রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৩১ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জেলার সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই-হবিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ রোববার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নান এই নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।
এ উপলক্ষে নাসিরনগর কলেজ মাঠে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, প্রকল্প পরিচালক মুফাজ্জল হায়দার, প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ এবং স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯৬ কোটি টাকা।
প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ ২০২৮ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে সরাইল ও নাসিরনগর উপজেলার পাশাপাশি হবিগঞ্জ জেলা এবং আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষের রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। এছাড়া এলাকার ব্যবসা বাণিজ্য প্রসার ঘটবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশি এক দিকে, অন্য দিকে পাহাড়ের সবুজ দেয়াল। পাহাড়ের বুক চিরে ঝরনার স্বচ্ছ পানি নেমে আসছে, কোথাও শান্ত লেকের পাদদেশে, আবার কোথাও বিস্তীর্ণ বালিয়াড়িতে ঢেউয়ের ছন্দ। শতবর্ষী স্থাপনা, ধর্মীয় ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি এবং চা বাগানের সবুজ গালিচা— প্রকৃতির রঙ বদলে দেয় শহরের ব্যস্ততা পেরোলেই।
এটি যেন একই ভূখণ্ডে প্রকৃতির নানারূপের এক বিশাল প্রদর্শনী। চট্টগ্রামের এই প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, এই বৈচিত্র্য পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা তৈরি করেছে। পুরো চট্টগ্রামের লুকিয়ে থাকা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে খুলতে পারে নতুন সমৃদ্ধির দুয়ার, যা দেশের অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
আজ ২৭ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব পর্যটন দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য— ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’। প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী নানা আনুষ্ঠানিকতায় দিবসটি উদযাপিত হয়। এবারের মূল বার্তা হলো ‘প্রযুক্তির ব্যবহার’ এবং পর্যটন খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল রূপান্তরের সম্ভাবনা কাজে লাগানো। দিবসটি উপলক্ষ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে আজ থেকে সপ্তাহব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন দিবসটি উদযাপনে আজ র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, বন্দরনগরী হিসেবে চট্টগ্রামের পরিচিতি দেশের অর্থনীতিতে বহু পুরোনো। অর্থনীতির পাশাপাশি পর্যটনের ক্ষেত্রেও এই জেলার সম্ভাবনা বিস্তৃত। সমুদ্র, পাহাড়, ঝরনা, বন, লেক, দ্বীপ, চা-বাগান, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও ধর্মীয় ঐতিহ্য— সবমিলিয়ে এখানে পর্যটনের বৈচিত্র্য দেশের অন্যান্য গন্তব্যের তুলনায় আলাদা মাত্রা তৈরি করেছে। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, ফয়’স লেক, ভাটিয়ারী লেক, বাটালি হিল, বাঁশখালী ইকোপার্ক, মহামায়া লেক, খৈয়াছড়া ঝরনা, বাঁশবাড়িয়া, গুলিয়াখালী ও পারকি সৈকত ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সেগুলোকে ডিজিটাল রূপান্তরের আওতায় এনে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।
ভ্রমণপিপাসুরা বলছেন, চট্টগ্রামের পর্যটনের সৌন্দর্য এটিকে করেছে অনন্য। পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে দাঁড়িয়ে একদিকে সমুদ্রের বিস্তৃত জলরাশি, অন্যদিকে বন্দরনগরীর কর্মচাঞ্চল্য। সূর্যাস্তের সময় আকাশের রং বদলে যায়, সমুদ্রের ঢেউয়ে পড়ে তার প্রতিফলন। কাছেই কর্ণফুলীর মোহনা। জাহাজের চলাচল, নদী ও সাগরের মিলন এবং উন্মুক্ত আকাশ— সবমিলিয়ে পতেঙ্গা শুধু সৈকত নয়, নগরীর সঙ্গে প্রকৃতির সরাসরি সংযোগ। পতেঙ্গার বাইরেও চট্টগ্রামের উপকূলজুড়ে রয়েছে আরো অনেক সম্ভাবনাময় সৈকত। আনোয়ারার পারকি, সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ও গুলিয়াখালী, বাঁশখালী সৈকত, খেজুরতলা— প্রতিটিরই রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য। পর্যটকরা যেদিকেই পা বাড়ান, দৃশ্যপট বদলে যায়, দেখা মেলে নতুন কিছুর। পাহাড়, বন, ঝরনা আর সমুদ্র— সবকিছু যেন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে। পাহাড়ের বুকের ভেতরে লুকিয়ে থাকা হাজারো ঝরনা অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয়দের জন্য একেকটি আলাদা অধ্যায়।
‘চলো চট্টগ্রাম দেখি’ নামক ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সাজ্জাতুল ইসলাম তুহিন বাসস-কে জানান, ‘প্রকৃতি চট্টগ্রামকে আপন হাতে সৌন্দর্য ঢেলে দিয়েছে, এখানকার সৌন্দর্য অফুরান। স্বাভাবিক চিন্তাধারার বাইরেও এখানে পর্যটন সম্ভাবনা রয়েছে। যেমন বাঁশখালী ও রাঙ্গুনিয়ার চা-বাগানগুলো শুধু চা উৎপাদনের ক্ষেত্র নয়; সঠিক ব্যবস্থাপনায় এগুলো হতে পারে কৃষি ও প্রকৃতিনির্ভর পর্যটন গন্তব্য। উদ্যোগ নিলে চা-বাগানের সারি ও গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে পর্যটনের সংযোগ তৈরি করা সম্ভব। অন্যদিকে চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, হাজারিখিল অভয়ারণ্য কিংবা বারৈয়াঢালা অঞ্চলের ট্রেইলগুলো চট্টগ্রামের প্রকৃতিনির্ভর পর্যটনের আরেকটি সম্ভাবনার কথা বলে। এখানে পর্যটনের সঙ্গে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। কারণ, এ ধরনের পর্যটনের গুরুত্ব এখন আন্তর্জাতিকভাবেও নতুন করে সামনে আসছে। জাতিসংঘের পর্যটন সংস্থা টেকসই গ্রামীণ পর্যটনের ক্ষেত্রে প্রকৃতি সংরক্ষণ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ, অবকাঠামো ও সংযোগ, স্থানীয় পণ্য এবং পর্যটনকে স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।’
তিন পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান এবং পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সংযোগ পয়েন্টে অবস্থিত বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্প সম্প্রসারণের অপার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আগ্রাবাদস্থ নৃ-তাত্ত্বিক জাদুঘর, শতবর্ষ পুরোনো ব্রিটিশ নির্মাণশৈলীর অপূর্ব নিদর্শন আগেকার সার্কিট হাউস ঘিরে গড়ে তোলা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবাহী জিয়া স্মৃতি জাদুঘর, নতুন সার্কিট হাউস, কোর্ট হিলে অবস্থিত শতবর্ষী কোর্ট বিল্ডিং ও প্রশাসনিক ভবন, এক সময়কার আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের হেড কোয়ার্টার খ্যাত রেলওয়ে সিআরবি ভবন এবং চারপাশে সবুজের ছায়াঘেরা নান্দনিক পরিবেশের ফৌজদারহাট থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত সুদীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ—এসবের প্রতিটিই দেশি বিদেশি ভ্রমণপিপাসু ও ইতিহাস অন্বেষণকারীদের অন্যতম আকর্ষণ হওয়ার দাবি রাখে।
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব চিটাগং (টোয়াক)-এর সভাপতি এবং গো-ট্রিপ-এর স্বত্বাধিকারী রাশিদুল হাসান ইমন বাসস-কে জানান, ‘দেশের মানুষের মধ্যে বেড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। এক সময় মানুষ শুধু নির্দিষ্ট মৌসুমে বেড়াতে যেত। এখন সারা বছরই সময়-সুযোগে বেড়াতে বেরিয়ে পড়ছেন। সে কারণে পর্যটনের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। চট্টগ্রামে আমাদের সংগঠনের অধীনে ১৮টি অপারেটর রয়েছে, তারা সবাই দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে পর্যটকদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রামের মানুষের মধ্যে একটা নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তারা শহরের কাছাকাছি এলাকায় ডে-লং (দিনব্যাপী) ট্যুর দিচ্ছে, কখনো পরিবার-পরিজন নিয়ে কখনো বন্ধু-বান্ধব মিলে।’
তিনি আরো জানান, তার প্রতিষ্ঠান গো-ট্রিপ গত ৯ বছরে প্রায় ২ হাজার ট্রিপ দিয়েছে অভ্যন্তরীণ পর্যটন স্পটগুলোতে, যার বেশিরভাগই চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে।
পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান বাসস-কে বলেন, ‘চট্টগ্রামে পর্যটনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো একই অঞ্চলে সমুদ্র, পাহাড়, ঝরনা, লেক ও ঐতিহাসিক স্থাপনার মতো বৈচিত্র্যময় গন্তব্য থাকা। কিন্তু কোনো একটি স্পটে গিয়ে আবার ফিরে আসার বদলে পর্যটক যেন একাধিক গন্তব্য ঘুরে দেখতে পারেন, সেই ধরনের পর্যটন সার্কিট গড়ে তোলা দরকার। এজন্য প্রত্যন্ত পর্যটনকেন্দ্রগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা, সড়কের মান, পর্যটকবান্ধব পরিবহন, নির্দেশনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান সরকার দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চায়। চট্টগ্রামের পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে আমরা আশাবাদী, সরকার এর উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেবে।’
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘নগরীর পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে শুধু সৌন্দর্যের ওপর ছেড়ে দিলে হবে না; পর্যটকদের জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতকে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ প্রয়োজন। ইতোমধ্যে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সেই ধরনের অনেক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সেখানে পর্যটকদের বসার স্থান, পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, আলোকায়ন, পার্কিং ও শৌচাগারের মতো মৌলিক সুবিধা প্রায়ই নিশ্চিত করা হয়েছে। একই ধরনের সুবিধা বা ব্যবস্থা সব পর্যটন স্পটে নিশ্চিত করা গেলে চট্টগ্রামের পর্যটন আকর্ষণ আরো বাড়বে। চট্টগ্রামকে একটি নান্দনিক, সবুজ, নিরাপদ ও পর্যটনবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।’
একই প্রসঙ্গে মতামত জানতে চাইলে চট্টগ্রাম-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বাসস-কে বলেন, ‘চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম তার ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে দেশি-বিদেশি পর্যটকের কাছে অতুলনীয়। কিন্তু বিগত ১৭টি বছর ফ্যাসিবাদী সরকার এই চট্টগ্রামের সবকিছুকে অবহেলা করেছে, সে কারণে পর্যটন স্পটগুলো নানা ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির শিকার হয়েছে, প্রকৃত সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যায়নি। এ অবস্থায় বিচ্ছিন্নভাবে কোনো একটি পর্যটনকেন্দ্র উন্নয়ন না করে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই দেশের প্রাকৃতিক সম্ভাবনার সবটুকু কাজে লাগিয়ে দেশকে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিতে চান। কারণ, এই দেশের প্রকৃতি এবং নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু আমাদের মূল সম্পদ। বর্তমান সরকার দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে চিহ্নিত করে পরিবেশবান্ধব ও টেকসইভাবে উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকেও এই বৃহত্তর পরিকল্পনার আওতায় কাজে লাগানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীতে এক মুদি দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে দোকানে পেট্রলবোমা ছুঁড়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে নগরীর রাজপাড়া থানার বাকির মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত আবদুল বারীউল ইসলাম (৪০) পেশায় একজন মুদি দোকানি। তিনি ওই এলাকার বদরুল সরকারের ছেলে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় চণ্ডীপুর এলাকার কয়েকজন যুবক বাকির মোড়ে এসে মাদক সেবন করে। এরপর তারা টাকা ভাঙানোর জন্য আবদুল বারীর দোকানে যায়। বারী টাকা ভাঙিয়ে দিতে অপারগতা জানালে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতিও ঘটে।
এর জের ধরে রাত পৌনে ২টার দিকে দেশীয় অস্ত্র ও পেট্রলবোমা নিয়ে ৫০ থেকে ৫৫ জনের একটি দল আবদুল বারীর দোকানে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রথমে দোকানের শাটারের তালা ভেঙে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
দোকানে আগুন দেখে আবদুল বারী ও তার পরিবারের সদস্যরা বাইরে বেরিয়ে আসেন। এ সময় হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বারীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় রোববার দুপুর পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, নিহতের মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা নদীতে ডুবে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঘটেছে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের দিয়াড় ধাইনগর ঘাটে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিক্ষার্থীরা হলেন—গোবরাতলা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মহিপুর ভাটোপাড়া গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে সামিউল ইসলাম সান (১৮) এবং একই গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে সাব্বির রহমান (১৮)। সামিউল নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন, আর সাব্বির মহিপুর কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে একই গ্রামের চার বন্ধু দিয়াড় ধাইনগর ঘাটে মহানন্দা নদীতে গোসল করতে যান। এ সময় দুই বন্ধু সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও সামিউল ও সাব্বির সাঁতার না জানার কারণে পানিতে ডুবে যান। ঘটনাটি জানতে পেরে স্থানীয়রা দ্রুত নদীতে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। পরে তাঁদের মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
গোবরাতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম টিপু ও ইউপি সদস্য ইউসুফ আলী জানান, গ্রামের মাঠে ফুটবল খেলার পর চার বন্ধু একসঙ্গে নদীতে গোসল করতে নেমেছিলেন। দুজন তীরে উঠতে পারলেও অপর দুজন ডুবে যান। তাঁদের উদ্ধারে থাকা বন্ধুরা চেষ্টা করেও সফল হননি। পরে স্থানীয়রা এসে তাঁদের উদ্ধার করেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নৌ পুলিশ এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে।
নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক জীবন চন্দ্র জানিয়েছেন, পুলিশ দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ায় জজ পদায়ন সংক্রান্ত সরকারি আদেশ অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে এক পাবলিক প্রসিকিউটরের (পিপি) বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় আদালতপাড়ায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারি প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণে বাধা সৃষ্টি এবং আদালত বর্জনের কর্মসূচি নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে বিরোধ, তর্ক-বিতর্ক ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে আদালতের স্বাভাবিক বিচারিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বিচারপ্রার্থীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর জারি হওয়া সরকারি আদেশ (জিও) অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্ত জেলা জজের দায়িত্ব গ্রহণে বাধা সৃষ্টি এবং সেই আদেশের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামার ঘটনায় বগুড়া বারের পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট আব্দুল বাছেদসহ তাদের অনুসারী আইনজীবীদের বিরুদ্ধে সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্য ও আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলেছেন অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাব।
অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাবের দাবি, সরকারি প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করে আদালতের কার্যক্রম ব্যাহত করা কোনভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি বলেন, "এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।"
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি জানান, বগুড়ায় তিন মাসেরও বেশি সময় জেলা ও দায়রা জজের পদ শূন্য ছিল। ভারপ্রাপ্ত জেলা জজের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হলেও এতে বিচারপ্রার্থীদের প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। দীর্ঘদিনের এ সংকট নিরসনে সরকার সরকারি আদেশের মাধ্যমে একজন জেলা জজ নিয়োগ দেয়। কিন্তু নিয়োগের পর নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে।
আব্দুল ওহাবের অভিযোগ, জেলা জজ নিয়োগের সরকারি আদেশ জারির পর বগুড়া বার সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও দুজন সদস্য সংবাদ সম্মেলন করে আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, "বার সমিতির নির্বাহী কমিটি কিংবা সাধারণ সভায় যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে এ ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়ে থাকলে তা সমিতির সাংগঠনিক বিধিবিধানের পরিপন্থী।" একই সঙ্গে সরকারি আদেশ বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করা হলে তা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অমান্যের শামিল।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, পিপিসহ তাদের অনুসারী আইনজীবীরা নতুন জেলা জজের দায়িত্ব গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করছেন। যদিও সংশ্লিষ্ট পক্ষ এ ধরনের বাধা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করছে বলে তিনি শুনেছেন। সরকারি আদেশের পক্ষে অবস্থান নেওয়া আইনজীবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আব্দুল ওহাব বলেন, "সরকারি প্রজ্ঞাপন বা আদেশের বিরুদ্ধে আপত্তি থাকলে তা আইনসম্মত ও প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতিতে উত্থাপন করা যেতে পারে। কিন্তু সেই অজুহাতে সরকারি আদেশের বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি কিংবা আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করা গ্রহণযোগ্য নয়।" তার মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিচারব্যবস্থার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি বিচারপ্রার্থীদের অধিকারও ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, আইনজীবীরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার কাজে নিয়োজিত। তাই তাদের কাছ থেকেই আইন ও বিধিবিধানের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাশীল আচরণ প্রত্যাশিত। বিশেষ করে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত। অথচ বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের কর্মকাণ্ডে দায়িত্বশীলতার ঘাটতি দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আদালতের অচলাবস্থা নিরসনে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে আব্দুল ওহাব বলেন, "বগুড়ার আদালতের ঐতিহ্য ও সুনাম রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।" সরকারি আদেশ বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি এবং আদালতের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার অভিযোগের বিষয়টি গণমাধ্যমে তুলে ধরার জন্যও সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে বগুড়া বার সমিতির উন্নয়নে সরকারি সহযোগিতা কাজে লাগিয়ে একটি সমৃদ্ধ, আধুনিক ও ঐতিহ্যবাহী বার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইনজীবীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তবে সরকারি আদেশ অমান্য, নতুন জেলা জজের দায়িত্ব গ্রহণে বাধা সৃষ্টি এবং আদালত বর্জনের কর্মসূচির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বগুড়া আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট আব্দুল বাছেদ। তিনি বলেন, "আদালত সচল রাখতে আমি দু-পক্ষের মধ্যে সমন্বয় করার চেষ্টা করছি। আদালত বর্জনের পুরো সিদ্ধান্ত নিয়ে বগুড়া বার সমিতি।"
বগুড়া বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জানান, পদায়নকৃত জেলা ও দায়রা জজকে ফ্যাসিবাদের দোসর বলে আইনজীবীরা আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, "৫ আগষ্ট পরবর্তী আন্দোলনের মুখে তিনি বগুড়া থেকে যেতে বাধ্য হয়েছেন। বগুড়া থেকে তাকে না সরানো পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। এটাই বার সমিতির সিদ্ধান্ত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ