ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সাভারে ৯ বছরের শিশুর রহস্যজনক: মৃত্যু আত্মহত্যা নিয়ে প্রশ্ন, মায়ের নতুন বিয়ে ঘিরে চাঞ্চল্য-মামলা নেয়নি পুলিশ, পোস্টমর্টেম রিপোর্টের অপেক্ষা


সাভারে ৯ বছরের শিশুর রহস্যজনক: মৃত্যু আত্মহত্যা নিয়ে প্রশ্ন, মায়ের নতুন বিয়ে ঘিরে চাঞ্চল্য-মামলা নেয়নি পুলিশ, পোস্টমর্টেম রিপোর্টের অপেক্ষা

ঢাকার সাভারে ৯ বছরের শিশু মিফতাহুল জান্নাত ওরফে শালমী মন্ডলের রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির বাবা রিপন মন্ডলের অভিযোগ, তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় তিনি সাভার মডেল থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন এবং দুই ব্যক্তিকে আসামি করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠছে-মাত্র ৯ বছর বয়সী একটি শিশু কীভাবে আত্মহত্যা করল, আর মৃত্যুর পর তার মায়ের ব্যক্তিগত ও বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তার সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র আছে কি না? তবে এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো তদন্তাধীন। শিশুটির মৃত্যুকে হত্যা নাকি আত্মহত্যা হিসেবে গণ্য করা হবে, তা ময়নাতদন্ত ও তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে।

৯ বছরের শালমীর মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন:
মিফতাহুল জান্নাত ওরফে শালমী মন্ডল (৯) আশুলিয়ার বিশমাইল এলাকার মর্নিং গ্লোরী স্কুলের বাংলা ভার্সনের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ সকাল আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে শিশুটি তার মায়ের সঙ্গে বাসা থেকে বের হয়। তার মা মৌসুমী আক্তার কর্মস্থল ঢাকার আজিমপুর সিভিল সার্জন অফিসের উদ্দেশে রওনা দেন এবং শালমী আশুলিয়ার বিশমাইল এলাকায় অবস্থিত স্কুলে যায়। স্কুল শেষে অন্যান্য দিনের মতো শিশুটি তার মায়ের বর্তমান বাসায় ফিরে আসে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ওইদিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে শিশুটির বাবার কাছে আসে তার মৃত্যুর সংবাদ। সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স ইনচার্জ মার্গারেট দুলি ফোন করে শিশুটির বাবা রিপন মন্ডলকে জানান, তার মেয়ে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে মারা গেছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান বাবা।

মরদেহ দেখে বাবার সন্দেহ: রিপন মন্ডলের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি তার মেয়েকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। শিশুটির গায়ে স্কুল ড্রেস ছিল। তবে নিচের অংশে পাজামা ছিল না বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি। মেয়ের শারীরিক অবস্থা এবং ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিদের কথাবার্তা তার কাছে সন্দেহজনক মনে হয় বলে দাবি করেন রিপন। তার সন্দেহ, তার মেয়েকে কোনো কারণে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে এবং পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করা হতে পারে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তিনি থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন।

আরও পড়ুন: জিয়ানগরে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের নগদ অর্থ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্যান বিতরণ

‘৯ বছরের শিশু কীভাবে আত্মহত্যা করে?’
শিশুটির বাবার অভিযোগের পাশাপাশি সামাজিকভাবেও এখন সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি সামনে এসেছে তা হলো-মাত্র ৯ বছরের একটি শিশু কেন এবং কীভাবে আত্মহত্যা করবে? তবে বয়স কম হওয়া আত্মহত্যাকে অসম্ভব করে না; আবার শুধু বয়সের ভিত্তিতে এটিকে আত্মহত্যা বা হত্যা-কোনোটিই নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। শিশুটি কী পরিস্থিতির মধ্যে ছিল, তার মানসিক অবস্থা কেমন ছিল, মৃত্যুর আগে কোনো ঘটনা ঘটেছিল কি না এবং ঘটনাস্থলে কী ধরনের আলামত পাওয়া গেছে-এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাই দাবি করা হয়েছে, বিষয়টি সাধারণ আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে না দেখে গভীরভাবে তদন্ত করা হোক।

মায়ের নতুন সম্পর্ক ও বিয়ে ঘিরে প্রশ্ন: অভিযোগপত্রে শিশুটির বাবা তার সাবেক স্ত্রী মৌসুমী আক্তারের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পরবর্তী বিবাহ নিয়েও একাধিক অভিযোগ তুলেছেন। রিপন মন্ডলের দাবি, দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় প্রায় তিন বছর আগে মৌসুমী আক্তার তাকে তালাক দেন। এরপর তার সঙ্গে ডা. আশরাফুল ইসলাম আরিফের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, পরবর্তীতে মৌসুমী আক্তার ও ডা. আশরাফুল ইসলাম আরিফ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। শিশুটির মৃত্যুর সঙ্গে এই সম্পর্ক বা পরবর্তী বিয়ের কোনো যোগসূত্র ছিল কি না-এমন কোনো প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। তবে শিশুটির বাবা যেহেতু তার অভিযোগে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন, তাই তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সময়ের পারিবারিক পরিস্থিতি ও ঘটনাপ্রবাহ যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিযোগকারী পক্ষ।

‘মৃত্যুর পরও কেন এই প্রশ্ন?’
শিশুটির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরেকটি বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। অভিযোগকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, তার সাবেক স্ত্রী পরবর্তীতে অন্য একজন চিকিৎসকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। এ কারণে সামাজিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে-শিশুটির সঙ্গে তার মায়ের সম্পর্ক কেমন ছিল, মৃত্যুর আগে শিশুটির পারিবারিক পরিবেশ কেমন ছিল এবং ওইদিন বাসায় ঠিক কী ঘটেছিল? তবে এসব প্রশ্নের উত্তর অনুমান বা সামাজিক আলোচনার মাধ্যমে নয়, বরং তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

থানায় এজাহার, এখনো মামলা হয়নি-অভিযোগ: শিশুটির বাবা রিপন মন্ডল সাভার মডেল থানায় উপস্থিত হয়ে দুই ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে লিখিত এজাহার দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, এত গুরুতর একটি ঘটনার পরও পুলিশ এখনো মামলা গ্রহণ করেনি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিশুটির ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে ঘটনার বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন মেডিকেল থেকে আসার পর সেটি পর্যালোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান তথ্য কমিশনার ও দুই কমিশনারের সাক্ষাৎ

পুলিশের এই বক্তব্যের ফলে এখন সবার নজর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের দিকে। পোস্টমর্টেম রিপোর্টই হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ শালমী মন্ডলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চিকিৎসাবিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে আরও আলামত যাচাই করা সম্ভব হতে পারে। শিশুটির মৃত্যু আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে-তা নির্ধারণে ময়নাতদন্তের তথ্য তদন্তকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। তবে শুধু পোস্টমর্টেম রিপোর্টই নয়, ঘটনাস্থলের আলামত, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, শিশুটির স্কুলে উপস্থিতি ও ছুটির তথ্য, বাসায় ফেরার সময় এবং মৃত্যুর আগে ও পরে কারা সেখানে ছিলেন-সবকিছু একসঙ্গে যাচাই করা প্রয়োজন।

তদন্তে সামনে আসতে পারে আরও তথ্য: ঘটনাটি তদন্ত করতে হলে ১৮ আগস্ট সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শিশুটির গতিবিধির একটি পূর্ণাঙ্গ টাইমলাইন তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। সকাল সাড়ে ৭টায় বাসা থেকে বের হওয়ার পর সে কখন স্কুলে পৌঁছায়, কখন স্কুল ছুটি হয়, কার সঙ্গে স্কুল থেকে বের হয়, কখন বাসায় ফিরে আসে এবং বাসায় ফেরার পর তার সঙ্গে কারা ছিলেন- এসব তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলে তার ফুটেজ পরীক্ষা করা যেতে পারে। মৃত্যুর আগে শিশুটির সঙ্গে কারও ফোনে যোগাযোগ হয়েছিল কি না, কোনো মেসেজ বা ডিজিটাল যোগাযোগ ছিল কি না-প্রয়োজন হলে এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

মানবাধিকার সংস্থার নজরে ঘটনাটি: শিশুটির পরিবারের অভিযোগ এবং ঘটনাটিকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের পর বিষয়টি একটি মানবাধিকার সংগঠনের নজরেও এসেছে। বাংলাদেশ মানবাধিকার সংবাদ ও সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রনি শিকদার জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি বলেন, “ন্যায়বিচারের জন্য যতটুকু করার প্রয়োজন, ততটুকু করব আমরা। আমরা তদন্তে আছি।” রনি শিকদারের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারের ন্যায়বিচারের স্বার্থে আইনগত সহযোগিতার বিষয়টিও তারা বিবেচনা করছেন।

হাইকোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতির কথা: মানবাধিকার সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, প্রয়োজন হলে ন্যায়বিচারের স্বার্থে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার বিষয়টিও তারা বিবেচনা করছে। জনস্বার্থে বিষয়টি আইনগতভাবে পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন সংগঠনের সংশ্লিষ্টরা। তবে আদালতে যাওয়ার বিষয়টি এখনো একটি সম্ভাব্য আইনগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য থেকে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: মকবুল হত্যা মামলায় সুলতান মনসুর ও মঈনউদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখাল আদালত

‘শিশুটির মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত চাই’
শিশুটির পরিবারের দাবি, তারা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে আগেই অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করতে চান না। তারা চান, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসুক।
যদি তদন্তে হত্যার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর যদি আত্মহত্যা হয়ে থাকে, তাহলে শিশুটি কেন এমন সিদ্ধান্ত নিল এবং তার পেছনে কোনো প্ররোচনা, নির্যাতন বা পারিবারিক কারণ ছিল কি না-সেটিও তদন্তে উঠে আসুক। পরিবারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ যেন কোনোভাবেই আড়ালে না থাকে। তদন্তের স্বার্থে যেসব প্রশ্নের উত্তর জরুরি শালমী মন্ডলের মৃত্যু নিয়ে বর্তমানে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন সামনে রয়েছে-

১. ৯ বছরের শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী?
২. মৃত্যুর আগে সে কার সঙ্গে ছিল?
৩. স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পর তার সঙ্গে কী ঘটেছিল?
৪. মৃত্যুর সময় বাসায় কারা উপস্থিত ছিলেন?
৫. শিশুটির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল কি না?
৬. ঘটনাস্থল থেকে কী কী আলামত উদ্ধার করা হয়েছে?
৭. স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারে সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে কি না?
৮. স্কুল থেকে শিশুটির ফেরার সময় ও পথের কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না?
৯. শিশুটির মৃত্যুর আগে কোনো অস্বাভাবিক আচরণ বা যোগাযোগ হয়েছিল কি না?
১০. ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ কী উল্লেখ করা হয়?
১১. অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র তদন্তে পাওয়া যায় কি না?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া গেলেই ঘটনার প্রকৃত চিত্র পরিষ্কার হতে পারে।

অভিযোগ বনাম প্রমাণ-তদন্তই নির্ধারণ করবে সত্য: শিশুটির বাবা যে অভিযোগ করেছেন, তা নিঃসন্দেহে গুরুতর। কিন্তু অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা যায় না। বিশেষ করে শিশুটির মায়ের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বিবাহ এবং তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলোও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। একইভাবে শিশুটির মৃত্যু আত্মহত্যা-এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও ময়নাতদন্ত ও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দেওয়া উচিত নয়। কারণ একটি শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃত সত্য নির্ধারণের জন্য আবেগ নয়, প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ। এখন নজর ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও তদন্তের দিকে সাভারে ৯ বছরের স্কুলছাত্রী শালমী মন্ডলের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় এখন পরিবারের দাবি, পুলিশের বক্তব্য এবং মানবাধিকার সংগঠনের উদ্যোগ-তিনটি বিষয় সামনে এসেছে।

পরিবার চাইছে ন্যায়বিচার।
পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর মানবাধিকার সংগঠন বলছে, তারা বিষয়টি তদন্ত করছে এবং প্রয়োজন হলে আইনগতভাবে উচ্চ আদালত পর্যন্ত যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সব মিলিয়ে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে আসার পর তদন্ত কোন দিকে যায়, পুলিশ মামলা গ্রহণ করে কি না এবং তদন্তে নতুন কোনো তথ্য বা আলামত বেরিয়ে আসে কি না-সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে নিহত শিশুটির পরিবার ও স্থানীয়রা। একটি ৯ বছরের শিশুর মৃত্যু যেন কোনোভাবেই অমীমাংসিত না থাকে-এটাই পরিবারের প্রধান দাবি।

আরও পড়ুন: জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে চালকদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও বিনা মূল্যে চশমা বিতরণ শুরু

এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত হত্যা, সম্পর্ক, বিবাহ ও অন্যান্য অভিযোগ সংশ্লিষ্ট অভিযোগকারীর বক্তব্য ও থানায় দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এগুলো কোনোভাবেই প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত, পুলিশি তদন্ত ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে। এই সংবাদ ধারাবাহিক চলব........

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাসে উঠে ‘হতভম্ব’ জাহাঙ্গীর, এরপর যা ঘটল....

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৪৭ পি.এম


বাসে উঠে ‘হতভম্ব’ জাহাঙ্গীর, এরপর যা ঘটল....

সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ইউনিট ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম কর্মস্থল নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে তিনি বাসে ওঠেন ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে। বাসটি কিছুদূর যেতেই জাহাঙ্গীর বুঝতে পারেন, অন্য যাত্রীর সঙ্গে তিনিও জিম্মি। একপর্যায়ে মোবাইলফোন, টাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম রেখে সবাইকে নামিয়ে দিলেও, রেখে দেওয়া হয় জাহাঙ্গীরকে। ৫ লাখ টাকার জন্য তাকে বাসেই নির্যাতন করে চক্রের সদস্যরা। ফোন করে ছোট ভাই ও সহকর্মীদের কাছ থেকে বিকাশে লক্ষাধিক টাকা এনে দেন জাহাঙ্গীর। তাতেও মুক্তি মেলেনি।

তবে জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই শাহারুল আলম র‍্যাবকে বিষয়টি জানালে, তারা নগরীর দিঘারকান্দা এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে জাহাঙ্গীরকে উদ্ধার করে। এ সময় অপহরণ চক্রের হোতা মো. বাদলকে আটক করা হয়।

ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ইনস্যুরেন্সের কাজে ভালুকায় এসেছিলাম। কাজ শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জ ফিরতে বাসটিতে উঠি। কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারি দুই-তিনজন যাত্রী বাদে সবাই অপহরণ চক্রের সদস্য। বাকি যাত্রীদের সর্বস্ব নিয়ে রাস্তায় নামিয়ে দেয়। পরে জানালা বন্ধ করে পর্দা টেনে আমাকে মারধর করে। অস্ত্র দেখিয়ে বলে, পাঁচ লাখ টাকা না দিলে মেরে ফেলব।

তিনি বলেন, ছোট ভাইসহ কয়েকজনের কাছ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা বিকাশে এনে দিলেও, তারা ছাড়েনি। ৫ লাখ টাকার জন্য আটকে রাখে। একপর্যায়ে আব্দুল্লাহপুর থেকে বাসটি ঘুরিয়ে আবার ময়মনসিংহের দিকে রওনা দেয়। ময়মনসিংহের দিঘারকান্দা থেকে র‍্যাব আমাকে উদ্ধার করে।

র‌্যাব-১৪ কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান বলেন, ভুক্তভোগীর ছোট ভাই বিকাশে টাকা দেওয়ার কথা জানালে আমরা ওই মোবাইল ট্র‍্যাক করি। দেখতে পাই বাসটি ময়মনসিংহের দিকে আসছে। রাত ১২টার দিকে গাড়িটি আটকালে অপরাধীরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় চক্রের হোতা বাদলকে আটক করা হয়।

তিনি বলেন, বাদলের বিরুদ্ধে ১০টির বেশি ডাকাতির মামলা রয়েছে। আগেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের নাম তিনি জানিয়েছেন। চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারত থেকে ফেরার সময় ‘মল-মূত্র’ সঙ্গে নিয়ে যাবেন পুতিন!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৫০ পি.এম


ভারত থেকে ফেরার সময় ‘মল-মূত্র’ সঙ্গে নিয়ে যাবেন পুতিন!

ব্রিক্‌স সম্মেলনে যোগ দিতে তিন দিনের সফরে ভারতে এসেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রোববার সম্মেলন শেষ করে দেশের ফেরার কথা রয়েছে বিশ্বের ক্ষমতাধর এই নেতার। এ সময় নিয়ে নিজের মল-মূত্র সঙ্গেও নিয়ে যাবেন তিনি।

বিষয়টি অবাক করার মতো হলেও পুতিনের নিরাপত্তার জন্য এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ‘দ্য এক্সপ্রেস ইউএস’।

গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, পুতিনের স্বাস্থ্য সম্পর্কে যাতে কোনও তথ্য কারও হাতে না যায়, সে কারণেই বিদেশসফরের সময় রুশ প্রেসিডেন্টের মলমূত্র সংগ্রহ করে মস্কোয় ফেরত নিয়ে আসেন তার দেহরক্ষীরা। পুতিনের মল-সহ সমস্ত মানববর্জ্য সংগ্রহ করেন একটি প্যুপ স্যুটকেসে।

এ ছাড়াও, পুতিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে ‘চেগেট’ নামে পরিচিত রাশিয়ার পারমাণবিক কমান্ড ব্রিফকেসের কথাও প্রায়ই উঠে আসে। এই ব্যবস্থা রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অংশ।

এটি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে রাখা হয় এবং প্রয়োজন হলে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সিএনএন-এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পুতিন ক্রমাগত তার নিরাপত্তা বাড়িয়ে চলেছেন। পুতিনের আশপাশে কর্মরত কর্মীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করার অনুমতি নেই। তাদের অবশ্যই মাস্ক পরতে হয়। পুতিনের সঙ্গে দেখা করার আগে হাতঘড়িও খুলে রাখতে হয়।

এ ছাড়াও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যেখানেই যান, সঙ্গে পৌঁছে যায় নজিরবিহীন নিরাপত্তার এক বিশাল আয়োজন। নিরাপত্তা বেষ্টনীর নজর এড়িয়ে মাছি গলারও সাধ্য নেই।

মূলত, পুতিনের গতিবিধি ও শারীরিক অবস্থার ন্যূনতম কোনও তথ্য যাতে বিদেশি শক্তির নাগালে না আসতে পারে তার জন্য সদাজাগ্রত প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রক্ষীরা। ভারতেও তার অন্যথা হওয়ার জো নেই।

রাশিয়া অনুসন্ধানকারী সংবাদসংস্থা ডসিয়ার সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার জন্য একটি বিশেষ বাহিনী রয়েছে, যার নাম রাশিয়ান প্রেসিডেন্সিয়াল সিকিউরিটি সার্ভিস বা এসবিপি।

এই সংস্থাটি রাশিয়ার ফেডারেল প্রোটেক্টিভ সার্ভিস বা এফএসও-এর অধীনে কাজ করে। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার শিকড় সোভিয়েত আমলের গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবি-র সঙ্গে যুক্ত। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, পুতিন নিজেও একসময় কেজিবি-র এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন।


এই এফএসও-তে প্রায় ৫০,০০০ কর্মী নিযুক্ত রয়েছেন। এই সংখ্যাটি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সুরক্ষা প্রদানকারী সিক্রেট সার্ভিস কর্মীদের সংখ্যার চেয়ে প্রায় ছয় গুণ বেশি। পুতিন সব সময় ৩০ জন সশস্ত্র রক্ষী দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকেন। এ ছাড়া তাঁকে ঘিরে থাকা শত শত মানুষের মধ্যে এফএসও এজেন্টরা মিশে থাকেন।

পুতিনের সফরকালে শ্যেনদৃষ্টিতে নজর রাখেন তারা। কালো সুট ও ইয়ারফোন গোঁজা এসবিপি রক্ষীরা ছায়ার মতো দিন-রাত পুতিনকে অনুসরণ করেন। ইউরোপীয় গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুসারে, পুতিন যখন অন্য রাষ্ট্রে সফর করেন, তখন তার নিরাপত্তা চারটি স্তরে বিভক্ত থাকে।

পুতিনের নিরাপত্তা বলয়ের প্রথম স্তরে থাকেন পুতিনের ব্যক্তিগত দেহরক্ষীরা। কালো পোশাক পরে, ইয়ারফোন কানে গুজে প্রেসিডেন্টের খুব কাছাকাছি ঘোরাফেরা করেন তারা। দ্বিতীয় স্তরে যাঁরা নিয়োজিত থাকেন তাঁরাই সবচেয়ে ধুরন্ধর। এদের চলাফেরা ও কাজকর্ম অত্যন্ত গোপনীয়। এমন গুপ্তচরদের নিয়ে গঠিত যারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে প্রায় অদৃশ্য হয়ে থাকেন।

তৃতীয় স্তরটি বহিরাগতদের পুতিনের কাছে আসতে বাধা দেয়। নিরাপত্তাকর্মীরা পুরো এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করে এবং যে কোনও অপরিচিত ব্যক্তিকে দূরে রাখে। বলয়ের চতুর্থ স্তরটি সবচেয়ে বাইরের এবং সবচেয়ে মারাত্মক স্তর। এটি স্নাইপারদের নিয়ে গঠিত, যারা কাছাকাছি উঁচু ভবনগুলোর ছাদে অবস্থান করেন। দূর থেকে আসা কোনও হুমকি বা বিপদকে নির্মূল করেন চোখের পলকে।

পুতিনের ভারতসফরকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। ভারত এবং রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সমন্বয় করে একটি বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করেছে। পুতিনের বিমান দিল্লিতে অবতরণের পর থেকেই এই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয়।

নিরাপত্তার সবচেয়ে ভিতরের স্তরে থাকেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্সিয়াল সিকিউরিটি সার্ভিস বা এসবিপি-র সদস্যেরা। তারা সব সময় পুতিনের সবচেয়ে কাছাকাছি রয়েছেন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে তাঁকে দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার দায়িত্বভার দেওয়া হয়েছে এদেরই কাঁধে।

এর পরের স্তরে রয়েছেন ভারতের ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড বা এনএসজি-র কমান্ডোরা। সন্ত্রাসবাদী হামলা বা কোনও বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই কমান্ডোরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নিরাপত্তার বাইরের স্তর সামলাচ্ছে দিল্লি পুলিশ।

পুতিনের যাতায়াতের রাস্তা, আশপাশের এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রযুক্তিরও ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ ড্রোন, জ্যামার, এআই-ভিত্তিক নজরদারি এবং মুখমণ্ডল শনাক্ত করার প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি। পুতিনের গাড়িবহরের যাত্রাপথে থাকা উঁচু ভবনগুলোতেও স্নাইপার দল মোতায়েন করা হয়েছে বলে সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইউরোপীয় গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পুতিনের স্থল নিরাপত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি হল তার গাড়ি যা ‘চলন্ত বাঙ্কার’ নামেই অধিক পরিচিত। এটি একটি বুলেট ও বোমা নিরোধক অরাস সেনাট মডেলের লিমুজ়িন। রুশ প্রেসিডেন্টকে সড়কপথে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য এটি বিশেষ ভাবে তৈরি করা হয়েছে। এতে রয়েছে জরুরি অক্সিজেন, রান-ফ্ল্যাট টায়ার, একটি সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পালানোর একাধিক পথ। এর বায়ু পরিশোধন ব্যবস্থা রাসায়নিক ও জৈবিক আক্রমণ থেকেও সুরক্ষা দিতে পারে। টায়ার বা জানলা ভেঙে গেলেও এটির ইঞ্জিন থেমে যায় না।

ডসিয়ার সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, পুতিন সাধারণত একটি ইলিউশিন আইএল-৯৬-৩০০পিইউ বিমানে ভ্রমণ করেন, যেটিকে রুশ গণমাধ্যম ‘উড়ন্ত ক্রেমলিন’ নাম দিয়েছে। এই বিমানটি ক্ষেপণাস্ত্র-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, এনক্রিপ্টেড কনফারেন্স রুম এবং একটি কমান্ড সিস্টেম দিয়ে সজ্জিত। এমনকি পারমাণবিক হামলার নির্দেশও দিতে পারে সেটি। তবে পুতিন কখনওই একটি মাত্র বিমানে ভ্রমণ করেন না। বরং, একই রুটে অন্তত একটি বা দু’টি সহায়ক বিমান থাকে, যাতে তিনি কোন বিমানে আছেন তা শত্রুপক্ষের হদিস পাওয়া সম্ভব না হয়।

এ ছাড়াও পুতিনের নিরাপত্তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশটি হল তার খাদ্যাভ্যাস এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নিরাপত্তা। পুতিনের খাবার কখনওই সফররত দেশের হোটেলের রান্নাঘরে তৈরি করা হয় না। রুশ সর্বাধিনায়কের সঙ্গে থাকা রুশ রাঁধুনিরা সমস্ত অন্ন-ব্যঞ্জন প্রস্তুত করেন।

রান্না করার সময় তাদের প্রত্যেককেই দস্তানা পরতে হয়। দিনে বেশ কয়েক বার পোশাকও বদলাতে হয়। হাতে কোনও ক্ষত আছে কি না তা বার বার পরীক্ষা করাতে হয়। পুতিনের মেনুর প্রতিটি উপাদান পরীক্ষা করা হয় এবং খাবার পুতিনের কাছে পৌঁছোনোর আগে সেগুলি তার দেহরক্ষীরা চেখে দেখেন যাতে খাবারে বিষ থাকলে তার প্রভাব প্রথমে তাদের উপরেই পড়ে।

পুতিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও একটি চর্চিত দিক হল তার মলমূত্র সংরক্ষণের বিষয়টি। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুশ প্রেসিডেন্ট যেখানেই যান, তার মলমূত্র সংগ্রহের জন্য দেহরক্ষীরা ওই স্যুটকেস সঙ্গে করে নিয়ে যান। পুতিনের মলমূত্র সংগ্রহ করে আবার তা রাশিয়ায় ফিরিয়ে আনা হয়।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৫৪ পি.এম


বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর উদ্বোধন করেছেন, যা দেশীয় উদ্ভাবনকে ল্যাবরেটরি থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে রূপান্তরিত করে সরাসরি বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানায়।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে ‘ইনোভেট টু মার্কেট’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে তিন দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন তিনি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত এই মেলায় দেশীয় উদ্ভাবক এবং উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে একটি টেকসই অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

মেলায় সরকারি-বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ৭৩টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, স্বতন্ত্র গবেষক, শিক্ষার্থী, নতুন স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান (এসএমই) এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা অংশগ্রহণ করেছেন। আয়োজনে প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতের এক হাজারের বেশি নতুন এবং সম্ভাবনাময় উদ্ভাবন প্রদর্শিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, তৃণমূল পর্যায়ে অনেক সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি ও ধারণা তৈরি হলেও নীতি সহায়তা, প্রাথমিক তহবিল ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার অভাবে সেগুলো বাস্তবে রূপ পায় না। প্রশাসনিক ও আর্থিক এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করে মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ এবং বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ করাই এই প্রদর্শনীর প্রধান লক্ষ্য।

আগামীকাল মেলার দ্বিতীয় দিনে স্বাস্থ্যসেবা খাত নিয়ে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য উদ্ভাবন: সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ’ শীর্ষক একটি বিশেষ আন্তর্জাতিক সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রান্তিক জনগণের দোরগোড়ায় কম খরচে মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হবে। সেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

এই মেলায় কৌশলগত অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি), ফরেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফআইসিসিআই) এবং কারিগরি অংশীদার হিসেবে রয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। সূত্র: বাসস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোমস্তাপুরের ভাটখৈর উচ্চ বিদ্যালয়ে এককালীন দাতা সদস্য হওয়ার সুযোগ, আবেদন করবেন যেভাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শাহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:০০ পি.এম


গোমস্তাপুরের ভাটখৈর উচ্চ বিদ্যালয়ে এককালীন দাতা সদস্য হওয়ার সুযোগ, আবেদন করবেন যেভাবে

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের ভাটখৈর উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন ব্যবস্থাপনা (ম্যানেজিং) কমিটি গঠনের লক্ষ্যে ‘এককালীন দাতা সদস্য’ আহ্বান করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এককালীন (এক টার্ম) দাতা সদস্য মনোনয়নের জন্য আগ্রহী ব্যক্তিদের ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দিতে হবে। ব্যাংক জমা নিশ্চিত করে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে বিদ্যালয় অফিস থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

ফরম ও ফি সংক্রান্ত তথ্যাবলি:

দাতা সদস্য ফি: ৫০,০০০/- টাকা (পে-অর্ডারের মাধ্যমে প্রদেয়)

মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের শেষ তারিখ: ২০/০৯/২০২৬

বিদ্যালয় অ্যাকাউন্ট নম্বর: ০১০০০০৪২৯১৩৫০৭

আগ্রহী এলাকাবাসীকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফরম সংগ্রহ করতে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, ভাটখৈরী উচ্চ বিদ্যালয়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%