ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আন্দোলন সফল, এবার কি ভোটের রাজনীতিতে নামবে ককরোচ জনতা পার্টি


আন্দোলন সফল, এবার কি ভোটের রাজনীতিতে নামবে ককরোচ জনতা পার্টি

নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস বিতর্কের প্রেক্ষাপটে টানা এক মাসের আন্দোলনের পর ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলো সরকার মেনে নেওয়ার পর ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নতুন গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের রাজনীতিতে সরাসরি ভোটের মাঠে দেখা যাবে কি সিজেপিকে, নাকি আড়ালে থেকেই কলকাঠি নাড়বে—এই প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন প্ল্যাটফর্মটির দুজন শীর্ষ নেতা।

উল্লেখ্য, তরুণদের নেতৃত্বাধীন বিদ্রূপাত্মক রাজনৈতিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এই মুহূর্তে কোনো পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। তবে ভবিষ্যতে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে তাদের মনোভাব কেমন হবে—এমন প্রশ্নের উত্তরে সংগঠনটির অন্যতম শীর্ষ নেতা ও মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ভারতে কোনো বিষয়কেই কখনোই চূড়ান্ত 'না' বলা যায় না। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস আন্দোলন-পরবর্তী পরিকল্পনা ও তাদের ভবিষ্যৎ রাজনীতির রূপরেখা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।

টানা আন্দোলনের সাফল্য অর্জনের পর নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে এবং পরবর্তী পরিকল্পনা জানাতে গিয়ে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেছেন, এখন আমার একমাত্র চিন্তা হলো বাড়ি ফিরে ঘুমোনো, কিছুটা বিশ্রাম নেওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করা। গত দু’মাস ধরে আমি বাড়ির বাইরে আছি এবং সত্যিই এখন একটু শান্ত হতে চাই। গত দু’মাসে যা কিছু ঘটেছে তা নিয়ে একটু ভেবে দেখতে চাই। আমার মনে হয় পুরো বিষয়টিই আমাদের সবার জন্য বেশ আবেগঘন। এটি যেমন গর্বের মুহূর্ত, তেমনি সত্যিই অত্যন্ত আনন্দের এবং স্বস্তির একটি সময়। এরপর পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা আমরা ভেবে দেখব।

আরও পড়ুন: ইরানের প্রেসিডেন্ট: ‘কাপুরুষের মতো সবকিছু পণ্ড করেছে’ যুক্তরাষ্ট্র

তবে ভবিষ্যতে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গে রাঙ্কা বলেন, ভারতে কোনো বিষয়কেই কখনোই 'না' বলা উচিত নয়। অন্যদিকে, সিজেপির অপর মুখপাত্র সৌরভ দাস স্পষ্ট করেছেন যে এই মুহূর্তে সরাসরি রাজনীতিতে নামার বিষয়টি তাদের মূল উদ্দেশ্য নয়। আন্দোলনকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়াই তাদের প্রাথমিক অগ্রাধিকার। সৌরভ দাস বলেছেন, বর্তমানে আমাদের লক্ষ্য অত্যন্ত পরিষ্কার, এই আন্দোলনকে একদম তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। কারণ দেশে ইতিমধ্যে সাড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ রাজনৈতিক দল রয়েছে, কিন্তু তাদের কেউই তরুণদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারছে না। আমরা এই আন্দোলনকে তৃণমূল স্তরে এমনভাবে পৌঁছে দিতে চাই যাতে ক্ষমতায় থাকা যেকোনো রাজনৈতিক দল বা নেতাই তরুণদের জন্য কাজ করতে এবং তাদের দাবি পূরণ করতে বাধ্য হন। আপাতত এটাই আমাদের প্রধান অ্যাজেন্ডা।

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দিনেই সিজেপি নেতাদের এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য সামনে এলো। নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ড নিয়ে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা টানা ছাত্র আন্দোলনের পর পদত্যাগপত্র জমা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন যে, গত ১০ দিনের ঘটনাবলি তাকে গভীরভাবে 'ব্যথিত' করেছে এবং এই বিষয়টি কোনোভাবেই তার 'ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় নয়'। একই সঙ্গে তিনি জানান, এই স্পর্শকাতর পরিস্থিতিকে কোনো 'রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি' যেন কাজে লাগাতে না পারে এবং দেশের ঐক্য যেন বজায় থাকে, তা নিশ্চিত করতেই তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন। এছাড়া একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎও যাতে আইনি জটিলতায় জড়িয়ে না পড়ে এবং শিক্ষার্থীরা যেন পুনরায় পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে পারেন, সেই বিষয়টিকে তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘ শাসনকালীন সময়ে কোনো বড় ধরনের গণবিক্ষোভের পর পদত্যাগ করা ধর্মেন্দ্র প্রধান দ্বিতীয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এর আগে ২০১৮ সালে 'মি টু' (#MeToo) আন্দোলনে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠার পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর পদত্যাগ করেছিলেন। গত ২০ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির অনির্দিষ্টকালের অবস্থানের মাধ্যমে যে গণ-আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের মাধ্যমে সরকারের নীতিতে এক বিরাট পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটল।

আম আদমি পার্টির (আপ) সাবেক কর্মী অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে মে মাসে একটি বিদ্রূপাত্মক অনলাইন ক্যাম্পেইন হিসেবে শুরু হওয়া এই আন্দোলনটি পরবর্তীতে দেশের অন্যতম সর্ববৃহৎ যুব বিক্ষোভে রূপ নেয়। গত ২০ জুলাই সরকার প্রথমবার সিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে। আন্দোলনের সঙ্গে পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুক যুক্ত হওয়ার পর এই প্রতিবাদ আরও গতি পায় এবং তিনি টানা ২৬ দিন অনশনের পর গত বৃহস্পতিবার তা ভঙ্গ করেন। এরপর আন্দোলনকারীদের দাবিতে আলোচনার স্থান মন্ত্রীর বাসভবন থেকে সরিয়ে নিরপেক্ষ স্থান হিসেবে ‘কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়া’-তে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে কেন্দ্রীয় বিএনপি সভাপতি জে পি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে সিজেপি নেতাদের চূড়ান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন: হুতিদের এডেনের নৌঘাঁটি ও সামরিক শিবিরে হামলা

চূড়ান্ত বৈঠকের পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আশুতোষ রাঙ্কা জানিয়েছেন, আগের আলোচনাগুলোর তুলনায় শনিবারের বৈঠকের আবহ ছিল বেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ। তারা জানান, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ হওয়ার আগেই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আজকের বৈঠকটি ছিল খুব আন্তরিক। আমার মনে হয় আমরা পৌঁছানোর আগেই পদত্যাগের বিষয়টি ঘটে যায়। আলোচনা মূলত বাকি দুটি দাবিকে কেন্দ্র করেই হয়েছিল। খুব দ্রুতই সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয় এবং আমরা সবাই মিলে এই সুন্দর সমাপ্তির সিদ্ধান্ত নিই। আমাদের চাওয়া অনুযায়ী যেভাবে সরকার দাবিগুলো মেনে নিয়েছে, সেই পদক্ষেপকে আমরা সত্যিই সাধুবাদ জানাই।

আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের প্রসঙ্গে রাঙ্কা জানান, সরকার সব আন্দোলনকারী ও আয়োজকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর তুলে নিতে এবং ভবিষ্যতে নতুন কোনো মামলা না করার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। একজন উগ্র অপরাধী এবং সাধারণ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীর মধ্যে পার্থক্য যে কেউ বুঝতে পারবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিজেপি প্রথম দিন থেকেই অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পক্ষে সওয়াল করে এসেছে এবং গত ৩৭ দিনে আমরা ঠিক সেটাই অর্জন করেছি। সমঝোতা বাস্তবায়িত হয়েছে এবং খুব শিগগিরই লিখিত চুক্তিও সামনে আসবে। চুক্তিটি মূলত সমস্ত আন্দোলনকারী ও আয়োজকদের ওপর থেকে এফআইআর প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে সিজেপির কর্মী-সমর্থকদের ওপর নতুন করে এফআইআর না দেওয়ার ওপর ভিত্তি করেই হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি মানতে কেন পুরো এক মাস সময় লাগল—এমন প্রশ্নের জবাবে রাঙ্কা বলেন, এটি আন্দোলনকারীদের নয় বরং সরকারের কাছেই রাখা উচিত। তারা বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডাকেও একই প্রশ্ন করেছিলেন যে শিক্ষার্থীদের ৩০ দিন ধরে রাস্তায় বসে থাকার পর কেন সরকারের এ বিষয়ে সাড়া মিলল, যা অনেক আগেই করা উচিত ছিল। রাঙ্কা আরও যোগ করেন, আমরা সবাই শিক্ষিত মানুষ, পেশাদার আন্দোলনকারী নই। আমরা সবাই পেশাগত কাজ করতাম, রাজনীতির সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক ছিল না। দীপক বোস্টনে পড়াশোনা করছিল, আন্দোলন শেষ হলে হয়তো সে নিজের জন্য চাকরির খোঁজ শুরু করত।

পদত্যাগপত্রে শিক্ষামন্ত্রীর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যের জবাবে রাঙ্কা আশা প্রকাশ করেন যে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আর ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ বা ‘ভাইরাস’ হিসেবে দেখবে না সরকার। তিনি বলেন, আমি পেছনের খুচরো বিতর্কে যেতে চাই না, তবে আশা করি তারা যেন আর আমাদের দেশবিরোধী বা ভাইরাস না বলেন, যা এতদিন ধরে আমাদের বলা হচ্ছিল। দিনশেষে আমার মনে হয়, আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি।

আরও পড়ুন: মানারাত ইউনিভার্সিটিতে কাশ্মীর ও দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি নিয়ে একাডেমিক আলোচনা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভূমি মন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হলো নওগাঁর তাল বেলালের নিমের বীজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৪০ এম


ভূমি মন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হলো নওগাঁর তাল বেলালের নিমের বীজ

নওগাঁ-রাজশাহী আঞ্চলিক মহাসড়কের ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের দুপাশে লক্ষাধিক তালের বীজ বপণ করে "বৃক্ষপ্রেমী তাল বেলাল" নামে পরিচিতি পাওয়া নওগাঁর সাংবাদিক মাহমুদুন নবী বেলাল এবার ভূমি মন্ত্রীর হাতে ২৫ কেজি দেশি নিম গাছের বীজ তুলে দিয়েছেন। শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজশাহীতে চলমান ১৫ দিনব্যাপী বৃক্ষমেলা প্রাঙ্গনে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বেলাল বীজগুলো ভূমি মন্ত্রী আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিনু এমপির মাধ্যমে বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে দেন।

এসময় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আশিক সাঈদ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, সামাজিক বন বিভাগ রাজশাহীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. জাহাঙ্গীর আলম, সামাজিক বন অঞ্চল বগুড়ার বন সংরক্ষক মুহাম্মদ সুবেদার ইসলাম, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ইশা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।

বীজ হস্তান্তরকালে ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় দেশের প্রতিটি নাগরিকের গাছ লাগানো উচিত। আমাদের প্রিয় নেতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারাদেশে ‘বৃক্ষ রোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে যে সবুজায়নের ডাক দিয়েছেন, নওগাঁর তাল বেলালের এই উদ্যোগ সেই কর্মসূচিকে আরও গতিশীল করবে। নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কসহ বিভিন্ন স্থানে তাঁর গাছ রোপণের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও শ্রম সত্যিই প্রশংসনীয়। পরিবেশ রক্ষায় এমন প্রতিটি নাগরিক উদ্যোগকে আমাদের সরকার সবসময় স্বাগত জানায়।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। সরকারি বনায়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি এমন সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব- এই উদ্যোগে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা আরও বাড়বে।”

বৃক্ষপ্রেমী মাহমুদুন নবী বেলাল মন্তব্য করেন, "দেশি নিম গাছ আমাদের পরিবেশ, প্রকৃতি ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষকে গাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ করছেন। তাঁর এই মহৎ উদ্যোগকে সফল করতে একজন সাধারণ গাছপ্রেমী হিসেবে আমি এই ক্ষুদ্র অবদান রেখেছি। মাননীয় ভূমি মন্ত্রী ও বিভাগীয় কমিশনার মহোদয়ের সরাসরি অংশগ্রহণে আজ বন বিভাগের কাছে এই বীজ পৌঁছাতে পেরে আমি আনন্দিত।” বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর এমন সবুজ কর্মসূচি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এই বীজগুলো নার্সারিতে চারা তৈরিতে ব্যবহার করা হবে, যা পরবর্তীতে দেশের সবুজায়নে অনন্য ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি, নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার সদস্যবৃন্দ, বন বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বৃক্ষপ্রেমী মাহমুদুন নবী বেলাল নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের প্রায় ৭৫ কিলোমিটার রাস্তার পাশে সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে ২০১৭ সাল থেকে তাল বীজ রোপণ করে আসছেন। এর পাশাপাশি তিনি জেলার বিভিন্ন রাস্তার পাশে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ফলজ, বনজ, ওষুধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছের চারা রোপণ করে সারা দেশের মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন। তিনি নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক হিসেবে পরিবেশ রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশে ফিরে ঝুম বৃষ্টিতে হাজারো মানুষের ভালবাসায় সিক্ত নিকো গঞ্জালেস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৪১ এম


দেশে ফিরে ঝুম বৃষ্টিতে হাজারো মানুষের ভালবাসায় সিক্ত নিকো গঞ্জালেস

২০২৬ বিশ্বকাপের উন্মাদনা শেষে দেশে ফিরে নিজের জন্মস্থান বেলিন দে এসকোবারে আবেগের প্লাবনে ভাসলেন আর্জেন্টাইন তারকা ফরোয়ার্ড নিকোলাস গঞ্জালেস। গত শুক্রবার, প্রিয় তারকা নিজ শহরে পা রাখতেই পুরো বেলিন দে এসকোবারজুড়ে তৈরি হয় এক অভূতপূর্ব আবেগঘন পরিবেশ ও উৎসবের আমেজ। এ দিন প্রবল বর্ষণ এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রিয় তারকাকে একনজর দেখতে এবং বরণ করে নিতে রাস্তার দু’পাশে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের এই তরুণ ফরোয়ার্ডের অসাধারণ ফুটবল ক্যারিয়ার এবং বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এসকোবার নগর প্রশাসন তাকে শহরের ‘সম্মানসূচক নাগরিক’ উপাধিতে ভূষিত করেছে। নিকো গঞ্জালেসের বরণ করে নেওয়ার দিন, স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের একটি সুসজ্জিত গাড়ির ওপর চড়ে প্লাজা সান মার্তিনের চারপাশের রাস্তা প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় রাস্তার দুই পাশে অপেক্ষমাণ উন্মুখ হাজারো ভক্তের উদ্দেশ্যে তিনি হাত নাড়েন এবং অনেকের জার্সিতে অটোগ্রাফ দিয়ে ভক্তদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করেন। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরে অনুষ্ঠিত মূল সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তৈরি হয় এক অত্যন্ত আবেগঘন পরিবেশ, যখন এসকোবারের মালভিনাস যুদ্ধের বীর ভেটেরানরা গঞ্জালেসের হাতে মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জের মানচিত্র খচিত আর্জেন্টিনার একটি ঐতিহাসিক পতাকা তুলে দেন। সংবর্ধনা মঞ্চে গঞ্জালেস অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে তার শৈশবের ক্লাব ‘অ্যাটলেটিকো দে এসকোবারো’র জার্সি হাতে নিয়ে ছবি তোলেন, যা স্থানীয় তরুণ ফুটবলারদের মাঝে নতুন উদ্দীপনার জোগান দেয়। ঝুম বৃষ্টিতেও ভক্তদের এমন উপচে পড়া ভিড় ও ভালোবাসার জোয়ার দেখে আর্জেন্টিনা দলের এই ফরোয়ার্ড নিজেও বেশ অবাক ও অভিভূত হয়ে পড়েন। প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি জানান, তাকে স্বাগত জানাতে এত মানুষের সমাগম ঘটবে—তা তিনি ঘুণাক্ষরেও কখনো কল্পনা করেননি। শহরের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি নিজের গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বড় ইঙ্গিত প্রদান করেন এই তারকা। গঞ্জালেস স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, খুব শিগগিরই আলবিসেলেস্তেদের মূল স্কোয়াডে ‘একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে’, যা দল পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে নতুন কোনো অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে বলে ধারণা করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ভূমিমন্ত্রী মিনু

‘মাদকের নীল দংশন থেকে রক্ষা করতে শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৫০ এম


‘মাদকের নীল দংশন থেকে রক্ষা করতে শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে’

ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি বলেছেন, ‘শিক্ষকরা হলেন সমাজের দর্পণ এবং জাতির মেরুদণ্ড। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে তরুণ সমাজকে মাদকের নীল দংশন থেকে রক্ষা করতে শিক্ষক সমাজকে সবচাইতে বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তবে কোনো ছাত্র বিপথগামী হলে তাকে ঘৃণা না করে ভালোবাসা ও সঠিক শিক্ষার মাধ্যমে আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে হবে।’

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে রাজশাহী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের (টিটিসি) অডিটোরিয়ামে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রকল্যাণ পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নবনির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিদের উদ্দেশে প্রধান অতিথি বলেন, নেতৃত্বের অহংকার যেন কাউকে স্পর্শ না করে। সব সহপাঠীর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে এবং শিক্ষকদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন পূর্বক একটি সুশৃঙ্খল শিক্ষাঙ্গণ গড়ে তোলার গুরুত্ব অপরিসীম।

স্মৃতিচারণ করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি শুধু রাজশাহী নয়, বরং সারা বিশ্বে বরেণ্য শিক্ষাবিদ তৈরি করেছে। তাঁর স্ত্রীসহ পরিবারের অনেকের এই কলেজ থেকে ডিগ্রি অর্জন করার কথাও জানান মন্ত্রী।

প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী জানান, রাজশাহী টিটিসি’র জন্য একটি বিশাল বহুতল ভবন, অত্যাধুনিক অডিটোরিয়াম এবং দুটি নতুন ছাত্রাবাস নির্মাণের পরিকল্পনা শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

এছাড়াও তিনি কলেজের খেলার মাঠটিকে আরও আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন করার আশ্বাস প্রদান করেন। এসময় তিনি প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন এবং শিক্ষাদানের মহান ব্রত নিয়ে শিক্ষকদের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করার আহ্বান জানান।

রাজশাহী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ ব্যানার্জীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মো. রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী।

অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, নির্বাচন পরিচালনা কর্মকর্তা ও নবনির্বাচিত ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সদস্য এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে ছাত্রকল্যাণ পরিষদের নবনির্বাচিত সদস্যদের বরণ করে নেওয়া হয় এবং শপথ পাঠ করানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুদ্ধের মধ্যেও ১৮ বিলিয়ন ডলারের তেল বিক্রির দাবি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:০১ এম


যুদ্ধের মধ্যেও ১৮ বিলিয়ন ডলারের তেল বিক্রির দাবি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের সময় এবং যুদ্ধবিরতির সময়েও ১৮ বিলিয়ন ডলারের তেল বিক্রি করেছে, এমনটি দাবি করেছে ইরান। দেশটির তেলমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ জানিয়েছেন, এই সময়ে যে আয় হয়েছে, তা চলতি অর্থবছরের বাজেটে নির্ধারিত তেল আয়ের লক্ষ্যের ৬০ শতাংশের বেশি।

তিনি আরো বলেন, যুদ্ধবিরতির পর তেলবাহী জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি কমে যাওয়ায় ইরানের তেল রপ্তানি বেড়েছে। এর ফলে, মজুত থাকা প্রায় ১০০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস কনডেনসেটের একটি অংশও বিক্রি করা সম্ভব হয়েছে।

ইরানের দাবি, এ ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তারা জ্বালানি রপ্তানি অব্যাহত রেখে উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%