ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ফ্লোরিডায় যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৯ জন


ফ্লোরিডায় যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৯ জন

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের একটি আবাসিক এলাকায় একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ফলে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, উড়োজাহাজটির সব যাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন।

রোববার (১ নভেম্বর) এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহণমন্ত্রী শন ডাফি। স্থানীয় সময় অনুযায়ী, রোববার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে ক্রেস্টহেভেন এলাকার কাছে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এই এলাকা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবকাশযাপন কেন্দ্র মার-আ-লাগো থেকে প্রায় ৯ মাইল (১৪ কিলোমিটার) দূরে অবস্থিত। মার-আ-লাগো ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টির অভিজাত এলাকায় রয়েছে।

দুর্ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা গেছে, আবাসিক এলাকার একটি সড়কে বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে আগুনের চিহ্নও রয়েছে। বিমানটির ভাঙা অংশ, কংক্রিটের টুকরা এবং অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ সড়কের চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: ইরান: যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতি বিপর্যস্ত করতে চায়

এটিসি রেকর্ডিং এবং ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ৩৫ হাজার ফুট উচ্চতায় পূর্ব দিকে যাওয়ার সময় পাইলটরা ঝাঁকুনি, বরফ জমা এবং বৃষ্টির কথা জানান। তারা আরও ২ হাজার ফুট ওপরে ওঠার অনুমতি চান। এরপর বিমানটি খাড়া নামতে শুরু করে। নামার গতি প্রতি মিনিটে ১০ হাজার ফুট থেকে বেড়ে ৩০ হাজার ফুট পর্যন্ত পৌঁছায়, যা বিমানটির নকশার সীমা ছাড়িয়ে যায়। শেষে ডানে তীব্র বাঁক নিয়ে সেটি মাটিতে আঘাত করে। সিএনএনের শোনা রেকর্ডিং অনুযায়ী, দুর্ঘটনার কিছু আগে পাইলট বিমানে বরফ জমা, বাইরের তাপমাত্রা মাইনাস ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মাঝারি ঝাঁকুনির কথা জানান।

দুর্ঘটনার পর ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ভিডিওটি দেখলে গা শিউরে ওঠে। মনে হয়, যেন একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিচে নেমে আসছে। এরপর বিশাল বিস্ফোরণ ঘটে, চারদিকে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে।’

বিমানটিতে যাত্রীদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। ডিস্যান্টিস আরও বলেন, ‘এ পর্যন্ত মাটিতে থাকা কারও নিহত বা আহত হওয়ার খবর আমরা পাইনি।’

আরও পড়ুন: মণিপুরে জাতিগত সহিংসতায় নিহত ৫, বিক্ষোভ অব্যাহত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কেন সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব নন, জানালেন ফারিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১৭ এম


ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কেন সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব নন, জানালেন ফারিন

সম্প্রতি জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিন জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব বেশি সক্রিয় নন। তিনি উল্লেখ করেন, "নিজের মতো করে নিজের ভুবনে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।"

ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে ফারিন জানান, তিনি ১০ বছরের সম্পর্কের পর দুই বছরের বেশি সময় ধরে বিবাহিত। তিনি বলেন, "ব্যক্তিগত জীবন আমি সব সময় আলোর বাইরে রাখতে পছন্দ করি। আমার স্বামী ও আমার পারস্পরিক সিদ্ধান্তেই আমরা পারিবারিক জীবন প্রচারের বাইরে রাখি। সামাজিক মাধ্যমে ব্যক্তিগত জীবনের অতিরিক্ত প্রকাশ অনাকাঙ্ক্ষিত আলোচনা ও জাজমেন্ট তৈরি করে।"

ফারিন নিজের জীবনযাপন নিয়ে বলেন, "শোবিজের রুটিন অনিয়মিত হলেও আমি কঠোর শৃঙ্খলা মেনে চলি। স্কুল-কলেজে পড়ার সময় থেকেই এ অভ্যাস গড়ে উঠেছে, আজও ধরে রেখেছি। শুটিং না থাকলে রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ি, উঠি খুব ভোরে। নিজের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার রান্না করি, ঘর গোছাই, শরীরচর্চা করি।"

তাসনিয়া ফারিন নাটকে অভিনয় করেন এবং ওটিটি মাধ্যমেও তার প্রতিভার ঝলক দেখা গেছে। নয় বছর আগে তিনি সিনেমায় নাম লিখিয়েছিলেন, কিন্তু তখন সময় তার পক্ষে ছিল না। ফলে সিনেমাতে তাকে দেখা যায়নি। নাটকের জনপ্রিয়তা নিয়েই তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন। দুই বছর আগে "ফাতিমা" নামে সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় তার অভিষেক ঘটে। এরপর চলতি বছর "প্রিন্স" নামে একটি সিনেমা দিয়ে চিত্রনায়িকা হিসেবে পরিচয় আরও একধাপ উপরে নিয়ে গেছেন। নায়ক হিসেবে তিনি পেয়েছেন শাকিব খানকে। তবে ফারিন নিজ নামের প্রতি খুব একটা সুবিচার করতে পারেননি। অনেকের মতে, শাকিব খানের সিনেমায় নায়িকা হিসেবে ফারিন ছিলেন শুধুই অলংকার। তার কিছু করারও ছিল না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতকে ভুগিয়ে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়লেন গ্লেন ফিলিপস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১৭ এম


ভারতকে ভুগিয়ে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়লেন গ্লেন ফিলিপস

গ্লেন ফিলিপস নতুন একটি বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে এখন তার নামেই রয়েছে সবচেয়ে বেশি রান। রবিবার, হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে ভারতের বিরুদ্ধে পঞ্চম এবং শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ড সাত উইকেটে জয়লাভ করে। ঐ ম্যাচেই ফিলিপস রেকর্ডটি স্থাপন করেন।

পাঁচ ম্যাচের সিরিজটি শেষ পর্যন্ত ভারত ৩-২ ব্যবধানে জিতে নেয়। তারা প্রথম তিনটি ম্যাচ জিতে এগিয়ে ছিল। তবে রবিবারের দিনটি ছিল পুরোপুরি ফিলিপস এবং টিম সেইফার্টের।

শেষ ম্যাচে ফিলিপস ৩৮ বল খেলে অপরাজিত ৬৫ রান করেন। এর ফলে পাঁচ ম্যাচে তার মোট রান দাঁড়ায় ৩৪১। এই রানেই তিনি বিশ্বরেকর্ডটি গড়েন। এর আগে এক সিরিজে সর্বোচ্চ রান ছিল ৩৩১। ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ফিল সল্ট এই রান করেছিলেন।

ফিলিপস পুরো সিরিজে অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছেন। প্রথম তিন ম্যাচে তার রান ছিল অপরাজিত ৮২, ৭০ এবং ১৭। অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত চতুর্থ ম্যাচে তিনি দুর্দান্ত ১০৭ রান করেন, যেখানে নিউজিল্যান্ড ৮৭ রানে জয়ী হয়। রবিবার অপরাজিত অর্ধশতক দিয়ে তিনি রেকর্ডটি নিশ্চিত করেন।

ভারতের ১৯২ রানের লক্ষ্য নিউজিল্যান্ড ১৯৫ রানে অতিক্রম করে, তিন উইকেট হারিয়ে। জয়ের সময় হাতে ছিল দুই ওভার। ফিলিপস জয় নিশ্চিত করেন। তবে ইনিংসের সূচনা করেছিলেন সেইফার্ট।

দ্বিতীয় ওভারে ওপেনার ফিন অ্যালেন আউট হন। তখন সেইফার্ট ভয়ঙ্কর পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। ৩১ বছর বয়সী এই ব্যাটার সিরিজের আগের চার ম্যাচে ছিলেন শান্ত। কিন্তু এবার তিনি ৫০ বলে ৯৩ রান করেন। তিনি ১১টি চার এবং পাঁচটি ছক্কা মারেন। ভারতের বোলিং সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ে।

টি-টোয়েন্টিতে তার প্রথম সেঞ্চুরি প্রায় নিশ্চিত মনে হচ্ছিল। কিন্তু ১৬তম ওভারে হৃদয় ভাঙার ঘটনা ঘটে। নিতিশ কুমার রেড্ডির বল ব্যাটের কানায় লেগে স্টাম্পে গিয়ে পড়ে। হতাশ হয়ে সেইফার্ট মাঠ ত্যাগ করেন। এটি তার ক্যারিয়ারের ১৮তম টি-টোয়েন্টি ফিফটি হিসেবে রয়ে গেল।

এর আগে বল হাতে নিউজিল্যান্ডের ভিত গড়েন পেসার অ্যাডাম মিলনে। তিনি ১৯ রানে ৪ উইকেট নেন। শুরুতেই দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে ভারতকে ১৯ রানে দুই উইকেটে নামিয়ে দেন।

এরপর ভারত ঘুরে দাঁড়ায়। ইশান কিশান এবং অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার মাত্র ৭.১ ওভারে তৃতীয় উইকেটে ৯৩ রান যোগ করেন। কিশান ৬১ এবং আইয়ার ৫০ রান করেন। এই জুটিতে বড় সংগ্রহের আশা জেগেছিল। কিন্তু মিলনে ফিরে এসে ইনিংস আটকে দেন। নাথান স্মিথ এবং ব্লেয়ার টিকনার দুটি করে উইকেট নেন। ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে আট উইকেটে ১৯১ রানে থামে।

টি-টোয়েন্টি পর্ব শেষ হলো। এবার দুই দল ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হবে। আগামী বুধবার অকল্যান্ডে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হচ্ছে। এরপর হবে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্লোরিডায় বিমান বিধ্বস্ত, পাইলটের শেষ মুহূর্তের বার্তা প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১৮ এম


ফ্লোরিডায় বিমান বিধ্বস্ত, পাইলটের শেষ মুহূর্তের বার্তা প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার পাম বিচের একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এই ঘটনায় পাইলটসহ বিমানে থাকা সকল ৯ জন নিহত হয়েছেন। বিধ্বস্ত হওয়ার সময় বিমানে থাকা যাত্রীদের শেষ মুহূর্তের বার্তা এবং ঘটনার ভয়াবহতা একটি গাড়ির ড্যাশক্যামের ভিডিওতে ধরা পড়েছে।

স্থানীয় সময় রোববার (১ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে ক্রেস্টহেভেন এলাকার নিকটবর্তী স্থানে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ার সময় মিসাইলের গতিতে নিচে নামছে। বিধ্বস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিমানটি আগুনের গোলায় engulf হয়ে যায়।

দুর্ঘটনার আগে পাইলট কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এই কথোপকথনে জানা যায়, বিমানটি কীভাবে বিধ্বস্ত হচ্ছিল। বিমানটি ৩৫ হাজার ফুট উচ্চতায় পূর্বাঞ্চলের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় পাইলট কন্ট্রোল টাওয়ারকে জানান যে, বিমানটি তীব্র ঝাঁকুনির সম্মুখীন হচ্ছে। তিনি বিমানে বরফ জমে যাওয়ার বিষয়েও সতর্ক করেন এবং বরফ জমা ঠেকাতে বিমানটি আরও দুই হাজার ফুট উঁচুতে যাওয়ার অনুমতি চান।

কিছু মুহূর্ত পর বিমানটি হঠাৎ করে খাড়াখাড়ি নিচে নামা শুরু করে। পাইলট ভীত হয়ে কন্ট্রোল টাওয়ারকে জানান যে, প্রতি মিনিটে তার বিমান ১০ হাজার ফুট নিচে নেমে আসছে। এরপর তিনি জানান যে, বিমানটি মিনিটে ২০ হাজার ও ৩০ হাজার ফুট নিচে নেমে যাচ্ছে, যা বিমানটির নিচে নামার নির্দিষ্ট গতির অনেক বাইরে ছিল।

এই সময় পাইলট ‘মে ডে’ ঘোষণা করে জানান যে, তার বিমানটি বিধ্বস্ত হতে যাচ্ছে। এর পরপরই বিমানটি অস্বাভাবিক গতিতে খাড়াখাড়ি আছড়ে পড়ে। বিমানটি যে মহাসড়কে আছড়ে পড়েছে, সেখান থেকে সামান্য দূরে বসতঘর অবস্থিত। যদি বিমানটি বসতঘরের ওপর পড়ত, তাহলে হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারত। এছাড়া গাড়ির ওপর পড়েও আরও মানুষ প্রাণ হারাতে পারতেন।

সূত্র: এপি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিসিটির পর সিসিটির দিকে নজর দিচ্ছে সৌদি কোম্পানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১৯ এম


পিসিটির পর সিসিটির দিকে নজর দিচ্ছে সৌদি কোম্পানি

চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল-পিসিটির পর এবার চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল-সিসিটির দিকে নজর দিয়েছে সৌদি আরবভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল (আরএসজিটিআই)। প্রতিষ্ঠানটি গত দুই বছর ধরে নতুন টার্মিনাল পিসিটি পরিচালনা করে আসছে।

শুরুর দিকে সক্ষমতার ধারে-কাছে যেতে না পারলেও বর্তমানে অপারেশনাল কাজে বেশ সফলতা দেখাতে শুরু করেছে আরএসজিটিআই। এই সক্ষমতাকে ঢাল হিসেবে উপস্থাপন করে চট্টগ্রাম বন্দরের অন্যতম টার্মিনাল সিসিটির দায়িত্ব নেওয়ার জন্য আবেদন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে তারা আগের মতোই পিপিপি পদ্ধতিতে সিসিটির অপারেশন পরিচালনার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে চিঠি দিয়েছে। সরকারও তাদের প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেয় গত সেপ্টেম্বর মাসে।

এরপর থেকেই সিসিটির দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে আরএসজিটিআই কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির হেড অব কমার্শিয়াল সৈয়দ আরেফ সারোয়ার জানান, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে তারা পিসিটির দায়িত্ব নেবেন। ওই বছরের শেষ ছয় মাসে ৩৪টি, ২০২৫ সালে ৭৮টি এবং চলতি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১১৩টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করেছে পিসিটি। শুরুতে আধুনিক যন্ত্রাংশের অভাবে সক্ষমতার পুরোপুরি ব্যবহার করতে না পারলেও ধীরে ধীরে সেই সংকট কেটেছে। বর্তমানে এনসিটি থেকেও তুলনামূলক বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করছে পিসিটি।

তিনি বলেন, "এই সফলতা আমরা সিসিটিতেও দেখাতে চাই।" ইতোমধ্যে কোম্পানির পক্ষ থেকে সিসিটির অপারেশনে আগ্রহ দেখিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে। দায়িত্ব পেলে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে সিসিটিকে পিসিটির মতো আধুনিক টার্মিনালে পরিণত করার সব ধরনের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা আরএসজিটিআইয়ের আছে বলে জানান তিনি।

এর আগে চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে আধুনিক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বা এনসিটিতে দুবাইয়ের প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে অপারেটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে সরকার। গত ৮ অক্টোবর দুপক্ষের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের পর এখন ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে এনসিটিকে বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ছয় মাসের মধ্যেই এনসিটিতে অপারেশন শুরু করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড।

এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দুই বছরের বেশি সময় ধরে চট্টগ্রাম বন্দরে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছিল বন্দরের শ্রমিক কর্মচারী ও সুশীল সমাজের একাংশ। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নজিরবিহীনভাবে বিদেশি কোম্পানির হাতে বন্দর তুলে দেওয়ার প্রতিবাদে ডাকা কর্মবিরতি ও অবরোধে আট দিন অচল ছিল চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম। নির্বাচিত সরকার আমলেও একই দাবিতে বিক্ষোভ, কালো পতাকা মিছিল, মশাল মিছিলের মতো কর্মসূচি এখনো অব্যাহত রেখেছেন আন্দোলনকারীরা।

তবে এসবের মাঝেই এনসিটিকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে সরকার। এই অস্থিরতার মধ্যে ফের সিসিটিকেও সৌদি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার নতুন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সরকারের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ জানিয়েছেন বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার। তিনি জানান, "বিদেশি অপারেটর প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এ দেশের রাঘব-বোয়ালরা কমিশন খেতে সক্রিয় রয়েছে।" আর এই কারণেই একের পর এক রেডি পোর্ট বা প্রস্তুত টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে যাচ্ছে। অথচ দেশীয় একাধিক প্রতিষ্ঠান এই কাজের জন্য উপযুক্ত। এমনকি দীর্ঘদিন ধরে তারাই এসব টার্মিনাল পরিচালনা করেছে।

তিনি বলেন, "অজ্ঞাত কারণে হঠাৎ করে একের পর এক বন্দরের মতো স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালগুলো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। আমরা আমাদের জায়গা থেকে এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে যাব। কর্মসূচি অব্যাহত রাখব। সরকারকে বোঝানোর চেষ্টা করব। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করব। সরকার তার সিদ্ধান্ত নেবে। সেই সিদ্ধান্ত যদি জনগণের বিরুদ্ধে যায় তবে জনগণই তা প্রতিরোধ করবে।"

পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল-পিসিটি অপারেশনে থাকার মধ্যেই এবার চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল-সিসিটির দিকে নজর দিচ্ছে সৌদি আরবভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আরএসজিটিআই। টার্মিনাল পরিচালনার অনুমতি পেলে অন্তত ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়ে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।

চট্টগ্রাম বন্দরের ১৮টি গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টির অবস্থান এনসিটিতে হলেও বাকি চারটির অবস্থান রয়েছে সিসিটিতে। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২ লাখ ২৪ হাজার আমদানি এবং ২ লাখ ৬ হাজার রপ্তানিসহ মোট ৪ লাখ ৩১ হাজার কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয় এই সিসিটি টার্মিনালে।

বন্দর বিশেষজ্ঞ ও চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা ও প্রশাসন) জাফর আলম জানান, সিসিটি হচ্ছে অত্যন্ত ছোট একটি টার্মিনাল। মাত্র ৪৫০ মিটারের জিটিতে চারটি গ্যান্ট্রি ক্রেন আছে। এখানে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার কোনো জায়গা নেই। তারা কোথায় কীভাবে এই টাকা বিনিয়োগ করতে চায় আমার জানা নেই। তবে দেশি অপারেটর থেকে বিদেশি অপারেটর এলে সক্ষমতা বাড়বে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু কোন প্রক্রিয়ায় টার্মিনালটি আরএসজিটিআইকে দেওয়া হচ্ছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, "বলা হচ্ছে আগের পিপিপি বর্তমানের বাংলাদেশ ইনভেস্ট অ্যাক্টের আওতায় জিটুজি পদ্ধতিতে টার্মিনালটি রেড সি গেটওয়েকে দেওয়া হচ্ছে বা হবে। এই অ্যাক্টে তো ওপেন টেন্ডারের সুযোগও আছে। তাহলে আমরা জিটুজিতে যাচ্ছি কেন।"

জাফর আলম আরো বলেন, "যে প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেখানে জিটুজি পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়। এটি ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। এর চেয়ে ওপেন টেন্ডারে গেলে লাভ বেশি হতো বলে মনে হয়। কারণ সিসিটির অবস্থান এনসিটির পাশে। ওপেন টেন্ডারের সুযোগ থাকলে সেখানে ডিপি ওয়ার্ল্ডও নিশ্চিতভাবেই অংশ নিত। এতে প্রতিযোগিতা বাড়লে বাংলাদেশেরই লাভ হতো।

: শেষ পৃষ্ঠার পর

রিপোর্ট: সোহাগ কুমার বিশ্বাস, চট্টগ্রাম।

সম্পাদনা: কামরুল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%