শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৪১ পি.এম
সিরাজগঞ্জ, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ঢাকা-রংপুর লংমার্চের অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে অনুষ্ঠিত পথসভায় জোটের নেতৃবৃন্দ শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার দুপুরে উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় এ পথসভাটি অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানী ঢাকা থেকে মানিক মিয়া এভিনিউ দিয়ে রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করা লংমার্চটি বিভিন্ন পথসভা শেষে হাটিকুমরুলে পৌঁছায়।
পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, "রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের বিভিন্ন প্রত্যাশা ও দাবিগুলো তুলে ধরতে হবে।" তিনি কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, "কাঠফাটা রোদের মধ্যেও কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মানুষের উপস্থিতি তাদের রাজনৈতিক সচেতনতার বহিঃপ্রকাশ।" তিনি ঘোষিত দাবিগুলো নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমেদ বীর বিক্রম, এনসিপির আহ্বায়ক ও সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের চেয়ারম্যান মাওলানা মামুনুল হক, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার, নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সচিব সারজিস আলমসহ জাতীয় ও স্থানীয় নেতারা এ পথসভায় বক্তব্য রাখেন।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, "জনগণের প্রত্যাশা পূরণে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।" তিনি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, "গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের মতামত ও প্রত্যাশার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।" রাজনৈতিক দলগুলোরও এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
লংমার্চ উপলক্ষে সকাল থেকেই সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে কর্মসূচিস্থলে আসতে শুরু করেন। হাটিকুমরুলে পথসভা শেষে লংমার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে।
আয়োজকরা জানান, ঘোষিত দাবিগুলো নিয়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে বিষয়গুলো তুলে ধরার লক্ষ্যেই এ লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুর, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় দিনাজপুর-৬ আসনের চারটি উপজেলায় কোনো কাঁচা রাস্তা অবশিষ্ট থাকবে না।
মন্ত্রী বলেন, এখানে সকল কাঁচা রাস্তা পাকা করার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে।
আজ নবাবগঞ্জ উপজেলার কুশদহ ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী, গত জাতীয় নির্বাচনে যারা ধানের শীষে ভোট দিয়েছেন, তাদের সবাইকে বিএনপির পতাকাতলে নিয়ে আসার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
এ লক্ষ্যে প্রতিটি ইউনিয়নের বিএনপি নেতাকর্মীদের নতুন সদস্য সংগ্রহের কাজ অবিলম্বে শুরু করার নির্দেশনা দেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, এভাবে দলের সমর্থকদের সদস্যপদ প্রদান করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপি-কে ভোট দিয়ে সরকার গঠনে সহায়তা করার জন্য তাদের ভালোবাসা ও সমর্থনের স্বীকৃতি দিতে চান।
বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের যথাযথ যাচাই-বাছাই ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান মন্ত্রী।
ডা. জাহিদ বলেন, বিএনপি সরকার ইতোমধ্যে সাত মাসের মেয়াদ পূর্ণ করেছে।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার মাত্র সাত মাস পূর্ণ করেছে। সরকারের দেশব্যাপী উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে দিনাজপুর-৬ নির্বাচনী এলাকার চারটি উপজেলায় সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির, গির্জা, কবরস্থান ও শ্মশানসহ সব ক্ষেত্রে দৃশ্যমান উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
অধ্যাপক জাহিদ হোসেন বলেন, জাতীয় নির্বাচনের সময় আমরা আপনাদের কাছে ভোট চাইতে এসেছিলাম। তখন আপনাদের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর করলেই হবে না; প্রতিটি পরিবারকে তাদের সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার উদ্যোগ নিতে হবে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, সরকার শিশুদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি সন্তানরা যাতে মাদকের কবলে না পড়ে, সে বিষয়ে অভিভাবকদেরও সতর্ক থাকতে হবে।
সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
এ সময় নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. তারিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. আতিউর রহমান রাজা, সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন, উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মো. মঞ্জুরুল ইসলাম ফতেহ এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. হাবিবুর রহমান ও মো. আশরাফুল কবির উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
"জনগণের সঙ্গে প্রতারণা না করলে আমাদের লং মার্চ করার প্রয়োজন হতো না।" এই মন্তব্যটি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বগুড়া শহরের মাটিডালী মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, "লং মার্চের ডাক দেওয়ার পর সরকারি দলের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।" তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিরোধী দল এত আগে লং মার্চ করছে কেন। কিন্তু ক্ষমতায় আসার আগে জনগণকে কেন অপমান করা হলো, সে প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। সরকারের সাড়ে পাঁচ মাসের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "জুলাই শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে সরকার গঠন করেছেন। সাড়ে পাঁচ মাসে আপনারা কী করেছেন?"
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে জামায়াত আমির বলেন, সরকার দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরার কথা বলেছিল। কিন্তু এখন দুর্নীতির হার বেড়ে গেছে। কৃষকের সারসংকট, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এবং ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল নিয়েও তিনি সরকারের সমালোচনা করেন। চাকরিতে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, নতুন কৌশলে রিটেন পরীক্ষার নম্বর বাড়িয়ে ভাইভার নম্বর কমানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দলীয় ক্যাডার ও সন্ত্রাসীদের চাকরিতে বসানোর জন্য এমন ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "আমাদের সন্তানদের চাকরির অধিকার ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনে আমরা আবার জীবন দিতে প্রস্তুত। বৈষম্য বরদাশত করব না।"
লং মার্চের আট দফা দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "এই আট দফা কোনো দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির নয়; এটি ১৮ কোটি মানুষের দাবি।" তিনি আরও যোগ করেন, "আট দফা মানা হলে এক দফার প্রয়োজন নেই। আর না মানলে এক দফার জন্য প্রস্তুত থাকুন।"
আগামী দিনের কর্মসূচির ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, এবারের লং marcha ঢাকা থেকে রংপুরের দিকে হয়েছে। "আগামী লং মার্চ ইনশাআল্লাহ পঞ্চগড় থেকে ঢাকার দিকে হবে। এখন থেকেই প্রস্তুত থাকুন।" পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে চলছে বিভিন্ন আলোচনা। ম্যাকলমোরকে ট্যুর থেকে বাদ দেওয়ার পর একাধিক সাপোর্টিং আর্টিস্টও নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই শনিবার আবারও মঞ্চে উঠতে যাচ্ছেন ব্রিটিশ পপ তারকা এড শিরান।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় লিংকন ফিন্যান্সিয়াল ফিল্ডে এড শিরানের কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে। তবে ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার পর এই আয়োজন নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কারণ, তার বিদায়ের পর ট্যুরের সাথে যুক্ত একাধিক শিল্পীও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, শেষ পর্যন্ত এড শিরানের সঙ্গে মঞ্চে কে থাকবেন?
এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’-এর যুক্তরাষ্ট্র পর্বে অন্যতম সাপোর্টিং অ্যাক্ট ছিলেন মার্কিন র্যাপার ম্যাকলমোর। সম্প্রতি একটি পারফরম্যান্সে তিনি প্যালেস্টাইন নিয়ে সরব হন। তার বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ার পরই তাকে এড শিরানের ট্যুর থেকে বাদ দেওয়া হয়।
ম্যাকলমোরের দাবি, ভেন্যু মালিকদের চাপের কারণে তাকে ট্যুর থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে এড শিরান জানিয়েছেন, তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তার ব্যক্তিগত ছিল না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ট্যুরের প্রোমোটার এবং সংশ্লিষ্ট স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তেই ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
এরপর পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে। ম্যাকলমোরকে সমর্থন জানিয়ে একে একে ট্যুর থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন একাধিক সাপোর্টিং আর্টিস্ট। তাদের মধ্যে রয়েছেন ফিনিয়াস, লুকাস গ্রাহাম, বিয়োগাসহ আরো অনেকে।
ফলে শনিবারের ফিলাডেলফিয়া কনসার্ট নিয়ে নতুন কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। এখন পর্যন্ত নতুন করে কোনো সাপোর্টিং অ্যাক্টের নাম ঘোষণা করা হয়নি। তাই প্রশ্ন উঠছে, এত বড় স্টেডিয়াম শো একাই সামলাবেন কি এড শিরান?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের শ্রীপুরে এক মাদক কারবারির আবাস থেকে ৮৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই অভিযানের সময় মাদক কারবারি কবির হোসেনের স্ত্রী তাহমিনা বেগম (৩৫) গ্রেপ্তার হন।
মাদক সম্রাট হিসেবে পরিচিত কবির ১১টি মাদক মামলার পলাতক আসামি এবং তিনি বরমীর পাঠানটেক গ্রামের আসকর আলীর পুত্র।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে কবির হোসেনের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে কবিরের স্ত্রী তাহমিনার হেফাজতে থাকা ৮৮ কেজি নিষিদ্ধ গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনার পর শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুল কুদ্দুস বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় তাহমিনাকে গ্রেপ্তার করে শনিবার আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ