০৮:১৫ পি.এম
রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি শক্তিশালী বোমা (আইইডি) নিষ্ক্রিয় করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোমা উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়কারী দল। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মুক্তা অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) মামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান তালুকদার।
পুলিশের ধারণা, উল্টো রথযাত্রাকে লক্ষ্য করে মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বোমাটি রাখা হয়েছিল। তবে, আগেভাগেই বোমাটি শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করতে পারায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের ঘটনাটি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দশম স্থলবাহিনী সংলাপ ঢাকা সেনানিবাসে সফলভাবে সম্পন্ন
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় বাদী উল্টো রথযাত্রার নিরাপত্তায় হোন্ডা মোবাইল কল সাইনে দায়িত্ব পালন করছিলেন। রথযাত্রার রুট ছিল ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে শুরু হয়ে মতিঝিল শাপলা চত্বর হয়ে স্বামীবাগ আশ্রম পর্যন্ত। সন্ধ্যা আসার পর ট্রাফিক বিভাগ থেকে ডিএমপি কন্ট্রোল রুমে মতিঝিলে একটি বোমাসদৃশ বস্তু পাওয়ার ব্যাপারে তথ্য জানানো হয়।
একটি ছাতার মধ্যে রাখা ওই বোমায় মিটমিট করে আলো জ্বলার বিষয়টি পুলিশ জানিয়েছে। এরপর খবর পেয়ে ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশ অনুযায়ী এসআই মুক্তা ও তার সহকর্মীরা সকাল ৬টা ২০ মিনিটে মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের জেনারেটর রুমের পাশে ওই এলাকায় উপস্থিত ছাতার বোমাটি ঘিরে রাখেন। সেখানে রথযাত্রার মিছিল উপস্থিত হলে পুলিশ সদস্যরা তাদের স্থানে শর্ট সার্কিট হয়েছে বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন।
মিছিলটি শাপলা চত্বর হয়ে স্বামীবাগ আশ্রমের দিকে চলে যায়। শোভাযাত্রা নির্বিঘ্নে চলে যাওয়ার পর ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যেরা এসে সেটি নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
এর পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে বোমার আলামত হিসেবে জিআই পাইপের খণ্ডিত অংশ, ব্যাটারি এবং বেয়ারিংয়ের বল পাওয়ার তথ্যও মামলায় উল্লেখ করেছে পুলিশ।
আরও পড়ুন: গণতন্ত্রের শর্ত ও রাজনৈতিক সংকটের গুরুত্ব: তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিতর্ক
মামলায় বলা হয়েছে, সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে পূর্ব পরিকল্পনার মাধ্যমে বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে জনগণের জীবন বিপন্ন করার কারণে বোমাটি সেখানে পাতা হয়েছিল।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, উল্টো রথযাত্রাকে টার্গেট করেই ওই বোমাটি রাখা হয়েছিল বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়, এবং তদন্ত চলছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন