মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:১২ এম
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে কেনাকাটার আড়ালে জাল টাকা সরবরাহের অভিযোগে স্থানীয় জনতা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চার নারীকেই আটক করে পুলিশে দিয়েছে। তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ও ৫০০ টাকা মূল্যমানের জাল নোট উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের গল্লাক বাজারের কয়েকটি দোকান থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটক নারীদের মধ্যে রয়েছেন চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের বেপারি বাড়ির মিন্টু বেপারির স্ত্রী আমেনা বেগম (২৮), ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের পশ্চিম পোয়া গ্রামের আবদুল মালেকের স্ত্রী হাসিনা আক্তার (৩০), একই এলাকার আনোয়ার গাজীর স্ত্রী পাখি (৩৮) এবং গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের প্রত্যাশী গ্রামের মৃত ইলিয়াস মিয়ার স্ত্রী শিল্পী বেগম (৪৫)।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রোববার রাতে ওই চার নারী দলবদ্ধভাবে গল্লাক বাজারের কয়েকটি দোকানে যান। তারা কম দামের পণ্য কিনে ১ হাজার টাকার জাল নোট দেন। এরপর বাকি টাকা আসল নোট হিসেবে ফেরত নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এক ব্যবসায়ীর সন্দেহ হলে তিনি নোট পরীক্ষা করে একই সিরিয়াল নম্বরের একাধিক ১ হাজার টাকার নোট দেখতে পান। নোটগুলোর সিরিয়াল নম্বর ছিল ‘ক-ছ ৭৭৬৭০৮২’। বিষয়টি জানাজানি হলে বাজারে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ ওই চার নারীকে ঘিরে রাখেন।
পরে তাদের গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নেওয়া হয়। ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান পাটওয়ারী বললেন, বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের জাল টাকা দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় লোকজন ওই নারীদের ধরে পরিষদে নিয়ে আসেন। পরে তিনি ফরিদগঞ্জ থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে তাদের থানায় নিয়ে যায়।
সংবাদ পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানার এসআই মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। চার নারীকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা জাল নোটও জব্দ করা হয়।
ফরিদগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আল আমীন তালুকদার বললেন, এ ঘটনায় মামলা করে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আল আমীন তালুকদার আরও বললেন, জাল টাকা সরবরাহের ঘটনায় এই নারীদের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না বা এর পেছনে কোনো বড় চক্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানব ইতিহাসের সূচনা থেকে বিবাহ একটি শালীন, পবিত্র ও সুশৃঙ্খল সমাজব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ইসলাম ধর্মে বিয়েকে কেবল একটি সামাজিক প্রথা হিসেবে দেখা হয় না, বরং এটি একটি অত্যন্ত পবিত্র ও বরকতময় ইবাদত। নবী করিম (সা.) যুবসমাজকে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী দ্রুত বিয়ে করার জন্য উৎসাহিত করেছেন, কারণ এটি লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে এবং চোখকে সংযত রাখে। তবে, এই পবিত্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে শরিয়তের কিছু নির্দিষ্ট গণ্ডি ও নীতিমালা রয়েছে। বংশের পবিত্রতা রক্ষা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে ইসলাম কিছু নির্দিষ্ট নারীর সঙ্গে বিবাহকে চিরতরে বা সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে। পবিত্র কুরআনের নির্দেশনা এবং হাদিসের আলোকে কিছু নারীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া সম্পূর্ণ হারাম, যা নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো—
ইসলামে চিরতরে বিবাহ হারাম বা নিষিদ্ধ যেসব নারী
পবিত্র কুরআনের সুরা নিসার ২২ ও ২৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা এমন কিছু নারীর একটি স্পষ্ট তালিকা দিয়েছেন, যাদের সঙ্গে একজন পুরুষের বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করা চিরতরে হারাম। বংশগত (নসবী), বৈবাহিক (সোহবত) এবং দুধ সম্পর্কের ভিত্তিতে এই ১৪ শ্রেণির নারী নির্ধারিত হয়েছেন। তারা হলেন—
১. মা: দাদী ও নানী— যত ওপরের স্তরেরই হোন না কেন।
২. সৎ মা: বাবার বর্তমান বা সাবেক স্ত্রী (দাদা ও নানার স্ত্রীরাও এর অন্তর্ভুক্ত)।
৩. মেয়ে: পৌত্রী (নাতনি) ও দৌহিত্রী—যত নিচের স্তরেরই হোক না কেন।
৪. বোন: সহোদর, বৈমাত্রেয় (বাবার দিক থেকে) এবং বৈপিত্রেয় (মায়ের দিক থেকে) সব বোন।
৫. ফুফু: বাবা ও দাদার তিন প্রকারের বোন।
৬. খালা: মা, নানী ও নানীর তিন প্রকারের বোন।
৭. ভাতিজী: ভাই ও তার তিন প্রকারের সন্তানদের মেয়েরা।
৮. ভাগিনী: বোন ও তার তিন প্রকারের সন্তানদের মেয়েরা।
৯. দুধ মা: যে নারী শৈশবে স্তন্যপান করিয়েছেন।
১০. দুধ বোন: একই দুধ মায়ের অন্য সন্তান (তার মেয়ে, ভাতিজি ও ভাগিনিও এর অন্তর্ভুক্ত)।
১১. শাশুড়ি: স্ত্রীর মা ও তার ওপরের বংশের নারীরা।
১২. সৎ মেয়ে: যে স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করা হয়েছে, তার পূর্ব ঔরসজাত কন্যা।
১৩. পুত্রবধূ: নিজ পুত্র বা পৌত্র-দৌহিত্রের স্ত্রী—যত নিচের স্তরেরই হোক।
১৪. দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা: অর্থাৎ কোনো নারী বিবাহাধীনে থাকাকালীন তার বোনকে বা তার ফুফু, খালা, ভাতিজি ও ভাগিনিকে একত্রে বিবাহ করা হারাম।
এই নিষিদ্ধতার মূল ভিত্তি সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে—
وَلَا تَنْكِحُوا مَا نَكَحَ آبَاؤُكُمْ مِنَ النِّسَاءِ إِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ ۚ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَمَقْتًا وَسَاءَ سَبِيلًا - حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ أُمَّهَاتُكُمْ وَبَنَاتُكُمْ وَأَخَوَاتُكُمْ وَعَمَّاتُكُمْ وَخَالَاتُكُمْ وَبَنَاتُ الْأَخِ وَبَنَاتُ الْأُختِ وَأُمَّهَاتُكُمُ اللَّاتِي أَرْضَعْنَكُمْ وَأَخَوَاتُكُمْ مِنَ الرَّپَاعَةِ وَأُمَّهَاتُ نِسَائِكُمْ وَرَبَائِبُكُمُ اللَّاتِي فِي حُجُورِكُمْ مِنْ نِسَائِكُمْ اللَّاتِي دَخْلْتُمْ بِهِنَّ...
‘আর তোমরা বিবাহ করো না সেই নারীদিগকে, যাদেরকে তোমাদের পিতারা বিবাহ করেছিল; তবে যা অতীতে হয়ে গেছে। নিশ্চয়ই এটি অশ্লীলতা, ঘৃণাভাজন ও মন্দ রীতি। তোমাদের ওপর হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতা, কন্যা, বোন, ফুফু, খালা, ভাতিজি, ভাগিনি, সেই দুধ-মাতা যারা তোমাদের স্তন্যপান করিয়েছে, দুধ-বোন, তোমাদের স্ত্রীদের মাতা এবং তোমরা যাদের সঙ্গে সহবাস করেছ সেই স্ত্রীদের কন্যা যারা তোমাদের কোলে প্রতিপালিত হয়...।’ (সুরা আন-নিসা: আয়াত ২২-২৩)
১৪ নারী ছাড়াও আরও যেসব ক্ষেত্রে বিবাহ হারাম
উপরে বর্ণিত ১৪ জন ছাড়াও পরিস্থিতি ও সামাজিক সম্পর্কের কারণে আরও কিছু নারীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া শরিয়তে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফিকহের কিতাবাদীর আলোকে সেই ক্ষেত্রগুলো হলো—
১. একসঙ্গে চারের অধিক নারীকে বিবাহ করা।
২. এমন নিকট সম্পর্কের দুজন নারীকে একসঙ্গে বিবাহ করা, যাদের একজন যদি পুরুষ হতো, তবে অন্যজনকে বিবাহ করা বৈধ হতো না (যেমন—ফুফু ও ভাতিজিকে একসঙ্গে রাখা)।
৩. স্বাধীন নারীকে বিবাহ করার পর কোনো ক্রীতদাসীকে বিবাহ করা (শর্ত সাপেক্ষে)।
৪. অন্য পুরুষের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী বা স্বামীর মৃত্যুর পর নারীর ইদ্দতকাল পূর্ণ হওয়ার আগে তাকে বিবাহ করা।
৫. মুসলিম পুরুষের জন্য আহলে কিতাব (ইহুদি-খ্রিস্টান) ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের বা মুশরিক নারীকে বিবাহ করা।
৬. কোনো নারীর জন্য নিজের গোলাম বা দাসকে বিবাহ করা।
৭. কোনো স্বামীর জন্য নিজের তিন তালাক দেওয়া স্ত্রীকে পুনর্বিবাহ করা—যতক্ষণ না অন্য পুরুষের সঙ্গে তার বৈধ বিয়ে হয় এবং সেই স্বামী তাকে তালাক দেয় বা মারা যায় (তাহলিল বা হালালা ছাড়া)।
৮. যে নারীর সঙ্গে ব্যভিচার করা হয়েছে বা উত্তেজনার সঙ্গে স্পর্শ করা হয়েছে, তার মা, নানি, মেয়ে বা নানিকে বিবাহ করা হারাম।
৯. অন্যের বৈধ বিবাহিতা স্ত্রীকে বিবাহ করা।
ইসলামি শরিয়তে বিয়ের বিধান অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও পবিত্র। রক্ত ও বৈবাহিক সম্পর্কের পবিত্রতা রক্ষা করতেই আল্লাহ তাআলা নিষিদ্ধ নারীদের এই সীমারেখা টেনে দিয়েছেন। এই নিয়মগুলো মেনে চলা কেবল ধর্মীয় বাধ্যবাধকতাই নয়, বরং মানব সভ্যতার নৈতিকতা ও বংশমর্যাদা রক্ষার অপরিহার্য শর্ত। একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে বিবাহ সংক্রান্ত এই বিধানগুলো সঠিকভাবে জানা এবং তা মেনে চলা আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা আমাদের শরিয়তের প্রতিটি বিধান যথাযথভাবে মেনে চলার তৌফিক দান করুন। আমিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গ্রেফতারটি সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায় পরিচালিত হয়।
ডিবির প্রধান শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) দায়ের করা একটি মামলার সূত্র ধরে তাদের অনুরোধে দিলীপ আগারওয়ালাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তবে, ওই মামলায় ঠিক কী অভিযোগ রয়েছে, সে সম্পর্কে ডিবিপ্রধান তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এর আগে, ২০২৪ সালের ০৩ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সোনা ও হীরা চোরাচালান, প্রতারণা, জালিয়াতি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে তৎকালীন র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন দিলীপ। ওই দিন মধ্যরাতে রাজধানীর গুলশানে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় রাজধানীর বাড্ডায় হৃদয় আহমেদ নামের এক কিশোরকে হত্যার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল পুলিশ। পরে তিনি জামিনে কারামুক্ত হন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সুপারভাইজারসহ ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় অন্তত ৩ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৮ টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পৌলি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহতদের নাম পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলা থেকে ছেড়ে আসা যমুনা এন্টারপ্রাইজের একটি বাস ঢাকা দিকে যাচ্ছিলো। মহাসড়কের পৌলি এলাকায় পৌঁছানোর পর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি দেয়ালে ধাক্কা দেয়। এই সময় বাসের সামনে থাকা সুপারভাইজার এবং অজ্ঞাত এক যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং অন্তত ৩ জন আহত হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর নিহতদের লাশ উদ্ধার করা হয়। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফ্রান্সে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভের সময় সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটায় সরকার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পরিস্থিতির অবনতি রোধ করার লক্ষ্যে ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু (Sebastien Lecornu) দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয়ভাবে আংশিক ও সীমিত পরিসরে কারফিউ জারির ঘোষণা দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সহিংসতা এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে একটি জরুরি সরকারি বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু জানিয়েছেন, স্থানীয় প্রিফেক্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন প্রয়োজন হলে অবিলম্বে এই কারফিউ কার্যকর করা হয়। মূলত মানুষের জীবন রক্ষা এবং দোকানপাট ও বাণিজ্যিক স্থাপনাগুলোতে লুটপাট ঠেকানোর উদ্দেশ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্যারিসের ঐতিহাসিক ‘প্লাস দ্য লা রিপাবলিক’ (Place de la Republique) চত্বর এবং লে আল (Les Halles) এলাকার আশেপাশের রাস্তায় আজ সন্ধ্যা ৮টা (জিএমটি সময় রাত ২০:০০টা) থেকে শুরু হয়ে আগামীকাল ভোর ৪টা (জিএমটি সময়) পর্যন্ত সীমিত পরিসরে কারফিউ বলবৎ থাকবে।
একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, লিটল (Lille) শহরেও আজ সন্ধ্যা থেকে কারফিউর নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
এছাড়া বিএফএম টিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, লিটল শহরের পাশাপাশি ওয়াটিনিয়ে (Wattignies), দুয়ে (Douai) এবং দেনেন (Denain)-এর বিভিন্ন অংশে স্থানীয় মেয়রদের সম্মতিক্রমে প্রথম দফায় আগামী দুই দিনের জন্য রাত ৮টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কারফিউর আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।
বিক্ষোভের এই তীব্রতার মাঝে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন নুনেস (Laurent Nunez) তার পদত্যাগপত্র জমা দিলেও রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তা নাকচ করে দিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও পরিকল্পনাগত ত্রুটিগুলো খতিয়ে দেখে দ্রুত নতুন পুলিশি কৌশল প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন ম্যাক্রোঁ।
এদিকে, ফরাসি সরকারের এই কঠোর অবস্থানের মধ্যেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আগামী শনিবার (২৪ অক্টোবর) 'ইয়েলো ভেস্ট' (Yellow Vest) আন্দোলনের আয়োজকরা দেশজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। এছাড়া, ছাত্র বিক্ষোভের সমর্থন ও পুলিশি সহিংসতার প্রতিবাদে প্যারিসের বিশ্ববিখ্যাত ল্যুভ জাদুঘর (Louvre Museum) সাধারণের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ফ্রান্স ভ্রমণকারী নাগরিকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন এবং বড় জমায়েত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে জার্মানি, ইতালি, চেক প্রজাতন্ত্রসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সরকার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ