বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:৪৪ এম
আগুন নেভানোর জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। পানি ও বালু ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়েছে। ফলে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে ভূগর্ভ থেকে বেরিয়ে আসা গ্যাসের আগুন ৪২ ঘণ্টা পেরিয়ে এখনও জ্বলছে।
আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়া এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে উখিয়া উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলের চারপাশের ২০০ মিটার এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে। পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাইকিং করে উৎসুক মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভূগর্ভে জমে থাকা গ্যাসের মজুদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন অন্তত আরও সাত দিন জ্বলতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সরাসরি আগুন নেভানোর পরিবর্তে গ্যাসের চাপ ও প্রবাহ কমানোর কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) এস এম নাফিফুন আরহাম এসব তথ্য জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, ভূগর্ভের ওপরের স্তরে জমা থাকা পকেট গ্যাস নিঃশেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন জ্বলতে থাকবে। গ্যাসের চাপ অত্যন্ত বেশি থাকায় সরাসরি আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে আশপাশে আগুন ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই গ্যাসের চাপ কমিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোরে ইনানী এলাকার মোস্তফা সিকদারের বাড়ির আঙিনায় গভীর নলকূপ খননের সময় এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে খননকাজ চলাকালীন প্রচণ্ড বেগে গ্যাস বেরিয়ে আসতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে সেই গ্যাসে আগুন ধরে যায়। এরপর থেকেই আগুন জ্বলছে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট, সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। তবে তাদের প্রচেষ্টা সফল হয়নি। পরবর্তীতে পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে যায়।
এদিকে নিরাপত্তার স্বার্থে ইনানী থেকে মনখালী পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ওই এলাকার কয়েক হাজার গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়েছেন।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান জানান, ওই এলাকায় প্রাকৃতিক গ্যাসের উপস্থিতি থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, বাপেক্সসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাইকারী সন্দেহে গণপিটুনিতে গুরুতর আহত এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এই ঘটনার ফলে ওই এলাকায় মাত্র দুই দিনের মধ্যে দুজনের মৃত্যু ঘটল। নিহত যুবকের পরিবার অভিযোগ করেছে যে, গুরুতর আহত অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাকে হাসপাতালে থেকে থানায় নিয়ে যায়, যার ফলে তার চিকিৎসা বিলম্বিত হয়।
নিহত যুবকের নাম নিশাত মিয়া (২৭)। তিনি পিকআপ চালক ছিলেন এবং যাত্রাবাড়ীর বিবিরবাগিচার সুতিখাপার এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২০০ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক তাজমুল করিম এই বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ঘটনার শুরু হয় গত মঙ্গলবার ভোরে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিবিরবাগিচার ৪ নম্বর গেটসংলগ্ন ডেমরা সড়ক এলাকায় কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠে। এই সময় স্থানীয় লোকজন তাদের ধাওয়া করে দুই যুবককে আটক করে গণধোলাই দেন। এতে ঘটনাস্থলেই জনি (৩২) নামের এক যুবকের মৃত্যু ঘটে। গুরুতর আহত নিশাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তবে নিহতের বোন শারমিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আরাফাত নামের এক ব্যক্তি ফোন করে জনিকে ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠান। পরে জনিকে বিবিরবাগিচার একটি ক্লাবের কক্ষে নিয়ে সাত-আটজন মিলে মারধর করেন। এরপর নিশাতকেও একই স্থানে ডেকে নিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে নিশাতের বাবাকেও আক্রমণ করা হয়।
নিশাতের পরিবারের অভিযোগ, মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক মেহেদির নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল হাসপাতাল থেকে নিশাতকে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশের দাবি ছিল, নিশাতের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের একটি মামলা রয়েছে এবং হাসপাতাল তাকে হেফাজতে নেওয়ার উপযোগী বলে সনদ দিয়েছে। পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও তাকে থানায় নিয়ে করিডরের মেঝেতে বেঁধে রাখা হয়। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে তাকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু ঘটে।
যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক হাসান কবির জানান, নিশাতের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ছিনতাইয়ের একটি মামলা ছিল। হাসপাতাল থেকে ‘ফিট’ সনদ পাওয়ার পরই তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। থানার মেঝেতে বেঁধে রাখার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ওই সময় তিনি থানায় উপস্থিত ছিলেন না।
নিশাতের বন্ধু অপনের দাবি, বিবিরবাগিচা এলাকায় ৫০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। এসব ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করলে হামলাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি নিশাত ও জনি সত্যিই ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, তাও যাচাই করা যাবে।
এআরবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ