রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৩৮ পি.এম
মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দক্ষিণী তারকা নানির নতুন সিনেমা ‘দ্য প্যারাডাইস’। সমালোচকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া সত্ত্বেও, দর্শকদের আগ্রহের কারণে ছবিটি মাত্র তিন দিনে বিশ্বব্যাপী ১০০ কোটি রুপি আয় করে ফেলেছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, সিনেমাটির মোট বিশ্বব্যাপী আয় প্রায় ১১৯ কোটি ৫০ লাখ রুপি হয়েছে।
ভারতের বাজারে ছবিটির আয়ও বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তৃতীয় দিনে সিনেমাটি ভারত থেকে ১৫ কোটি ২৫ লাখ রুপি নেট আয় করেছে। এর ফলে, তিন দিনে ভারতের মোট নেট সংগ্রহ ৭৬ কোটি ৪০ লাখ রুপি হয়েছে, আর ভারতীয় গ্রস আয় প্রায় ৯০ কোটি ৫০ লাখ রুপি। একই দিনে বিদেশের বাজার থেকে ৪ কোটি রুপি আয় হয়েছে, ফলে বিদেশে মোট আয় দাঁড়িয়েছে ২৯ কোটি রুপি।
২৩ সেপ্টেম্বর প্রিমিয়ার শো দিয়ে ছবিটির বক্স অফিস যাত্রা শুরু হয়। ওই দিন ৯০০টি শো থেকে ১১ কোটি ৬০ লাখ রুপি নেট আয় করে সিনেমাটি। ২৪ সেপ্টেম্বর প্রথম দিনের আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনে আয় হয় ৩৪ কোটি ৬৫ লাখ রুপি। দ্বিতীয় দিনে আয় কিছুটা কমে ১৪ কোটি ৯০ লাখ রুপি হলেও, তৃতীয় দিনে তা সামান্য বেড়ে ১৫ কোটি ২৫ লাখ রুপি হয়েছে।
ভাষাভিত্তিক আয়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে তেলুগু সংস্করণ। তৃতীয় দিনে তেলুগু সংস্করণ থেকে এসেছে প্রায় ১৩ কোটি ৩৫ লাখ রুপি নেট। একই দিনে হিন্দি সংস্করণ আয় করেছে প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ এবং তামিল সংস্করণ প্রায় ২৫ লাখ রুপি।
শ্রীকান্ত ওদেলা পরিচালিত ‘দ্য প্যারাডাইস’-এ নানির সঙ্গে অভিনয় করেছেন কায়াদু লোহার, মোহন বাবু, সোনালি কুলকার্নি ও রাঘব জুয়াল। সিনেমাটির গল্পে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, অধিকার ও প্রতিরোধের বিষয় উঠে এসেছে। ছবিটি বর্তমানে একাধিক ভাষায় প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে।
তিন দিনের হিসাব অনুযায়ী, সিনেমাটি নানির ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় বক্স অফিস ওপেনিং হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। তবে চতুর্থ দিনের চূড়ান্ত আয় এখনো প্রকাশিত হয়নি। ফলে, প্রথম সপ্তাহে ছবিটি কতটা গতি ধরে রাখতে পারে, সেটিই এখন বক্স অফিসের পরবর্তী আলোচনার বিষয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কানাডার অন্টারিওর এক কিশোর মাত্র ১৬ বছর বয়সে পানিদূষণ শনাক্ত করার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে একটি রোবট কচ্ছপ তৈরি করেছেন। ইভান বুডজের তৈরি রোবটটির নাম ‘বার্ট’। এটি পানির নিচে কচ্ছপের মতো চলতে সক্ষম এবং পানিতে থাকা ক্ষতিকর উপাদান শনাক্ত করতে পারে।
২০২৪ সালের গ্রীষ্মে রোবটটি তৈরির ধারণা ইভানের মাথায় আসে। কানাডার দাদা-দাদির বাড়ির সুইমিংপুলে প্রথমবার রোবটটি পানিতে নামানোর পর ইভান বড় সমস্যায় পড়েন। রোবটটি পানিতে নামানোর পর সরাসরি তলিয়ে যাচ্ছিল। পানির গভীরতা নিয়ন্ত্রণে অক্ষম ছিল এবং সাঁতার কাটতেও পারছিল না।
ইভান একবার পরিবারের সঙ্গে অন্টারিওর দুর্গম এলাকায় ক্যাম্পিং করতে গিয়ে পানির মধ্যে একটি স্ন্যাপিং কচ্ছপকে শান্তভাবে চলতে দেখেছিলেন। সেই দৃশ্য থেকেই কচ্ছপের চলন অনুসরণ করে পানির নিচে চলতে পারে এমন রোবট তৈরির ধারণা পান তিনি।
সাধারণ পানির নিচের অনেক রোবট চলাচলের জন্য পাখা বা উচ্চচাপের পানির প্রবাহ ব্যবহার করে, যা পানির নিচের পরিবেশে শব্দ ও নড়াচড়া তৈরি করে। এটি সামুদ্রিক প্রাণী ও সংবেদনশীল জলজ পরিবেশের জন্য বিরক্তিকর হতে পারে।
কচ্ছপের সাঁতারের কৌশল অনুকরণ করে ‘বার্ট’ তৈরি করেছেন ইভান। রোবটটি ঘণ্টায় প্রায় শূন্য দশমিক ৫ মাইল গতিতে চলতে পারে, যা একটি আসল কচ্ছপের স্বাভাবিক গতির কাছাকাছি।
রোবটটিতে একটি ক্ষুদ্র কম্পিউটার, সামনের দিকে থাকা ক্যামেরা এবং পরিবেশগত ঝুঁকি শনাক্ত করার জন্য প্রশিক্ষিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা রয়েছে। এর সঙ্গে একটি সৌর প্যানেলও যুক্ত করা হয়েছে, যা দীর্ঘ সময় কাজ করতে সহায়তা করে।
ইভানের নিজস্ব পরীক্ষায় কৃত্রিমভাবে তৈরি প্রবাল বিবর্ণতার নমুনা শনাক্ত করতে ‘বার্ট’ ৯৬ শতাংশ নির্ভুলতা দেখিয়েছে। তবে এই ফল নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পরিচালিত পরীক্ষার ভিত্তিতে পাওয়া। বাস্তব সমুদ্রের প্রবালপ্রাচীর বা দীর্ঘ সময় ধরে প্রাকৃতিক পরিবেশে একই মাত্রার নির্ভুলতা বজায় থাকবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
পরে ইভান রোবটটি সুইমিংপুলের বাইরেও পরীক্ষা করেন। অন্টারিও হ্রদেও এর কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে।
ঘোলাটে পানিতে কাজ করার জন্য রোবটটিতে শব্দতরঙ্গভিত্তিক একটি যন্ত্র যুক্ত করা হয়েছে। ক্ষুদ্র কণার আকার ও গঠন শনাক্ত করার জন্য একটি বিশেষ আলোকচিত্র প্রযুক্তিও যুক্ত করেছেন ইভান। এসব তথ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে পানিতে থাকা কোনো কণা মাইক্রোপ্লাস্টিক কি না, তা শনাক্ত করার চেষ্টা করা হয়।
বিজ্ঞান মেলায় সেরা প্রকল্প
ইভানের তৈরি রোবটটি ইতোমধ্যে বিজ্ঞান মেলার গণ্ডি পেরিয়েছে। ২০২৫ সালের কানাডা-ব্যাপী বিজ্ঞান মেলায় উদ্ভাবন বিভাগে সেরা প্রকল্পের পুরস্কার পায় ‘বার্ট’। এই প্রতিযোগিতায় দেশটির প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
এরপর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে লাটভিয়ার রিগায় অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের তরুণ বিজ্ঞানী প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার অর্জন করে ইভান। ৪০টি দেশের ১৪ থেকে ২০ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়। পুরস্কার হিসেবে সে পায় ৭ হাজার ইউরো।
এছাড়া ইভান ইতিবাচক ফলাফলের জন্য গর্ডন ই. মুর পুরস্কার হিসেবে ৫০ হাজার ডলার এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ অর্থায়নে ভ্রমণের সুযোগসহ এলিসন স্কলার্স পুরস্কার পেয়েছে।
এখনো কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে
‘বার্ট’ এখনো নিজে থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পথ পরিবর্তন করতে পারে না। এটি আগে থেকে নির্ধারিত একটি অনুসন্ধান পথ অনুসরণ করে। তবে কোনো দড়ি বা দূর থেকে নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হয় না। এতে রোবটটি শান্তভাবে কাজ করতে পারে এবং পানির নিচে কোনো অস্বাভাবিক কিছু দেখতে পেলে সেটির কাছে গিয়ে পরীক্ষা করতে পারে না।
ইভানের পরবর্তী লক্ষ্য হলো রোবটটির মাধ্যমে সরাসরি পানির নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা। পাশাপাশি কৃত্রিম বা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের বাইরে প্রাকৃতিক জলাশয়ে আরও পরীক্ষা চালাতে চান তিনি।
ভবিষ্যতে তৈরি করতে চান রোবটের বহর
ইভান জানিয়েছেন, তার লক্ষ্য শুধু একটি রোবট তৈরি করা নয়। ভবিষ্যতে একই ধরনের অনেকগুলো রোবট কচ্ছপ একসঙ্গে পানিতে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার। এতে একটি জলাশয় বা প্রবালপ্রাচীরের বড় এলাকা একসঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হতে পারে।
‘বার্ট’ তৈরিতে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগার বা বড় প্রতিষ্ঠানের গবেষণা বাজেটের প্রয়োজন হয়নি। ক্ষুদ্র কম্পিউটার, ক্যামেরা ও সহজলভ্য যন্ত্রাংশ ব্যবহার করেই এটি তৈরি করেছেন ইভান।
তবে ৯৬ শতাংশ নির্ভুলতার ফলকে চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে দেখছেন না তিনি। বরং ভবিষ্যতের আরও উন্নত পরীক্ষা ও গবেষণার ভিত্তি হিসেবেই এই ফলকে কাজে লাগাতে চান।
সূত্র: রিসার্চ ডট কম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী পুরাতন কালীবাড়ি মন্দির থেকে চুরি হওয়া বহুমূল্য কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি, স্বর্ণ-রৌপ্যের অলংকার এবং বিভিন্ন পিতলের প্রতিমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার মাত্র ছয় দিনের মধ্যে মূল মূর্তিসহ অধিকাংশ মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থানার বুরাইচ গ্রামের আসাদুজ্জামান সাদ্দাম (৩৮), তার মা সাজেদা বেগম (৬৫), বোয়ালমারীর কান্দাকুল গ্রামের আল আমিন মোল্লা (২৪) এবং বোয়ালমারী বাজারের জুয়েলারি ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে পূজা শেষে মন্দির তালাবদ্ধ করে চলে যান সেবায়েত ও মন্দির কমিটির সভাপতি কুশল চক্রবর্তী। পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর ভোরে মন্দিরে গিয়ে তিনি দেখতে পান তালা কেটে কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি, প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকার, ৩০ ভরি রৌপ্যালংকার ও পিতলের একাধিক প্রতিমা চুরি হয়ে গেছে। এজাহার অনুযায়ী চুরি হওয়া ২০ কেজি ওজনের কষ্টিপাথরের মূর্তিটির আনুমানিক মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। এ ঘটনায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার পর পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজীর নির্দেশনায় কোতোয়ালি থানা, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপারদের সমন্বয়ে গঠিত দল অনুসন্ধানে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতার সাজেদা বেগমের দেওয়া তথ্যে তার বাড়ির রান্নাঘরের মাটির নিচে পুঁতে রাখা স্বর্ণ-রৌপ্যের গহনা ও ৬টি পিতলের মূর্তি উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে সাদ্দাম ও আল আমিনের দেওয়া তথ্যে বোয়ালমারী রুপাপাত এলাকার একটি বাড়ির পিছনের মাটির তলদেশ থেকে উদ্ধার করা হয় কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিটি। এছাড়া স্থানীয় এক জুয়েলারি দোকান থেকে মূর্তি থেকে চুরিকৃত গলানো স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গ্রেফতার হওয়া সাদ্দামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১০টিরও বেশি এবং আল আমিনের বিরুদ্ধে ৮টির বেশি চুরি ও ডাকাতির মামলা রয়েছে। মামলাটি প্রাথমিক অবস্থায় সূত্রহীন থাকলেও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে স্বল্পতম সময়ে এই সফলতা পাওয়া গেছে বলে জানান পুলিশ সুপার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুর সীমান্ত পথে বানের পানির মতো ভেসে আসছে মাদক সহ ভারতীয় মালামাল।
শেরপুর জেলার তিনটি উপজেলা সীমান্তবর্তী। এই তিনটি উপজেলা হলো ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী। প্রতিদিনই এই সব উপজেলায় কোন না কোন সীমান্ত পথে ভারতীয় মালামাল সহ মাদক ভেসে আসছে। এমন কোন দিন নেই যে, কোন না কোন উপজেলার সীমান্ত এলাকায় বিজিবি, পুলিশ ও র্যাবের অভিযানে ভারতীয় মালামাল সহ মাদক জব্দ হচ্ছে না।
তবে অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, ভারতীয় মাদক সহ মালামাল জব্দ হওয়ার তুলনায় চোরাকারবারীদের গ্রেপ্তার করা হয় না বললেই চলে। মাঝে মাঝে দুই একজন আটক হলেও তারা সাধারণত অতিদরিদ্র বাহক মাত্র। মূল চোরাকারবারীরা অধরাই থেকে যাচ্ছে, ফলে চোরাচালান বন্ধ করা যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার শেরপুরের শ্রীবরদী সীমান্তের বালিজুরি খ্রিস্টানপাড়া এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ব্যান্ডের মাদক জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি।
২৬শে সেপ্টেম্বর শনিবার সকালে ৩৯ বিজিবির তাওয়াকোচা সীমান্ত ফাঁড়ির একটি টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রনিশিমুল ইউনিয়নের খ্রিষ্টান পাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় বিভিন্ন ব্যান্ডের ৯৬ বোতল মদ জব্দ করেছে।
বিজিবির দাবি, অভিযান চলাকালে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ভর্তি কার্টুন ফেলে পালিয়ে যায় মাদক চোরাকারবারি দলের সদস্যরা।
৩৯ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবির ময়মনসিংহের তাওয়াকোচা সীমান্ত ফাঁড়ির ইনচার্জ নায়েক সুবেদার মোঃ রবিউল ইসলাম মাদক জব্দ করার সত্যতা নিশ্চিত করে শনিবার দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, উদ্ধারকৃত মাদকের কার্টুন ফেলে রেখে পাচারকারীরা পালিয়ে যায়। যা সীমান্ত পথে ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা হয়েছিল।
উদ্ধারকৃত ৯৬ বোতল ভারতীয় মাদকের আনুমানিক সিজার মূল্য ১ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা। বিজিবি জানায়, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মাদকের বোতলগুলো মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
শেরপুর সীমান্তের উল্লেখিত তিনটি উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে দীর্ঘদিন যাবত সঙ্ঘবদ্ধ চোরাকারবারী চক্র ভারত থেকে অবৈধভাবে মাদক, গরু, ইলেকট্রিক সামগ্রী, প্রসাধনী ও কসমেটিক সামগ্রী, যানবাহনের যন্ত্রাংশ, ঔষধ, জিরাসহ মসলা ও শিশু খাদ্য এবং বিভিন্ন সামগ্রী এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে আসছে।
বিজিবি, পুলিশ ও র্যাবের অভিযানে বিভিন্ন সময়ে ভারতীয় মাদক, গরু সহ বিভিন্ন সামগ্রী আটক হলেও মূল চোরাকারবারীরা অধরাই থেকে যাচ্ছে।
অনুমান করা হচ্ছে যে, শেরপুর সীমান্ত পথে যে পরিমাণ ভারতীয় মাদক, গরু, ঔষধ, জিরা ও কসমেটিকস সহ ভারতীয় মালামাল জব্দ করা হয়, তার চেয়ে বড় বড় চালান পাচার হয়ে যাচ্ছে।
২৭ সেপ্টেম্বর রোববার শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কর্ণঝোড়া সীমান্তের ডুমুরতলা পাহাড়ি এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জনসন বেবি সাবান জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
জব্দকৃত সাবানের আনুমানিক সিজার মূল্য ৬ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ টাকা। কর্ণঝোড়া বিওপির ইনচার্জ সুবেদার ফুলমিয়া ভারতীয় সাবান জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাতভর অভিযানের অংশ হিসেবে রোববার ভোরে ডুমুরতলা এলাকা থেকে এসব মালামাল জব্দ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ২০ লাখ ১০ হাজার ৭০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে, যিনি কানাডার একটি কোম্পানিতে চাকরি দেয়ার কথা বলে ভুয়া ও জাল কাগজপত্র তৈরি করে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়েছিলেন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২টা ১৫ মিনিটের দিকে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানার নয়ানখাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার নারীর নাম নার্গিস বেওয়া ওরফে সালমা আক্তার (২৬)। তিনি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানার মৃত ছকমল হোসেনের কন্যা।
সিআইডি জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তের প্রকৃত পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করার পর তাকে কিশোরগঞ্জ থানার নয়ানখাল এলাকায় গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, অভিযুক্ত নারী কানাডার একটি কোম্পানিতে চাকরি দেয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীর সঙ্গে মোট ৩০ লাখ টাকার মৌখিক চুক্তি করেন বিদেশে পাঠানোর জন্য। গত বছরের ২৮ মে থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিকাশের মাধ্যমে ১৭ লাখ ৮১ হাজার ৮৯০ টাকা এবং নগদ ও রকেটের মাধ্যমে আরও ২ লাখ ২৮ হাজার ৮১০ টাকা নেয়া হয়। সব মিলিয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ২০ লাখ ১০ হাজার ৭০০ টাকা নেয়া হয়।
টাকা নেয়ার পর কানাডায় যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে ভুক্তভোগীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ওই কাগজপত্র নিয়ে কানাডা অ্যাম্বাসিতে যোগাযোগ করা হলে যাচাই-বাছাইয়ের পর সেগুলো ভুয়া বলে জানানো হয়। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী কাফরুল থানায় মামলা করেন।
সিআইডির তদন্তে জানা যায়, গ্রেপ্তার নারীসহ চক্রের অন্য সদস্যরা পরস্পর যোগসাজশে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে ভুয়া ও জাল কাগজপত্র তৈরি করতেন। এসব কাগজপত্রকে আসল হিসেবে ব্যবহার করে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেয়া হয়। অভিযুক্ত নারী নিজের প্রকৃত নাম-ঠিকানা গোপন করে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিলেন বলে সিআইডি জানিয়েছে।
সিআইডি আরও জানায়, মামলার তথ্য বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
গ্রেপ্তার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আত্মসাৎ করা অর্থের সম্পূর্ণ পরিমাণ, অর্থের গতিপথ এবং চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনগত কার্যক্রম চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ