০৮:১৯ পি.এম
ঈশ্বরগঞ্জ আবাসিক বিদ্যুৎ প্রকৌশলীর দপ্তর ফাঁকা অবস্থায় রয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্ধারিত সময়ে অফিসে আসেন না। আজ রবিবার সকাল ৯ টা ৫৬ মিনিটে তোলা ছবি দেখায়। কালের কণ্ঠ।
নির্ধারিত সময়ে অফিসে আসা না হওয়া নিয়মে পরিণত হয়েছে এই দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। সরকারি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত থাকার কথা, তবে সকাল ১০টা পার হয়ে গেলেও সিংহভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারীর দেখা মেলেনি।
আরও পড়ুন: যুগে যুগে এমপি-মন্ত্রী আসবেন, একজন নজরুলের জন্ম হবে না: জহির উদ্দিন স্বপন
আজ রবিবার (১২ জুলাই) সকালে সরেজমিনে ঈশ্বরগঞ্জ পিডিবি অফিসে গিয়ে এই চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অফিসের মোট ১২ জন কর্মকর্তার মাঝে উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম, নিম্নমান হিসাব সহকারী মুক্তারুজ্জামান ও লাইনম্যান এ বি এম কাইয়ুমকে ছাড়া আর কাউকে অফিসে পাওয়া যায়নি। সকাল ৯টা ৫৬ মিনিটে আবাসিক বিদ্যুৎ প্রকৌশলী অফিসে না আসায় কর্মচারীদের অনুপস্থিতির ব্যাপারে উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিমকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের অফিসে থাকার কথা। মনে হয় তারা নিচতলার অফিস কক্ষে আছেন।'
তবে নিচতলায় কর্মচারীদের অফিস রুমে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে লাইনম্যান এ বি এম কাইয়ুম ছাড়া আর কেউ উপস্থিত নেই।
পরবর্তীতে তাদের অবস্থান সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার জন্য লাইনম্যান কাইয়ুমকে বলা হলে তিনি অন্য কর্মচারীদের মোবাইল ফোনে কল দেন। ফোনে ওয়েল্ডার এ হেদায়েত উল্লাহ জানান, সকাল ৯টা ৩৬ মিনিটে তিনি সোহাগী বাজারে আছেন। সাহায্যকারী সাইফুল ইসলাম সকাল ৯টা ৪৬ মিনিটে জানান, তিনি ঈশ্বরগঞ্জ বাজার থেকে অফিসের উদ্দেশে রওনা করছেন।
এরপর সাহায্যকারী ঝর্ণা আক্তারকে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ফোন দেওয়া হলে তিনি জানান, তিনি বাসায় আছেন। অফিসে না আসার ব্যাপারে ঝর্ণা আক্তার দাবি করেন, তিনি মুক্তারুজ্জামানের কাছে বলে ছুটিতে আছেন। তবে ঝর্ণা আক্তারের ছুটির ব্যাপারে উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম ও নিম্নমান হিসাব সহকারী মুক্তারুজ্জামানকে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা জানান, ছুটির বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। বাকি অনুপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬ ময়মনসিংহে শুরু
এদিকে সরকারি সেবা খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অফিসে এভাবে চরম গাফিলতি ও চোর-পুলিশ খেলার ঘটনায় স্থানীয় গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
দ্রুত এই অব্যবস্থাপনা দূর করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে ভুক্তভোগীরা আওয়াজ তুলেছেন।
সঠিক সময়ে অফিসে উপস্থিত না থাকার বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহ আবাসিক প্রকৌশলী হামজা ইমামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘এক্সচেঞ্জ অফিসে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অফিসে আসতে ১১টা বেজে যায়।’
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় দেয়ালে ‘জয় বাংলা’সহ বিভিন্ন স্লোগান লিখলেন নারী শিক্ষার্থীরা, ভিডিও ভাইরাল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন