মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৪১ এম
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বৈচিত্র্যময় পরিবেশ, যা গাছগাছালিতে ভরা, ধ্বংসের মুখে রয়েছে। উপজেলায় একটি সড়কের প্রশস্তকরণ কাজ চলমান রয়েছে। এই কাজ সম্পন্ন করার জন্য রাস্তার দুই পাশে থাকা জমির টপসয়েল এবং ১ হাজার ৫০০ এর অধিক গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। এক বা দুইটি গাছ নয়, বরং ১ হাজারের বেশি গাছ কাটা হয়েছে। এছাড়া আরও ৫০০ গাছ কাটা হবে। নেয়াজের টেক থেকে কলাউজান বোর্ড অফিস পর্যন্ত ৭ দশমিক ৭০০ মিটার রাস্তা প্রশস্ত করার জন্য এই গাছগুলো কাটা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় এলাকাবাসী জানিয়েছেন, প্রায় এক মাস আগে গাছ কাটা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে নেয়াজের টেক থেকে লেইঙ্গা পুকুর পাড়ের পশ্চিম পাড় পর্যন্ত আনুমানিক ১ হাজারের অধিক গাছ কাটা হয়েছে এবং লেইঙ্গা পুকুরপাড় থেকে কানুরামবাজার পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় গাছ এখনো কাটা হয়নি।
অন্যদিকে, স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, রাস্তা প্রশস্তকরণের কাজে মাটি জোগান দিতে গিয়ে অনেক কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিপূরণ ছাড়াই ফসলি জমি থেকে মাটি খননের যন্ত্র দিয়ে কয়েকফুট গভীর করে মাটি কেটে নিয়েছে।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, সিডিডব্লিউএসপি কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে এই রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। নেয়াজের টেক থেকে কলাউজান বোর্ড অফিস পর্যন্ত ৭ দশমিক ৭০০ মিটার রাস্তা প্রশস্তকরণের জন্য প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স। কৃষকের ফসলি জমি কেটে ফেলার বিষয়ে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী কাজি ফাহাদ বিন মাহমুদ আমার দেশকে জানান, রাস্তা প্রশস্তকরণের জন্য প্রায় ১ হাজার ৫০০ গাছ কাটা হয়েছে। যেসব স্থানে গাছ কাটা হয়েছে, সেসব স্থানে পুনরায় গাছ লাগানো হবে। ফসলি জমি থেকে মাটি ও গাছ কেটে ফেলার বিষয়ে কারো কাছ থেকে অভিযোগ পায়নি, পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাছ কেটে ফেলার বিষয়ে দক্ষিণ বন বিভাগের পদুয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াদুর রহমান ভূইয়া বলেন, গাছগুলো উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে রয়েছে, তাই তাদের পক্ষ থেকে বন বিভাগকে গাছের পরিমাণ এবং মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলা সাহিত্যের আকাশে যেসব কবি নিজেদের চিন্তা, স্বতন্ত্র কাব্যভাষা ও আদর্শিক চেতনায় উজ্জ্বল হয়ে আছেন, তাঁদের মধ্যে ফররুখ আহমদ অন্যতম। এই সাহিত্যস্রষ্টা, যিনি ‘মুসলিম রেনেসাঁর কবি’ হিসেবে পরিচিত, তাঁর কবিতায় মুসলিম সমাজের আত্মপরিচয়, জাগরণ, মানবিকতা ও ঐতিহ্যচেতনার বিষয়গুলি তুলে ধরেন। কবিতায় আরবি-ফারসি শব্দের সৃজনশীল প্রয়োগ, সমৃদ্ধ উপমা, ছন্দের বৈচিত্র্য এবং গভীর জীবনবোধের মাধ্যমে তিনি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছেন। কবিতা ছাড়াও তিনি ছড়া, সনেট, কাব্যনাট্য, ব্যঙ্গকবিতা, গল্প, প্রবন্ধ ও সংগীত রচনায় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন।
জন্ম ও শৈশব
ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন তৎকালীন যশোর জেলার অন্তর্গত, বর্তমানে মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা খানসাহেব সৈয়দ হাতেম আলী এবং মাতা রওশন আখতার। তিনি ছিলেন তাঁদের দ্বিতীয় পুত্র।
শৈশব থেকেই সাহিত্যের প্রতি তাঁর অনুরাগ ছিল। ছাত্রাবস্থায় তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন এবং বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হতে থাকে। অল্প বয়সেই তাঁর কাব্যপ্রতিভা সাহিত্যপ্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ১৯৩৭ সালে খুলনা জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর কলকাতার রিপন কলেজ থেকে ১৯৩৯ সালে আইএ পাস করেন। পরে স্কটিশ চার্চ কলেজে দর্শন ও ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স নিয়ে বিএ শ্রেণিতে ভর্তি হন, তবে পড়াশোনা শেষ না করেই কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।
কর্মজীবন ও সাহিত্যসম্পাদনা
কর্মজীবনের শুরুতে ফররুখ আহমদ কলকাতার আইজি প্রিজন অফিস ও সিভিল সাপ্লাই বিভাগে কাজ করেন। পরে তিনি সাহিত্য ও সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৪৫ সালে মাসিক ‘মোহাম্মদী’ পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন। দেশভাগের পর ঢাকায় এসে তিনি তৎকালীন রেডিও পাকিস্তানের ঢাকা কেন্দ্রে যোগ দেন। সেখানে স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি শিশুদের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘খেলাঘর’ পরিচালনা করতেন। বেতারকেন্দ্রে তাঁর কর্মজীবন সাহিত্যচর্চাকে বিস্তৃত করার সুযোগ করে দেয়। কবিতা, গান, বেতার কথিকা ও শিশুতোষ রচনার মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন বয়সী পাঠক-শ্রোতার কাছে পৌঁছে যান। যদিও তাঁর সৃষ্টিশীলতার পরিধি বিস্তৃত ছিল, তবে কবি হিসেবেই তিনি সর্বাধিক পরিচিতি অর্জন করেন।
আদর্শ, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ
ফররুখ আহমদের রাজনৈতিক ও আদর্শিক চিন্তায় সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন এসেছে। ছাত্রজীবনে তিনি এম এন রায়ের র্যাডিক্যাল মানবতাবাদে আকৃষ্ট হন এবং বামপন্থী চিন্তাধারার সঙ্গে পরিচিত হন। পরবর্তী সময়ে মুসলিম পুনর্জাগরণ, ইসলামী মূল্যবোধ ও মুসলিম ঐতিহ্য তাঁর সাহিত্যচিন্তার প্রধান অনুষঙ্গে পরিণত হয়।
তবে তাঁর আদর্শিক অবস্থানকে কেবল একটি রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করলে তাঁর জীবন ও সাহিত্যকে পূর্ণাঙ্গভাবে বোঝা সম্ভব নয়। পাকিস্তান আন্দোলনের প্রতি সমর্থন থাকলেও রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে বাংলা ভাষার অধিকারের পক্ষে তিনি অবস্থান নেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তাঁর সমর্থন ছিল স্পষ্ট। তৎকালীন শাসকদের ভাষানীতি ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সমালোচনাও তিনি লেখনীর মাধ্যমে প্রকাশ করেন। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতিও তাঁর সমর্থনের কথা বিভিন্ন জীবনী ও সাহিত্যবিষয়ক আলোচনায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অবস্থান তাঁর রাজনৈতিক জীবনের জটিলতা ও সময়ের সঙ্গে তাঁর চিন্তার বিবর্তন বুঝতে সহায়তা করে।
‘সাত সাগরের মাঝি’: কাব্যজগতে স্বতন্ত্র পরিচয়
১৯৪৪ সালে ফররুখ আহমদের প্রথম ও বহুল আলোচিত কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ প্রকাশিত হয়। এ গ্রন্থের কবিতায় মুসলিম সমাজের জাগরণ, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা, মানবিক বোধ ও স্বপ্নময় অভিযাত্রার চিত্র ফুটে উঠেছে। তাঁর কাব্যভাষায় আরবি-ফারসি শব্দের ব্যবহার, ঐতিহ্যনির্ভর প্রতীক এবং গতিময় ছন্দ এক বিশেষ আবহ তৈরি করে।
চল্লিশের দশকে বাংলায় দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতা কবিদের লেখায় গভীর প্রভাব ফেলেছিল। ফররুখ আহমদও এ দুর্ভিক্ষের মানবিক বিপর্যয় নিয়ে কবিতা রচনা করেন। তাঁর ‘লাশ’ কবিতাটি ১৯৪৪ সালে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য সম্পাদিত দুর্ভিক্ষবিষয়ক সংকলন ‘আকাল’-এ স্থান পায়। দুর্ভিক্ষের নির্মম বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে রচিত এ কবিতায় ক্ষুধা, মৃত্যু ও মানুষের অসহায়তার মর্মস্পর্শী চিত্র ফুটে উঠেছে।
কাব্যনাট্য, সনেট ও ব্যঙ্গকবিতায় দক্ষতা
ফররুখ আহমদের সাহিত্যিক পরিচয় কেবল একটি কাব্যগ্রন্থ বা একটি ধারায় সীমাবদ্ধ নয়। কাব্যনাট্য, সনেট, ব্যঙ্গকবিতা ও গদ্যরচনায়ও তিনি স্বাতন্ত্র্য দেখিয়েছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে— কাব্যগ্রন্থ: ‘সাত সাগরের মাঝি’ (১৯৪৪), ‘সিরাজাম মুনীরা’ (১৯৫২), ‘মুহূর্তের কবিতা’ (১৯৬৩)। কাব্যনাট্য ও আখ্যানকাব্য: ‘নৌফেল ও হাতেম’ (১৯৬১), ‘হাতেম তা’য়ী’ (১৯৬৬)। শিশুতোষ সাহিত্য: ‘পাখির বাসা’ (১৯৬৫), ‘নতুন লেখা’, ‘হরফের ছড়া’ (১৯৭০), ‘চাঁদের আসর’ ও ‘ছড়ার আসর’ (১৯৭০)। ব্যঙ্গ ও অন্যান্য রচনা: ‘ধোলাই কাব্য’, ‘তসবির নামা’ এবং ‘ঐতিহাসিক অনৈতিহাসিক কাব্য’।
‘নৌফেল ও হাতেম’ তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যনাট্য। অন্যদিকে ‘হাতেম তায়ী’ কাহিনিকাব্য রচনায় তাঁর দক্ষতার পরিচয় বহন করে। ‘মুহূর্তের কবিতা’সহ তাঁর সনেটসংকলনগুলো বাংলা কবিতায় তাঁর শিল্পসাধনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে।
ব্যঙ্গকবিতায় তিনি সমাজের অসংগতি, ভণ্ডামি ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে বিদ্রূপাত্মক ভঙ্গিতে তুলে ধরেছেন। শিশুদের জন্য রচিত ছড়া ও কবিতায়ও তাঁর ভাষার সাবলীলতা ও কল্পনাশক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। ফলে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক পাঠক—বিভিন্ন শ্রেণির পাঠকের জন্য তিনি রেখে গেছেন বৈচিত্র্যময় সাহিত্যভান্ডার।
ফররুখ আহমদ মূলত কবি হলেও সাহিত্যের অন্যান্য শাখায়ও তাঁর বিচরণ ছিল সমানতালে। তিনি গল্প, প্রবন্ধ, বেতার কথিকা, গীতি-নকশা, হামদ, নাত, দেশাত্মবোধক গান, প্রেমের গান ও ভক্তিমূলক সংগীত রচনা করেছেন। ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক লেখালেখিতেও তাঁর আগ্রহ ছিল।
তাঁর গল্পের মধ্যে ‘প্রচ্ছন্ন নায়িকা’, ‘মৃত বসুধা’ ও ‘বিবর্ণ’ উল্লেখযোগ্য বলে পরিচিত। ‘হাবেদা মরুর কাহিনী’ তাঁর গদ্যকবিতার পরিচয় বহন করে। ‘সিকান্দার শা’র ঘোড়া’ নামে একটি উপন্যাস রচনার উদ্যোগও তিনি নিয়েছিলেন, যদিও তা সম্পূর্ণ করতে পারেননি বলে জীবনীমূলক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। শিশুদের জন্য তাঁর রচিত ছড়া ও কবিতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সহজ ভাষা, ছন্দময়তা এবং কল্পনার জগৎ নির্মাণের ক্ষমতা তাঁর শিশুতোষ সাহিত্যকে স্বতন্ত্র মর্যাদা দিয়েছে।
পুরস্কার ও স্বীকৃতি
সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ফররুখ আহমদ জীবদ্দশায় একাধিক পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৬০ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। ১৯৬১ সালে লাভ করেন প্রেসিডেন্ট পুরস্কার ‘প্রাইড অব পারফরম্যান্স’। ১৯৬৬ সালে তিনি আদমজী সাহিত্য পুরস্কার ও ইউনেসকো পুরস্কারে ভূষিত হন। তাঁর মৃত্যুর পরও রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ১৯৭৭ সালে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদক এবং ১৯৮০ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়।
জীবনের শেষ পর্বে ফররুখ আহমদ আর্থিক অনটন ও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন। তাঁর কর্মজীবন, সরকারি চাকরি এবং বাসস্থান নিয়ে নানা জটিলতার কথাও বিভিন্ন জীবনীতে উঠে এসেছে। সাহিত্যিক হিসেবে সম্মান অর্জন করলেও জীবনের শেষ সময়ে তাঁর আর্থিক কষ্টের বিবরণ পাঠককে ব্যথিত করে। ১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঢাকার ইস্কাটন গার্ডেনের বাসায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিউবার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযোগ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সন্ত্রাসীরা বিনা বাধায় তাদের কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ পাচ্ছে। সোমবার এই অভিযোগটি উত্থাপন করা হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে দ্রুতগতির একটি নৌযানে কিউবায় অনুপ্রবেশের ঘটনার তদন্তের তথ্য তুলে ধরে তারা এই দাবি জানায়। ওই ঘটনায় সমুদ্রে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়, যার ফলে উভয় পক্ষের মানুষ নিহত ও আহত হন।
কিউবার সরকারি গণমাধ্যমের সোমবারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ফ্লোরিডার কিজ এলাকা থেকে নৌকায় করে কিউবায় ঢোকার চেষ্টা করেন কিউবা থেকে নির্বাসিত ১০ ব্যক্তি। তাদের কাছে ছিল প্রায় ১৩ হাজার গুলি, ১১টি রাইফেল, ১৫টি পিস্তল, পেট্রলবোমা, একটি ভিএইচএফ রেডিও এবং স্টারলিংকের উপগ্রহ যোগাযোগের সরঞ্জাম।
কিউবার কর্তৃপক্ষ জানায় যে, ওই ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন এবং বাকিদের আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমবার কিউবা জানায় যে, তদন্তে আটক ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, সশস্ত্র বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি এখনো যুক্তরাষ্ট্রে মুক্ত অবস্থায় রয়েছেন।
কিউবার প্রসিকিউটর এডওয়ার্ড রবার্টস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কিছু ব্যক্তি ও সংগঠন এই কর্মকাণ্ডে সহায়তা করেছে। তারা স্থল ও সমুদ্রপথে যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছে এবং অস্ত্র কেনা ও মজুদ করতেও সহায়তা করেছে। রবার্টস বলেন, "এসব অপরাধ এখনো চলছে।"
কিউবার কর্তৃপক্ষ ফ্লোরিডায় বসবাসরত কিউবার নাগরিক মারিৎসা লুগো ফার্নান্দেজের বিরুদ্ধে এই পরিকল্পনা সাজাতে সহায়তা করার অভিযোগ এনেছে। আটক ব্যক্তিদের কয়েকজন স্বীকার করেছেন যে, তারা ফ্লোরিডার একটি খামারে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। খামারটির মালিক লুগো ফার্নান্দেজ, যিনি ফ্লোরিডাভিত্তিক ‘পার্তিদো দেমোক্রাতিকো ৩০ দে নভিয়েম্ব্রে’ বা ‘৩০ নভেম্বরের গণতান্ত্রিক দল’-এর নেতৃত্ব দেন। তবে লুগো ফার্নান্দেজ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
কিউবার সরকারি গণমাধ্যমে প্রচারিত এক ভিডিওতে তিনি বলেন, "৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই শাসকগোষ্ঠী আমাকে সন্ত্রাসী বলে অভিযুক্ত করছে। তারা যা কিছু কল্পনা করতে পারে, সবকিছুর জন্যই আমাকে দায়ী করে।"
তিনি আরো বলেন, "ব্যক্তিগতভাবে আমি মানসিকভাবে শান্তিতে আছি। তারা কী বলছে, তা নিয়ে আমি চিন্তিত নই। কারণ আমি খুব ভালো করেই জানি, পুরো বিষয়টিই মিথ্যা।" কিউবার অভিযোগ নিয়ে মন্তব্য জানতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স যুক্তরাষ্ট্রের কিউবা দূতাবাস ও দেশটির বিচার বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, তবে কোনো পক্ষই জবাব দেয়নি। এর আগে কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই জানিয়েছিল, তারা এই ঘটনার তদন্তে একসঙ্গে কাজ করছে।
কিউবার কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে আটক ব্যক্তিদের কয়েকজন জানিয়েছিলেন যে, তারা দেশটির মাতানসাস প্রদেশে পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটে একই সময়ে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। প্রদেশটি রাজধানী হাভানার ঠিক পূর্ব দিকে অবস্থিত। কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের উদ্দেশ্য ছিল সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করা এবং এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের পথ তৈরি করা।
কিউবার এই অভিযোগটি সামনে এসেছে যখন দেশটির সরকারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়ছে। গত ৯ মাস ধরে দেশটিতে কার্যত জ্বালানি অবরোধ চলছে। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা আরো কঠোর করা হয়েছে, যা কিউবায় নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র কিউবা সরকারকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে আখ্যা দিয়েছে এবং দেশটির নেতৃত্বে পরিবর্তন আনতেও তারা কাজ করছে বলে জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ইউনাইটেড নেশনস প্লাজায় পেইড পিরিয়ড লিভ বিষয়ক গ্লোবাল সামিট অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাসিক স্বাস্থ্য, বেতনসহ মাসিককালীন ছুটি এবং কর্মক্ষেত্রে নারীর সমতা নিয়ে আলোচনা করার জন্য বিভিন্ন দেশের অধিকারকর্মী, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সামাজিক উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা এতে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিল RISE। প্রদীপ নায়ক পরিচালিত প্রামাণ্যচিত্র Paid Period Leave এখানে প্রদর্শিত হয়। মাসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার দূর করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিশ্বব্যাপী বেতনসহ মাসিককালীন ছুটি চালুর গুরুত্ব তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই এই আয়োজনটি করা হয়েছিল।
সামিটে সাংবাদিক মাইনুল ইসলামকে পেইড পিরিয়ড লিভ বা বেতনসহ মাসিককালীন ছুটি সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে অবদানের জন্য সম্মাননা সনদ প্রদান করা হয়। তিনি চ্যানেল আইয়ের বিশেষ প্রতিনিধি ও সংবাদ উপস্থাপক এবং BanglaHour.com-এর নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পেইড পিরিয়ড লিভ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অধিকারকর্মী রঞ্জিতা প্রিয়দর্শিনী অনুষ্ঠানে মাসিক স্বাস্থ্যকে নারীর সুস্থতা, মর্যাদা ও কর্মক্ষেত্রে সমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, "বাংলাদেশ সরকার বেতনসহ মাসিককালীন ছুটি চালুর উদ্যোগ নিলে তা নারীর স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন ও কর্মক্ষেত্রে মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।"
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন UNESCO Center for Peace-এর উপপরিচালক এমেট ইমানি, Coalition for the UN We Need-এর নির্বাহী পরিচালক অ্যাডাম লুপেল এবং সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের সহযোগী অধ্যাপক আনা কাপলান। আলোচনায় বিশ্বব্যাপী পেইড পিরিয়ড লিভ চালুর প্রয়োজনীয়তা এবং তা বাস্তবায়নের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সামিটের বিশেষ অধিবেশন Advancing Paid Period Leave Through Storytelling and Policy Reform -এ চলচ্চিত্র, সৃজনশীল যোগাযোগ ও আইনি কাঠামোর মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নীতিগত সংস্কারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এতে অংশগ্রহণ করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা সানিয়া পান্ডা ও দামিলোলা আদেয়েরি, অ্যাটর্নি ফারহান আরিয়ান এবং পরিচালক, প্রযোজক ও সংগীতশিল্পী আর্তুরো দে লাস ফুয়েন্তেস। আলোচনায় চলচ্চিত্র ও গল্প বলার মাধ্যমে সামাজিক ভুল ধারণা দূর করার পাশাপাশি নারীদের অধিকার সুরক্ষায় আইন ও কর্মক্ষেত্রের নীতিমালা কার্যকর করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
সম্মাননা গ্রহণের পর মাইনুল ইসলাম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি এই স্বীকৃতিকে নিজের পেশাগত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, "সামাজিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো মানুষের সামনে তুলে ধরা, জনসচেতনতা তৈরি এবং গঠনমূলক আলোচনা এগিয়ে নিতে সাংবাদিকতার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
সামিটে বক্তারা মাসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বেতনসহ মাসিককালীন ছুটি বাস্তবায়নের সম্ভাব্য পথ খুঁজে বের করতে সাংবাদিক, অধিকারকর্মী, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, নিয়োগকর্তা ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অন্যান্য অংশে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও, আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ সময়ে উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার হতে পারে। দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টির উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা না থাকলেও, চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৫৫ শতাংশ। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা চট্টগ্রামের আমবাগানে ছিল ৩৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে, আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রংপুরের তেঁতুলিয়ায় ১৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে কোনো বৃষ্টিপাত ঘটেনি। আজ সন্ধ্যা ৫টা ২৮ মিনিটে সূর্যাস্ত হবে এবং আগামীকাল বুধবার ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে সূর্যোদয় হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ