০৯:১৬ পি.এম
সাইপ্রাসের একটি আদালত মঙ্গলবার ২২ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক শাহরিয়ার আহমেদ ইমনকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে। পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
আদালতের তথ্য অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত ওই ঘাতকও ২২ বছর বয়সী। গত ৭ জুন একটি বাসে ইমনের সাথে তার পরিচয় ঘটে এবং তারা একে অপরের যোগাযোগ নম্বর বিনিময় করে। তবে বাসে চলাকালীন সময়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়েছিল বলে জানা যায়।
৯ জুন ঘাতক একটি ছুরি ক্রয় করে এবং ১১ জুন ইমনের সাথে যোগাযোগ করে জানায় যে, সে দৈনিক ৫০ ইউরো বেতনের একটি কাজ খুঁজে পেয়েছে। ইমনের রুমমেটের তথ্য অনুযায়ী, ইমন তাকে জানিয়েছিল যে সে লার্নাকা জেলার কোফিনু গ্রামের একটি মুরগির খামারে নতুন কাজে যোগ দিতে যাচ্ছে, তবে সে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ওই দিনই ইমনের বাবার কাছে একটি এসএমএস আসে, যেখানে লেখা ছিল—"আমাকে বাঁচান, তা না হলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।"
আরও পড়ুন: নারীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অস্ট্রেলীয় সিনেটর জর্ডন স্টিল-জন
মুক্তিপণ দাবি ও নির্মম হত্যাকাণ্ড
কিছু মিনিট পর ইমনের বাবার কাছে আরও কিছু বার্তা আসে, যেখানে আগামী ১৪ জুনের মধ্যে ৩৫,০০০ ইউরো মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাঁর ছেলের কিডনি কেটে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। বার্তা পেয়ে ইমনের বাবা দ্রুত তাঁর ছেলের রুমমেটদের সাথে যোগাযোগ করেন এবং বার্তা প্রেরককে ফেরত পাঠিয়ে লেখেন যে, তিনি "পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন এবং তাঁদের দাবি পূরণের চেষ্টা করবেন।" একই সাথে তিনি তাঁর ছেলেকে কোনো ক্ষতি না করার জন্য আকুতি জানান।
এরপর রাত ১১:৩৭ মিনিটে অপহরণকারী আবার বার্তা পাঠায় এবং জানায় যে, ১৪ জুনের মধ্যে অন্তত ১০,০০০ ইউরো না দিলে ইমনের কিডনি কেটে নেওয়া হবে। ইমনের বাবার কাছে সেটিই ছিল শেষ বার্তা। সরকারি স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তন কর্মসূচির আওতায় ১৬ জুন ইমনের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত দিনে লার্নাকা বিমানবন্দরে সে অনুপস্থিত থাকায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
পরবর্তীতে ওই ২২ বছর বয়সী আসামিকে গ্রেপ্তার করার পর জানা যায়, সে ইমনকে কোফিনু কসাইখানার কাছের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায় এবং প্রথমে ছুরি দিয়ে আঘাত করে ও পরে শ্বাসরোধ করে। এরপর সে ইমনের দেহ টেনে অন্য একটি স্থানে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে আবারও শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করে। হত্যার পর লাশ খড় দিয়ে ঢেকে রেখে সে ঘরে ফিরে যায় এবং হাত ও জুতো ধুয়ে ফেলে। পরবর্তীতে ঘাতকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ উল্লেখিত স্থান থেকে ইমনের নিথর দেহ উদ্ধার করে।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের রাজনীতিতে আরব নেতা মনসুর আব্বাসের নতুন কৌশল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন