করে—এমন সিদ্ধান্তও স্বয়ংক্রিয়ভাবে টানা যায় না।
এখানে মুসলিম বিশ্বের সামনে একটি নীতিগত প্রশ্ন রয়েছে: ফিলিস্তিন, রোহিঙ্গা কিংবা অন্য কোনো অঞ্চলে মুসলমানদের অধিকার নিয়ে কথা বলার সময় যে মানবিক নীতি অনুসরণ করা হয়, তা কি জিনজিয়াংয়ের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রয়োগ করা হবে? এই প্রশ্নের উত্তর ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং একই মানবাধিকার মানদণ্ড সবার ক্ষেত্রে প্রয়োগের ভিত্তিতে খোঁজা উচিত।
আন্তর্জাতিক জবাবদিহি: প্রতিবেদন আছে, অগ্রগতি কতটা?
জিনজিয়াং নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো, গুরুতর অভিযোগ নথিবদ্ধ হলেও পরবর্তী তদন্ত, প্রতিকার এবং জবাবদিহির অগ্রগতি সম্পর্কে প্রকাশ্য তথ্য সীমিত। জাতিসংঘের ২০২২ সালের মূল্যায়ন সুপারিশ করেছিল, যাদের স্বাধীনতা অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের মুক্তি দেওয়া হোক এবং লঙ্ঘনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রতিকার নিশ্চিত করা হোক।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২০২৬ সালের আগস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আগের সুপারিশ বাস্তবায়নে অগ্রগতির অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। সংস্থাটি আরো বলেছে, জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর ২০২২ সালের পর জিনজিয়াং বিষয়ে উল্লেখযোগ্য নতুন প্রকাশ্য মূল্যায়ন দেয়নি।
জবাবদিহির অর্থ কেবল কোনো রাষ্ট্রকে দোষী ঘোষণা করা নয়। এর অর্থ হলো আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ, ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করা, নির্যাতন ও বৈষম্যের অভিযোগ তদন্ত করা, ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতিকার দেওয়া এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের লঙ্ঘন ঠেকানোর ব্যবস্থা নেওয়া। এ জন্য জাতিসংঘের স্বাধীন পর্যবেক্ষণ, নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রাপ্তি এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে নিরাপদে ও গোপনীয়ভাবে কথা বলার সুযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের জন্য বিষয়টির গুরুত্ব
বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য, উন্নয়ন সহযোগিতা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ব্যবস্থার সদস্য। তাই জিনজিয়াংয়ের পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম, গবেষক ও নাগরিক সমাজের আগ্রহ স্বাভাবিক।
তবে এ বিষয়ে আলোচনার ভিত্তি হওয়া উচিত নির্ভরযোগ্য তথ্য, মানবাধিকারের সার্বজনীন নীতি এবং সব পক্ষের বক্তব্য যাচাই করার আগ্রহ। কোনো একটি রাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর বক্তব্যকে একমাত্র সত্য ধরে নেওয়া যেমন ঠিক নয়, তেমনি শক্তিশালী রাষ্ট্রের সরকারি বক্তব্যকে প্রশ্নহীনভাবে গ্রহণ করাও যুক্তিসংগত নয়।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ও গবেষকদের জন্য কয়েকটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ: জিনজিয়াংয়ে আটক ব্যক্তিদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কতটা স্বাধীন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে? ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মাতৃভাষায় শিক্ষার বাস্তব পরিস্থিতি কী? শ্রমিকদের স্বাধীনভাবে কাজ বেছে নেওয়ার অধিকার কতটা নিশ্চিত? বিদেশে থাকা উইঘুরদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ কতটা?
উন্নয়ন ও নিরাপত্তা, কিন্তু অধিকারও
জিনজিয়াংয়ের মুসলমানদের অবস্থা নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে একটি মৌলিক প্রশ্ন—রাষ্ট্র কীভাবে নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করবে, অথচ কোনো জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় স্বাধীনতা, ভাষা, সাংস্কৃতিক পরিচয়, পারিবারিক সম্পর্ক এবং ব্যক্তিস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করবে না?
চীনা সরকার সন্ত্রাসবাদ দমন, স্থিতিশীলতা, দারিদ্র্য হ্রাস ও কর্মসংস্থানের অগ্রগতির কথা বলছে। অন্যদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর ও বিভিন্ন অধিকার সংস্থা গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগ নথিবদ্ধ করেছে এবং আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবি জানিয়েছে। এসব অবস্থানের মধ্যে সত্য যাচাইয়ের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পথ হলো স্বাধীন তদন্ত, নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রাপ্তি, আটক ব্যক্তিদের ন্যায্য বিচার, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের নিশ্চয়তা এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষার বাস্তব প্রমাণ।
উইঘুর ও অন্যান্য মুসলিম জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা মানে চীনের জনগণ বা চীনা সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নয়। এটি রাষ্ট্রের ক্ষমতা ও নাগরিকের অধিকারের সম্পর্ক নিয়ে একটি মানবিক প্রশ্ন। কোনো দেশের উন্নয়ন যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক, তার সাফল্য মূল্যায়নের সময় মানুষের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও পরিচয় রক্ষার বিষয়টি বাদ দেওয়া যায় না।
জিনজিয়াংয়ের বর্তমান পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করার জন্য আরও তথ্য প্রয়োজন। সেই তথ্য পাওয়ার পথ খুলে দেওয়া, নিরপেক্ষ অনুসন্ধানকে অনুমতি দেওয়া এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করাই দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস ও অনিশ্চয়তা কমানোর কার্যকর উপায় হতে পারে। শেষ পর্যন্ত জিনজিয়াংয়ের মানুষের অবস্থার প্রকৃত মূল্যায়ন নির্ভর করবে শুধু সরকারি ঘোষণার ওপর নয়, বরং তাঁরা কতটা স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করতে পারেন, নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতি ধরে রাখতে পারেন, পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারেন এবং ভয় বা বৈষম্য ছাড়াই জীবনযাপন করতে পারেন—তার ওপর।
সূত্র: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, ইউকে হোম অফিস ও জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর)
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অধিকৃত পশ্চিম তীরে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে ৩৬ জন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরাইলি বাহিনী। একই সঙ্গে, জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে ফিলিস্তিনি কৃষক এবং তাদের জমিতে ইসরাইলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফার সূত্রে আলজাজিরা জানায়, জেনিনে ১০ জন, হেবরনে শোরুক আল-বাদানসহ কয়েকজন এবং মাসাফের ইয়াত্তার খিরবেত জাওয়াইয়া গ্রাম থেকে ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া, নাবলুস ও জেরুজালেমে অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনের কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় কৃষক ও তাদের জমির ওপর ১৭টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব হামলার মধ্যে কৃষকদের জমিতে প্রবেশে বাধা দেওয়া, ফসল ও কৃষি সরঞ্জাম চুরি, জলপাইগাছ ভাঙচুর ও পুড়িয়ে দেওয়া, হুমকি প্রদান এবং গুলি চালানোর ঘটনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এদিকে, বুধবার পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি কৃষকদের জলপাই সংগ্রহে সহায়তা করতে গিয়ে ইসরাইলি বাহিনীর হাতে সাময়িকভাবে আটক হন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস প্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডার। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ও নিন্দা আরও তীব্র হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়া ফোরসাইট নেটওয়ার্কের (এসএএফএন) সম্মানসূচক সিনিয়র ফেলো হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশের কূটনীতিক, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।
বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এক ঘোষণায় এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
দ্য মিলেনিয়াম প্রজেক্টের অধীনে পরিচালিত এসএএফএন দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ, ভূরাজনীতি ও নীতিনির্ধারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা ও সংলাপের আয়োজন করে।
নিয়োগের ঘোষণায় জনসেবা, গণমাধ্যম ও কূটনীতিতে আনসারীর অভিজ্ঞতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এতে উল্লেখ করা হয় যে, তার অভিজ্ঞতা ওয়াশিংটনে প্রতিষ্ঠানটির আলোচনা ও বিভিন্ন মহলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের গবেষক ও বৃহত্তর পাঠকসমাজও তার চিন্তা ও বিশ্লেষণ থেকে উপকৃত হতে সক্ষম হবে।
নতুন ভূমিকায় আনসারী নীতিবিষয়ক সংলাপ ও গবেষণায় অবদান রাখবেন। তিনি ওয়াশিংটনে এসএএফএনের যোগাযোগ ও অংশগ্রহণ সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাংলাদেশে নেটওয়ার্কটির গবেষণা ও অন্যান্য কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করবেন।
জনসেবা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও গণমাধ্যমে দুই দশকের বেশি অভিজ্ঞতা নিয়ে মুশফিকুল ফজল আনসারী বর্তমানে রাষ্ট্রদূত হিসেবে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কর্মরত রয়েছেন। এর আগে তিনি মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে কোস্টারিকা, গুয়াতেমালা, ইকুয়েডর ও হন্ডুরাসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে সমবর্তী দায়িত্বে ছিলেন।
কূটনৈতিক দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে তিনি ওয়াশিংটনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন রাইট টু ফ্রিডমের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক এবং সাউথ এশিয়া পারসপেক্টিভসের নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি হোয়াইট হাউস ও জাতিসংঘের স্থায়ী সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী মহলে সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য অন্যান্য সিনিয়র ফেলোদের মধ্যে রয়েছেন জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও নরওয়ের সাবেক পরিবেশমন্ত্রী রাষ্ট্রদূত এরিক সোলহেইম, থাইল্যান্ডের অর্থনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক ড. ক্রিয়েংসাক চারোয়েনওংসাক, শ্রীলঙ্কার সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল গগন বুলাথসিংহলা, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রীনা মারওয়াহ, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত অধ্যয়নবিষয়ক গবেষক ড. সালমা মালিক, চীনের ঝেজিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ঝৌ ঝাংগুই, মালদ্বীপের কূটনীতিক রাষ্ট্রদূত ওমর আবদুল রাজ্জাক এবং জলবায়ু ও আন্তঃসীমান্ত নদীবিষয়ক গবেষক ড. উত্তম কুমার সিনহা।
এসএএফএনের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের পরিচালক হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনীরুজ্জামান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর চাটখিলে ইতালি প্রবাসী মো.সোলায়মানকে হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র নিয়ে হামলা, নির্যাতন ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে ফারুক, আজাদ ও শাহপরান নামে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তারা মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিবারটি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের শংকুর গ্রামের নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সোলায়মানের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস অভিযোগ করেন, ইতালিতে নেওয়ার কথা বলে তার স্বামীকে ২০২৩ সালে লিবিয়ায় আটকে রেখে স্থানীয় আজাদ. শাহপরানের যোগসাজশে লিবিয়ায় জিম্মি করে নির্যাতন চালায় মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য প্রবাসী ফারুকসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা। এ সময় কয়েক ধাপে তার কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইতিমধ্যে আজাদ নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে অন্য মাধ্যমে ইতালি গিয়ে গত মাসে দেশে ফেরেন সোলায়মান। দেশে ফেরার পর ২৯ আগস্ট সন্ধ্যায় উপজেলার খিলপাড়া বাজারের যুবরত্ন ক্লাবের সামনে তার ওপর অস্ত্রের মুখে হামলা ও নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় তার স্বামীর স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং চাঁদা দাবি করা হয়। এরপর প্রাণভয়ে তার স্বামী দেশ ছেড়ে ইতালি চলে গেছেন। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
এ সময় ভুক্তভোগী প্রবাসীর বোন মোবাশারা বেগম সোহাগী, কন্যা নাবিলা সুলতানা নোবা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহপরানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোন্নাফ বলেন, প্রবাসীর ওপর হামলা, চাঁদা দাবি এবং ২০২৩ সালে বিদেশে আটকে রেখে টাকা আদায়ের ঘটনায় মানব পাচার আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। ওই মামলার আসামিদের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চার আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন। আরেক আসামি আত্মগোপনে রয়েছেন। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা হাইওয়ে পুলিশের একটি রেকারের পেছনে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় সেলিম হাওলাদার (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে শহরের তাঁতিবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সেলিম হাওলাদার মাদারীপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘেরপাড় কুকরাইল এলাকার নাজেম হাওলাদারের ছেলে। তিনি বাগেরপাড় এলাকার বাসিন্দা এবং আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ী ছিলেন।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, শুক্রবার ভোরে প্রাইভেটকার চালিয়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁতিবাড়ি এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা হাইওয়ে পুলিশের একটি রেকারের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেন সেলিম। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার পর হাইওয়ে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ