ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভারত-চীনে সীমান্ত কর্মকর্তার মন্তব্যে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি


ভারত-চীনে সীমান্ত কর্মকর্তার মন্তব্যে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি

ভারত ও চীনের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার মধ্যে সীমান্ত নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রধান শত্রুজিৎ সিং কাপুরের বক্তব্য অনুযায়ী, অরুণাচল প্রদেশের বিরোধপূর্ণ অঞ্চলে চীনা সেনারা ভারতের দাবিকৃত ভূখণ্ডের কয়েক কিলোমিটার ভেতরে তাঁবু স্থাপন করেছে। এই মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি কতটা স্থায়ী হবে, তা নিয়ে নতুন প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।

ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (আইটিবিপি) মহাপরিচালক কাপুর সম্প্রতি রাজস্থানে এক অনুষ্ঠানে বলেন, অরুণাচল প্রদেশের কিছু স্থানে ভারত ও চীনা সেনাদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থানের ঘটনা ঘটেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে এসব ঘটনার সূচনা হয়। প্রথমে উভয় পক্ষ সরে গেলেও কয়েক দিন পর চীনা সেনারা আরও বেশি সংখ্যায় ফিরে আসে এবং ভারতের দৃষ্টিতে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার প্রায় ছয় থেকে সাত কিলোমিটার ভেতরে তাঁবু স্থাপন করে।

কাপুরের এই মন্তব্যের পর ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেস সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দলটির অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার চীনের কাছে ছাড় দিচ্ছে। তবে কাপুরের বক্তব্যের বিষয়ে ভারত সরকার স্পষ্টভাবে কোনো অস্বীকৃতি জানায়নি।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, চীনা সেনারা প্রতিষ্ঠিত টহল দেওয়ার নিয়ম থেকে সরে গেলে সীমান্ত পরিস্থিতি বিঘ্নিত হয়। তিনি জানান, অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানে দুই দেশ সামরিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বেইজিং দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি মেনে চলছে এবং নিজেদের ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সীমান্তে স্বাভাবিক টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

ভারত ও চীনের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৪৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত নিয়ে কয়েক দশক ধরে বিরোধ চলমান রয়েছে। সীমান্তের বড় অংশের সুনির্দিষ্ট সীমানা এখনো নির্ধারিত হয়নি। চীন অরুণাচল প্রদেশকে দক্ষিণ তিব্বতের অংশ বলে দাবি করে, যা ভারত প্রত্যাখ্যান করে রাজ্যটিকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।

২০২০ সালের জুনে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় দুই দেশের সেনাদের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন ভারতীয় ও চারজন চীনা সেনা নিহত হন। ওই ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের বড় ধরনের অবনতি ঘটে। তবে কয়েক দফা আলোচনার পর ২০২৪ সালে সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে দুই দেশ সমঝোতায় পৌঁছায়।

আরও পড়ুন: ইউরোপের নেতারা রাজনৈতিক আত্মনিপীড়ক: লাভরভ

এরপর সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালু এবং ভিসাসংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত সেপ্টেম্বরে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভারত সফর করেন। সাত বছরের মধ্যে এটিই ছিল তাঁর প্রথম ভারত সফর। এসব উদ্যোগ সম্পর্কের উন্নতির আশা তৈরি করলেও সাম্প্রতিক সীমান্ত পরিস্থিতি সেই অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব শ্যাম শরণ বিবিসিকে বলেন, অরুণাচল সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে চীনের এ ধরনের তৎপরতা বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে। তাঁর মতে, এসব পদক্ষেপ সরাসরি যুদ্ধ বাধানোর মতো না হলেও সীমান্তে নতুন বাস্তবতা তৈরির চেষ্টা হতে পারে।

সীমান্ত বিরোধের পাশাপাশি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর তাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৫১ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে চীন থেকে ভারতে রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩১ বিলিয়ন ডলার। যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি, বিরল মৃত্তিকা চুম্বক ও ওষুধশিল্পের পণ্যের জন্য ভারত চীনের ওপর নির্ভরশীল। ফলে দুই দেশের উত্তেজনা ভারতের শিল্প ও অবকাঠামো খাতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারাও বিরোধের প্রভাব অনুভব করছেন। অরুণাচল টাইমসের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক টোঙ্গাম রিনা বিবিসিকে বলেন, চীনের অনুপ্রবেশ ও দখলদারির কারণে সীমান্তের কিছু এলাকার গ্রামবাসী চারণভূমিতে যেতে পারছেন না। এতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: গাজায় এতিম ৭১ হাজার শিশু, স্বামীহারা ৬৪ হাজার নারী

বিশ্লেষকদের মতে, চীন ভারতের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে না চাইলেও দীর্ঘস্থায়ী সীমান্ত বিরোধ থেকে কৌশলগত সুবিধা পেতে পারে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আবারও প্রমাণ করে যে, কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি মানেই সীমান্তে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত হওয়া নয়। তথ্যসূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিটিআই নেতাদের সঙ্গে সরকারের অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ অব্যাহত: রানা সানাউল্লাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৩ এম


পিটিআই নেতাদের সঙ্গে সরকারের অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ অব্যাহত: রানা সানাউল্লাহ

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) কিছু নেতার সঙ্গে সরকারের অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে, এমন তথ্য দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ। তবে তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট নেতাদের নাম প্রকাশ করলে তাঁরা নিজেদের দলের মধ্যে সমস্যায় পড়তে পারেন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জিও নিউজের ‘আজ শাহজেব খানজাদা কে সাথ’ অনুষ্ঠানে সানাউল্লাহ জানান, পিটিআইয়ের কিছু নেতার সঙ্গে মাঝে মাঝে টেলিফোনে এবং জাতীয় পরিষদ ও সিনেটের অধিবেশন চলাকালীন যোগাযোগ হয়। এসব যোগাযোগ এখনো অনানুষ্ঠানিক পর্যায়ে রয়েছে। আলোচনা যদি সুনির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছায়, তবে তা আনুষ্ঠানিক সংলাপে রূপ নিতে পারে।

আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু না হওয়ার পেছনে পিটিআইয়ের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যকে উল্লেখ করেন সানাউল্লাহ। তিনি দাবি করেন, আগের দফার সংলাপ কেন ব্যর্থ হয়েছিল, তা নিয়ে দলের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। সংলাপ সফল করতে আগ্রহী কয়েকজন নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্রূপ ও চাপের মুখে পড়েছিলেন। ফলে তাঁরা নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারেননি বলেও জানান তিনি।

স্থগিত সংলাপ পুনরায় শুরু করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা মাহমুদ খান আচাকজাইয়ের বৈঠককে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সানাউল্লাহ। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে বৈঠক করতে বিরোধীদলীয় নেতার অনীহার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ অবস্থানের পেছনে কোনো যুক্তি নেই। সংসদে গেলে প্রধানমন্ত্রী নিজেই বিরোধীদলীয় নেতার আসনের কাছে গিয়ে কথা বলেছেন বলেও উল্লেখ করেন।

সানাউল্লাহ আশা প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক বিরোধ নিরসনে দুই পক্ষ আবার সংলাপে ফিরবে। তবে তিনি জানান, পিটিআই তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সমস্যার সমাধানে আগ্রহী, এমন কোনো ইঙ্গিত এখন পর্যন্ত সরকারকে দেয়নি।

তিনি বলেন, পিটিআইয়ের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু দলটি সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ মেটাতে প্রস্তুত, এমন বার্তা নিয়ে এখনো কেউ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।

সংলাপের পরিবেশ তৈরিতে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পাশাপাশি সংসদীয় কমিটিগুলোতে পিটিআইয়ের ফিরে আসা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন সানাউল্লাহ। তিনি জানান, দলটি সংসদে উপস্থিত থাকলেও এসব কমিটির কার্যক্রম বর্জন করে আসছে। পিটিআইয়ের অভ্যন্তরীণ আলোচনা সামনে এগোনোর একটি স্পষ্ট পথ তৈরি করলে, দলটির সদিচ্ছার বিষয়ে সরকারের আস্থা বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি। তথ্যসূত্র: জিও নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইফোনের লোভে বন্ধুকে হত্যা, হবিগঞ্জে সাত দিন পর মিলল লাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৩ এম


আইফোনের লোভে বন্ধুকে হত্যা, হবিগঞ্জে সাত দিন পর মিলল লাশ

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের একটি ডোবা থেকে সাত দিন নিখোঁজ থাকার পর তারেক আহমেদ (২১) নামে এক তরুণের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তারেকের বন্ধু সাহেল মিয়াকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, আইফোন ছিনিয়ে নিতে ঘুমন্ত বন্ধুকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন সাহেল।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাহেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডোবা থেকে তারেকের লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, হত্যার পর তারেকের ব্যবহৃত আইফোনটি নিয়ে যান সাহেল। পরে, প্রায় ৫০ হাজার টাকা দামের ফোনটি মাত্র ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ অক্টোবর তারেক ও সাহেল রাজমিস্ত্রির কাজ করতে লাখাই উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামে যান। সেখানে কাজ করার সময় তারেকের আইফোন-১১-এর প্রতি সাহেলের লোভ জন্মায়। এর জের ধরে ২২ অক্টোবর রাতে ঘুমন্ত তারেককে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন সাহেল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে, লাশ গোপন করার উদ্দেশ্যে সেটি ডোবায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান তিনি।

এদিকে, তারেক বাড়িতে ফিরে না যাওয়ায় তার পরিবারের সদস্যরা নবীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওই জিডির সূত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিশ। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সাহেলের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ডোবা থেকে তারেকের লাশ উদ্ধার করা হয়।

নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হোসেন জানান, সাহেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাশ উদ্ধারে পুলিশ অভিযান চালায়। অন্যদিকে, লাখাই থানার ওসি শরীফ আহমেদ জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাল করোনার সনদে শাস্তি পাওয়া জাকা-এমবোলো ফিরছেন সুইজারল্যান্ড দলে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৪ এম


জাল করোনার সনদে শাস্তি পাওয়া জাকা-এমবোলো ফিরছেন সুইজারল্যান্ড দলে

গ্রানিত জাকা ও ব্রিল এমবোলো কোভিড টিকার জাল সনদ গ্রহণের কারণে শাস্তি পেয়েছিলেন। এই ঘটনার ফলস্বরূপ, তারা জাতীয় দল থেকেও বাদ পড়েছিলেন। তবে, বর্তমানে সুইজারল্যান্ডের দলে ফেরার সুযোগ তাদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে।

কোচ মুরাত ইয়াকিন আগামী নভেম্বরের ফিফা উইন্ডোতে নেশন্স লিগের ম্যাচে তাদের দলে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ পাচ্ছেন। মঙ্গলবার সুইস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এসএফভি) জানায়, নভেম্বরে স্লোভেনিয়া ও স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচের জন্য এই দুই ফুটবলার বিবেচিত হতে পারবেন।

২০২২ সালে ভ্রমণ ও খেলার সুবিধা পাওয়ার জন্য জাল টিকার সনদ সংগ্রহের কথা স্বীকার করেছিলেন জাকা, যিনি সুইজারল্যান্ডের অধিনায়ক। এর ফলে, অক্টোবরে নেশন্স লিগের তিনটি ম্যাচে তিনি অংশ নিতে পারেননি। স্কটল্যান্ড, নর্থ মেসিডোনিয়া ও স্লোভেনিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচগুলোতে তিনি দলের বাইরে ছিলেন। একই কারণে, ২৯ বছর বয়সী স্ট্রাইকার এমবোলোও সেপ্টেম্বরে সুইজারল্যান্ডের দলে বাদ পড়েন।

এই ঘটনার জন্য তাদেরকে ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়েছিল, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ টাকার সমান। পাশাপাশি, দুই বছরের জন্য তাদের উপর স্থগিত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এই সময়ের মধ্যে নতুন কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে শাস্তি কার্যকর হবে।

সুইজারল্যান্ডের জাতীয় দলের পরিচালক পিয়েরলুইজি তামি মন্তব্য করেন, ‘আমরা বিষয়টি বিভিন্ন দিক থেকে বিবেচনা করেছি। দুই ঘটনার পরিস্থিতি, আইনি প্রক্রিয়ার সমাপ্তি এবং ইতিমধ্যে প্রাপ্ত ক্রীড়াসংক্রান্ত শাস্তি আমাদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। নভেম্বরে তাদের জাতীয় দলে ফেরানো দায়িত্বশীল ও সঠিক সিদ্ধান্ত বলে আমরা মনে করি।’

বিতর্কিত ঘটনার জন্য জাকার অধিনায়কত্ব কেড়ে নেওয়া হয়নি। তবে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন কোচ ইয়াকিন। তিনি আগামী ৫ নভেম্বর দল ঘোষণা করবেন। নেশন্স লিগে গ্রুপ ‘ই’-তে সুইজারল্যান্ড শীর্ষে অবস্থান করছে। ১৩ ও ১৬ নভেম্বর স্লোভেনিয়া ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে দলটি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ, বীরত্ব ও আত্মত্যাগ স্মরণে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৫ এম


বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ, বীরত্ব ও আত্মত্যাগ স্মরণে

বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোহাম্মদ হামিদুর রহমানের ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ (২৮ অক্টোবর)। এই দিনটি জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে সেই অকুতোভয় বীরকে, যিনি জীবন উৎসর্গ করে মুক্তিযুদ্ধের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় রচনা করেছিলেন। তার বীরত্ব, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেম চিরকাল আমাদের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ হামিদুর রহমান ১৯৫৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানার খোর্দ খালিশপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ৭ ভাইবোনের মধ্যে ছিলেন সবার বড়। পারিবারিক আর্থিক সচ্ছলতার অভাবের কারণে বড় ভাই হিসেবে ছোটোবেলা থেকেই হামিদুরকে কিছু বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হতো। কিশোর বয়সে হামিদুর সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন এবং গ্রামে খেলাধুলায় তার সুনাম ছিল। তবে অভাব-অনটনের কারণে কৈশোরের আগেই পিতার ইচ্ছানুযায়ী হামিদুর ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য মুজাহিদ বাহিনীতে ভর্তি হন। একদিন যশোরের চৌগাছায় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মহড়া দেখে তার মনে সেনাবাহিনীতে যোগদানের আগ্রহ জন্মায়। সেই আগ্রহ থেকেই ১৯৭১ সালের জানুয়ারি মাসে যশোর এলাকায় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের রিক্রুটিং টিম এলে হামিদুর সৈনিক হওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়ান। রিক্রুটিং টিম তাকে সৈনিক হিসেবে প্রশিক্ষণের জন্য মনোনীত করে।

১৯৭১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি প্রশিক্ষণের জন্য হামিদুর চট্টগ্রামের ইবিআরসিতে যোগদান করেন। রিক্রুটদের এই প্রশিক্ষণ ৬ মাস হওয়ার কথা থাকলেও দেশের চলমান পরিস্থিতির কারণে প্রশিক্ষণের শুরুতেই হামিদুরের জীবনে এক বিরাট পরিবর্তন ঘটে। ২৫ মার্চ পশ্চিম পাকিস্তানি সৈন্যরা ইবিআরসির রিক্রুটদের নির্বিচারে হত্যা শুরু করে। গোলাগুলির মাঝে হামিদুরসহ কিছু সংখ্যক রিক্রুট ইবিআরসির পশ্চিম দিকের পাহাড়ে আশ্রয় গ্রহণ করেন এবং পরে সুযোগ বুঝে ইবিআরসি থেকে বের হয়ে প্রথমে নিজ বাড়ি ও পরে যশোরের চৌগাছায় অবস্থানরত ১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে গিয়ে উপস্থিত হন। সেখানে গিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রবল আগ্রহের কথা জানান। সেই থেকে হামিদুরকে ১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একজন নিয়মিত সৈনিক হিসেবে গ্রহণ করা হয়। তার সৈনিক নম্বর দেওয়া হয় ৩৯৪৩০১৪। পরবর্তীতে তার অসীম সাহস, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা ও কর্মোদ্যম দেখে সে সময় তাকে কম্পানি কমান্ডারের রানার নিয়োগ করা হয়। যুদ্ধে একজন কমান্ডারের রানারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কমান্ডারের যেকোনো আদেশ-নিষেধ সঠিকভাবে অন্যদের কাছে পৌঁছানোর গুরুদায়িত্ব তার ওপর ন্যস্ত থাকে।

সিপাহি মোহাম্মদ হামিদুর রহমানের শেষ যুদ্ধ ছিল ঐতিহাসিক ধলই যুদ্ধ। সিলেট জেলার (পরবর্তীতে মৌলভীবাজার জেলা) শ্রীমঙ্গল থানার আনুমানিক ১০ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে ধলই অবস্থিত। সীমান্তের প্রায় ৪০০ গজ দূরে ধলই চা-বাগানের পূর্ব প্রান্তে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ধলই বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি)। ধলই বিওপি দখলের জন্য ১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ‘সি’ কম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই কম্পানির একজন সাহসী যোদ্ধা ছিলেন হামিদুর।

এদিকে ধলই এলাকার গুরুত্ব উপলব্ধি করে মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই ৩০ এফএফ এবং এক কম্পানি রাজাকার ধলই বিওপিতে প্রতিরক্ষা অবস্থান গ্রহণ করেছিল। ধলই বিওপিতে শত্রুর অবস্থান এতই সুদৃঢ় ছিল যে, সেখানে অটোমেটিক অস্ত্রগুলো কংক্রিটের বাংকারে ছিল, যা মাঝারি আর্টিলারি গোলা বর্ষণও প্রতিরোধ করতে সক্ষম ছিল। বিওপির সম্মুখে শত্রু সেনারা পাঞ্জি (মাটিতে পুঁতে রাখা ধারালো অস্ত্র) এবং মাইনও পুঁতে রেখেছিল। এই অবস্থানকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য ধলই ভ্যালি ক্লাবে একটি আর্টিলারি ব্যাটারিও মোতায়েন ছিল।

২৮ অক্টোবর ভোররাতে মূল আক্রমণ শুরু হয়। মূল দল ক্যাপ্টেন কাইয়ুমের নেতৃত্বে আক্রমণের জন্য এগিয়ে যায়। আর্টিলারি ফায়ারের আড়ালে ৭ নং প্লাটুন ডানে ও ৯ নং প্লাটুন বামে যথাক্রমে নায়েব সুবেদার আবুল হাশেম এবং সুবেদার সাত্তারের নেতৃত্বে শত্রুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এক সময় তারা শত্রু অবস্থানের খুব কাছাকাছি পৌঁছায়। পাকিস্তানিরা মুক্তিবাহিনীর ওপর পাল্টা আক্রমণ করে, ফলে ‘সি’ কম্পানি প্রচুর ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এদিকে ফোর্স হেডকোয়ার্টার থেকে বেতারে বার্তা পাঠানো হয় যে, যে-কোনো মূল্যেই হোক ধলই দখল করতেই হবে। ফলে মুক্তিযোদ্ধাগণ আবারও অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু কিছু দূর অগ্রসর হওয়ার পর একটি এলএমজির অবিরাম গুলি বর্ষণে অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়।

কম্পানি অধিনায়ক ক্যাপ্টেন কাইয়ুম যেকোনো মূল্যে সিপাহি হামিদুর রহমানকে এলএমজি থামানোর নির্দেশ দেন। অধিনায়কের নির্দেশ পেয়ে নির্ভীক যোদ্ধা সিপাহি হামিদুর রহমান ক্রলিং করে এলএমজির দিকে এগিয়ে যান। বিওপির পাশ দিয়ে একটি কাঁচা রাস্তা ভারতের দিকে প্রবাহিত, তার পাশ দিয়ে একটি চা-বাগানের সেচের খালের ভেতর দিয়ে এলএমজি পোস্টের একেবারে নিকটে চলে যান।

এ সময় শত্রু তাকে দেখে ফেলে। কিন্তু হামিদুর বীরবিক্রমে শত্রুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। ৭ নম্বর প্ল্যাটুনের প্রত্যক্ষদর্শী মুক্তিযোদ্ধাদের বর্ণনা অনুযায়ী সে সময় সিপাহি হামিদুর রহমান দুজন পাকিস্তানি সৈন্যের সাথে মল্লযুদ্ধে লিপ্ত হন। যুদ্ধে তিনি শত্রু সৈন্যদ্বয়কে ঘায়েল করেন এবং নিজেও গুরুতর আহত হন। তারপরও তিনি শত্রুর এলএমজি বাংকারে গ্রেনেড ছুড়ে শত্রুর এলএমজি ম্যানকে নিষ্ক্রিয় করেন। এরপর মুক্তিসেনারা ঝড়ের গতিতে ধলই সীমান্ত ঘাঁটিতে প্রবেশ করেন।

এলএমজি পোস্টের পাশে সিপাহী হামিদুর রহমানের মৃতদেহ দেখতে পাওয়া যায়, তার পাশেই ছিল দুজন পাকিস্তানি সৈন্যের মৃতদেহ। তার বীরত্বের ফলস্বরূপ ১ ইস্ট বেঙ্গল ধলই বাগানের কিছু অংশ এবং পত্রখোলা চা-বাগানের কিছু অংশ দখল করে নেয়। ক্যাপ্টেন কাইয়ুম তার কম্পানি নিয়ে একটু সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান নিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকেন। ধলই যুদ্ধ ৩ নভেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। একটানা দীর্ঘ ৭দিন যুদ্ধের পর অবশেষে মুক্তিযোদ্ধারা ধলই বিওপি দখল করতে সক্ষম হয়।

ধলই বিওপি দখলে শহীদ সিপাহি হামিদুর রহমানের কৃতিত্ব ও অবদান অবিস্মরণীয়। নিজের জীবন বিপন্ন করে তিনি সহযোদ্ধাদের অগ্রসর হওয়ার পথ সুগম করে দিয়েছিলেন। তার আত্মত্যাগের স্বীকৃতি স্বরূপ পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার তাকে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত করে। সেদিন সহযোদ্ধারা এই বীর শহিদের মরদেহ বয়ে নিয়ে ভারতের আম্বাসা গ্রামে দাফন করেছিলেন। দীর্ঘদিন পর বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গত ২০০৭ সালের ১০ ডিসেম্বর ভারত থেকে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের দেহাবশেষ বাংলাদেশে এনে পুনরায় দাফন করা হয়।

দেশের প্রতি নিঃস্বার্থ দায়িত্ববোধের অনন্যসাধারণ যে উদাহরণ তিনি স্থাপন করেছেন, তা নিঃসন্দেহে তাকে একজন দেশপ্রেমিক সৈনিক হিসেবে অনন্য করে তুলেছে। সিপাহি হামিদুর রহমান নামটি তাই সকলের মনে চিরন্তন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%