ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গণতন্ত্রের শর্ত ও রাজনৈতিক সংকটের গুরুত্ব: তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিতর্ক


গণতন্ত্রের শর্ত ও রাজনৈতিক সংকটের গুরুত্ব: তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিতর্ক

গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মূল শর্তটি অ্যাডাম প্রজেওয়ার্সকির একটি পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট হয়: গণতন্ত্র এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে পরাজিত হতে পারে এবং পরাজয়ের পর ফলাফল মেনে নিতে বাধ্য হয়। ফলের অনিশ্চয়তা এবং ফল মেনে নেওয়া—এই দুটি শর্ত একসঙ্গে পূরণ হলেই নির্বাচন সত্যিকার অর্থে অর্থবহ হয়ে ওঠে। রাজনীতিবিজ্ঞানে দ্বিতীয় শর্তটিকে বলা হয় পরাজিতের সম্মতি। স্যামুয়েল পি হান্টিংটন তার দ্বৈত-হস্তান্তর পরীক্ষা (two-turnover test) উল্লেখ করেছেন: কোনো গণতন্ত্রকে সুসংহত বলা যাবে তখনই, যখন ক্ষমতার হাতবদল অন্তত দুবার শান্তিপূর্ণভাবে ঘটে। এই দুই শর্তের কেন্দ্রে একটি প্রশ্ন থেকে যায়: নির্বাচন পরিচালনার সময় রেফারির আসনে কে থাকবে এবং তার নিরপেক্ষতায় পরাজিত পক্ষ কতটা আস্থা রাখতে পারবে। বাংলাদেশ এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছিল ১৯৯৬ সালে, ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে।

গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির নবম বৈঠকে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইন অধ্যাপক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা কয়েকটি ধারণা উপস্থাপন করেন। প্রস্তাব এসেছে, উচ্চকক্ষ গঠিত হলে সেখান থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ও উপদেষ্টাদের নিয়োগ দেওয়া হবে। কেউ বলেছেন, উপরাষ্ট্রপতির পদ সৃষ্টি করে উচ্চকক্ষের স্পিকারকে সেই দায়িত্ব দিতে হবে। অন্যদিকে, কেউ বলেছেন, সরকার ও বিরোধী দলের সম্মতিতে নির্বাচিত স্পিকারকেই সরকারপ্রধান করা যেতে পারে। কিন্তু কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি; এমনকি সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত প্রস্তাবও পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের লিখিত মতামত দিতে বলা হয়েছে। সরকারের চিফ হুইপ জানিয়েছেন, ৯ নভেম্বর শুরু হওয়া অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনীর প্রস্তাব উঠছে না। অর্থাৎ আলোচনার কক্ষে উচ্চারিত একটি ধারণা জনমনে সিদ্ধান্তের রূপ নিয়েছে এবং এর আগেই উত্তাপ ছড়িয়েছে।

এই বিতর্কের মধ্যে একটি বিষয় প্রায় অনুচ্চারিত থেকে যাচ্ছে। ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হাইকোর্ট সেই বিলোপের বিধান বাতিল করেন এবং চলতি বছরের জুলাইয়ে আপিল বিভাগ এর বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে সেই রায় বহাল রাখেন। ত্রয়োদশ সংশোধনী ৫৮ক থেকে ৫৮ঙ পর্যন্ত যে অনুচ্ছেদগুলো সংযোজন করেছিল, সেগুলোর একটি (৫৮গ) সংসদ ভেঙে যাওয়া বা মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাদের নিয়োগের কাঠামো ছিল। আদালতের রায়ে এর সাংবিধানিক ভিত্তি আবার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা থাকবে কি না—সে প্রশ্নের উত্তর এখন রায়ের মধ্যেই রয়েছে। কোন পদ্ধতিতে সরকার গঠিত হবে, সে বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট ঘোষণা এখনো নেই। প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএনপি ত্রয়োদশ সংশোধনীর কাঠামোয় ফেরার কথা বলছে এবং এনসিপি চায় জুলাই সনদের পদ্ধতি। আমার অবস্থান পুরোনো ও পরীক্ষিত কাঠামোর পক্ষে, প্রয়োজনে যার নির্দিষ্ট ধারা সংশোধন করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন: জাতিসংঘে মানবাধিকারভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের আহ্বান বাংলাদেশ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই ২০১১ সালের প্রসঙ্গ টেনেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নেতৃত্বাধীন কমিটি তখন তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা রাখার পক্ষে একমত হলেও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর বিলুপ্তির সিদ্ধান্তই জানানো হয়েছিল। এ থেকে একটি শিক্ষা পাওয়া যায়: কমিটির কক্ষে ঐকমত্য হওয়া এবং সেই ঐকমত্য টিকে থাকা এক কথা নয়। মন্ত্রী এ-ও বলেছেন, সে সময়ের একদলীয় প্রবণতার সঙ্গে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের পরিস্থিতি মেলে না। কথাটি ঠিক হলে আজকের সুযোগ আরো বড়: আদালতের রায়ের ওপর দাঁড়িয়ে একটি স্থিতিশীল ব্যবস্থা বেছে নেওয়া যায়, নতুন করে বিতর্কের ময়দান খোলার প্রয়োজন পড়ে না।

এখন দেখা যাক, ‘নতুন’ প্রস্তাবগুলো কতটা নতুন। গত বছরের জুলাইয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে রূপরেখা উপস্থাপন করেছিল, তাতেই উচ্চকক্ষের ভূমিকা ছিল। উচ্চকক্ষের স্পিকার বা চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে সর্বদলীয় কমিটি প্রধান উপদেষ্টার নাম ঠিক করবে; সেখানে সিদ্ধান্ত না হলে উচ্চকক্ষের সদস্যরা ক্রমভিত্তিক ভোটে (ranked-choice voting) তা নির্ধারণ করবেন। সেই আলোচনায় ঐকমত্য হয়নি। পরে জুলাই সনদে ভিন্ন একটি ধাপভিত্তিক পদ্ধতি এসেছে, যার কয়েকটি ধাপ নিয়ে বিএনপিসহ কয়েকটি দল আপত্তি জানিয়েছিল। এর মানে, যে ধারণা নিয়ে আজ আবার আলোচনা হচ্ছে, তা এক বছরের বেশি আগে একবার আলোচিত হয়ে অমীমাংসিত থেকেছে। একই প্রশ্নে ফিরে গিয়ে ভিন্ন পোশাকে একই প্রস্তাব হাজির করলে নতুন কোনো সমাধান আসে না; আসে শুধু মতভেদের নতুন সুযোগ।

উচ্চকক্ষকেন্দ্রিক প্রস্তাবের একটি কাঠামোগত দুর্বলতাও বিদ্যমান। যে প্রতিষ্ঠানের ওপর ভর করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের কথা বলা হচ্ছে, সেটি এখনো অস্তিত্বেই আসেনি এবং তার গঠন নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দল একমত নয়। বিএনপি তার ইশতেহারে সংসদীয় আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের কথা বলেছে; জামায়াতে ইসলামী চায় ভোটের অনুপাতে। কমিটির বৈঠকে কেউ কেউ প্রশ্নও তুলেছেন, বাংলাদেশের উচ্চকক্ষ আদৌ দরকার কি না; বরং একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা যায় কি না। এমন অবস্থায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো একটি নির্দিষ্ট ও জরুরি ব্যবস্থাকে একটি অনিশ্চিত প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল করলে একটি অমীমাংসিত বিতর্ক আরেকটিকে আটকে দেয়। দ্বিকক্ষ সংসদ হবে কি না, হলে কীভাবে হবে—এ সিদ্ধান্ত যত দিন না হচ্ছে, ততদিন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পদ্ধতিও ঝুলে থাকবে।

দ্বিতীয় আপত্তিটি নিরপেক্ষতার প্রশ্নে। জেমস ম্যাডিসন ফেডারেলিস্ট পেপার্সের দশম নিবন্ধে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, কাউকে তার নিজের মামলার বিচারক হতে দেওয়া হয় না। উচ্চকক্ষের সদস্যরা ভোটের অনুপাতে নির্বাচিত হোন বা আসনের অনুপাতে, তারা দলের প্রতিনিধি; সরকার ও বিরোধী দলের সম্মতিতে নির্বাচিত স্পিকারও দলীয় দর-কষাকষিরই ফল। যে সরকারের কাজ দলগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা পরিচালনা করা, তার নেতৃত্ব সেই প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোরই গড়া কাঠামো থেকে এলে নিরপেক্ষতার প্রশ্নটি নতুন করে ওঠে। হান্টিংটন প্রতিষ্ঠানের মান যাচাইয়ে যে চারটি মানদণ্ড দিয়েছেন (Adaptability, Complexity, Autonomy, Coherence), তার একটি স্বাতন্ত্র্য (Autonomy), অর্থাৎ অন্যান্য সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তি থেকে প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা। তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার মূল শক্তি ওই স্বাতন্ত্র্যেই।

আরও পড়ুন: জামায়াত নেতাদের ভারতীয় গোয়েন্দাদের সঙ্গে বৈঠকের দাবি, রাশেদকে চ্যালেঞ্জ

ইতিহাসের দিকেও একবার তাকানো যায়। ত্রয়োদশ সংশোধনীর অধীনে ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রতিবারই ক্ষমতার হাতবদল ঘটেছে। হান্টিংটনের হাতবদল-মানদণ্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে এ অভিজ্ঞতা তুচ্ছ নয়। এই ব্যবস্থা বিলুপ্ত হওয়ার পর ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন প্রধান বিরোধী দল বর্জন করেছে, আর ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ তুলনা কার্যকারণ সম্পর্ক প্রমাণ করে না, কিন্তু যে ব্যবস্থা তিন দফায় ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর নিশ্চিত করেছিল, তাকে নিয়ে নতুন নকশার পরীক্ষায় নামার আগে সেই ইতিহাসকে হিসাবেও রাখতে হবে।

বিপরীত মতেরও যুক্তি আছে এবং তা উপেক্ষণীয় নয়। এনসিপি বলছে, ত্রয়োদশ সংশোধনীর কাঠামো বিচার বিভাগের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল এবং অতীতে রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে; তারা ১/১১-এর মতো পরিস্থিতির কথাও বলেছে। তাদের মতে, জুলাই সনদে বর্ণিত পদ্ধতিই শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য উপযুক্ত। এই সমালোচনার একটি অংশ যথার্থ: সর্বশেষ বিকল্পে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা কী হবে এবং নিয়োগ নিয়ে মতভেদ দেখা দিলে সংকট কীভাবে এড়ানো যাবে, তার উত্তর স্পষ্ট থাকা দরকার। তবে কোনো কাঠামোর নির্দিষ্ট দুর্বলতা চিহ্নিত হলে তার প্রতিকার হয় সেই দুর্বলতা সংশোধনেই, পুরো স্থাপত্য বদলে নয়। বিশেষ কমিটির বৈঠকেও রাষ্ট্রপতির সর্বশেষ বিকল্প বাদ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এমন সুনির্দিষ্ট সংশোধনের পথ খোলাই আছে।

সময়েরও একটি বিবেচনা আছে। বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হতে এখনো অনেক দেরি; তাড়াহুড়োর কোনো কারণ নেই। হাতে যে সময় আছে, তার সদ্ব্যবহার হতে পারে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার মতো কাজে। কারণ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান যিনিই হোন, নির্বাচন পরিচালনার যন্ত্রগুলো স্বাধীনভাবে কাজ না করলে তার পক্ষেও নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য করা কঠিন। প্রধান উপদেষ্টা কে হবেন, সে প্রশ্নের চেয়ে এই প্রশ্ন কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

তাহলে করণীয় কী? আমার বিবেচনায় একটি ক্রম অনুসরণ করা যেতে পারে। প্রথমত, আদালতের রায়ে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিধানকে ভিত্তি হিসেবে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা। দ্বিতীয়ত, যেসব জায়গায় আপত্তি সুনির্দিষ্ট, যেমন সর্বশেষ বিকল্পে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা ও নিয়োগ নিয়ে অচলাবস্থা এড়ানোর উপায়, সেগুলো চিহ্নিত করে লক্ষ্যভিত্তিক সংশোধনের প্রস্তাব তৈরি করা। তৃতীয়ত, উচ্চকক্ষ কীভাবে গঠিত হবে, সে প্রশ্নটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আলোচনা থেকে আলাদা করে নিজস্ব যুক্তিতে বিবেচনা করা। চতুর্থত, এসব আলোচনায় সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোকে কার্যত অংশীদার করা, যাতে পরবর্তী সময়ে কেউ বলতে না পারে যে ব্যবস্থাটি তার সম্মতি ছাড়া তৈরি হয়েছে। ঐকমত্য এভাবেই টেকসই হয়।

আরও পড়ুন: চাঁদা না পেয়ে ইউপি সদস্যকে মারধর করলেন বিএনপি নেতা তোতা

সামগ্রিক বিশ্লেষণে তিনটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়। প্রথমত, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার সাংবিধানিক ভিত্তি আদালতের রায়ে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয়ত, উচ্চকক্ষভিত্তিক বিকল্প এমন একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল, যা এখনো প্রতিষ্ঠিত নয়। তৃতীয়ত, সেই বিকল্পে নির্বাচনকালীন সরকারের স্বাতন্ত্র্য ও নিরপেক্ষতা নিয়ে মৌলিক প্রশ্ন থেকে যায়। প্রাতিষ্ঠানিক তত্ত্বের দৃষ্টিতে কোনো ব্যবস্থার কার্যকারিতা বহুলাংশে নির্ভর করে তার স্থায়িত্ব ও পূর্বানুমেয়তার (Predictability) ওপর। নির্বাচনের নিয়ম যখন বারবার পুনর্বিবেচনার বিষয় হয়, তখন অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মনোযোগ ফল থেকে সরে নিয়মের দর-কষাকষিতে আটকে যায় এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়ার প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ম্যাকিয়াভেলি দ্য প্রিন্সে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন, নতুন বিধিব্যবস্থা প্রবর্তন সবচেয়ে কঠিন ও অনিশ্চিত উদ্যোগ। তাই এই মুহূর্তে পরীক্ষিত কাঠামোর নির্দিষ্ট ত্রুটি সংশোধন করে এগোনোই অধিক যুক্তিসংগত পথ। ইতোমধ্যে আদালতের রায়ে নিষ্পত্তি হওয়া প্রশ্নকে নতুন নকশায় আবার উন্মুক্ত করা কোনো নতুন সমস্যার সমাধান দেয় না; এ কারণেই বিতর্কটি এই পর্যায়ে অপ্রয়োজনীয়।

লেখক : অধ্যাপক (অব.), সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দশম স্থলবাহিনী সংলাপ ঢাকা সেনানিবাসে সফলভাবে সম্পন্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪২ এম


বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দশম স্থলবাহিনী সংলাপ ঢাকা সেনানিবাসে সফলভাবে সম্পন্ন

ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দশম স্থলবাহিনী সংলাপ আজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

উভয় দেশের সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিগণ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের শুরুতে, ২৬ অক্টোবর সেনাসদরে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের প্রধান, প্যাসিফিক আর্মি কমান্ডের স্ট্র্যাটেজি এন্ড প্ল্যানস বিষয়ক ডেপুটি কমান্ডিং জেনারেল মেজর জেনারেল জাইলস জে. এস. কর্ণেলিয়া সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলোচনায় একটি প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে, যার নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সামরিক প্রশিক্ষণ পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আশিকুর রহমান। আলোচনার এই পর্বে উভয় পক্ষ সামরিক সহযোগিতা জোরদার, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এসময় প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, উন্নত প্রযুক্তি ও সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহারের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

এছাড়া, প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিত প্রস্তুতি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালদ্বীপের স্পিকারের সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ, আলোচনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪২ এম


মালদ্বীপের স্পিকারের সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ, আলোচনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে

ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : মালদ্বীপে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মালদ্বীপের পার্লামেন্ট ‘পিপলস মজলিস’-এর স্পিকার আবদুল রাহিম আবদুল্লার সঙ্গে।

রাজধানী মালেতে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাতে দুই দেশের সংসদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং সংসদীয় কূটনীতির মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও জোরদার করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে আজ মালদ্বীপে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সাক্ষাৎকালে উভয়পক্ষ বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। আলোচনায় মালদ্বীপের পিপলস মজলিসে একটি ‘বাংলাদেশ-মালদ্বীপ সংসদীয় বন্ধুত্ব গ্রুপ’ গঠনের প্রস্তাব বিশেষ গুরুত্ব পায়।

হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম দুই দেশের সংসদ সদস্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতার সুসংগঠিত প্ল্যাটফর্ম তৈরির লক্ষ্যে এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। স্পিকার এতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

সংসদীয় কূটনীতির তাৎপর্য তুলে ধরে হাইকমিশনার বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ধারাবাহিক যোগাযোগ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও গভীর ও অর্থবহ করে তোলে।

প্রস্তাবিত বন্ধুত্ব গ্রুপ বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্কের পরিপূরক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিক্ষা, জনকল্যাণ এবং প্রবাসী শ্রম অভিবাসনের মতো বিষয়গুলোতে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

সাক্ষাৎকালে মালদ্বীপে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রদান এবং দেশটির অর্থনীতিতে তাদের অবদানের কথা তুলে ধরেন হাইকমিশনার।

স্পিকার আবদুল রাহিম আবদুল্লা মালদ্বীপের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা ও পরোক্ষ উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

বৈঠক শেষে দুই দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্বকারী বিশেষ স্মারক উপহার বিনিময় করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে কার্যালয় খোলার অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৩ এম


বাংলাদেশে কার্যালয় খোলার অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠক

জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর আমাকাওয়া কাজুহিকো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

এ বৈঠকটি বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জেবিআইসির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এবং বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা দেয়ায় তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য বিভিন্ন বিধিবিধান সংস্কার ও সহজীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

তিনি বিনিয়োগবান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথাও তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জেবিআইসির অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পগুলো বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বৈঠকে বাংলাদেশে জেবিআইসির একটি কার্যালয় খোলার অনুরোধ জানানো হয়। জবাবে, জেবিআইসির গভর্নর প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন।

সাক্ষাতকালে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ অন্যান্যরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউনিক্লোর প্রতি উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৪ এম


বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউনিক্লোর প্রতি উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের বিশ্বখ্যাত পোশাক প্রস্তুতকারক ও খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লোর মূল কোম্পানি ফাস্ট রিটেইলিং কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান, প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তাদাশি ইয়ানাইয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

এ সাক্ষাৎ বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাতে ইউনিক্লোর প্রতি বাংলাদেশের আস্থা এবং ফাস্ট রিটেইলিংয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্কের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী ইউনিক্লোকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বিশেষ করে কৃত্রিম তন্তু (ম্যান-মেড ফাইবার), টেকনিক্যাল টেক্সটাইল এবং টেকসই পোশাক উৎপাদন খাতে বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।

এছাড়া প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন, পণ্যে উদ্ভাবন, উন্নত উৎপাদনব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে ইউনিক্লোর কার্যক্রম সম্প্রসারণে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

তিনি জমির ব্যবস্থা, বিনিয়োগের অনুমোদন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে সহযোগিতা দেয়ার কথাও জানান।

বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ। এ চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক সম্প্রসারণে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

সাক্ষাতকালে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জাপানি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন ফাস্ট রিটেইলিং কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক তাকেশি ওকাজাকি এবং প্রতিষ্ঠানটির গ্রুপ সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার ইয়োশিহিরো কুনিই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%