ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
০৯:০৮ পি.এম
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ফায়ার সার্ভিস কর্মী মো. সোলায়মান (ছিয়াম) শরীফের (২২) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টায় ভাণ্ডারিয়া সরকারি কলেজ মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
ছিয়াম শরীফ ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীপুরা গ্রামের মো. কালাম শরীফের ছেলে। তিনি চাঁদপুরের মতলব ফায়ার স্টেশন ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ে অগ্নিনির্বাপণকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন ছুটি কাটিয়ে গত শুক্রবার বিকেলে কর্মস্থলে ফেরার উদ্দেশ্যে একই কর্মস্থলে কর্মরত এক সহকর্মীর সঙ্গে মোটরসাইকেলে রওনা হন ছিয়াম। পথে পাশের রাজাপুর উপজেলার রাজাপুর-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের নলকাটা এলাকায় সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি অটোরিকশার সঙ্গে তাঁদের মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য দুজনকেই বরিশালে পাঠানো হয়। আহত সহকর্মীকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অন্যদিকে, ছিয়াম নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন।
একই দিন রাতে ছিয়াম রক্তবমি করতে শুরু করলে শনিবার সকালে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
ছিয়ামের অকালমৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোণার বারহাট্টায় বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের কারণে বড় ভাইয়ের লাঠির আঘাতে ছোট ভাই সাইকুল ইসলাম (৩৫) নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী এবং ১৫ বছর বয়সী মেয়ে আহত হয়েছেন। আহতদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
রোববার বিকেলে উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামে হামলার ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাইকুলের মৃত্যু হয়।
নিহত সাইকুল ইসলাম চন্দ্রপুর গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের পুত্র। অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর আপন বড় ভাই সাইদুর রহমান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাইকুল ছয় ভাইয়ের মধ্যে একমাত্র যিনি গ্রামের বাড়িতে বসবাস করতেন। অন্য ভাইদের মধ্যে তিনজন ঢাকায়, একজন প্রবাসে এবং অপরজন বারহাট্টা শহরে অবস্থান করছেন। কয়েক দিন আগে সাইদুর রহমান স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসেন এবং বাড়ির সীমানা নির্ধারণ ও দেয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এ নিয়ে ছোট ভাই সাইকুলের সঙ্গে তাঁর কথাকাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে সাইদুর, তাঁর স্ত্রী ও ছেলে মিলে লাঠিসোঁটা নিয়ে সাইকুলের ওপর হামলা চালান। হামলার সময় সাইকুলের মাথায় একাধিক আঘাত লাগে। তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসলে সাইকুলের স্ত্রী ও মেয়েকেও মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন আহত তিনজনকে উদ্ধার করে মমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোরে সাইকুলের মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত সাইদুর রহমান এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।
সিংধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসিম তালুকদার বলেন, "খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। বাড়ির সীমানা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। সামান্য সীমানার বিরোধে একটি প্রাণ চলে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।"
বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম জানান, মমেক হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে সাইকুলের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সাইদুর রহমান, তাঁর স্ত্রী ও ছেলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন, তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর উদ্যোগে আউটকাম বেজড এডুকেশন (ওবিই) পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও পরিমার্জন বিষয়ক কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে।
আজ সোমবার, দিনব্যাপী এই কর্মশালাটি আইকিউএসির প্রশিক্ষণ কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায়, ওবিই ভিত্তিক প্রশ্নপত্র প্রণয়নের নির্দেশিকা এবং হাতে-কলমে অনুশীলন নিয়ে আলোচনা করেন নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. মো. জাকির হোসেন, আইকিউএসির পরিচালক প্রফেসর ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পরিচালক প্রফেসর ড. মো. সালাউদ্দীন, অতিরিক্ত পরিচালক প্রফেসর ড. মো. ওয়াসিউল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পরিচালক প্রফেসর ড. এস এম তৌহিদুর রহমান।
এই কর্মশালায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন।
এতে ওবিই কারিকুলামের আলোকে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, ব্লুমস ট্যাক্সোনমির প্রয়োগ, কোর্স লার্নিং আউটকামস এর (সিএলও) সঙ্গে প্রশ্নের সামঞ্জস্য, নম্বর বণ্টনের যৌক্তিকতা এবং প্রশ্নপত্রে পুনরাবৃত্তি পরিহারের বিষয়ে হাতে-কলমে অনুশীলনের সুযোগ প্রদান করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বেচ্ছায় রক্তদান কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা এবং মানবিক সেবার পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ব্লাড অ্যাসোসিয়েশনের (ব্রুবা) ২০২৬-২৭ কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শাহ পরান গাঙ্গু এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন শাফায়েত হোসেন শুভ।
সোমবার (২ নভেম্বর) সংগঠনটির পক্ষ থেকে ৩০ সদস্যবিশিষ্ট এ কার্যনির্বাহী কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সংগঠনের উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনুমোদনের মাধ্যমে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
নবগঠিত কমিটিতে সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. সামিউল ইসলাম। সহসভাপতি হিসেবে রয়েছেন মো. শেখ ওমর ফারুক জিহাদ ও মো. আতিক হোসেন। সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মো. আল আমিন প্রামাণিক। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. মাসুম বিল্লাহ ও মো. রাজিব মাহমুদ। সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন মো. মিনার হোসেন নয়ন।
এ ছাড়া কমিটিতে সহসাংগঠনিক সম্পাদক, অর্থবিষয়ক সম্পাদক, সহ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক, দপ্তর সম্পাদক, সহদপ্তর সম্পাদক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, সহপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, ক্যাম্পেইনবিষয়ক সম্পাদক, ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক, রক্তদানবিষয়ক সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দায়িত্ব পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক শাফায়েত হোসেন শুভ বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, বেগম রোকেয়া ইউনিভার্সিটি ব্লাড অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। আমার ওপর অর্পিত এই দায়িত্বকে আমি সম্মান ও কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করছি। সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘রক্তদান একটি মহৎ মানবিক উদ্যোগ। একজন মানুষের স্বেচ্ছায় রক্তদান অন্য একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। “তুচ্ছ নয় রক্তদান, বাঁচাতে পারে একটি প্রাণ”—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে স্বেচ্ছায় রক্তদানে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা, রক্তদাতা ও রক্তগ্রহীতার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হবে আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।’
নতুন এই কমিটির মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সহযোগিতা ও ভালোবাসার মাধ্যমে বেগম রোকেয়া ইউনিভার্সিটি ব্লাড অ্যাসোসিয়েশন মানবতার সেবায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বেগম রোকেয়া ইউনিভার্সিটি ব্লাড অ্যাসোসিয়েশন একটি স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক রক্তদানকারী সংগঠন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বেচ্ছায় রক্তদানে সচেতনতা তৈরি, জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা সংগ্রহ এবং অসহায় রোগীদের পাশে দাঁড়ানো সংগঠনটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কূয়েতে মাদক পাচারের চেষ্টার অভিযোগে এক ভারতীয় নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে দেশটির ক্রিমিনাল কোর্ট। কাগজের ১০০টি পাতায় ক্ষতিকর মনোনেত্রীয় (সাইকোট্রপিক) উপাদান ভিজিয়ে পাচারের চেষ্টা করা হয়েছিল। একই সঙ্গে, পৃথক আরেকটি মাদক পাচার মামলায় আদালত দুই লিবীয় নাগরিককেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।
আরাব টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ভারতীয় নাগরিক বিদেশ থেকে আসা জুতার কার্টনের ভেতরে বিশেষ কৌশলে ওই কাগজের পাতাগুলো লুকিয়ে রেখেছিলেন, যা আন্তর্জাতিক পার্সেল সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল। তবে, কাস্টমস কর্মকর্তা ও মাদকনিয়ন্ত্রণ বিভাগের যৌথ অভিযানে পাচারের এ চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অন্যদিকে, পৃথক মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই লিবীয় নাগরিকের কাছ থেকে ২ কেজি গাঁজা, ৪০০ গ্রাম হাশিশ, আধা কেজি সিন্থেটিক ক্যানাবিনয়েড এবং ৬,০০০ পিস লিরিকা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে তিনটি নিখুঁত ওজন মাপার যন্ত্র এবং মাদক প্যাকেটজাত করার কাজে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের ব্যাগও জব্দ করা হয়েছে।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, কূয়েতে মাদক পাচারের অপরাধে ভারতীয় নাগরিকদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। এর আগে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের সাথে জড়িত থাকার অপরাধে দুই ভারতীয় নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যাঁদের কাছ থেকে ১৪ কেজি হেরোইন ও ৮ কেজি মেথামফেটামিন জব্দ করা হয়েছিল। এছাড়া, ২০২২ সালের জুলাইয়ে চকলেট বাক্সে ১.২৫ কেজি হাশিশ পাচারের দায়ে এক ভারতীয় নাগরিক এবং ২০১৬ সালের জুনে হেরোইন পাচারের অপরাধে আরও তিন ভারতীয় নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছিল কূয়েতের আদালত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ