শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৪২ এম
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়া ফোরসাইট নেটওয়ার্কের (এসএএফএন) সম্মানসূচক সিনিয়র ফেলো হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশের কূটনীতিক, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।
বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এক ঘোষণায় এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
দ্য মিলেনিয়াম প্রজেক্টের অধীনে পরিচালিত এসএএফএন দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ, ভূরাজনীতি ও নীতিনির্ধারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা ও সংলাপের আয়োজন করে।
নিয়োগের ঘোষণায় জনসেবা, গণমাধ্যম ও কূটনীতিতে আনসারীর অভিজ্ঞতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এতে উল্লেখ করা হয় যে, তার অভিজ্ঞতা ওয়াশিংটনে প্রতিষ্ঠানটির আলোচনা ও বিভিন্ন মহলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের গবেষক ও বৃহত্তর পাঠকসমাজও তার চিন্তা ও বিশ্লেষণ থেকে উপকৃত হতে সক্ষম হবে।
নতুন ভূমিকায় আনসারী নীতিবিষয়ক সংলাপ ও গবেষণায় অবদান রাখবেন। তিনি ওয়াশিংটনে এসএএফএনের যোগাযোগ ও অংশগ্রহণ সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাংলাদেশে নেটওয়ার্কটির গবেষণা ও অন্যান্য কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করবেন।
জনসেবা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও গণমাধ্যমে দুই দশকের বেশি অভিজ্ঞতা নিয়ে মুশফিকুল ফজল আনসারী বর্তমানে রাষ্ট্রদূত হিসেবে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কর্মরত রয়েছেন। এর আগে তিনি মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে কোস্টারিকা, গুয়াতেমালা, ইকুয়েডর ও হন্ডুরাসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে সমবর্তী দায়িত্বে ছিলেন।
কূটনৈতিক দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে তিনি ওয়াশিংটনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন রাইট টু ফ্রিডমের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক এবং সাউথ এশিয়া পারসপেক্টিভসের নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি হোয়াইট হাউস ও জাতিসংঘের স্থায়ী সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী মহলে সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য অন্যান্য সিনিয়র ফেলোদের মধ্যে রয়েছেন জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও নরওয়ের সাবেক পরিবেশমন্ত্রী রাষ্ট্রদূত এরিক সোলহেইম, থাইল্যান্ডের অর্থনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক ড. ক্রিয়েংসাক চারোয়েনওংসাক, শ্রীলঙ্কার সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল গগন বুলাথসিংহলা, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রীনা মারওয়াহ, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত অধ্যয়নবিষয়ক গবেষক ড. সালমা মালিক, চীনের ঝেজিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ঝৌ ঝাংগুই, মালদ্বীপের কূটনীতিক রাষ্ট্রদূত ওমর আবদুল রাজ্জাক এবং জলবায়ু ও আন্তঃসীমান্ত নদীবিষয়ক গবেষক ড. উত্তম কুমার সিনহা।
এসএএফএনের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের পরিচালক হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনীরুজ্জামান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর চাটখিলে ইতালি প্রবাসী মো.সোলায়মানকে হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র নিয়ে হামলা, নির্যাতন ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে ফারুক, আজাদ ও শাহপরান নামে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তারা মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিবারটি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের শংকুর গ্রামের নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সোলায়মানের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস অভিযোগ করেন, ইতালিতে নেওয়ার কথা বলে তার স্বামীকে ২০২৩ সালে লিবিয়ায় আটকে রেখে স্থানীয় আজাদ. শাহপরানের যোগসাজশে লিবিয়ায় জিম্মি করে নির্যাতন চালায় মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য প্রবাসী ফারুকসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা। এ সময় কয়েক ধাপে তার কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইতিমধ্যে আজাদ নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে অন্য মাধ্যমে ইতালি গিয়ে গত মাসে দেশে ফেরেন সোলায়মান। দেশে ফেরার পর ২৯ আগস্ট সন্ধ্যায় উপজেলার খিলপাড়া বাজারের যুবরত্ন ক্লাবের সামনে তার ওপর অস্ত্রের মুখে হামলা ও নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় তার স্বামীর স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং চাঁদা দাবি করা হয়। এরপর প্রাণভয়ে তার স্বামী দেশ ছেড়ে ইতালি চলে গেছেন। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
এ সময় ভুক্তভোগী প্রবাসীর বোন মোবাশারা বেগম সোহাগী, কন্যা নাবিলা সুলতানা নোবা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহপরানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোন্নাফ বলেন, প্রবাসীর ওপর হামলা, চাঁদা দাবি এবং ২০২৩ সালে বিদেশে আটকে রেখে টাকা আদায়ের ঘটনায় মানব পাচার আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। ওই মামলার আসামিদের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চার আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন। আরেক আসামি আত্মগোপনে রয়েছেন। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা হাইওয়ে পুলিশের একটি রেকারের পেছনে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় সেলিম হাওলাদার (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে শহরের তাঁতিবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সেলিম হাওলাদার মাদারীপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘেরপাড় কুকরাইল এলাকার নাজেম হাওলাদারের ছেলে। তিনি বাগেরপাড় এলাকার বাসিন্দা এবং আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ী ছিলেন।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, শুক্রবার ভোরে প্রাইভেটকার চালিয়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁতিবাড়ি এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা হাইওয়ে পুলিশের একটি রেকারের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেন সেলিম। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার পর হাইওয়ে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) চোরাচালানকৃত ২০০ প্যাকেট ভারতীয় কীটনাশক, ৬৫৩ পিস ওষুধ এবং একটি ইজিবাইক জব্দ করেছে। এ সময় অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের চেষ্টা করার সময় এক দালালসহ তিন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, গত ২২ অক্টোবর আনুমানিক বেলা ২টা ২০ মিনিটে মহেশপুর ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ নতুনপাড়া বিওপির একটি দল সীমান্ত পিলার-৬৬/৭-এস হতে প্রায় ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অভিযান চালায়। নায়েব সুবেদার মোহাঃ শরীফ উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে একটি আম বাগান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ২০০ প্যাকেট ভারতীয় অবৈধ কীটনাশক উদ্ধার করা হয়।
এর আগে, ২১ অক্টোবর রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে খোসালপুর বিওপির একটি টহল দল যোশপুর গ্রাম থেকে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার সময় তিন বাংলাদেশি নাগরিক এবং এক দালালকে আটক করে। আটককৃত দালাল মহেশপুর থানার বাঘাডাঙ্গা গ্রামের বিল্লাল হোসেন (৩৫)। আটক হওয়া তিন বাংলাদেশি নাগরিক হলেন—কুমিল্লার সায়েদ আলম (২২) ও সাব্বির হোসাইন (২৩) এবং চাঁদপুরের মো. মাহমুদুল হাসান (২১)। তাদের কাছ থেকে একটি ইজিবাইকও জব্দ করা হয়।
এদিকে, আজ ২৩ অক্টোবর ভোরে যাদবপুর বিওপির এলাকা থেকে নায়েব সুবেদার মো: আবু বকরের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বেতবাড়িয়া এলাকার একটি খেতের পাশ থেকে ৬৫৩ পিস ভারতীয় চোরাচালানি ওষুধ উদ্ধার করে বিজিবি।
৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সী এমদাদুর রহমান জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে উদ্ধারকৃত মালামাল ও ইজিবাইকসহ তাদেরকে মহেশপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বি এম নূর আলম
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব ও সাইবার ল্যাব স্থাপন, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং একটি স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন। সরকারের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। পাশাপাশি, সাইবার অপরাধের মামলার তদন্তে দক্ষ জনবল গড়ে তোলার জন্য দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
সাইবার অপরাধের কারণে পারিবারিক কলহ, মানসিক বিপর্যয় ও সামাজিক মর্যাদাহানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনলাইনে হয়রানি, হুমকি ও প্রতারণার শিকার হয়ে অনেকেই মানসিক চাপ, ভয় ও হতাশায় ভুগছেন। ভুয়া আইডি খুলে মিথ্যা তথ্য, ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। এর ফলে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সাইবার অপরাধের ফলে আর্থিক ক্ষতি, মানসিক বিপর্যয়, সামাজিক অস্থিরতা ও ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। অনলাইন ও মোবাইল ব্যাংকিং এবং ভুয়া লিংকের মাধ্যমে প্রতারকরা মানুষের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও, পাসওয়ার্ড ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করে সেগুলো প্রতারণার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে বলেন, ‘সাইবার জালিয়াতি, হ্যাকিং ও অনলাইন হয়রানি-সংক্রান্ত যেসব মামলা সিআইডিতে আসে, সেগুলো পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সাইবার অপরাধ দমনে নিয়মিত নজরদারি ও টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সাইবার অপরাধ তদন্তে কর্মরত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য সাইবার ট্রেনিং সেন্টার, ফরেনসিক ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (এফটিআই) ও ডিটেকটিভ ট্রেনিং স্কুলে (ডিটিএস) চলমান প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে নতুন নতুন মডিউল যুক্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া পুলিশ সদরদপ্তরের উদ্যোগে সম্প্রতি দেশব্যাপী ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স’ (টিওটি) কোর্স চালু করা হয়েছে। এতে সিআইডির কর্মকর্তারাও অংশ নিচ্ছেন।’
সিআইডির তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাইবার অপরাধ-সংক্রান্ত জিআর (জেনারেল রেজিস্টার) ৩২টি ও সিআর (ক্রিমিনাল রেজিস্টার) ১৫৯টিসহ মোট ১৯১টি মামলা হয়েছে। এ ছাড়া সাইবার অপরাধের অভিযোগে এক বছরে ১০১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাইবার অপরাধ দিন দিন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে।
অনলাইনে প্রতারণার ফাঁদ হিসেবে ঘরে বসে খণ্ডকালীন কাজ করে আয় কিংবা ইউটিউবের ভিডিওতে ‘লাইক’ দিয়ে অর্থ উপার্জনের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে সাধারণ গৃহিণী, শিক্ষার্থী ও বেকার তরুণদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। শুরুতে এক হাজার বা দুই হাজার টাকা বোনাস দিয়ে তাঁদের আস্থা অর্জন করা হয়। পরে বিভিন্ন ‘টাস্ক’ পূরণের নামে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করিয়ে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়।
একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, শুধু গত এক বছরেই এ ধরনের আর্থিক প্রতারণায় সাধারণ গ্রাহকরা শত শত কোটি টাকা হারিয়েছেন।
এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বাসসকে বলেন, ‘সাইবার অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। পুলিশ যেকোনো অপরাধ দমনে তৎপর রয়েছে। সমাজ থেকে অপরাধ দমন ও মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইবার বুলিং ও অনলাইন প্রতারণার শিকার হয়ে অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। মিথ্যা সংবাদ ও ভুয়া তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে সমাজে আতঙ্ক, বিভ্রান্তি ও বিরোধ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
তাঁরা বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতনতার অভাব, দুর্বল পাসওয়ার্ড ব্যবহার, অপরিচিত লিংক ও ভুয়া ওয়েবসাইটে প্রবেশ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ এবং সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাব সাইবার অপরাধের ঝুঁকি বাড়ায়।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম সোহাগ বলেন, ‘প্রযুক্তির জয়যাত্রার সমান্তরালে দেশজুড়ে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে সাইবার অপরাধ। এ অপরাধের জালে সবচেয়ে বেশি জড়িয়ে পড়ছেন সমাজের সাধারণ ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষ। ওটিপি শেয়ারিং, ভুয়া ফোনকল, ডিপফেক ভিডিওর মাধ্যমে প্রতারণা এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ও অনলাইন জুয়ার ফাঁদে পড়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ তাঁদের সারা জীবনের সঞ্চয় হারাচ্ছেন। অনেকে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন, আবার কেউ কেউ মৃত্যুর দিকেও ধাবিত হচ্ছেন।’
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, অপরিচিত লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অচেনা কাউকে পিন বা ওটিপি দেওয়া যাবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন বলেন, ‘সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশ দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে। সাইবার অপরাধ দমনে সক্ষমতা বাড়াতে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) একটি সাইবার ল্যাব রয়েছে। এ ছাড়া কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমে (সিটিটিসি) একটি ফরেনসিক ল্যাব চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল অপরাধের মামলা তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হবে।’
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত রাজধানীর রমনা বিভাগে সাইবার অপরাধ-সংক্রান্ত ৮৮টি মামলা হয়েছে এবং ১৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লালবাগ বিভাগে ২২টি মামলায় ২৩ জন, ওয়ারী বিভাগে ১২টি মামলায় ২৪ জন, মতিঝিল বিভাগে ৩৩টি মামলায় ৪৯ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৫৩টি মামলায় ৪৯ জন, মিরপুর বিভাগে ৩৩টি মামলায় ২৭ জন, গুলশান বিভাগে ৩৮টি মামলায় ৩৭ জন এবং উত্তরা বিভাগে ২৬টি মামলায় ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সদরদপ্তর জানিয়েছে, সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়াতে সরকার ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব ও সাইবার ল্যাবের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে চলতি মাসে ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামেও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব ও সাইবার ল্যাব উদ্বোধন করা হয়েছে।
এছাড়া ১ অক্টোবর ঢাকায় একটি স্বতন্ত্র ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ গঠন করা হয়েছে। ইউনিটটিতে ৪ হাজার ৫৯২ জন পুলিশ সদস্য ও অন্যান্য কর্মী রয়েছেন। কেন্দ্রীয়ভাবে একজন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শকের (অতিরিক্ত আইজিপি) নেতৃত্বে ইউনিটটি পরিচালিত হচ্ছে। বিভাগ, জেলা ও থানা পর্যায়েও সাইবার অপরাধ তদন্তের জন্য পৃথক কার্যক্রম বা ডেস্ক রয়েছে।
সম্প্রতি মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজে সাইবার অপরাধের মামলা তদন্তের ওপর ১০ দিনব্যাপী বিশেষ ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স’ (টিওটি) কোর্স পরিচালনা করা হয়। এর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ৩৩২ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তাঁরা পরবর্তী সময়ে মাঠপর্যায়ের তদন্তকারীদের প্রশিক্ষণ দেবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ