ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পশ্চিম তীরে দুই মসজিদে অগ্নিসংযোগ, একাধিক এলাকায় হামলা


পশ্চিম তীরে দুই মসজিদে অগ্নিসংযোগ, একাধিক এলাকায় হামলা

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরজুড়ে তাণ্ডব চালিয়েছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। গতকাল রবিবার চালানো এসব হামলায় দুটি মসজিদে অগ্নিসংযোগ, একটি পাথর কোয়ারিতে ধ্বংসযজ্ঞ এবং অসংখ্য বাড়িঘর ও যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ মদদ ও সুরক্ষায় ইসরায়েলি দখলদাররা এই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানান, এই হামলাগুলো নাবলুস, তুলকারেম, রামাল্লা, হেব্রন, সালফিত, কালকিলিয়া, জেরিকো ও জেরুজালেম গভর্নরেটের সম্প্রদায় লক্ষ্য করে চালানো হয়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ সুরক্ষার মাধ্যমে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা এই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে।

নাবলুসের দক্ষিণে কুসরা গ্রামে ইসরায়েলি দখলদারেরা আল-রহমা মসজিদের একটি বড় অংশে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে মসজিদের দেওয়ালে হিব্রু ভাষায় বর্ণবাদী স্লোগান লিখে দেয়।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল-আজিম ওয়াদি বলেন, রাত আড়াইটার দিকে তিনি একটি ফোনকলে তিনি জানতে পারেন গ্রামের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের মসজিদটিতে ইসরায়েলিরা আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। ওয়াদি জানান, তিনি তখনই আরও কয়েকজন বাসিন্দাকে সঙ্গে নিয়ে আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। মসজিদটি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে উদ্বোধন করার কথা ছিল।

এই একই দিনে তুলকারেমের দক্ষিণে কুর গ্রামে আরও একটি মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ওই এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলের বসতি স্থাপনকারীরা প্রতিশোধের আহ্বান জানিয়ে স্লোগান লিখে রেখে গেছে।

ফিলিস্তিনি হাইয়ার ফাতওয়া কাউন্সিল এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলছে, এটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত অভিযান।

এদিকে, রামাল্লার কাছে আইন সামিয়া এলাকার একটি পাথর কোয়ারিতে হামলা চালিয়ে ১০টি ভারী যন্ত্রপাতিতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কোয়ারির মালিকের দাবি, এতে প্রায় ২০ লাখ শেকেল ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি হামলায় তিন নিরাপত্তাকর্মী আহত হন।

আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা

এছাড়া বেইতিলু, বেইত ফুরিক, কালকিলিয়া, জেরিকো, সালফিত ও জেরুজালেমের আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি, যানবাহন ও একটি অ্যাম্বুলেন্সে হামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ ও গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে।

ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলি দখলদারদের এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা একে ফিলিস্তিনিদের ওপর পরিকল্পিত ধারাবাহিক হামলার অংশ বলে অভিযোগ করেছে। মন্ত্রণালয় জানায়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ সুরক্ষায় এসব আক্রমণ চালানো হচ্ছে।

এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলে, ‘মসজিদে হামলা ও বর্ণবাদী স্লোগান লেখা দখলদারদের আসল চেহারা দেখিয়ে দিচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর নিজেদের অপরাধ ঢাকতে তারা রাজনৈতিক সংঘাতকে ধর্মীয় রূপ দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, উসকানি, সুরক্ষা ও শাস্তিহীনতার নীতির কারণে তারা বারবার এমন হামলা চালানোর সাহস পাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

বিবৃতিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, ‘আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘকে বসতি স্থাপনকারীদের সন্ত্রাস বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’ একই সঙ্গে বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের ওপর প্রতিদিন হামলা চালানো দখলদার গোষ্ঠীগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার দাবি জানানো হয়।

ওয়াল অ্যান্ড সেটেলমেন্ট রেজিস্ট্যান্স কমিশনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে পশ্চিম তীরে অন্তত ১১ হাজার ৭৪টি হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীরা। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি তথ্য কেন্দ্রের (পিআইসি) হিসাব অনুযায়ী, কেবল জুন মাসেই ৬ হাজার ৮৫৬টি আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।

বর্তমানে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী পশ্চিম তীরে বসবাস করছেন। তারা ১৪১টি অননুমোদিত বসতি এবং ২২৪টি আউটপোস্টে বিভক্ত। এর মধ্যে অন্তত ২ লাখ ৫০ হাজার বসতি স্থাপনকারী পূর্ব জেরুজালেম এলাকায় থাকে। এসব এলাকা থেকে নিয়মিত ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি, জমি ও সম্পদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ: শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪০ এম


শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ: শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া হত্যাযজ্ঞের ঘটনার ক্ষেত্রে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক সেনা প্রধান আজিজসহ মোট ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।

সোমবার (২৭ জুলাই) বেলা পৌনে ১১টার দিক থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে এ অভিযোগটি জমা দেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মার্জিনা রায়হান।

সেদিন এ মামলায় ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, উক্ত মামলায় বর্তমানে গ্রেপ্তার হওয়া ৯ জন আসামি হলেন- সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের সমাবেশের সাথে সম্পর্কিত সংঘর্ষে ঢাকাসহ চারটি স্থানে মোট ৫৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২, নারায়ণগঞ্জে ২০, চট্টগ্রামে ৫ এবং কুমিল্লায় একজন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করেছে তদন্ত সংস্থা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘ঝুঁকিপূর্ণ রুটে’ হরমুজ পার হচ্ছিল ছয়টি জাহাজ, দাবি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪৪ এম


‘ঝুঁকিপূর্ণ রুটে’ হরমুজ পার হচ্ছিল ছয়টি জাহাজ, দাবি ইরানের

হরমুজ প্রণালিতে ছয়টি জাহাজ ‘অননুমোদিত ও ঝুঁকিপূর্ণ’ একটি নৌপথ ব্যবহার করে চলাচলের চেষ্টা করছিল বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB)। বিষয়টি সোমবার ভোরের দিকে ঘটে বলে জানান দেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

আইআরআইবির প্রতিবেদনে এক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে ‘অননুমোদিত ও ঝুঁকিপূর্ণ’ পথে অতিক্রমের চেষ্টা করে চলছিল। এ সময় তারা নিজেদের নেভিগেশন ও অবস্থান নির্ণয় ব্যবস্থা (AIS) বন্ধ রেখেছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, জাহাজগুলো ওই পথ ব্যবহার করে চলাচলের মাধ্যমে এলাকায় অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বাহিনীকে উসকানি দেওয়ার চেষ্টায় ছিল।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, আটক ছয়টি জাহাজের মধ্যে একটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বাকি পাঁচটি জাহাজ ইরানি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে হয়ে আবার পারস্য উপসাগরের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

তবে আইআরআইবি জাহাজগুলোর নাম, কোন দেশের পতাকাবাহী ছিল, ক্রুদের পরিচয় কিংবা দুর্ঘটনার প্রকৃতি সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমটির সূত্র আরও দাবি করে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য নির্ধারিত নৌপথ স্পষ্টভাবে চিহ্নিত রয়েছে। সেই নির্ধারিত পথের বাইরে অন্য যেকোনো রুট বিপজ্জনক এবং চলাচলের অনুপযোগী বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি, ইরানের দাবির স্বাধীন বা নিরপেক্ষ যাচাইও এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভাইকে বিয়ে করা রানির শোক থেকেই জন্ম নিয়েছিল প্রাচীন বিশ্বের এক বিস্ময়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪৮ এম


ভাইকে বিয়ে করা রানির শোক থেকেই জন্ম নিয়েছিল প্রাচীন বিশ্বের এক বিস্ময়

তুরস্কের এজিয়ান সাগরের তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক শহর বোদ্রুম, যার প্রাচীন নাম ছিল হ্যালিকারনাসাস। বর্তমানে এটি পর্যটকদের জন্য অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য হলেও প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে এই শহর ছিল এক শক্তিশালী রাজবংশের রাজধানী। এখানেই নির্মিত হয়েছিল প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম হ্যালিকারনাসাসের মসলিয়াম, যার পেছনে রয়েছে এক শোকাবহ রাজকীয় প্রেমের গল্প।

খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতকে কারিয়ার শাসক রাজা মসলাস (মাউসোলাস) এবং তার বোন ও স্ত্রী দ্বিতীয় আরটেমিসিয়া এ অঞ্চল শাসন করতেন। সে সময় রাজপরিবারে ক্ষমতা ও বংশীয় ঐতিহ্য রক্ষার অংশ হিসেবে ভাই-বোনের মধ্যে বিবাহ অস্বাভাবিক ছিল না।

খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫৩ সালে মসলাসের মৃত্যুর পর গভীর শোকে ভেঙে পড়েন আরটেমিসিয়া। স্বামীর স্মৃতিকে অমর করে রাখতে তিনি গ্রিক, মিসরীয় ও লিসিয়ান স্থাপত্যশৈলীর সমন্বয়ে এক বিশাল সমাধি নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এই সমাধিই পরে ইতিহাসে হ্যালিকারনাসাসের মসলিয়াম নামে পরিচিতি পায় এবং প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের একটি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

ইতিহাস ও কিংবদন্তি অনুযায়ী, স্বামীর মৃত্যুশোকে আরটেমিসিয়া নাকি মদের সঙ্গে মসলাসের ভস্ম মিশিয়ে পান করেছিলেন। যদিও এ ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তবুও এটি যুগ যুগ ধরে আলোচিত একটি কাহিনি হিসেবে টিকে আছে। মসলাসের মৃত্যুর মাত্র দুই বছর পরে আরটেমিসিয়াও মারা যান এবং অসমাপ্ত সমাধির কাজ পরে কারিগররা শেষ করেন।

স্থানীয় গাইডদের বর্ণনা অনুযায়ী, এই বিশাল স্থাপত্য নির্মাণে অর্থ জোগাড় করতে সে সময় নানা ধরনের কর আরোপ করা হয়েছিল। প্রচলিত একটি কাহিনিতে বলা হয়, পুরুষদের লম্বা চুলের ওপরও কর বসানো হয়েছিল। যারা কর দিতে চাইতেন না, তাদের চুল কেটে নেওয়া হতো এবং সেই চুল পারস্যের অভিজাতদের জন্য পরচুলা তৈরিতে ব্যবহৃত হতো। তবে এ তথ্যের পক্ষে শক্ত ঐতিহাসিক প্রমাণ সীমিত।

পরবর্তী সময়ে ১২০০ থেকে ১৫০০ শতকের মধ্যে ধারাবাহিক ভূমিকম্পে মসলিয়ামটি ধ্বংস হয়ে যায়। উনবিংশ শতকে ব্রিটিশ প্রত্নতাত্ত্বিক চার্লস নিউটন এর ধ্বংসাবশেষ খনন করে গুরুত্বপূর্ণ ভাস্কর্য ও স্থাপত্যাংশ উদ্ধার করেন, যার অনেকগুলো বর্তমানে লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়া ধ্বংসস্তূপের কিছু মার্বেল পাথর ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয় বোদ্রুম ক্যাসল, যা আজও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

এক ভাই-বোনের রাজকীয় বিবাহ, গভীর শোক এবং অমর স্মৃতির প্রতীক হয়ে নির্মিত এই মসলিয়াম আজ আর অবশিষ্ট নেই। তবে এর ইতিহাস এখনো বিশ্বের অন্যতম বিস্ময়কর স্থাপত্যগাথা হিসেবে মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।

সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাবি শিক্ষার্থীকে পদ্মায় ফেলে দেওয়ার হুমকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৫৩ এম


প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাবি শিক্ষার্থীকে পদ্মায় ফেলে দেওয়ার হুমকি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার পর প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণে ছুরি ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের একজন কর্মীর বিরুদ্ধে।

রোববার (২৬ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর করা লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী এসব তথ্য তুলে ধরেন।

অভিযুক্ত মহসিন আলম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক কর্মী। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীও একই বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

লিখিত অভিযোগে জানা যায়, গত ২২ জুলাই থেকে অভিযুক্ত মহসিন আলম বিভিন্নভাবে ভুক্তভোগীকে উত্ত্যক্ত ও হয়রানি করে আসছিলেন এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্তও করেন। একপর্যায়ে মহসিন ভুক্তভোগীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। কিন্তু প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পরও তিনি বিরত হননি এবং পুনরায় চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে অভিযুক্ত মহসিন ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক পদ্মা নদীর পাড়ে নিয়ে যান এবং ফের প্রেমের প্রস্তাব দেন। কিন্তু যখন ভুক্তভোগী পুনরায় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন, তখন অভিযুক্ত একটি ছুরি বের করে তাকে ভয়ভীতি দেখান ও বলেন যে তার কাছে পিস্তল রয়েছে।

ভুক্তভোগী নারী জানান যে, ভয়ে কান্নাকাটি শুরু করলে অভিযুক্ত তার মেসের দিকে নিয়ে যেতে রাজি হন। তবে পথিমধ্যে রুয়েট এলাকা থেকে আবারও তাকে পদ্মা নদীর পাড়ে নিয়ে গিয়ে নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন। কান্নাকাটির দীর্ঘ সময় পর তাকে মেসে পৌঁছাতে সাহায্য করা হয়। এরপর অভিযুক্ত ফোন করে আত্মহত্যার কথাও বলেন। এর পাশাপাশি, অভিযুক্তের এক সহযোগী তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মহসিন আলমের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তিনি সাড়া দেননি।

রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে তদনেৎ করা হবে এবং সত্যতা যাচাই করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দোষী বা নির্দোষ হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা উচিত নয়। এছাড়া আমাদের জানা মতে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী নন। অভিযোগের বিষয়টি যাচাই করতে হবে যদি প্রয়োজন হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, সংস্কৃত বিভাগের একজন নারী শিক্ষার্থীর কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করা হয়েছে। সোমবার দুপুর ১২টায় অভিযুক্তকে ডাকতে বলা হয়েছে। তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%