শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৩১ এম
পুলিশ পরিদর্শক মফিজুল ইসলামের মৃত্যুতে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের শোক
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
নেত্রকোণার খালিয়াজুরীতে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক মো. মফিজুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন।**
নেত্রকোণা জেলার খালিয়াজুরী থানাধীন লেপসিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) **মো. মফিজুল ইসলাম গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন।
তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির এক শোকবার্তায় বলা হয়, পুলিশ পরিদর্শক মো. মফিজুল ইসলামের অকাল ও আকস্মিক মৃত্যু বাংলাদেশ পুলিশ পরিবারের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
শোকবার্তায় আরও বলা হয়, মো. মফিজুল ইসলাম ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে একজন সহজ-সরল, সজ্জন, আন্তরিক ও মানবিক গুণসম্পন্ন মানুষ হিসেবে সহকর্মীদের কাছে পরিচিত ছিলেন। তাঁর কর্মনিষ্ঠা, সততা ও মানবিক গুণাবলি সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।
শোকবার্তায় মহান আল্লাহ তাআলার কাছে মরহুমের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে তাঁকে *জান্নাতুল ফেরদৌস* নসিব করার এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দানের জন্য দোয়া করা হয়।
শোকবার্তায় স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক খান মো. মাসকোয়াত হোসেন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
১১ দলের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ
ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ করবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য, যা গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবিতে অনুষ্ঠিত হবে। এই লংমার্চের সূচনা হবে রাজধানীর শাপলা চত্বরে সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত জনসভা শেষে, যেখানে প্রায় দেড় হাজার গাড়ির বহর নিয়ে যাত্রা শুরু হবে। পরবর্তীতে চারটি পথসভা অনুষ্ঠিত হবে এবং সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে গিয়ে জনসভার মাধ্যমে এই কর্মসূচি শেষ হবে। লংমার্চের নেতৃত্ব দেবেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষনেতারা
এই কর্মসূচি সফল করার জন্য ১১ দলের কেন্দ্রীয় বাস্তবায়ন কমিটি এবং রুট সংশ্লিষ্ট ৯টি শাখা প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। গত কয়েকদিন ধরে জামায়াতসহ ১১ দলের নেতাকর্মীরা রাজধানীসহ সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে গণসংযোগ ও প্রচার মিছিল পরিচালনা করেছেন।
এদিকে, বর্তমান সংসদের বিরোধী দলের সর্ববৃহৎ এই কর্মসূচির সফলতার জন্য সরকার, সরকারি দল ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জোটটি, যাতে তারা জনগণের আস্থায় থাকতে পারে। তারা সতর্ক করে বলেছেন, যদি সরকারে থাকা কোনো দল বা কেউ লংমার্চে কোনো প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করে, তাহলে তারা জনগণের আস্থা হারানোর পাশাপাশি জনরোষের মুখোমুখি হবে।
শুক্রবার দুপুরে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লংমার্চের সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এই হুঁশিয়ারি দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মিয়া গোলাম পরওয়ার। সেখানে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষনেতাদের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে আলোচনা হয় গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী শান্তিপূর্ণ লংমার্চ সফল করার প্রস্তুতি নিয়ে।
বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর বিরোধী দল জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে সংসদের ভেতরে ও বাইরে এখনো নিয়মতান্ত্রিক, গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। তিনি সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান, বিরোধী দলের সর্ববৃহৎ শান্তিপূর্ণ এই রাজনৈতিক কর্মসূচিকে সফল করতে প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদান করে জনগণের আস্থায় থাকতে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি সরকারের কোনো দল বা কেউ লংমার্চে কোনো প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করে, তাহলে তারা জনগণের আস্থা হারাবে এবং আরো হারাবে, ফলে জনরোষের মুখোমুখি হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার ও সরকারি দলের কেউ এ ধরনের অপরিণামদর্শী পথে পা বাড়াবে না।
গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার গঠনের ছয় মাস পার হলেও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে তারা কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বরং গণরায় বাস্তবায়ন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তবে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, গণভোটের গণরায়ে কোনো নোট অব ডিসেন্ট নেই। গণভোটে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট খারিজ হয়েছে। তারা জুলাই বিপ্লবের রক্তের বিনিময়ে স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, "আমরা সরকার উৎখাতের কোনো আন্দোলন করছি না, জনগণের ও আমাদের দাবি হলো, গণভোটের গণরায়কে আপনারা মেনে নেন। বিরোধীদলের রাজনীতি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। আমাদের ছয় দফা আপনারা মেনে নিন।" তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার তাদের কর্মসূচিকে সম্মান দেখিয়ে জনগণের আস্থায় থাকবে।
তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরে প্রমাণিত হোক বিরোধী দল ও সরকারি দলের পরমত সহিষ্ণুতা রয়েছে এবং তারা রাজনৈতিক সহিংসতার নেতিবাচক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসেছেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, পুলিশ প্রশাসনের মহাপরিদর্শককে ১১ দল লিখিতভাবে কর্মসূচির বিষয়ে অবহিত করেছে। সংশ্লিষ্ট ডিসি-এসপিকেও লিখিতভাবে অবগত করা হয়েছে। রাস্তার দুই ধারে হাজার হাজার জনগণ লংমার্চকে অভিবাদন জানাবে।
তিনি জানান, লংমার্চের সামগ্রিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। লংমার্চের বহরে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি যুক্ত হবে বলে জানা গেছে। উদ্বোধনী সমাবেশ সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে। লংমার্চের রুটে পূর্বনির্ধারিত বিভিন্ন পয়েন্টে পথসভা হবে। প্রথমটি নারায়ণগঞ্জের কাচপুর ব্রিজের কাছে ট্রাকস্ট্যান্ডে, পরবর্তীতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল ও চট্টগ্রামের মিরসরাই এবং সবশেষে রাতে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে জনতার ঢল নামবে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল জানান, লংমার্চে অংশগ্রহণকারী ডেলিগেটরা গাড়ি থেকে নেমে পথসভায় যোগ দেবেন না। পথসভা স্থানীয় শাখা বাস্তবায়ন করবে। বহরে থাকা গাড়িতে স্টিকার থাকবে এবং চলমান অবস্থায় কোনো গাড়ি বহরে যুক্ত হলে শেষ দিকে হবে। এতে গণমাধ্যম, আইটি, শীর্ষ নেতা, অ্যাম্বুলেন্স, সাংস্কৃতিক, মেডিকেল ও সিকিউরিটি টিমের গাড়ি সিরিয়ালি থাকবে। গাড়িতে নিজ দায়িত্বে খাবার ব্যবস্থা করতে হবে।
এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের ছয় মাসে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ অনেক কিছু করার সময় ছিল। কিন্তু তা না করায় নৃশংসতা-বর্বরতা বেড়েছে, অপরাধীরা জামিন পাচ্ছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাস্তায় গাড়ি তো চলছেই, গাড়ি বন্ধ করে তো তেল সংকটের সমাধান হবে না।
প্রশ্নের জবাবে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, লংমার্চে তারা কোনো নাশকতার আশঙ্কা করছেন না। তারা ঐক্যবদ্ধ আছেন, আর ঐক্যবদ্ধ থাকলে শয়তান ভয় পায়। তবে কেউ কোনো কিছু করলে তার দায় সরকারকে নিতে হবে। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকায় আসা মানুষের কাছে যাওয়ার সুযোগ হওয়ায় এই লংমার্চকে তারা আনন্দ হিসেবে নিচ্ছেন। তিনি দুর্নীতিবাজ ও বিতর্কিত মন্ত্রীদের থামাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংস্কার করতেই হবে।
বৈঠকে ও প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ফখরুল ইসলাম, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন ও মতিউর রহমান আকন্দ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি ও উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন প্রমুখ।
সূত্রমতে, গত ৬ আগস্ট বিভিন্ন দাবিতে রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে ১১ দলের অবস্থান কর্মসূচি থেকে ঢাকায় মহাসমাবেশসহ চার বিভাগে লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শনিবার প্রথম লংমার্চ হবে ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিমুখে। পরবর্তীতে ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর, ৩১ অক্টোবর খুলনা-কুষ্টিয়া, এবং ২১ নভেম্বর ট্রেনযোগে সিলেট মহানগর অভিমুখে লংমার্চ পালিত হবে। সবশেষে ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।
ছয় দফা দাবির মধ্যে আরো রয়েছেÑজুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিরোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।
শাপলা চত্বরে এনসিপি নেতারা
এদিকে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকারসহ এনসিপির শীর্ষ নেতারা শুক্রবার রাত ১০টায় রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে লংমার্চের সূচনা সভাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা জনগণের ব্যাপক উপস্থিতি কামনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত নয় দিনব্যাপী ‘জিয়া স্মৃতি বইমেলা-২০২৬’-এর আজ ছিল দ্বিতীয় দিন। মেলা চলবে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় এই মেলার।
বইমেলায় পাওয়া যাচ্ছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বই।
আজকের দ্বিতীয় দিনে মেলা জমে উঠেছে। মেলায় কথা হয় জিনিয়াস পাবলিকেশনের দায়িত্বে থাকা মাহমুদ বিন শরীফের সঙ্গে। তিনি বাসসকে জানান, জাহাঙ্গীর শিকদারের লেখা ‘সোনালি যুগের জিয়াউর রহমান’, মো. সহিদুল ইসলাম সুমনের লেখা ‘বীর উত্তম জিয়াউর রহমান’, এই লেখকের আরেকটি বই ‘তারেক রহমানের ভাবনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম’, শাহেদ শফিকের লেখা ‘নারী শিক্ষায় বেগম খালেদা জিয়া’সহ আরও অনেক বই রয়েছে।
মেলায় বই দেখতে আসা একজন পাঠক আমলগীর হোসেন, যিনি পেশায় একজন মনোবিজ্ঞানী। তিনি বাসসকে বলেন, তরুণ প্রজন্ম আজ বই বিমুখ হয়ে গেছে। তারা কোনো কিছু যাচাই-বাছাই ছাড়াই ফেসবুকে হুটহাট স্ট্যাটাস দিয়ে দেয়, তথ্যটি সঠিক নাকি ভুল সেটি না জেনেই। এসব কারণকেই তরুণ প্রজন্মে বই বিমুখ হওয়ার জন্য দায়ী বলে তিনি মনে করছেন।
বই বিক্রির দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ সাঈম খান জানান, ‘আমরা সবাই জিয়া হবো’ বইটি বেশি চলছে। মানুষজন বিভিন্ন বই সম্পর্কে জানতে চায়, হাতে নিয়ে দেখে, অনেকে কিনছেনও।
এছাড়া ২য় দিন শুক্রবার বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ও জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থা আয়োজিত জিয়া স্মৃতি বইমেলা-২০২৬ এর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এই বইমেলাটি জাতীয়াতাবাদী রাজনীতির জন্য নিঃসন্দেহে একটি মাইলফলক, ইতিহাসে এটি অনন্য জায়গা করে নেবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরী। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান এদেশে একটি সাংস্কৃতিক জাগরণ চেয়েছিলেন। সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্য এদেশে যা কিছু প্রয়োজন তার সবই করেছেন তিনি।
এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বইয়ের বিকল্প কিছু হতে পারে না, বই পড়ার মানসিকতা থাকতে হবে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নীতি ও আদর্শের ওপর রচিত বই এবং জিয়াউর রহমানের জীবনভিত্তিক সাহিত্যের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার কেন্দ্রীয় কমিটি এই মেলার আয়োজন করেছে।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে সহ-সভাপতি ও মেলার আহ্বায়ক মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী জানান, দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মেলাটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
২য় দিনে মেলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীসহ লেখক ও দর্শনার্থীরা অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারি প্রণোদনার আওতায় ক্ষুদ্র হিমাগার নির্মাণে কর্মকর্তাদের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষি মন্ত্রণালয় এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) অধীনে কর্মরত মাঠ কর্মকর্তাদের আচরণে এটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ডিএইর তৈরি একটি প্রতিবেদন থেকে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ক্ষুদ্র হিমাগারের তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট জেলার কৃষি কর্মকর্তাদের খামারবাড়ির কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে বিভিন্ন সময় ফোন করে সরাসরি যোগাযোগ করা হয়। লক্ষ্য হচ্ছে হিমাগারের সর্বশেষ অগ্রগতি জানা এবং তার আলোকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কিন্তু টাঙ্গাইলের এক কর্মকর্তাকে কয়েক দফা ফোন করা হলেও তার ফোনে সাড়া পাওয়া যায়নি। একই অভিযোগ রাজশাহী ও ঝিনাইদহের ডিইএর সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে। এভাবে কৃষকের আপৎকালীন কৃষিপণ্য সংরক্ষণে হিমাগার নির্মাণের কাজ চলছে, যা এসব হিমাগারের স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারি কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় দেশের ২৫ জেলার ৩২টি ক্ষুদ্র হিমাগার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়ে এ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নেওয়া এ কর্মসূচির কাজের মাধ্যমে অর্থ নয়ছয় করার সুযোগ কম রয়েছে। ফলে সরকারি কর্মকর্তাদের এ কাজের প্রতি আগ্রহ কম দেখা যাচ্ছে। ডিইএর একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আমার দেশের কাছে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, কৃষি বিভাগের বেশিরভাগ কর্মকর্তার ঝোঁক লাভজনক উন্নয়ন প্রকল্পের দিকে।
কৃষি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রণোদনার মাধ্যমে ক্ষুদ্র হিমাগার নির্মাণের পাশাপাশি পৃথক একটি প্রকল্পের অধীনে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৮০টি ক্ষুদ্র হিমাগার নির্মাণের কাজও চলছে। আগামী অক্টোবরে ওই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তবে এখন পর্যন্ত প্রকল্পের যে অগ্রগতি, তাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। গত রোববার পর্যন্ত ১৪৭টি হিমাগার স্থাপন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বাকি কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হলে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে। নানা মহলে আলোচনা রয়েছে, প্রণোদনার আওতায় নির্মিত স্থাপনার তুলনায় প্রকল্পভিত্তিক কাজের প্রতি কৃষি বিভাগের কিছু কর্মকর্তার আগ্রহ বেশি। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রয়োজন।
অন্যদিকে সরকারি প্রণোদনার অর্থায়নে নির্মাণাধীন ক্ষুদ্র হিমাগারগুলোর তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কাজের অগ্রগতি এখনো সন্তোষজনক নয়। মোট হিমাগারের ৩০ শতাংশেরও কম নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত মাত্র ৯টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং ২০টির বেশি হিমাগারের কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে। যেসব জেলায় হিমাগার নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজবাড়ী ও চট্টগ্রামে দুটি করে এবং যশোর, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও দিনাজপুরে একটি করে। এছাড়া নির্মাণসামগ্রী পৌঁছলেও নরসিংদী ও কিশোরগঞ্জে হিমাগার নির্মাণের কাজ শেষ হয়নি। নাটোর ও শরীয়তপুরে কার্যক্রম এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ফেনীতে এখনো নির্মাণসামগ্রী পৌঁছেনি বলে জানা গেছে এবং জামালপুরে হিমাগার চালুর জন্য বিদ্যুৎসংযোগের কাজ বাকি রয়েছে। কৃষিপণ্য সংরক্ষণে ক্ষুদ্র হিমাগার নির্মাণ সরকার কর্তৃক একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হলেও বাস্তবায়ন কার্যক্রমের ধীরগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে হলে মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উইংয়ের উপপরিচালক (মনিটরিং) ড. আবু জাফর আল মুনছুর আমার দেশকে বলেন, আর্থিক প্রণোদনার অধীনে বেশ কয়েকটি ক্ষুদ্র হিমাগার নির্মাণ করা হচ্ছে। যেটির কাজ সম্পন্ন হচ্ছে, সেখানে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী গিয়ে উদ্বোধন করে আসছেন। এটি মন্ত্রণালয় থেকে সরাসরি তদারকি করায় তাদের ভূমিকা কম। তিনি বলেন, কৃষকের আবাদি জমির কৃষিপণ্য এসব হিমগারের রাখা হবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশ সরকারের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ২৫টি জেলায় ৩২টি ‘ফারমার্স মিনি কোল্ড স্টোরেজ’ নির্মাণ করা হচ্ছে। শাকসবজি ও ফলমূলের মতো পচনশীল কৃষিপণ্য ভরা মৌসুমে অপচয় রোধ এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, এসব ক্ষুদ্র হিমাগারে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে কৃষিপণ্য ধরন ভেদে প্রায় ৪৫ দিন পর্যন্ত তাজা ও গুণগত মান বজায় রেখে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এতে ভরা মৌসুমে উৎপাদন বেশি হওয়ায় কম দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ার পরিবর্তে কৃষকরা সুবিধাজনক সময়ে ভালো দামে পণ্য বিক্রির সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি ফসলপরবর্তী অপচয় কমার পাশাপাশি কৃষকের দরকষাকষির সক্ষমতাও বাড়বে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী সৌরবিদ্যুৎচালিত এসব হিমাগারে আধুনিক স্মার্ট কন্ট্রোল ব্যবস্থা থাকবে, যা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সংশ্লিষ্টদের মতে, উদ্যোগটি প্রান্তিক কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এমই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের বিদ্যমান গ্যাসকূপগুলোর পুরোনো হয়ে যাওয়ার কারণে উৎপাদন ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। নতুন কূপ খনন এবং উত্তোলনেও কোনো বড় সুসংবাদ নেই। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গ্যাস এবং বিদ্যুৎ আমদানির জন্য উপযুক্ত উৎস খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই অবস্থায়, দেশের গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসন এবং ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প জ্বালানিতে মুক্তি খুঁজছেন সরকার এবং বেসরকারি উদ্যোক্তারা।
এ লক্ষ্যে, কয়লা, খনিজ তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে সূর্যরশ্মি, বাতাসের গতিবেগ, গৃহস্থালির বর্জ্য এবং পশুর মলমূত্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান এ ক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করলেও বাংলাদেশ উপযুক্ত পরিকল্পনার অভাবে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতায় বিকল্প জ্বালানির অবস্থান ৫-৬ শতাংশ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ২০২৫ এবং একটি সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে সরকার। সরকারের এই পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়ে বেসরকারি উদ্যোক্তারা বাস্তবায়নে এগিয়ে আসছেন।
বিকল্প জ্বালানি কী
কয়লা, খনিজ তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের বাইরে সূর্যের আলো, বাতাসের গতি, পানির প্রবাহ, গৃহস্থালি বর্জ্য, পারমাণবিক শক্তি কিংবা মাটির গভীরে জমে থাকা তাপকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যেসব উৎস থেকে জ্বালানি ব্যবহার করা হয় তা বিকল্প জ্বালানি হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে সূর্যরশ্মিকে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুতে রূপান্তর, উইন্ড মিল বা বায়ুকলের সাহায্যে বাতাসের গতিবেগকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন, নদীর পানির স্রোত বা বাঁধের পানি ব্যবহার করে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি, গৃহস্থালির বর্জ্য, পশুর মলমূত্র বা গাছের পাতা পচিয়ে তৈরি গ্যাস ও শক্তি এবং মাটির নিচের তাপকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদিত শক্তিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বলা হয়। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো পরমাণুর ফিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনকে অনবায়নযোগ্য কিন্তু পরিবেশবান্ধব বিকল্প জ্বালানি হিসেবে গণ্য করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎসগুলো কখনো শেষ হয়ে যায় না বরং প্রকৃতি থেকে বারবার তৈরি হয়। এসব উৎস ব্যবহার করলে পরিবেশের ক্ষতি কম হয় এবং যা সনাতন জ্বালানির বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে। খনিজ জ্বালানি পোড়ালে প্রচুর কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়, যা বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ায়, অন্যদিকে বিকল্প জ্বালানি অনেক বেশি পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেল-গ্যাসের দাম প্রতিনিয়ত ওঠানামা করে। কিন্তু বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করলে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়। কয়লা বা গ্যাস একদিন শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু সূর্য বা বাতাসের মতো প্রাকৃতিক উৎসগুলো চিরকাল থাকবে।
দক্ষিণ এশিয়ায় দুর্বল বাংলাদেশ
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নেপাল ও ভুটান বিদ্যুৎ উৎপাদনে পরিবেশবান্ধব ও বিকল্প শক্তির ব্যবহারের দিক থেকে বিশ্বে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ভুটানে উৎপাদিত বিদ্যুতের শতভাগ আসে বিকল্প উৎস, প্রধানত জলবিদ্যুৎ থেকে। নেপালে উৎপাদিত বিদ্যুতের ৯৯.৭০ শতাংশ আসে বিকল্প বা নবায়নযোগ্য উৎস থেকে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৫১.৫০ শতাংশ মেটানো হয় বিকল্প উৎস থেকে, যার মধ্যে জলবিদ্যুৎ, সৌরশক্তি ও বায়ুবিদ্যুৎ অন্তর্ভুক্ত। জলবিদ্যুৎ ও বায়ো-এনার্জি থেকে মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ২৪ থেকে ২৮ শতাংশ আসে পাকিস্তানে।
এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান খুবই উদ্বেগজনক। বিকল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন গড়ে ৮০০ থেকে ১,১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে। জাতীয় চাহিদার বিপরীতে প্রকৃত সরবরাহের দিক থেকে বিকল্প জ্বালানি অবদান মাত্র ৩-৪ শতাংশ। যদিও বিকল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি আহরণের সক্ষমতা অনেক বেশি।
সক্ষমতা ১,৮২৫.৮ মেগাওয়াট
টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (শ্রেডা) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে জাতীয় গ্রিডভুক্ত এবং গ্রিডের বাইরে মিলিয়ে ১,৮২৫.৮ মেগাওয়াট বিকল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি আহরণের সক্ষমতা রয়েছে। এটি দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৫.৪ থেকে ৫.৬ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে প্রতিদিন গড়ে ৮০০ থেকে ১,১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। সৌরশক্তি থেকে উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে সর্বোচ্চ ১,৫২৯.১০ মেগাওয়াট।
দেশের বিকল্প জ্বালানির প্রায় ৮৩ ভাগই আসে সৌরশক্তি থেকে। এর মধ্যে সোলার পার্ক বা বড় বাণিজ্যিক প্রকল্প থেকে ৭৪৫.২৫ মেগাওয়াট, কারখানার ছাদ থেকে ৩৩৯.৯৮ মেগাওয়াট, গ্রামীণ গৃহস্থালি বর্জ্য থেকে ২৬৩.৬৫ মেগাওয়াট, সেচ পাম্প থেকে ৫৮.৯৭ মেগাওয়াট এবং রাস্তার বাতি, টেলিকম টাওয়ার ইত্যাদি উৎস থেকে ১২১.২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। রাঙামাটির কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বর্তমানে ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, যা দেশের অন্যতম পুরোনো ও বড় পরিবেশবান্ধব শক্তির উৎস। কক্সবাজারের খুরুশকুলে দেশের প্রথম বড় বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে বর্তমানে অন-গ্রিডে ৬২ মেগাওয়াট বায়ুশক্তি যুক্ত হচ্ছে।
এছাড়া বায়োগ্যাস ও বায়োমাস থেকে ১.০৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বর্তমানে রয়েছে। যদিও বর্তমানে মোট সক্ষমতার ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ আহরণ বা উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। অন্যদিকে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২,৪০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যা চালু হলে দেশের বিকল্প জ্বালানির চিত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশে বর্তমানে ক্যাপটিভসহ মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩২ হাজার ৪৭৬ মেগাওয়াট। জাতীয় চাহিদার বিপরীতে প্রকৃত সরবরাহের দিক থেকে বিকল্প জ্বালানি অবদান রাখছে মাত্র ৩-৪ শতাংশ।
২০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা
২০৩০ সালের মধ্যে মোট উৎপাদনের ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ বিকল্প উৎস থেকে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ২০২৫ এবং একটি সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে সরকার। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অন্তত ১০ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজন হবে। এজন্য দেশে জমির স্বল্পতার পরিপ্রেক্ষিতে জমি-নির্ভর বড় প্রকল্পের চেয়ে অবকাঠামো ও অর্থায়নের বহুমুখীকরণের ওপর জোর দিয়ে ৫টি প্রধান কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা করা হয়েছে শিল্পকারখানা ও সরকারি ভবনের ছাদ ব্যবহার করে ২০৩০ সালের মধ্যে শুধু রুফটপ সোলার থেকেই ৫,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের। এজন্য সব সরকারি অফিস, স্কুল, মাদরাসা এবং হাসপাতালের ছাদে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে বিনামূল্যে সোলার প্যানেল বসানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা নিজস্ব খরচে সোলার প্যানেল বসাবেন এবং পরিচালনা করবেন। ভবন কর্তৃপক্ষ বা কারখানা মালিকরা সস্তায় সেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন।
এছাড়া অব্যবহৃত সরকারি খাস জমি এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে ৪,৫০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার বড় সোলার পার্ক করা হবে। বড় জলাশয় বা হ্রদের পানিতে ভাসমান সোলার প্যানেল এবং কৃষিজমি রক্ষা করে প্যানেলের নিচে চাষাবাদের বিশেষ প্রযুক্তির প্রসার ঘটানো হবে। জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডকে আধুনিক করা হচ্ছে যাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওঠানামা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। দিনের উদ্বৃত্ত সৌরবিদ্যুৎ বড় ব্যাটারিতে জমা রেখে রাতে ব্যবহার করার জন্য ব্যাটারি স্টোরেজ অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
বিকল্প জ্বালানিতে ব্যাপক বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে দেওয়া হচ্ছে বড় ধরনের আর্থিক ছাড়। বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের পাওনা সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করতে স্থগিত থাকা পেমেন্ট গ্যারান্টি ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা হয়েছে। নতুন নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রথম ১০ বছর সম্পূর্ণ করপোরেট কর মওকুফ এবং পরবর্তী পাঁচ বছর আংশিক কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তহবিল থেকে মাত্র ৫ শতাংশ সুদে রুফটপ সোলারের জন্য বিশেষ সবুজ ঋণ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি আমদানিতে কমানো হয়েছে শুল্ক-কর।
বাতিল প্রকল্পগুলো যাচাই-বাছাই
বিদ্যুৎ বিভাগ ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীনে কোনো রকম প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই অনুমোদিত মোট ৩৯টি বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এর মধ্যে ৩৪টি ছিল সৌরবিদ্যুৎ (বিকল্প জ্বালানি) প্রকল্প এবং বাকি পাঁচটি ছিল গ্যাসভিত্তিক প্রকল্প। বাতিল হওয়া ৩১টি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প থেকে ৩,৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল, যার সিংহভাগই ছিল সৌরশক্তি এবং প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বায়ু বিদ্যুৎ।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের চলমান তীব্র জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিং মোকাবিলার লক্ষ্যে ড. ইউনূসের আমলে বাতিল করা ওই ৩১টি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প পুনরায় যাচাই-বাছাই করে সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গত ৬ মে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ঢালাওভাবে সব প্রকল্প বাতিল না করে সেগুলোর বর্তমান বাস্তব অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
যে কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে জমি কিনে ফেলেছে বা অর্থায়নের ব্যবস্থা করে কাজের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সচল করা হবে। এতে থমকে থাকা প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ ও চুক্তিগুলো রক্ষায় আইনি জটিলতা কাটানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। তবে যেসব প্রকল্পে দুর্নীতি-অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাবে, শুধু সেগুলোই স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়া হতে পারে।
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণ
জানা যায়, দেশে বর্তমানে ৫,০০০-এর বেশি প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৪১ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ১০ গুণ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে নেট মিটারিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত বিদ্যুতের জন্য গ্রাহকদের ন্যায্য প্রণোদনা প্রদানের উদ্যোগের কথা জানানো হয়। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন মাত্রা যোগ করতে ইউনিটপ্রতি ১০.০৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০.৫০ পয়সা দর নির্ধারণ করেছে সরকার।
ভবনের মালিক ও তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে স্থাপনা করার সুযোগ রেখে আগামী গ্রীষ্মের মধ্যে ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জনগণকে উৎসাহিত করতে বিতরণ কোম্পানিগুলো ভর্তুকি আকারে প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অর্থও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। দেশব্যাপী সার্ভিস প্রোভাইডার তালিকাভুক্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিতরণ সংস্থাগুলো। স্থানীয় ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, তরুণ, নারী উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো এ খাতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।
নেট মিটারিংয়ে গুরুত্বারোপ
বিকল্প জ্বালানি উৎপাদনের বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে নেট মিটারিং পদ্ধতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (শ্রেডা)। এ প্রক্রিয়ায় একজন গ্রাহক একাধারে বিদ্যুতের একজন ভোক্তা এবং উৎপাদনকারী হিসেবে কাজ করেন। শিল্পকারখানা বা বাড়ির মালিক তার ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করবেন। দিনে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ প্রথমে তার নিজস্ব যন্ত্রপাতি বা বাতি চালাতে ব্যবহার করবেন। ছুটির দিনে বা কারখানায় ব্যবহার কম থাকলে, প্যানেলের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডেসকো, ডিপিডিসি বা পল্লী বিদ্যুতের জাতীয় গ্রিডে চলে যাবে।
এই ব্যবস্থায় সাধারণ মিটারের বদলে একটি দ্বিমুখী বা স্মার্ট মিটার বসানো হবে। মিটারই হিসাব রাখবে গ্রাহক গ্রিড থেকে কত ইউনিট বিদ্যুৎ নিলেন আর গ্রিডকে কত ইউনিট সৌরবিদ্যুৎ দিলেন। মাস শেষে গ্রিড থেকে নেওয়া মোট ইউনিট থেকে গ্রিডে দেওয়া ইউনিট বিয়োগ করা হবে এবং গ্রাহক শুধু অবশিষ্ট ইউনিটের বিল পরিশোধ করবেন। আগে অনুমোদিত লোডের মাত্র ৭০ শতাংশ পর্যন্ত সোলার প্যানেল বসানো যেত। এখন গ্রাহক তার অনুমোদিত বিদ্যুৎ লোডের শতভাগ সক্ষমতার সোলার সিস্টেম বসাতে পারবেন। আগে শুধু থ্রি-ফেজ বা বড় বাণিজ্যিক লাইনে এটি সম্ভব ছিল। এখন থেকে সাধারণ বাসাবাড়ির সিঙ্গেল ফেজ লাইনেও নেট মিটারিং সুবিধা পাওয়া যাবে।
বর্তমানে প্রি-পেইড এবং ডিজিটাল স্মার্ট মিটার ব্যবহারকারীরাও এই সিস্টেমের আওতায় আসতে পারবেন। তিন মাস পরপর যদি দেখা যায় গ্রাহক ব্যবহারের চেয়ে গ্রিডে বেশি বিদ্যুৎ দিয়েছেন, তবে সেই অতিরিক্ত ইউনিটের মূল্য ১০.৫০ টাকা হারে সরাসরি গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ব্যাপক সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (শ্রেডা) সদস্য (যুগ্ম সচিব) এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগের প্রধান ড. আশরাফুল আলম আমার দেশকে বলেন, সরকার এ সংক্রান্ত কৌশলপত্র তৈরি করেছে। বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের উদ্বুদ্ধ করতে নানামুখী প্রচার চালানো হচ্ছে।
সরকার রুফটপ সোলার এবং নেট মিটারিংয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান এই যুগ্ম সচিব। তিনি বলেন, উৎপাদন খরচ কমাতে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি প্রভৃতি আমদানিতে শুল্ক কমানো হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফল পাওয়া যাচ্ছে এবং বিকল্প জ্বালানি থেকে প্রতিদিনই এক থেকে দুই মেগাওয়াট করে বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।
বিকল্প জ্বালানির উৎপাদন বাড়াতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো ইতিবাচক আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউঅ্যাবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ আমার দেশকে বলেন, সরকারের নতুন উদ্যোগ চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ঘোষিত প্রণোদনার যথাযথ ব্যবহার হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত থেকেই কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। সরকারের পাইকারি দর প্রায় ১৩ টাকা, আর সৌর থেকে পাওয়া যাচ্ছে ১০.৫০ টাকায়। এতে ভবনের ছাদ ব্যবহারে উৎসাহ বাড়বে, বিনিয়োগ আসবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের ঘোষণা এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চর্চার মধ্যে ব্যাপক ব্যবধান থাকায় এ খাতের উদ্যোক্তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, ক্যাবল অপারেটর ও নেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের মতো ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুতের প্রসার ঘটানো সম্ভব। তিনি বলেন, তারা বিনিয়োগ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবেন এবং উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে জমা দিয়ে মাস শেষে বিল আদায় করবেন। এর মাধ্যমে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সরকার সমানভাবে লাভবান হবেন।
অন্যদিকে নবায়নযোগ্য বিকল্প জ্বালানির ওপর সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত বলেছেন, আমরা রিনিউঅ্যাবল সোলার পলিসি করেছি, উদ্যোক্তাদের শুল্ক সুবিধা দিচ্ছি। এ সুযোগ-সুবিধা নিয়ে যে উদ্যোক্তা শ্রেণি তৈরি হবে, তাতে যদি ন্যূনতম ৩,০০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি, তাহলে আগামী গ্রীষ্মে মানুষের কষ্ট কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। দূর হবে সংকট, দীর্ঘমেয়াদে জনমনে স্বস্তি ফিরে আসবে।
এমই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ