বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:৩৯ এম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য ও যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ মন্তব্য করেছেন যে, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বিএনপি সরকার একলা চলো নীতি গ্রহণ করছে। তিনি বলেন, জনগণের গণরায় উপেক্ষা করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে সংবিধান সংশোধন কমিটির নামে সরকার নাটক ও তালবাহানা করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, "গণভোটের গণরায় না মানলে তারেক রহমানেরও ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই।"
বুধবার রাজধানীর বাড্ডা-লিংক রোড এলাকায় আয়োজিত একটি বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
আলী আহসান জুনায়েদ অভিযোগ করেন, সরকার জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে এবং জনগণের নিরাপত্তার বিষয়ে উদাসীন। তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। গ্যাসের দাম নির্ধারণ নিয়ে গণশুনানির কথা থাকলেও সরকার এখন আর সেটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। তিনি বলেন, "যখন যা ইচ্ছা, দাম বাড়িয়ে জনগণের ওপর উচ্চমূল্যের খড়্গ চাপিয়ে দিচ্ছে।"
তিনি আরও জানান, যে সরকার মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায় না, এনসিপিও সেই সরকারকে সহযোগিতা করবে না। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকারকে সহযোগিতা করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ছিল তাদের। কিন্তু সরকার গণরায় উপেক্ষা করে দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে যাচ্ছে।
এদিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, নিত্যপণ্যের লাগামহীন দাম বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রতিবাদে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ করেন এনসিপির নেতারা।
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ও ঢাকা উত্তরের মেয়র পদপ্রার্থী আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া, রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য ও যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল আমিন এমপি, সালেহ উদ্দিন সিফাত এবং যুগ্ম সদস্যসচিব ফরিদুল হকসহ মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এআরবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামানোর আশা এখন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। কাতার কর্তৃক প্রদত্ত শান্তি প্রস্তাবটি ইরান নাকচ করেছে। তেহরানের বক্তব্য, প্রস্তাবটি ‘গ্রহণযোগ্য নয়’। ইরান এও জানিয়েছে, তারা পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়।
বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের কাছে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে রোববার কাতার ইরানের আলোচকদের কাছে একটি খসড়া চুক্তি উপস্থাপন করেছিল। আট মাস ধরে চলমান সংঘাত বন্ধ করার উদ্দেশ্যেই এই প্রস্তাবটি দেওয়া হয়েছিল।
তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল হামলা পুনরায় শুরু করতে পারে বলে আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
পরমাণু ইস্যুতে অনড় তেহরান
যুদ্ধ বন্ধের শর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার দাবি জানিয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করতে হলে ইরানকে পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কমাতে হবে।
এদিকে, ইরান বারবার উল্লেখ করেছে যে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সামরিক উদ্দেশ্যে নয়। দেশটির দাবি, এই কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে দেশের বেসামরিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য।
এই বিরোধের কারণে শান্তি আলোচনা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। পরমাণু কর্মসূচিতে ছাড় না দিলে সমঝোতার পথ কতটা এগোবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ইরানকে নিয়ে কঠোর অবস্থানে নেতানিয়াহু
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে আসছেন। তিনি দেশটির সংসদ নির্বাচনে আবারও জয়ের চেষ্টা করছেন।
এখন পর্যন্ত ৭৭ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। এতে নেতানিয়াহুর জোট ইসরাইলের সংসদে সবচেয়ে বড় অবস্থানে রয়েছে।
বুধবার নতুন সরকার গঠনের আলোচনা শুরুর সময় নেতানিয়াহু জানান, ইরানের হুমকি দূর করতে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করবেন।
তিনি ইরানকে ‘অস্তিত্বের জন্য হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটও ইরানের ওপর হামলার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোরও সমর্থন করেছেন।
যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে বিশ্ববাজারের ঝুঁকি
ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। জ্বালানির দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বুধবার সতর্ক করে বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে ইসরাইলের উসকানিতে নতুন হামলা হলে বিশ্ববাজারে ‘ভয়াবহ প্রভাব’ পড়তে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ‘পার্সি উপসাগরীয় অঞ্চলে ইসরাইলের উসকানিতে কোনো সামরিক দুঃসাহসিক পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে যে ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে, তা গ্যাস সরবরাহকারী ও ভোক্তা—উভয়ের জন্যই বড় উদ্বেগের বিষয়।’
এই সতর্কবার্তা জ্বালানি বাজার নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে আবার সংঘাত শুরু হলে তেল ও গ্যাসের সরবরাহে চাপ পড়তে পারে। এর ফলে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে প্রভাব পড়তে পারে।
ইয়েমেনেও বাড়ছে সংঘাত
উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে ইয়েমেনের চলমান সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট বাহিনী এবং ইরানপন্থী হুথিদের মধ্যে লড়াই চলছে।
বুধবার হুথিরা দক্ষিণ ইয়েমেনের এডেন বিমানবন্দর খালি করার আহ্বান জানায়। এই শহর সৌদি সমর্থিত সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
হুথিদের আনুষ্ঠানিক নাম আনসার আল্লাহ। সংগঠনটির মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনী এডেন বিমানবন্দরে অবস্থানরত সবাইকে অবিলম্বে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। সেখানে একটি সৌদি সামরিক কার্গো বিমান রয়েছে। বিমানটিতে ইয়েমেনের জনগণকে হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র বহন করা হচ্ছে।’
তবে এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, সোমবার থেকে ইয়েমেনে হুথি ও সৌদি সমর্থিত বাহিনীর লড়াইয়ে প্রায় ১০০ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে অন্তত ৬৩ জন হুথি যোদ্ধা। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে যুক্ত বাহিনীর ৩৪ জন সদস্যও নিহত হয়েছেন। অধিকাংশ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বাব আল-মানদেব প্রণালির কাছে।
সামনে কী হতে পারে?
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, ইসরাইলের নতুন হামলার হুমকি এবং ইয়েমেনের সংঘাত—এই সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
কাতারের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ইরান যদি তার অবস্থান থেকে সরে না আসে, তবে সমঝোতা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
অন্যদিকে, নতুন সামরিক হামলা শুরু হলে তার প্রভাব শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা নেই। জ্বালানির দাম, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিশ্ব অর্থনীতিও নতুন চাপের মুখে পড়তে পারে।
সূত্র- মিডল ইস্ট আই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ৯ জন ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে সরকারি দলের পক্ষে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, যা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যাহার হওয়া কর্মকর্তাদের তালিকা থেকে জানা যায়, তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং একজন ব্যাংক কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এদের মধ্যে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সবুজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মাসুদ রানা, ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন, ঠাকুরগাঁও রোড বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা জুলফিকার আলী, গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিন, এবং সালন্দর পাঁচপীর ডাঙ্গা স্বতন্ত্র এবতেদ্বায়ী মাদরাসার ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সাদেকুল ইসলাম রয়েছেন।
এছাড়া, সিংগিয়া মুন্সিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, দৌলতপুর সলেমান খান বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ওবাইদুর রহমান, বালাপাড়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা শাহাদুল ইসলাম এবং বড়গ্রাম আলিম মাদরাসার সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারও প্রত্যাহার করা হয়েছেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন অফিসার কামরুল ইসলাম প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, "বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাদের প্রত্যাহার করা হয়েছে।" নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ওই জায়গাগুলোতে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার ও নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগের বিষয়টি নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানী ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে তিনটি আলাদা অভিযানের মাধ্যমে মাদক ও মানব পাচার চক্রের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১)। উত্তরা পশ্চিম ও ভাটারা এলাকা থেকে বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে আটকে থাকা ১২ জন নারীকে উদ্ধার করা হয়েছে। গুলশান-২ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৪৩০ লিটার বিদেশি মদ ও ১৫৫ দশমিক ৭৬ লিটার বিয়ারসহ একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে, যাত্রাবাড়ীতে অভিযান পরিচালনা করে ৫ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নেয়ামুল হালিম খান এসব তথ্য প্রকাশ করেন।
নারী পাচার চক্রের ফাঁদে ১২ নারী
গত ২৬ অক্টোবর চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানায় এক নিখোঁজ নারীকে উদ্ধারের আবেদন পাওয়ার পর, ওই দিন বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার জমজম টাওয়ারের কাছ থেকে দুই নারীকে উদ্ধার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাত ৮টা থেকে পরদিন রাত ১টা পর্যন্ত ভাটারা থানার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরো ১০ জন নারীকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া নারীদের সবাইকে তাদের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, চীনে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ওই নারীদের উচ্চ বেতনে চাকরি ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। বৈধ ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র ও পাসপোর্ট ছাড়াই তাদের একটি বাসায় জোর করে আটকে রাখা হয়েছিল। এ সময় তাদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছিল বলেও জানা গেছে।
গুলশান-২-এ বিপুল মদ-বিয়ার জব্দ
গত ২৭ অক্টোবর রাত দেড়টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, বিমানবন্দর এলাকা থেকে একটি মিনি কাভার্ডভ্যানে করে অবৈধ মাদকদ্রব্য গুলশান-২ এলাকার ১১৮ নম্বর সড়কের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে রাত পৌনে ২টার দিকে গুলশান-২ এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করে যানবাহনে তল্লাশি শুরু করা হয়। চেকপোস্ট অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় মিনি কাভার্ডভ্যানটি আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ৪৩০ লিটার বিদেশি মদ ও ১৫৫ দশমিক ৭৬ লিটার বিয়ার জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
যাত্রাবাড়ীতে ৫ লাখ ১০ হাজার ইয়াবা জব্দ
বুধবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, কক্সবাজার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান রয়েলস ট্রাভেলসের বাসে করে ঢাকার গাবতলীর দিকে আনা হচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে ভোর সাড়ে ৫টা থেকে যাত্রাবাড়ী থানার মাতুয়াইল ইউটার্ন এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি শুরু করা হয়। ভোর ৬টা ২০ মিনিটের দিকে চেকপোস্ট অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় বাসটি আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে ৫ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ এবং দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
এ ঘটনায় মোট ছয়জনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন এসআরবি-১-এর অধিনায়ক।
এআরবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আগুন নেভানোর জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। পানি ও বালু ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়েছে। ফলে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে ভূগর্ভ থেকে বেরিয়ে আসা গ্যাসের আগুন ৪২ ঘণ্টা পেরিয়ে এখনও জ্বলছে।
আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়া এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে উখিয়া উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলের চারপাশের ২০০ মিটার এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে। পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাইকিং করে উৎসুক মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভূগর্ভে জমে থাকা গ্যাসের মজুদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন অন্তত আরও সাত দিন জ্বলতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সরাসরি আগুন নেভানোর পরিবর্তে গ্যাসের চাপ ও প্রবাহ কমানোর কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) এস এম নাফিফুন আরহাম এসব তথ্য জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, ভূগর্ভের ওপরের স্তরে জমা থাকা পকেট গ্যাস নিঃশেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন জ্বলতে থাকবে। গ্যাসের চাপ অত্যন্ত বেশি থাকায় সরাসরি আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে আশপাশে আগুন ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই গ্যাসের চাপ কমিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোরে ইনানী এলাকার মোস্তফা সিকদারের বাড়ির আঙিনায় গভীর নলকূপ খননের সময় এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে খননকাজ চলাকালীন প্রচণ্ড বেগে গ্যাস বেরিয়ে আসতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে সেই গ্যাসে আগুন ধরে যায়। এরপর থেকেই আগুন জ্বলছে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট, সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। তবে তাদের প্রচেষ্টা সফল হয়নি। পরবর্তীতে পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে যায়।
এদিকে নিরাপত্তার স্বার্থে ইনানী থেকে মনখালী পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ওই এলাকার কয়েক হাজার গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়েছেন।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান জানান, ওই এলাকায় প্রাকৃতিক গ্যাসের উপস্থিতি থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, বাপেক্সসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ