সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৪৫ পি.এম
ঢাকা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড, ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ফোর-জি সেবা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে চীনা প্রতিষ্ঠান জেডটিই’কে কার্যাদেশ (নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড-নোয়া) প্রদান করেছে।
আজ এই কার্যাদেশটি ‘প্রকিউরমেন্ট অব ফোর-জি অন ৭০০ মেগাহার্টজ’ শীর্ষক ক্রয়ের জন্য দেওয়া হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে এবং গ্রাহকদের উন্নত মানের টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবা প্রদানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, প্রত্যন্ত ও নেটওয়ার্ক সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় মোবাইল সংযোগ সম্প্রসারণে এ উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের উপস্থিতিতে টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী জেডটিই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাও জুনইয়ংয়ের হাতে কার্যাদেশ তুলে দেন।
মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে মন্ত্রীর দপ্তরে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড চালু করা টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ ব্যান্ড ব্যবহার করে দেশের গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্কের পরিধি বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। শহর এলাকায় ভবনের ভেতরে নেটওয়ার্কের সংযোগের মানও উন্নত হবে। ফলে গ্রাহকরা নিরবচ্ছিন্ন ও উন্নত টেলিযোগাযোগ সেবা পাবেন।
৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের ফ্রিকোয়েন্সি তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় এর রেডিও সিগন্যাল বেশি দূর পর্যন্ত যেতে সক্ষম এবং ভবনের ভেতরে নেটওয়ার্ক সংযোগ উন্নত করতে সহায়তা করে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই উদ্যোগ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য নির্ভরযোগ্য মোবাইল সংযোগ ও ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড, দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর হিসেবে, সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত টেলিযোগাযোগ সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম চালুর এই উদ্যোগ কোম্পানির নেটওয়ার্ক উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বাবুগঞ্জে একটি ভাড়া বাসা থেকে মোসা. তাহমিনা বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার নতুনহাট এলাকার ওই বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
তাহমিনা বেগম ছিলেন উপজেলার রাকুদিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজ হাওলাদারের কন্যা এবং মৃত কদম আলী হাওলাদারের স্ত্রী। তার সন্তানরা ঢাকায় পরিবারসহ বসবাস করে, কিন্তু তিনি নতুনহাট এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় একা থাকতেন।
তথ্য অনুযায়ী, তাহমিনা বেগমের দুই ছেলে সুমন ও আওলাদ এবং দুই মেয়ে মুক্তা ও মনি রয়েছে। তারা সকলেই পরিবার নিয়ে ঢাকায় বাস করেন। বড় ছেলে সুমনের উত্তরায় নিজস্ব ফ্ল্যাট রয়েছে। তবে তাহমিনা বেগম ভাইয়ের সহযোগিতায় নতুনহাট এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় দীর্ঘদিন ধরে একা বসবাস করছিলেন। তিনি বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন।
স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তার সঙ্গে সর্বশেষ দেখা হয়েছিল। এরপর থেকে ঘরের দরজা বন্ধ ছিল। রোববার সকালে বাসা থেকে তীব্র পচা দুর্গন্ধ বের হলে প্রতিবেশীরা স্বজনদের খবর দেন। পরে তারা দরজা খুলে খাটের ওপর তাহমিনা বেগমের পচাগলা মরদেহ দেখতে পান।
ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় তার মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট সময় ও কারণ জানা যায়নি।
বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান হাওলাদার জানিয়েছেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কোনাবাড়ি দেওয়ালিয়াবাড়ী এলাকায় একটি পানি ফ্যাক্টরি ও ঝুট গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের শুরু হয়। খবর পাওয়ার পর, কোনাবাড়ি মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় পরে সারাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের আরও ২টি ইউনিট তাদের সঙ্গে যোগ দেয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোনাবাড়ি মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আইয়ুব আলী জানান, ‘আমরা বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাই। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের স্টেশন থেকে ২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। পরে সারাবো ফায়ার সার্ভিস থেকে আরও ২টি ইউনিট এসে যোগ দেয়। ফায়ার সার্ভিসের মোট ৪টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।’
তবে, অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ ও ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানা যায়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর ধানমন্ডিতে সাংস্কৃতিক কর্মীদের আয়োজিত একটি মানববন্ধন কর্মসূচি পুলিশের বাধায় পণ্ড হয়ে গেছে। সুনামগঞ্জে নারী বাউলশিল্পীদের গান গাইতে বাধা দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছিল ঢাকায়।
সোমবার বিকেলে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে মীনা বাজারের সামনে একদল লোক মানববন্ধন করার জন্য জড়ো হন। এ সময় পুলিশ সেখানে থেকে দুজনকে আটক করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সম্প্রতি এই স্থানে একদল জনতা মানববন্ধন করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়েছিল। ঘটনার দিন দীপক শীল নামের এক ব্যক্তি পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। জানা গেছে, তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি। এক পর্যায়ে পুলিশ তাঁকে আটক করে গাড়িতে তুলে নেয়।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইবনে মিজান বলেন, "আমরা তাঁদের উসকানিমূলক স্লোগান ও কথা বলতে নিষেধ করলে তাঁরা পাল্টা প্রশ্ন করেন যে 'জয় বাংলা' স্লোগান নষ্ট হয়ে গেছে কি না।" পরে বাগ্বিতণ্ডার এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একজনকে প্রাথমিকভাবে আটক করা হয়েছে।
মানববন্ধনের অন্যতম আয়োজক ফারুক এইচ খান বলেন, "সারাদেশেই বাউল ও বাঙালি সংস্কৃতির ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ চলছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।" পুলিশের বাধায় পণ্ড হওয়ার পর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মানববন্ধনকারীরা ওই এলাকা ত্যাগ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ভীতিকর পরিস্থিতির জন্য নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
তিনি মন্তব্য করেন, "যদি একজন মুক্তিযোদ্ধার দাফনেও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়, তবে তা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত।"
আজ সোমবার তিনি গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন। সাইফুল হক আরও জানান, মানিক পশারীর মরদেহে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়ার পরও স্থানীয় বাধা ও ভীতিকর পরিস্থিতির কারণে তার দাফন নিয়ে অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আতঙ্কিত পরিবারের পুরুষ সদস্য ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসতে সাহস পাননি। শেষ পর্যন্ত পরিবারের নারী সদস্য ও স্বজনদের নিজের হাতে কবর খুঁড়ে তাকে দাফনের ব্যবস্থা করতে হয়। পরে পুলিশি পাহারায় মধ্যরাতে দাফন সম্পন্ন হয়।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, "মৃত্যুর পরও একজন মানুষের দাফনের অধিকার বাধা ও ভয়ভীতির মুখে পড়া মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন।" তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা, পরিবারের শোক এবং মানুষের ধর্মীয় ও মানবিক অধিকার এভাবে বিপন্ন করা গ্রহণযোগ্য নয়।
সাইফুল হক বলেন, "কোনো রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার আগে যদি তার অনুসারী বা সহযোগী সংগঠনের ছত্রছায়ায় ভীতি ও অসহিষ্ণুতার পরিবেশ তৈরি করে, তবে ভবিষ্যতে নাগরিকের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা সুরক্ষিত থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।" তিনি আরও বলেন, "কোনো রাজনৈতিক শক্তিরই ভয়ভীতি দেখিয়ে মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করার অধিকার নেই।"
বিবৃতিতে তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ভয়ভীতি ও অগণতান্ত্রিক আচরণের বিরুদ্ধে বিবেকবান নাগরিকদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ