১১:২২ পি.এম
জামালপুরের মাদারগঞ্জে দেশের ৩০তম গ্যাসক্ষেত্র জামালপুর মাদারগঞ্জ-০১-এ গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার পর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) নতুন করে আরও দুটি কূপ খননের প্রস্তুতি শুরু করেছে। গ্যাসের মজুদ ও উৎপাদন সম্ভাবনা যাচাইয়ের পর গ্যাস উত্তোলন এবং জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সংযোগ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাপেক্স অনুসন্ধান জামালপুর-১ কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। তিনি আরও জানিয়েছেন, প্রথম কূপে দৈনিক গড়ে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, গ্যাসের উপস্থিতি ও মজুদ নিশ্চিত হওয়ার পরই নতুন দুটি কূপ থেকে উত্তোলন শুরু হবে। বর্তমানে নতুন দুটি কূপ খননের জন্য সিভিল ওয়ার্ক শুরু হয়েছে। প্রতিটি কূপ ২ হাজার ৫০০ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা হবে বলে জানান তিনি।
বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের তারতাপাড়ায় ১৯৮০ সালে সিসমিক জরিপের মাধ্যমে গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। পরে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সিসমিক উপাত্ত এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ক্লোজ গ্রিড সিসমিক সার্ভে করা হয়। এসব উপাত্ত বিশ্লেষণের পর ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি জামালপুর-১ অনুসন্ধান কূপ খননের কাজ শুরু করে বাপেক্স। কূপটির খননকাজ শেষ হওয়ার পর ১ জুন সেখানে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়। বাপেক্স সূত্র জানায়, ২ হাজার ৬০০ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা প্রথম কূপে ১ হাজার ৪৪১ থেকে ১ হাজার ৪৪৫ মিটার গভীরতায় গ্যাসসমৃদ্ধ স্তর শনাক্ত হয়েছে। সেখানে প্রায় ৭ দশমিক ২ মিলিয়ন চাপের গ্যাস পাওয়া গেছে। প্রাথমিক হিসাবে, ওই কূপ থেকে দৈনিক ৫ থেকে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। চূড়ান্ত মজুদ মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে এ কূপ থেকে ১২ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহের সম্ভনাও রয়েছে বলে জানিয়েছে বাপেক্স। তাদের তথ্যমতে, ৫ দশমিক ৮৮৫ একর জমির ওপর জামালপুর-১ অনুসন্ধান কূপটি স্থাপন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রথম কূপে গ্যাস পাওয়ার পর আরও একটি অনুসন্ধানমূলক ও একটি উন্নয়নমূলক কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দুটি কূপের খননকাজের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নতুন কূপ দুটিতে গ্যাসের মজুদ ও উৎপাদন সম্ভাবনা নিশ্চিত হওয়ার পর উৎপাদিত গ্যাস জাতীয় লাইনে সরবরাহ যুক্ত করার বিষয়ে প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরির কাজ চলছে। এছাড়া, উৎপাদিত গ্যাসের একটি অংশ জামালপুরের সরিষাবাড়ীর তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা ফার্টিলাইজার কারখানায় সরবরাহের পরিকল্পনাও রয়েছে। বাপেক্সের সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, মাদারগঞ্জে গ্যাসের মজুদ নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে যমুনা নদীর ওপারেও গ্যাসের অনুসন্ধান চালানো হতে পারে।
এদিকে, দীর্ঘদিন কাজ থেমে থাকার পর আবারও কার্যক্রম শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, গ্যাসক্ষেত্রটি চালু হলে এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
আরও পড়ুন: সাংবাদিক আলিফ হত্যা: দুর্গাপুরে অপূর্ব নামের যুবক গ্রেপ্তার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন