১০:০৬ এম
নেপালের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভান্ডারি আবারও সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছেন। ভারতীয় সংবাদসংস্থা এএনআই নিউজের তথ্য অনুযায়ী, তিনি দেশটির কমিউনিস্ট পার্টি—ইউনিফায়েড মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদীর (সিপিএন-ইউএমএল) একজন জ্যেষ্ঠ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বৃহস্পতিবার ললিতপুরে দলের কার্যালয়ে শপথ গ্রহণের পর তিনি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন শেষে বিদ্যা দেবী ২০২৩ সালের ৯ মার্চ দায়িত্ব ছাড়েন। প্রায় তিন বছর পর তিনি আবার দলীয় রাজনীতিতে ফিরছেন। ২০১৫ সালের অক্টোবরে নেপালের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে, বিদ্যা দেবী সিপিএন-ইউএমএলের সহসভাপতি ছিলেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি সক্রিয় দলীয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান।
রাজনীতিতে ফিরে আসার চেষ্টা করলেও তিনি শুরুতে বাধার সম্মুখীন হন। ইউএমএল তার সদস্যপদ বাতিল করে। দলটির যুক্তি ছিল, যিনি প্রেসিডেন্টের মতো সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন, তার সক্রিয় দলীয় রাজনীতিতে ফিরে আসা উচিত নয়।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুকে ‘বিবি’ নামে ডাকার কারণ ও রাজনৈতিক উত্থান
গত বছর দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নবম বৈঠকে সাবেক প্রেসিডেন্টদের রাজনৈতিক দলের সদস্য না হওয়ার পক্ষে অবস্থান নেওয়া হয়। পরবর্তীতে দলের অভ্যন্তরীণ নির্দেশনায় বলা হয়, যিনি পুরো জাতির নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাকে সাধারণ দলীয় কর্মী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা ঠিক নয়।
নির্দেশনায় বিদ্যা দেবীকে জাতির গর্ব হিসেবে সম্মান জানানোর কথা উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে তার সদস্যপদ নবায়নের প্রক্রিয়া সঠিক ছিল না বলেও উল্লেখ করা হয়। তবে প্রায় ১৪ মাস পর ইউএমএল নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। সেইসাথে বিদ্যা দেবীকে জ্যেষ্ঠ নেতা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে দলের চেয়ারম্যান কে পি শর্মা ওলি একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা জারি করে তার নিয়োগ আনুষ্ঠানিক করেন। দলের গঠনতন্ত্রের কয়েকটি ধারা উল্লেখ করে বলা হয়, কেন্দ্রীয় কমিটি ও দলের নেতৃত্বের হাতে থাকা বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলের মধ্যে বিদ্যা দেবীর অবস্থানও নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান কে পি শর্মা ওলির পর তার স্থান। অর্থাৎ, তিনি এখন দলের নেতৃত্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন।
গত মার্চের নির্বাচনে ইউএমএল পরাজিত হওয়ার পর দলটির পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যা দেবীর প্রত্যাবর্তন দলের রাজনীতিতে নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। দলের নেতাদের ধারণা, তার ফিরে আসায় ইউএমএল আরও শক্তিশালী হতে পারে। তবে তার প্রত্যাবর্তনে দলের ভেতরে ক্ষমতার ভারসাম্যেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। দীর্ঘদিন ধরে দলটির ওপর চেয়ারম্যান কে পি শর্মা ওলির প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
আরও পড়ুন: দীর্ঘ লড়াই শেষে সিডনিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির মসজিদের অনুমোদন
১৯৭৮ সালে সিপিএন-মালের যুব সংগঠনে কাজের মাধ্যমে বিদ্যা দেবী ভান্ডারির রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। ১৯৮০ সালে তিনি বিরাটনগরের মহেন্দ্র মোরাং বহুমুখী ক্যাম্পাসের ছাত্র সংসদের কোষাধ্যক্ষ হন। ১৯৮২ সালে তৎকালীন সিপিএন-মালের কেন্দ্রীয় সদস্য মদন ভান্ডারিকে বিয়ে করেন তিনি।
১৯৯৩ সালে এক জিপ দুর্ঘটনায় মদন ভান্ডারির মৃত্যু ঘটে। একই বছর সংসদীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন বিদ্যা দেবী। কাঠমান্ডুর একটি উপনির্বাচনে তৎকালীন নেপালি কংগ্রেসের সভাপতি কৃষ্ণ প্রসাদ ভট্টরাইকে হারিয়ে তিনি জয়ী হন। এরপর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে ২০১৫ সালে নেপালের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন বিদ্যা দেবী ভান্ডারি। দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালনের পর, তিনি আবার সক্রিয় দলীয় রাজনীতিতে ফিরেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন