০৩:৪২ পি.এম
চট্টগ্রাম অঞ্চলের অনেক এলাকায় টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের তাণ্ডবের পরে রোদ ওঠার খবর পাওয়া গেছে। রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি এবং হাটহাজারীসহ বেশির ভাগ নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে বাঁশখালী উপজেলায় দৃষ্টান্ত ভিন্ন দেখা গেছে। সেখানে যদিও পাহাড়ি ঢলের পানি নামতে শুরু করেছে, উপকূলবর্তী খানখানাবাদ, বাহারছড়া, কাথারিয়া, গণ্ডামারা, শেখেরখীল, ছনুয়া এবং সরলসহ আটটি ইউনিয়নে উল্টো পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই কারণে ওই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার ২১২টি গ্রামের মধ্যে অন্তত ১৫০টি গ্রাম এখনো পানির নিচে তলিয়ে আছে। প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বর্তমানে পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। এক লাখেরও বেশি ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কথা অনুযায়ী, গত চার দিন ধরে অধিকাংশ ঘরে রান্নার কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকেই শুকনো খাবার খেয়ে কোনোমতে বেঁচে আছেন। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, অনেক পরিবার নারী ও শিশুদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে গেলেও ঘরের মালামাল পাহারা দিতে পুরুষ সদস্যরা বুক সমান পানিতে অবস্থান করছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, স্লুইসগেট দিয়ে পানি নামানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, কিন্তু অতিরিক্ত পানির চাপে পুরো এলাকা এখনও প্লাবিত। সরকারিভাবে চাল ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ তৎপরতা আরও বৃদ্ধি করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: কাউখালীতে ইউএনওর আকস্মিক শ্রেণিকক্ষ পরিদর্শন, শিক্ষার্থীদের পাঠদান করালেন রেহেনা আক্তার
এদিকে চট্টগ্রামের যেসব এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে, সেখানে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন ভেসে উঠছে। বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি, ভেঙে যাওয়া সড়ক ও সেতু এবং মাছের খামারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে এসেছে।
পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও সড়ক যোগাযোগ এখনও স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। খাগড়াছড়ির চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি কমায় শহরের এলাকা থেকে পানি নামছে এবং মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়তে শুরু করেছে। কিন্তু দীঘিনালা-লংগদু, খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি এবং সাজেক সড়কের বিভিন্ন অংশ এখনও পানির নিচে রয়েছে, যার ফলে টানা তৃতীয় দিনের মতো যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। যাত্রীদের কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে এবং একাধিকবার যানবাহন পরিবর্তন করে খুব ঝুঁকির মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে।
বান্দরবানের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কমতে শুরু করায় বন্যা পরিস্থিতির ধীর উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কসহ রুমা, রোয়াংছড়ি এবং থানচির সড়ক যোগাযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃষ্টি আগের তুলনায় কমে এলেও আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের মনে এখনও পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি।
আরও পড়ুন: পূর্বধলায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন