ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিকল্প জ্বালানিতেই মুক্তি দেখছেসরকার ও বেসরকারি খাত


বিকল্প জ্বালানিতেই মুক্তি দেখছেসরকার ও বেসরকারি খাত

দেশের বিদ্যমান গ্যাসকূপগুলোর পুরোনো হয়ে যাওয়ার কারণে উৎপাদন ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। নতুন কূপ খনন এবং উত্তোলনেও কোনো বড় সুসংবাদ নেই। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গ্যাস এবং বিদ্যুৎ আমদানির জন্য উপযুক্ত উৎস খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই অবস্থায়, দেশের গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসন এবং ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প জ্বালানিতে মুক্তি খুঁজছেন সরকার এবং বেসরকারি উদ্যোক্তারা।

এ লক্ষ্যে, কয়লা, খনিজ তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে সূর্যরশ্মি, বাতাসের গতিবেগ, গৃহস্থালির বর্জ্য এবং পশুর মলমূত্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান এ ক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করলেও বাংলাদেশ উপযুক্ত পরিকল্পনার অভাবে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতায় বিকল্প জ্বালানির অবস্থান ৫-৬ শতাংশ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ২০২৫ এবং একটি সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে সরকার। সরকারের এই পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়ে বেসরকারি উদ্যোক্তারা বাস্তবায়নে এগিয়ে আসছেন।

আরও পড়ুন: জাপান সফরে একাধিক সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে প্রধানমন্ত্রীর

বিকল্প জ্বালানি কী

কয়লা, খনিজ তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের বাইরে সূর্যের আলো, বাতাসের গতি, পানির প্রবাহ, গৃহস্থালি বর্জ্য, পারমাণবিক শক্তি কিংবা মাটির গভীরে জমে থাকা তাপকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যেসব উৎস থেকে জ্বালানি ব্যবহার করা হয় তা বিকল্প জ্বালানি হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে সূর্যরশ্মিকে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুতে রূপান্তর, উইন্ড মিল বা বায়ুকলের সাহায্যে বাতাসের গতিবেগকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন, নদীর পানির স্রোত বা বাঁধের পানি ব্যবহার করে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি, গৃহস্থালির বর্জ্য, পশুর মলমূত্র বা গাছের পাতা পচিয়ে তৈরি গ্যাস ও শক্তি এবং মাটির নিচের তাপকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদিত শক্তিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বলা হয়। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো পরমাণুর ফিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনকে অনবায়নযোগ্য কিন্তু পরিবেশবান্ধব বিকল্প জ্বালানি হিসেবে গণ্য করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎসগুলো কখনো শেষ হয়ে যায় না বরং প্রকৃতি থেকে বারবার তৈরি হয়। এসব উৎস ব্যবহার করলে পরিবেশের ক্ষতি কম হয় এবং যা সনাতন জ্বালানির বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে। খনিজ জ্বালানি পোড়ালে প্রচুর কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়, যা বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ায়, অন্যদিকে বিকল্প জ্বালানি অনেক বেশি পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেল-গ্যাসের দাম প্রতিনিয়ত ওঠানামা করে। কিন্তু বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করলে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়। কয়লা বা গ্যাস একদিন শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু সূর্য বা বাতাসের মতো প্রাকৃতিক উৎসগুলো চিরকাল থাকবে।

দক্ষিণ এশিয়ায় দুর্বল বাংলাদেশ

আরও পড়ুন: শুধু ৯ দেশ-ই নয়, বিশ্ব এক হলেও হারবে? কারণ- ইয়েমেনের জন্য নবী (সা.) দোয়া করেছিলেন!

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নেপাল ও ভুটান বিদ্যুৎ উৎপাদনে পরিবেশবান্ধব ও বিকল্প শক্তির ব্যবহারের দিক থেকে বিশ্বে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ভুটানে উৎপাদিত বিদ্যুতের শতভাগ আসে বিকল্প উৎস, প্রধানত জলবিদ্যুৎ থেকে। নেপালে উৎপাদিত বিদ্যুতের ৯৯.৭০ শতাংশ আসে বিকল্প বা নবায়নযোগ্য উৎস থেকে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৫১.৫০ শতাংশ মেটানো হয় বিকল্প উৎস থেকে, যার মধ্যে জলবিদ্যুৎ, সৌরশক্তি ও বায়ুবিদ্যুৎ অন্তর্ভুক্ত। জলবিদ্যুৎ ও বায়ো-এনার্জি থেকে মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ২৪ থেকে ২৮ শতাংশ আসে পাকিস্তানে।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান খুবই উদ্বেগজনক। বিকল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন গড়ে ৮০০ থেকে ১,১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে। জাতীয় চাহিদার বিপরীতে প্রকৃত সরবরাহের দিক থেকে বিকল্প জ্বালানি অবদান মাত্র ৩-৪ শতাংশ। যদিও বিকল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি আহরণের সক্ষমতা অনেক বেশি।

সক্ষমতা ১,৮২৫.৮ মেগাওয়াট

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (শ্রেডা) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে জাতীয় গ্রিডভুক্ত এবং গ্রিডের বাইরে মিলিয়ে ১,৮২৫.৮ মেগাওয়াট বিকল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি আহরণের সক্ষমতা রয়েছে। এটি দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৫.৪ থেকে ৫.৬ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে প্রতিদিন গড়ে ৮০০ থেকে ১,১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। সৌরশক্তি থেকে উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে সর্বোচ্চ ১,৫২৯.১০ মেগাওয়াট।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ২৯৯

দেশের বিকল্প জ্বালানির প্রায় ৮৩ ভাগই আসে সৌরশক্তি থেকে। এর মধ্যে সোলার পার্ক বা বড় বাণিজ্যিক প্রকল্প থেকে ৭৪৫.২৫ মেগাওয়াট, কারখানার ছাদ থেকে ৩৩৯.৯৮ মেগাওয়াট, গ্রামীণ গৃহস্থালি বর্জ্য থেকে ২৬৩.৬৫ মেগাওয়াট, সেচ পাম্প থেকে ৫৮.৯৭ মেগাওয়াট এবং রাস্তার বাতি, টেলিকম টাওয়ার ইত্যাদি উৎস থেকে ১২১.২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। রাঙামাটির কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বর্তমানে ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, যা দেশের অন্যতম পুরোনো ও বড় পরিবেশবান্ধব শক্তির উৎস। কক্সবাজারের খুরুশকুলে দেশের প্রথম বড় বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে বর্তমানে অন-গ্রিডে ৬২ মেগাওয়াট বায়ুশক্তি যুক্ত হচ্ছে।

এছাড়া বায়োগ্যাস ও বায়োমাস থেকে ১.০৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বর্তমানে রয়েছে। যদিও বর্তমানে মোট সক্ষমতার ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ আহরণ বা উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। অন্যদিকে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২,৪০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যা চালু হলে দেশের বিকল্প জ্বালানির চিত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশে বর্তমানে ক্যাপটিভসহ মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩২ হাজার ৪৭৬ মেগাওয়াট। জাতীয় চাহিদার বিপরীতে প্রকৃত সরবরাহের দিক থেকে বিকল্প জ্বালানি অবদান রাখছে মাত্র ৩-৪ শতাংশ।

২০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা

২০৩০ সালের মধ্যে মোট উৎপাদনের ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ বিকল্প উৎস থেকে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ২০২৫ এবং একটি সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে সরকার। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অন্তত ১০ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজন হবে। এজন্য দেশে জমির স্বল্পতার পরিপ্রেক্ষিতে জমি-নির্ভর বড় প্রকল্পের চেয়ে অবকাঠামো ও অর্থায়নের বহুমুখীকরণের ওপর জোর দিয়ে ৫টি প্রধান কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা করা হয়েছে শিল্পকারখানা ও সরকারি ভবনের ছাদ ব্যবহার করে ২০৩০ সালের মধ্যে শুধু রুফটপ সোলার থেকেই ৫,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের। এজন্য সব সরকারি অফিস, স্কুল, মাদরাসা এবং হাসপাতালের ছাদে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে বিনামূল্যে সোলার প্যানেল বসানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা নিজস্ব খরচে সোলার প্যানেল বসাবেন এবং পরিচালনা করবেন। ভবন কর্তৃপক্ষ বা কারখানা মালিকরা সস্তায় সেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন।

আরও পড়ুন: মাগুরার দুর্গাপূজার মেলায় অতিরিক্ত মদ্যপানে ২ জনের মৃত্যু

এছাড়া অব্যবহৃত সরকারি খাস জমি এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে ৪,৫০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার বড় সোলার পার্ক করা হবে। বড় জলাশয় বা হ্রদের পানিতে ভাসমান সোলার প্যানেল এবং কৃষিজমি রক্ষা করে প্যানেলের নিচে চাষাবাদের বিশেষ প্রযুক্তির প্রসার ঘটানো হবে। জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডকে আধুনিক করা হচ্ছে যাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওঠানামা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। দিনের উদ্বৃত্ত সৌরবিদ্যুৎ বড় ব্যাটারিতে জমা রেখে রাতে ব্যবহার করার জন্য ব্যাটারি স্টোরেজ অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।

বিকল্প জ্বালানিতে ব্যাপক বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে দেওয়া হচ্ছে বড় ধরনের আর্থিক ছাড়। বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের পাওনা সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করতে স্থগিত থাকা পেমেন্ট গ্যারান্টি ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা হয়েছে। নতুন নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রথম ১০ বছর সম্পূর্ণ করপোরেট কর মওকুফ এবং পরবর্তী পাঁচ বছর আংশিক কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তহবিল থেকে মাত্র ৫ শতাংশ সুদে রুফটপ সোলারের জন্য বিশেষ সবুজ ঋণ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি আমদানিতে কমানো হয়েছে শুল্ক-কর।

বাতিল প্রকল্পগুলো যাচাই-বাছাই

বিদ্যুৎ বিভাগ ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীনে কোনো রকম প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই অনুমোদিত মোট ৩৯টি বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এর মধ্যে ৩৪টি ছিল সৌরবিদ্যুৎ (বিকল্প জ্বালানি) প্রকল্প এবং বাকি পাঁচটি ছিল গ্যাসভিত্তিক প্রকল্প। বাতিল হওয়া ৩১টি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প থেকে ৩,৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল, যার সিংহভাগই ছিল সৌরশক্তি এবং প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বায়ু বিদ্যুৎ।

আরও পড়ুন: ভারত থেকে আসা ১৩৫ টন চালে আফলাটক্সিনের উপস্থিতি

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের চলমান তীব্র জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিং মোকাবিলার লক্ষ্যে ড. ইউনূসের আমলে বাতিল করা ওই ৩১টি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প পুনরায় যাচাই-বাছাই করে সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গত ৬ মে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ঢালাওভাবে সব প্রকল্প বাতিল না করে সেগুলোর বর্তমান বাস্তব অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

যে কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে জমি কিনে ফেলেছে বা অর্থায়নের ব্যবস্থা করে কাজের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সচল করা হবে। এতে থমকে থাকা প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ ও চুক্তিগুলো রক্ষায় আইনি জটিলতা কাটানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। তবে যেসব প্রকল্পে দুর্নীতি-অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাবে, শুধু সেগুলোই স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়া হতে পারে।

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণ

জানা যায়, দেশে বর্তমানে ৫,০০০-এর বেশি প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৪১ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ১০ গুণ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে নেট মিটারিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত বিদ্যুতের জন্য গ্রাহকদের ন্যায্য প্রণোদনা প্রদানের উদ্যোগের কথা জানানো হয়। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন মাত্রা যোগ করতে ইউনিটপ্রতি ১০.০৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০.৫০ পয়সা দর নির্ধারণ করেছে সরকার।

আরও পড়ুন: মন্ত্রিপরিষদ সচিব জ্ঞানেশের কাছে দুই কমিশনারের চিঠি ফেরত পাঠালেন

ভবনের মালিক ও তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে স্থাপনা করার সুযোগ রেখে আগামী গ্রীষ্মের মধ্যে ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জনগণকে উৎসাহিত করতে বিতরণ কোম্পানিগুলো ভর্তুকি আকারে প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অর্থও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। দেশব্যাপী সার্ভিস প্রোভাইডার তালিকাভুক্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিতরণ সংস্থাগুলো। স্থানীয় ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, তরুণ, নারী উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো এ খাতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।

নেট মিটারিংয়ে গুরুত্বারোপ

বিকল্প জ্বালানি উৎপাদনের বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে নেট মিটারিং পদ্ধতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (শ্রেডা)। এ প্রক্রিয়ায় একজন গ্রাহক একাধারে বিদ্যুতের একজন ভোক্তা এবং উৎপাদনকারী হিসেবে কাজ করেন। শিল্পকারখানা বা বাড়ির মালিক তার ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করবেন। দিনে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ প্রথমে তার নিজস্ব যন্ত্রপাতি বা বাতি চালাতে ব্যবহার করবেন। ছুটির দিনে বা কারখানায় ব্যবহার কম থাকলে, প্যানেলের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডেসকো, ডিপিডিসি বা পল্লী বিদ্যুতের জাতীয় গ্রিডে চলে যাবে।

এই ব্যবস্থায় সাধারণ মিটারের বদলে একটি দ্বিমুখী বা স্মার্ট মিটার বসানো হবে। মিটারই হিসাব রাখবে গ্রাহক গ্রিড থেকে কত ইউনিট বিদ্যুৎ নিলেন আর গ্রিডকে কত ইউনিট সৌরবিদ্যুৎ দিলেন। মাস শেষে গ্রিড থেকে নেওয়া মোট ইউনিট থেকে গ্রিডে দেওয়া ইউনিট বিয়োগ করা হবে এবং গ্রাহক শুধু অবশিষ্ট ইউনিটের বিল পরিশোধ করবেন। আগে অনুমোদিত লোডের মাত্র ৭০ শতাংশ পর্যন্ত সোলার প্যানেল বসানো যেত। এখন গ্রাহক তার অনুমোদিত বিদ্যুৎ লোডের শতভাগ সক্ষমতার সোলার সিস্টেম বসাতে পারবেন। আগে শুধু থ্রি-ফেজ বা বড় বাণিজ্যিক লাইনে এটি সম্ভব ছিল। এখন থেকে সাধারণ বাসাবাড়ির সিঙ্গেল ফেজ লাইনেও নেট মিটারিং সুবিধা পাওয়া যাবে।

বর্তমানে প্রি-পেইড এবং ডিজিটাল স্মার্ট মিটার ব্যবহারকারীরাও এই সিস্টেমের আওতায় আসতে পারবেন। তিন মাস পরপর যদি দেখা যায় গ্রাহক ব্যবহারের চেয়ে গ্রিডে বেশি বিদ্যুৎ দিয়েছেন, তবে সেই অতিরিক্ত ইউনিটের মূল্য ১০.৫০ টাকা হারে সরাসরি গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ব্যাপক সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (শ্রেডা) সদস্য (যুগ্ম সচিব) এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগের প্রধান ড. আশরাফুল আলম আমার দেশকে বলেন, সরকার এ সংক্রান্ত কৌশলপত্র তৈরি করেছে। বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের উদ্বুদ্ধ করতে নানামুখী প্রচার চালানো হচ্ছে।

সরকার রুফটপ সোলার এবং নেট মিটারিংয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান এই যুগ্ম সচিব। তিনি বলেন, উৎপাদন খরচ কমাতে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি প্রভৃতি আমদানিতে শুল্ক কমানো হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফল পাওয়া যাচ্ছে এবং বিকল্প জ্বালানি থেকে প্রতিদিনই এক থেকে দুই মেগাওয়াট করে বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

বিকল্প জ্বালানির উৎপাদন বাড়াতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো ইতিবাচক আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউঅ্যাবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ আমার দেশকে বলেন, সরকারের নতুন উদ্যোগ চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ঘোষিত প্রণোদনার যথাযথ ব্যবহার হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত থেকেই কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। সরকারের পাইকারি দর প্রায় ১৩ টাকা, আর সৌর থেকে পাওয়া যাচ্ছে ১০.৫০ টাকায়। এতে ভবনের ছাদ ব্যবহারে উৎসাহ বাড়বে, বিনিয়োগ আসবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের ঘোষণা এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চর্চার মধ্যে ব্যাপক ব্যবধান থাকায় এ খাতের উদ্যোক্তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, ক্যাবল অপারেটর ও নেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের মতো ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুতের প্রসার ঘটানো সম্ভব। তিনি বলেন, তারা বিনিয়োগ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবেন এবং উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে জমা দিয়ে মাস শেষে বিল আদায় করবেন। এর মাধ্যমে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সরকার সমানভাবে লাভবান হবেন।

অন্যদিকে নবায়নযোগ্য বিকল্প জ্বালানির ওপর সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত বলেছেন, আমরা রিনিউঅ্যাবল সোলার পলিসি করেছি, উদ্যোক্তাদের শুল্ক সুবিধা দিচ্ছি। এ সুযোগ-সুবিধা নিয়ে যে উদ্যোক্তা শ্রেণি তৈরি হবে, তাতে যদি ন্যূনতম ৩,০০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি, তাহলে আগামী গ্রীষ্মে মানুষের কষ্ট কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। দূর হবে সংকট, দীর্ঘমেয়াদে জনমনে স্বস্তি ফিরে আসবে।

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত প্রতিমন্ত্রী আবুল বারীকে দেখতে হাসপাতালে রিজভী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:২৭ এম


সড়ক দুর্ঘটনায় আহত প্রতিমন্ত্রী আবুল বারীকে দেখতে হাসপাতালে রিজভী

রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে গিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহত জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবুল বারীকে দেখতে যান।

শুক্রবার রাত ১১টার সময় হাসপাতালে পৌঁছানোর পর তিনি প্রতিমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। রিজভীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন (বা বেলায়েত হোসেন) এবং কেন্দ্রীয় সহ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন।

হাসপাতালে রুহুল কবির রিজভী কিছু সময় প্রতিমন্ত্রী আবুল বারীর পাশে অবস্থান করেন। এরপর তিনি চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে প্রতিমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন।

এর আগে শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে জয়পুরহাটে তার নির্বাচনি এলাকায় যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় পতিত হন প্রতিমন্ত্রী আবুল বারী। দুর্ঘটনার ফলে প্রতিমন্ত্রী এবং তার সহধর্মিণী নাজমা আরা বেগম আহত হন।

দুর্ঘটনার পর আহত প্রতিমন্ত্রীকে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রাশেদ মোবারক জুয়েল জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী আবুল বারীর ডান ও বাম পা এবং বুকে আঘাত লেগেছে। তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রূপগঞ্জে গুলিভর্তি পিস্তলসহ আটক ৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৫৮ এম


রূপগঞ্জে গুলিভর্তি পিস্তলসহ আটক ৪

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শ্রাবণ গ্রুপ ও নবী গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ এবং অস্ত্রের মহড়ার ঘটনায় চারজন সন্ত্রাসীকে আটক করেছে পুলিশ, যাদের কাছে একটি গুলিভর্তি বিদেশি পিস্তল ছিল।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার তারাবো বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ওই চারজনকে গ্রেফতার করে।

নবনিযুক্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান রাত পৌনে ৯টায় রূপগঞ্জ থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন—নাজমুল হোসেন (৩০), নিহাল মিয়া (২১), সাজ্জাদ হোসেন (২০) ও শফিকুল ইসলাম (২৪)।

পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারাবো বাজার এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের আধিপত্য নিয়ে শ্রাবণ গ্রুপ ও নবী গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। প্রায়ই তারা অস্ত্র নিয়ে মহড়া, ধাওয়া-পালটাধাওয়া এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ত, যা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এই দুই গ্রুপ অস্ত্রের মহড়া ও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান এবং রূপগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলিশ তারাবো বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় নবী গ্রুপের চারজনকে গুলিভর্তি বিদেশি পিস্তলসহ আটক করা হয়।

এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ সুপার জানান, শনিবার আসামিদের নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছিটকিনি আটকানো নিয়ে ববিতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০১ এম


ছিটকিনি আটকানো নিয়ে ববিতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের উত্তেজনা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) সমাজবিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেসবাসার দরজার ছিটকিনি আটকানোকে কেন্দ্র করে লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া-পালটাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন নম্বর গেটের সামনে এই ঘটনা ঘটে। তবে, এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষের আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। রাত সোয়া ১১টা পর্যন্ত দুই বিভাগের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান করছিলেন, পরে শিক্ষকরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ক্যাম্পাসের বাইরের একটি মেসবাসায় সমাজবিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী বসবাস করেন। ওই মেসের দরজায় ছিটকিনি দেওয়া নিয়ে প্রথমে দুই বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

একপর্যায়ে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দুই বিভাগের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন নম্বর গেটসংলগ্ন এলাকায় জড়ো হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পালটাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ অর্থনীতি বিভাগের একদল শিক্ষার্থী লাঠিসোঁটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের অপর পাশে ছাতিমতলা এলাকায় অবস্থান করছিলেন। অন্যদিকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেটসংলগ্ন ভোলার রোড এলাকায় অবস্থান নেন। এতে ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. গাজী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। পরে বিস্তারিত বলতে পারব।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১০ এম


জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

 শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দিকে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে, যা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দাবি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে এই কর্মসূচি সফল হয়।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে লংমার্চের সূচনা সমাবেশের জন্য নির্মাণাধীন মঞ্চ এবং সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শনকালে তিনি এই আহ্বান জানান।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, "এ কর্মসূচির লক্ষ্য হলো জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায় করা এবং একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও সংস্কারকৃত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।" তিনি লংমার্চকে শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

এ সময় এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকারসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেন এবং মঞ্চ নির্মাণসহ সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে আয়োজকদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

আগামীকাল সকাল ৭টায় মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা এবং জনগণের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা ও অভিবাদন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চ শেষ হবে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, "ভোটাধিকারের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, বিদ্যুৎ-গ্যাস-তেল ও সার সংকট নিরসন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন দাবিতে এ লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%