০৪:২৮ এম
বার্সেলোনা পিএসজির বিরুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেছে। দলের হান্সি ফ্লিকের নেতৃত্বে দুবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরেছিল তারা। তবে শেষ পর্যন্ত শেষ রক্ষা হয়নি। প্যারিসের পার্ক দে প্রিন্সেসে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি শেষ দিকে আরো দুই গোল করে ৪-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেছে।
বার্সেলোনার দুর্দান্ত ছুটে চলা থেমে গেছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১১ ম্যাচ জয়ের পর মৌসুমে প্রথমবারের মতো পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছে কাতালানরা।
মৌসুমের শুরুতে বার্সেলোনা দারুণ ছন্দে ছিল। কিন্তু প্যারিসে এসে সেই ছন্দ ভেঙে গেছে। শুরু থেকেই পিএসজি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। বার্সেলোনার রক্ষণে অগোছালো ভাবের সুযোগ নিয়ে স্বাগতিকেরা প্রথম কয়েক মিনিটেই গোলের কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। খিচা কাভারাস্কেইয়ার জোরালো শট ঠেকাতে ডাইভ দিয়েছিলেন গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়া। যদিও গোলরক্ষককে ফাঁকি দিলেও বলটি পোস্টে লাগে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ৭ উইকেটে আফগানিস্তানের কাছে হেরে বিদায় নিল
ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে বার্সেলোনা। অ্যান্থনি গর্ডন ও পেদ্রি গোলের সুযোগ তৈরি করেন। দানি ওলমোর জোরালো শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে প্রথমার্ধে দুই দলেরই গুরুত্বপূর্ণ দুই খেলোয়াড়কে হারাতে হয়। পায়ের পেছনের পেশিতে চোটের কারণে মাঠ ছাড়েন পিএসজির উসমান দেম্বেলে। এরপর বার্সেলোনার ওলমোও মাঠ ছাড়েন।
দেম্বেলের বদলি হিসেবে নেমে ফেরান তোরেস দুটি সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু দুবারই তাঁকে আটকে দেন গার্সিয়া। ওলমোর জায়গায় নামা ফেরমিন লোপেজও গোলের কাছাকাছি গিয়েছিলেন। একবার প্রায় একা পেয়ে গিয়েছিলেন পিএসজি গোলরক্ষক মাতভে সাফোনভকে। কিন্তু চিপ করে বল জালে পাঠানোর চেষ্টা ঠেকিয়ে দেন সাফোনভ।
৩৮ মিনিটে অচলাবস্থা ভাঙে। লামিন ইয়ামালের পাস মাঝপথে আটকে পিএসজি বলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে গার্সিয়াকে ফাঁকি দেন দেজিরে দুয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে ফেরে বার্সেলোনা। কিন্তু ৫০ মিনিটে আবারও গোল বসেছিল তারা। আশরাফ হাকিমি গোলরক্ষককে একা পেয়েও জালে বল পাঠাতে পারেননি। দারুণ সেভে বার্সাকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন গোলরক্ষক গার্সিয়া।
আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়াকে ফলো-অন করিয়ে চালকের আসনে দক্ষিণ আফ্রিকা
বার্সেলোনা সমতায় ফেরে। গোলের নায়ক এমন একজন, যাঁর নাম হয়তো ম্যাচ শুরুর আগে খুব বেশি আলোচনায় ছিল না। ফেরমিন লোপেজের সঙ্গে বল আদান-প্রদান করে বক্সে ঢুকে পড়েন তরুণ জাভি এসপার্ত। পিএসজি গোলরক্ষক সাফোনভকে ফাঁকি দিয়ে করেন চ্যাম্পিয়নস লিগে তাঁর প্রথম গোল।
তবে গোল হজমের পর পিএসজির দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় মার্কিনিওস ও কাভারাস্কেইয়াকে। অন্যদিকে বার্সেলোনা কোচ ফ্লিক একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন আনেন। মাঠে নামান গাভি, রদ্রি ও কারিম আদেয়েমিকে। নামার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই গাভির শট আটকে যায়।
৭০ মিনিটে আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল পিএসজি। কাছ থেকে বল জালে পাঠানোর চেষ্টা করেন ফেরান তোরেস, কিন্তু তাঁর শট লাগে পোস্টে। শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনার রক্ষণ ভাঙতে সক্ষম হয় পিএসজি। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে হেড করে দলকে এগিয়ে দেন লুকাস এরনান্দেস। বাতাসে গর্ডনকে হারিয়ে তাঁর হেড ঠেকাতে পারেননি গার্সিয়া। স্কোরলাইন তখন ২-১।
৭৯ মিনিটে আবারও ম্যাচে ফেরে বার্সেলোনা। ডান দিক দিয়ে এগিয়ে আসা ইয়ামাল বদলি খেলোয়াড় ওয়ারেন জাইরে-এমেরিকে কাটিয়ে বুটের বাইরের অংশ দিয়ে বল তুলে দেন। সাফোনভের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়ালে ২-২ সমতায় ফেরে কাতালানরা।
আরও পড়ুন: ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে ছিটকে পড়ল বাংলাদেশ
তবে বার্সেলোনার সমতা ধরে রাখার স্বস্তি মিলিয়ে যায় দ্রুতই। কিছুক্ষণ পর বক্সের বাইরে থেকে আসা বল বুকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দুর্দান্ত শটে জালে পাঠান ভিতিনিয়া। আবারও এগিয়ে যায় পিএসজি, স্কোরলাইন ৩-২।
এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আর হাতছাড়া করেনি স্বাগতিকরা। ডান দিক দিয়ে হাকিমির একের পর এক আক্রমণে চাপে পড়ে বার্সেলোনার রক্ষণ। তাঁর বাড়ানো বলে ফাঁকা জায়গায় পেয়ে সহজ টোকায় গোল করেন ফাবিয়ান রুইস। পিএসজির ৪-২ গোলের জয় নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি থামে বার্সেলোনার টানা ১১ ম্যাচের জয়ের ধারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন