ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের উপায় কি?


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের উপায় কি?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সংঘাত একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক সৈয়দ হোসেন মুসোভিয়ান। তিনি বলেন, সামরিক পদ্ধতির মাধ্যমে কোনো পক্ষেরই চূড়ান্ত জয় সম্ভব নয় বরং কেবল টেকসই কূটনীতির মাধ্যমেই এই সংঘাত থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। গত জুনে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকটি ইতিবাচক আলোচনা শুরু করার এক সম্ভাবনা তৈরি করলেও, সেই আলোচনা বাস্তবে রূপ নেওয়ার আগেই আবার নতুনভাবে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাত সমস্ত কূটনৈতিক সম্ভাবনাকে বিনষ্ট করে দিয়েছে।

কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালী এবং ওমান উপসাগরে সামরিক পদক্ষেপ জোরদার করেছে। ইরানি বন্দরের ওপর পুনরায় অবরোধ আরোপ এবং খার্গ দ্বীপ দখলের সম্ভাবনা মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন মাত্রার অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর ফলে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক লাফে ব্যারেল প্রতি ৮৮ ডলারে পৌঁছে গেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও সামরিক শক্তি দিয়ে নিজেদের প্রতিরোধ গড়তে উদ্যোগী হচ্ছে। তারা নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষার জন্য ১০ লক্ষ যোদ্ধা প্রস্তুত করছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও অবকাঠামোর দিকে নজর বসিয়েছে। তার সঙ্গে, তারা হুতিদের মাধ্যমে লোহিত সাগরে প্রভাব বিস্তার করে যুদ্ধের অর্থনৈতিক ক্ষতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টাও চালাচ্ছে।

যাহোক, এই ধ্বংসাত্মক সংঘাত এড়িয়ে সমাধান খোঁজার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন মুসোভিয়ান। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক মন্তব্যের ভিত্তিতে তিনি উল্লেখ করেন যে, চিরন্তন কোনো যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের অনুকূল নয়। ভ্যান্স এর মতে, বহিরাগত রাজনৈতিক চাপ এবং আলোচনা ভেস্তে দেওয়ার অপচেষ্টা এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শুধু নিজেদের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

এই সংকট সমাধানের জন্য মূলত দুটি বিষয়ে সমঝোতা জরুরি; প্রথমত, ইরান ও ওমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা এবং দ্বিতীয়ত, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) আওতায় একটি স্থায়ী দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করা, যা মার্কিন কংগ্রেস ও ইরানি পার্লামেন্ট উভয়ের থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হবে।

চূড়ান্ত বিশ্লেষণে মুসোভিয়ান মনে করেন, কোনো যুদ্ধেই ওয়াশিংটন বা তেহরান একে অপরকে পুরোপুরি নতি স্বীকার করাতে পারবে না। দুই দেশের সাধারণ মানুষের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে সমাধান খোঁজার ব্যবস্থা নিতে হবে, যেখানে জরীপ অনুযায়ী অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক এই যুদ্ধের বিপক্ষে মত প্রকাশ করেছেন এবং ইরানি জনগণও কোন প্রকার আত্মসমর্পণ ও বিচ্ছিন্নতা ছাড়াই নিরাপত্তা চাইছে। তাই চিরস্থায়ী সংঘাতের ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি এড়িয়ে সরাসরি ও টেকসই আলোচনার টেবিলে ফেরাই এখন উভয় রাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত পথ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শোককে শক্তিতে পরিণত করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে: ডা. জুবাইদা রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৩১ পি.এম


শোককে শক্তিতে পরিণত করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে: ডা. জুবাইদা রহমান

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে নিহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।

তিনি বলেছেন, ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা পুরো জাতিকে শোকাহত করেছে। তবে শোককে শক্তিতে পরিণত করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আহতদের সাহস ও দৃঢ়তা থেকে নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা নিতে হবে।

সোমবার (২১ জুলাই) ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি আয়োজিত মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি শ্রদ্ধাঞ্জলি ও স্মরণসভা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, প্রথমেই আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে প্রাণ হারানো আমাদের ভাই-বোন ও ছোট্ট বন্ধুদের। মহান আল্লাহ তায়ালা তাদের সবাইকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।

এ সময় তিনি নিহত শিক্ষার্থীদের নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন, যাদের মধ্যে আরিয়ান, মরিয়ম, ওয়াকিয়া, রাইসা, মনিব, বোরহানউদ্দিন, বাপ্পি, শারিয়া আক্তার, নুসরাত জাহান আনিকা, সাইমা আক্তার, হুমায়ুন নূর, ফাতেমা, মোহাম্মদ জুনায়েদ হাসান, সাদ শাফিয়াউদ্দিন, তাসনিম আফরোজ, মাহিদ হাসান, আব্দুল্লাহ শামিম, তাহিয়া আশরাফ, নাজিয়া, মাহতাব রহমান, শায়ান ইউসুফ, তারিফ ফারহান, মোহাম্মদ আফনান ফয়াজ, শামিউল করিম, আব্দুল মুসাব্বির মাহমুদ, চান্দ মারমা, সাহিল ফারাবি, আরিয়ান মাহিয়া, তাসলিম, তাসনিয়া হক ও তানভীর আহমেদের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তিনি আরও স্মরণ করেন রজনী ইসলাম, লামিয়া আক্তার, আফসানা প্রিয়া, কো-অর্ডিনেটর মেহরিন চৌধুরী, সিনিয়র শিক্ষক মাসুকা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক মাহফুজা খাতুন এবং কর্মচারী মাসুমা বেগমকে।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, আজ এমন একটি দিন, যেদিন পুরো দেশ ও জাতি গভীরভাবে শোকাহত। এই আকস্মিক ও ভয়াবহ দুর্ঘটনা আমাদের সবাইকে হতবাক করে দিয়েছে। যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রতি সমগ্র জাতি সমবেদনা জানাচ্ছে। আমি ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও আন্তরিক সমবেদনা জানাই।

আহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পরও আপনারা যেভাবে সাহস ও সংকল্প নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন, তা জাতি কোনোদিন ভুলবে না। শোকের মধ্যেও আপনারা যে দৃঢ়তা দেখিয়েছেন, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।

তিনি বলেন, এই অভিজ্ঞতা আপনাদের জীবনের যেকোনো সংকট মোকাবিলায় সাহস জোগাবে। অন্যের দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর শক্তি দেবে। আপনাদের মানবিকতা, সহমর্মিতা ও আত্মবিশ্বাস জাতির কাছে অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির সময় উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রমে অংশ নেওয়া বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূয়সী প্রশংসা করেন ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি ফায়ার সার্ভিস, চিকিৎসক, নার্স, স্বেচ্ছাসেবক, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), রহমান ফাউন্ডেশন এবং জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান।

একই সাথে যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও চিকিৎসক বিশেষজ্ঞদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, সংকটের সেই মুহূর্তে বহু মানুষ নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্যের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মানবতার এমন দৃষ্টান্ত ইতিহাসে বিরল। সেদিন আমরা দেখেছি মানুষের জন্য মানুষ এখনও নিঃস্বার্থভাবে এগিয়ে আসে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা একা নন। যে সহমর্মিতা ও সহযোগিতার হাত আপনারা ওই কঠিন সময়ে অনুভব করেছেন, সেই হাত সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে। দেশের মানুষ আপনাদের দুঃখ ভাগ করে নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে।

বক্তব্য শেষে আহত এবং নিহত পরিবারের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, ২০২৫ সালের ২১ জুলাই মাইলস্টোন স্কুলে ঘটে যাওয়া সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি আমাদের ইতিহাসের অন্যতম একটি কালো অধ্যায়। সেদিন নিজের জীবনের পরোয়া না করে শিক্ষিকা মাহেরিন চৌধুরী যেভাবে আগুনে পোড়া বাচ্চাদের উদ্ধার করতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন, আমি তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

তিনি আরও বলেন, সেই সংকটে সিঙ্গাপুর, ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশের চিকিৎসকেরা যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তা আমাদের নতুন করে মানবিকতার শিক্ষা দেয়। আমাদের স্থানীয় চিকিৎসকেরাও অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি আমাদের বার্ন ইউনিটের স্কিন ব্যাংক ও চিকিৎসকদের মানোন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেছে।

নিহত ও আহতদের পরিবারের আকুতির বিষয়ে আশ্বস্ত করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সম্মানিত ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান এখানে উপস্থিত আছেন। তিনি অবশ্যই আপনাদের বার্তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে পৌঁছে দেবেন। এছাড়া, স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি নিজেও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিয়ে আপনাদের পুনর্বাসন ও চিকিৎসার সব বার্তা সশরীরে পৌঁছে দেব।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন বলেন, দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। একটি উন্নয়নশীল দেশের সরকারের পক্ষে এই বিপুল ব্যয় একাকী বহন করা কঠিন। তাই এর স্থায়ী সমাধানের জন্য আমাদের বার্ন প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। উন্নত দেশগুলো সচেতনতার মাধ্যমে দগ্ধ রোগীর সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে এনেছে।

নিহত মাইলস্টোনের কোর্ডিনেটর মাহেরিন চৌধুরীর স্বামী বলেন, মাইলস্টোনের ট্র্যাজেডির দায় কার আমার মনে হয় যারা ওইখানে কোমলমতি শিশুরা শিক্ষা নিতে গিয়েছিল এবং যেসব শিক্ষার্থী তাদের শেখাতে গিয়েছিল তাদের দায়। একটি বছর হয়ে গেছে, আমরা জানতেই পারলাম না এই ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনে আসলে দায়ী কার ছিল। মেহেরিন জীবন দিয়ে তার কোমলমতি শিশুদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারেননি। মাহেরিন চৌধুরী ছিলেন তারেক রহমানের চাচাতো বোন। আমরা বিষয়টি সবসময় চাপা রেখে চেয়েছিলাম কিন্তু বিষয়টি মিডিয়ার মাধ্যমে চলে এসেছে। বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের আবেদন থাকবে, একটি বার হলেও জুবাইদা ম্যাডামকে বড় বোন হিসেবে দাবি থাকবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অন্তত নিহত এবং আহত পরিবার যাতে দুই ঘণ্টা আমাদের মনের দুঃখ কষ্ট শেয়ার করতে পারি। গত ইন্টারিম গভর্নমেন্ট আমাদের অনেক আশার ফুল জুরি দিয়েছিল কিন্তু সেটা আবার বাস্তবায়ন হয়নি।

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিটে দগ্ধ হওয়া শিক্ষার্থীর আবিদুর রহমান আবিদ বলেন, আজকে সেই দিন যেদিন আমি টিফিন করার মুহূর্তে একটি বিমান আমাদের স্কুলের উপরে আছড়ে পড়েছিল। সে যে কী ভয়াবহ মুহূর্ত আমি হারিয়েছি আমার পূর্বের চেহারা চেয়ে অনেক খারাপ অবস্থায় আছে অনেকে। আর আমরা যাদেরকে হারিয়েছি, আমরা সেই সুখ কীভাবে সহ্য করবো।

ডা. জুবাইদা রহমানকে উদ্দেশ করে আবিদুর রহমান বলেন, আপনি এখানে এসেছেন, আমরা অনেক খুশি হয়েছি। আরো খুশি হতাম যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের সঙ্গে দেখা করতেন। আমাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন। ডাক্তারদের চেষ্টায় ও আল্লাহর রহমতে এখন আমি অনেকটা সুস্থ। কিন্তু আমার বাম হাত এখনো পুরোপুরি ঠিক হয়নি। চিকিৎসক জানিয়েছেন আমার অপারেশনের প্রয়োজন। আশা করি তাদের চিকিৎসায় আমি সুস্থ হয়ে উঠবো। সেদিনের আর ভয়াবহ ছবি মনে করতে চাই না। আমরা তো আমাদের আর পূর্বের জীবন ফিরে পাবো না, তাই আমাদের চিকিৎসা এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবেন, এই আশা রাখি। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন এবং আমরা যাদের হারিয়েছি, তাদের মাগফেরাত কামনা করবেন।

স্মরণসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন– স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এবং ড্যাবের সভাপতি ডা. হারুনুর রশীদ, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং উপস্থাপনায় ছিলেন ডা. শাওন বিন রহমানসহ জাতীয় বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকরা।

অনুষ্ঠানে আহত ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে সহায়তাকারী বেশ কিছু সংগঠন ও ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানের মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে নিহতদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় নিহতদের স্বজন, আহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চিকিৎসক, স্বেচ্ছাসেবক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে শিশু হৃদরোগীদের ফ্রি ক্যাম্প শুরু আগামীকাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৩৩ পি.এম


রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে শিশু হৃদরোগীদের ফ্রি ক্যাম্প শুরু আগামীকাল

রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে শিশু হৃদরোগীদের জন্য আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী একটি ফ্রি ক্যাম্প।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন রাজশাহী’র উদ্যোগে এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহায়তায় এই ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে বুধবার, ২২ থেকে ২৪ জুলাই।

রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন রাজশাহী’র সভাপতি আব্দুল মান্নান এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ক্যাম্পের তথ্য প্রকাশ করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ক্যাম্পটি প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত হাসপাতালের নিজস্ব ক্যাম্পাসে পরিচালিত হবে। এখন পর্যন্ত ২১ জুলাই পর্যন্ত ২৬০০ জনের অধিক শিশু এই কার্যক্রমে অংশ নিতে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছে।

মজার ব্যাপার হলো, এটি সমগ্র উত্তরবঙ্গে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হচ্ছে। চিকিৎসাসেবায় উপস্থিত থাকবেন চীনের খ্যাতনামা (Fuwai Yunnan Cardiovascular Hospital, Chinese Academy of Medical Sciences (FYCH)-এর ৭ সদস্যবিশিষ্ট পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজিস্ট দল এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (NICVD)-এর পরিচালকের সঙ্গে ৮ জন অভিজ্ঞ পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজিস্টকে নিয়ে গঠিত একটি বিশেষজ্ঞ টিম।

এ ক্যাম্পের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, শিশুদের হার্টের জন্মগত ত্রুটি চিহ্নিত করা এবং রোগের তীব্রতা অনুযায়ী তাৎক্ষণিক কার্যকর চিকিৎসাসেবা প্রদান করা। এর ফলে শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ নিশ্চিত করা হবে, পাশাপাশি মারাত্মক শারীরিক জটিলতা, হার্ট ফেইলিউর অথবা অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

যাদের হার্টের জন্মগত ত্রুটি ধরা পড়বে, তাদের জটিলতার মাত্রা অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ টিম তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেবেন। প্রয়োজনে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা অথবা আরও উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

এছাড়া, হাসপাতালটি ১৯৮৪ সালে মরহুম ডা. আব্দুল খালেকের দানকৃত জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৪ সালের ২ নভেম্বর এটি পূর্ণাঙ্গ হৃদরোগ হাসপাতাল হিসেবে যাত্রা শুরু করে। ১০০ শয্যার এই হাসপাতালটি করোনা সংক্রমণের পর থেকে বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা প্রদান করছে।

হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত দেড় বছরে ভর্তিকৃত অসহায় ও অসচ্ছল রোগীদের চিকিৎসাব্যয়ের জন্য ১,৮৭,৯৮,৯০৮ টাকা অনুদান হিসেবে প্রদান করেছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে মেডিসিন, ক্যাথল্যাব যন্ত্রপাতি, ডায়াগনস্টিক ল্যাব রিয়েজেন্ট ও মেডিকেল ইকুইপমেন্ট ক্রয়ের জন্য ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা সরকারি বরাদ্দ পেয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আশা করছে, আগামীতে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন রাজশাহীর জন্য সরকারি বরাদ্দের পরিমাণ ১০ কোটি টাকায় উন্নীত হলে প্রান্তিক জনগণের হৃদরোগী ও তাদের পরিবার বিশাল চিকিৎসা ব্যয়ের বোঝা থেকে রক্ষা পাবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন রাজশাহীর সহসভাপতি হাসেন আলী, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, হার্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান, পরিচালক (মেডিকেল) প্রফেসর ডা. রইছ উদ্দিন এবং নির্বাহী সদস্য ডা. ওয়াসিম হোসেন প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের উজ্জ্বল সাফল্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৩৪ পি.এম


আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের উজ্জ্বল সাফল্য

৯ম আন্তর্জাতিক ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডে (আইইও) উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতায় অর্থনীতি, ফাইন্যান্স ও বিজনেস কেসভিত্তিক ৫৭টি দেশের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছে।

চীনের শেনঝেন শহরে অনুষ্ঠিত এই আসরে বাংলাদেশ দলের সদস্য ফারাবিদ বিন ফয়সাল ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন। তিনি ঢাকার মাস্টারমাইন্ড ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের (ধানমন্ডি শাখা) শিক্ষার্থী।

এদিকে, প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘আইইও ইয়ুথ টক’-এ প্রথম স্থান অর্জন করে গ্লোবাল চ্যাম্পিয়নের স্বীকৃতি পেয়েছেন বাংলাদেশ দলের জাইফ বিন মোরশেদ।

যোগাযোগ দক্ষতা, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি এবং নেতৃত্বের সক্ষমতার ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তার এই অর্জন বাংলাদেশের জন্য নতুন গৌরব বয়ে এনেছে। জাইফ ঢাকার মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের (গুলশান শাখা) শিক্ষার্থী।

এছাড়া, অর্থনীতি শিক্ষায় ধারাবাহিক অবদান, আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ এবং সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডকে (বিডিইও) আন্তর্জাতিক ইকোনমিকস অলিম্পিয়াড কর্তৃপক্ষ ‘স্পেশাল ইন্টারন্যাশনাল রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করেছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি শিক্ষায় বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কারকে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ দলের অন্য সদস্যরা হলেন ফারিহা তাসনিম (মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, গুলশান), প্রান্ত ঘোষ (মাস্টারমাইন্ড ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, ধানমন্ডি) এবং ফাইয়াদ সালেহীন আহমেদ (স্কলাস্টিকা, দ্বাদশ শ্রেণি)।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক এই সাফল্য বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের অর্থনীতি, ফাইন্যান্স ও নেতৃত্বের দক্ষতার পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে দেশের সম্ভাবনাকেও নতুনভাবে তুলে ধরেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির ঘটনায় আহতদের উন্নত চিকিৎসা লাগলে করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৩৬ পি.এম


মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির ঘটনায় আহতদের উন্নত চিকিৎসা লাগলে করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় আহতদের যদি আরও উন্নত চিকিৎসা লাগতে হয়, তবে সেটি সরকারের পক্ষ থেকে করা হবে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে সেই ঘটনার স্মরণসভায় এ সম্পর্কে তিনি তথ্য দেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যে কোনো জাতীয় দুর্যোগে আমাদের চিকিৎসকরা ঝাপিয়ে পড়েন। সেদিনও তারা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন। এই দুর্ঘটনায় আহতদের যদি আরও উন্নত চিকিৎসা লাগছে, তাহলে সেটি সরকার একান্তভাবে করবে।

একই অনুষ্ঠানে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান মন্তব্য করেন, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের প্রেরণা সত্যিই অবিস্মরণীয়। আবার চিকিৎসকদের এই অভিজ্ঞতা পরবর্তী যে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলা করতে সাহস জোগাবে। তারা জাতির কাছে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। শঙ্কার পরিবর্তে ভয়কে জয় করে তারা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

২০২৫ সালের ২১ জুলাই, উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়, যার ফলে ৩৬ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ২৮ জন শিক্ষার্থী ছিলেন। যুদ্ধবিমানটির পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামও নিহত হন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%