০৫:৩০ পি.এম
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সংঘাত একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক সৈয়দ হোসেন মুসোভিয়ান। তিনি বলেন, সামরিক পদ্ধতির মাধ্যমে কোনো পক্ষেরই চূড়ান্ত জয় সম্ভব নয় বরং কেবল টেকসই কূটনীতির মাধ্যমেই এই সংঘাত থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। গত জুনে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকটি ইতিবাচক আলোচনা শুরু করার এক সম্ভাবনা তৈরি করলেও, সেই আলোচনা বাস্তবে রূপ নেওয়ার আগেই আবার নতুনভাবে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাত সমস্ত কূটনৈতিক সম্ভাবনাকে বিনষ্ট করে দিয়েছে।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালী এবং ওমান উপসাগরে সামরিক পদক্ষেপ জোরদার করেছে। ইরানি বন্দরের ওপর পুনরায় অবরোধ আরোপ এবং খার্গ দ্বীপ দখলের সম্ভাবনা মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন মাত্রার অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর ফলে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক লাফে ব্যারেল প্রতি ৮৮ ডলারে পৌঁছে গেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও সামরিক শক্তি দিয়ে নিজেদের প্রতিরোধ গড়তে উদ্যোগী হচ্ছে। তারা নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষার জন্য ১০ লক্ষ যোদ্ধা প্রস্তুত করছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও অবকাঠামোর দিকে নজর বসিয়েছে। তার সঙ্গে, তারা হুতিদের মাধ্যমে লোহিত সাগরে প্রভাব বিস্তার করে যুদ্ধের অর্থনৈতিক ক্ষতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টাও চালাচ্ছে।
যাহোক, এই ধ্বংসাত্মক সংঘাত এড়িয়ে সমাধান খোঁজার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন মুসোভিয়ান। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক মন্তব্যের ভিত্তিতে তিনি উল্লেখ করেন যে, চিরন্তন কোনো যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের অনুকূল নয়। ভ্যান্স এর মতে, বহিরাগত রাজনৈতিক চাপ এবং আলোচনা ভেস্তে দেওয়ার অপচেষ্টা এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শুধু নিজেদের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
এই সংকট সমাধানের জন্য মূলত দুটি বিষয়ে সমঝোতা জরুরি; প্রথমত, ইরান ও ওমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা এবং দ্বিতীয়ত, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) আওতায় একটি স্থায়ী দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করা, যা মার্কিন কংগ্রেস ও ইরানি পার্লামেন্ট উভয়ের থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হবে।
চূড়ান্ত বিশ্লেষণে মুসোভিয়ান মনে করেন, কোনো যুদ্ধেই ওয়াশিংটন বা তেহরান একে অপরকে পুরোপুরি নতি স্বীকার করাতে পারবে না। দুই দেশের সাধারণ মানুষের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে সমাধান খোঁজার ব্যবস্থা নিতে হবে, যেখানে জরীপ অনুযায়ী অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক এই যুদ্ধের বিপক্ষে মত প্রকাশ করেছেন এবং ইরানি জনগণও কোন প্রকার আত্মসমর্পণ ও বিচ্ছিন্নতা ছাড়াই নিরাপত্তা চাইছে। তাই চিরস্থায়ী সংঘাতের ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি এড়িয়ে সরাসরি ও টেকসই আলোচনার টেবিলে ফেরাই এখন উভয় রাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত পথ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন