০৭:৪৮ পি.এম
দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরো গতিশীল করার উদ্দেশ্যে নবম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একটি বাস্তবায়ন চুক্তি (ইমপ্লিমেন্টেশন অ্যাগ্রিমেন্ট) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্ম সচিব (বৈদেশিক সহায়তা অধিশাখা) ড. মো. মোকছেদ আলী, এনডিসি এবং চীন সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের কাউন্সেলর মি. সং ইয়াং চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত মি. ইয়াও ওয়েন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: দেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: রাষ্ট্রপতি
প্রস্তাবিত নবম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুটি পটুয়াখালী জেলার লেবুখালী-বাউফল-গলাচিপা-আমড়াগাছিয়া জেলা মহাসড়কের (জেড-৮৮০৬) ১৪তম কিলোমিটারে লোহালিয়া নদীর ওপর বগা ফেরিঘাটের ভাটিতে নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্পের দৈর্ঘ্য প্রায় ২ দশমিক ৬২ কিলোমিটার হবে, যার মধ্যে ১ দশমিক ৩৪৮ কিলোমিটার মূল সেতু এবং ১ দশমিক ২৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়ক থাকবে।
সেতুটি নির্মাণ 완료 হলে, বাউফল, গলাচিপা এবং দশমিনা উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের ফেরির উপর নির্ভরতা কমবে। এটি কৃষিপণ্য, মৎস্যসম্পদ এবং পণ্য পরিবহনকে আরো সহজ এবং দ্রুত করবে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, মূল সেতু এবং সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন অনুদান হিসেবে চীন সরকার প্রদান করবে। অপরদিকে ভূমি অধিগ्रहণ, ইউটিলিটি স্থানান্তরসহ অন্যান্য ব্যয় বাংলাদেশ সরকার বহন করবে।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর চীন সরকারের মনোনীত প্রতিষ্ঠান সেতুর বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন এবং চূড়ান্তকরণের কাজ করবে। ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) প্রণয়নের কার্যক্রমও ইতিমধ্যে চলছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হলে নির্মাণকাজ শুরু হবে।
আরও পড়ুন: ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড দারিদ্র্য নিরসন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নবম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। তৈরিকৃত যোগাযোগ নেটওয়ার্ক কৃষি, মৎস্য, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পর্যটন খাতের বিকাশকে ত্বরান্বিত করবে। এর মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন