০৩:৪৩ পি.এম
রাজধানীর পল্টনে বিএনপিকর্মী মকবুল হোসেন হত্যা মামলার প্রেক্ষিতে সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর পুত্র সেরনিয়াবাত মঈনউদ্দিন আহাম্মেদ আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এই নির্দেশ প্রদান করেন।
এর আগে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক মো. তোফাজ্জল হোসেন, তাদের গ্রেপ্তার করার জন্য আদালতে আবেদন করেন। শুনানির জন্য উভয় আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।
আরও পড়ুন: জাতীয় নাগরিক পার্টির ১৯৫ সদস্যের পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা
শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর সুমন জানান, আসামিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এই কারণে তিনি তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। অন্যদিকে, আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীনসহ অন্যান্য আইনজীবীরা তাদের গ্রেপ্তার না করার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।
এসময় আদালতের অনুমতি নিয়ে সুলতান মনসুর বলেন, "জুলাই আন্দোলনের সময় আমি সপরিবারে দেশের বাইরে ছিলাম। কোনো অপরাধ করলে আমি দেশে ফিরে আসতাম না। আর এ মামলার ঘটনা ২০২২ সালের। আমি তো তখন গণফোরামের সঙ্গে ছিলাম, আওয়ামী লীগের সঙ্গে না।" তিনি আদালতের কাছে আইনগত সহায়তা কামনা করেন।
শুনানি শেষে আদালত উভয় আসামিকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন।
মকবুল হত্যা মামলা
আরও পড়ুন: ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধনের পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ জরুরি: প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপি এক দফা দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর পূর্বে ৭ ডিসেম্বর ডিবি পুলিশের তৎকালীন প্রধান হারুন অর রশীদ, মেহেদী হাসান ও বিপ্লব কুমার বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং আশপাশে নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, এই হামলায় বিএনপিকর্মী মকবুল হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মাহফুজুর রহমান নামে এক ব্যক্তি পল্টন মডেল থানায় এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জনকে আসামি করা হয়।
২০২৪ সালের ১ অক্টোবর কানাডা থেকে দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে সুলতান মনসুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিনে যুবদল নেতা শামীম হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং রিমান্ডে নেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবর রাজধানীর গুলশান-২ এলাকা থেকে মঈনউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপর থেকে তিনিও কারাগারে রয়েছেন।
আরও পড়ুন: অপ্রতিম হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল, পরিবার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানালো
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন