০৮:৪৪ এম
শখের বশে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল নিয়ে সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শিশু-কিশোররা।
আঞ্চলিক সড়ক বেরিয়ে মহাসড়কেও তারা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছে। প্রতি সময় ট্রাফিক আইন না মানার পাশাপাশি হেলমেট ব্যবহার না করায় ঘটছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি।
মাদারীপুর জেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কে সরেজমিনে সম্প্রতি এমন চিত্র দেখা গেছে।
আরও পড়ুন: সিলেটে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী নুরুল ইসলামের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার মোল্লাকান্দি গ্রামের আকরাম বেপারীর ১৫ বছরের ছেলে ইয়াসিন। অসুস্থ রোগী নিয়ে ৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সে এসেছে জেলার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে।
সে হরহামেশাই মহাসড়কে গাড়ি চালায়। অন্যদিকে ১০ বছরের এক শিশু তার দুই বন্ধুকে নিয়ে ঝড়ের গতিতে মোটরসাইকেল চালাচ্ছে, কারো মাথায় হেলমেট নেই।
ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জানতে চাইলে সে কোনো রকম উত্তর দিতে পারেনি।
ইয়াসিন জানায়, সে তার বাবার কাছ থেকে প্রাইভেটকার চালানো শিখেছে।
আরও পড়ুন: ইসলামী ছাত্র মজলিস ফতুল্লা থানা শাখা পুনর্গঠন সম্পন্ন -
দুই থেকে তিন মাস ধরে মহাসড়কে বিভিন্ন প্রয়োজনে আসা-যাওয়া করছে সে।
সড়কে শিশু-কিশোরদের গাড়ি চালানো নিষেধ, তবে এটি করার কারণ জানতে চাইলে ইয়াসিন জানায়, বয়স ১৮ না হওয়া পর্যন্ত সে আর প্রাইভেটকার চালাবে না।
এ ঘটনার জন্য সে ক্ষমাও চায়।
একাধিক শিশু-কিশোর জানায়, মূলত শখের কারণে তারা আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কে এমন যানবাহন চালাচ্ছে।
আরও পড়ুন: ছাত্র মজলিস নারায়ণগঞ্জ সদর থানা শাখা পুনর্গঠন সম্পন্ন
বন্ধুদের সাথে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে তারা বাবা-মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে গাড়ি বা মোটরসাইকেল সংগ্রহ করে সড়কে আসছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার অধিকাংশ সড়ক এখন ১০ থেকে ১৬ বছর বয়সি স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের দখলে।
এদের অনেকের বাবা প্রবাসী হওয়ায় তারা সহজেই যানবাহন চালানোর সুযোগ পাচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর গড়ে এমন যানবাহনের দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন প্রাণ হারাচ্ছে এবং পঙ্গু হচ্ছে অনেকেই।
আরও পড়ুন: রাজশাহী নগরীতে মাদক কারবারি ও অনলাইন জুয়াড়ী সহ গ্রেপ্তার ৩০
মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আল নোমান বলেন, ‘বাবা বিদেশে থাকায় একশ্রেণির কিশোর বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালানোর সুযোগ পাচ্ছে।
বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা দিয়েই কেনা হচ্ছে মোটরসাইকেল।
এবং এসব যান নিয়ে সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শিশু-কিশোররা, যা কিশোর গ্যাং বাড়ানোর কারণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘গণসচেতনতা বৃদ্ধি করে এই অপরাধ কমিয়ে আনা সম্ভব।
আরও পড়ুন: টঙ্গীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম সরকারের মুক্তির দাবিতে যুবদল নেতা সানজিদ আহমেদ মিথুনের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল
এ ক্ষেত্রে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে এক সাথে কাজ করতে হবে।’
আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রতি মাসে ৬০০ থেকে ৭০০ মামলা দিচ্ছে হাইওয়ে ও জেলার ট্রাফিক পুলিশ।
তবুও এমন অপরাধ কমছে না।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, ‘পুলিশ প্রতিদিন আলাদা জায়গায় ভাগ হয়ে ট্রাফিক আইনে মামলা দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: পাঙ্গাশিয়ায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
কিন্তু শুধু আইন প্রয়োগ করে শিশু-কিশোরদের এমন অপরাধ কিছুতেই থামানো সম্ভব নয়।
এ ক্ষেত্রে শিক্ষক, অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিরা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন