ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা মেডিকেল পরিদর্শন ঘিরে উচ্ছ্বসিত সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা


প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা মেডিকেল পরিদর্শন ঘিরে উচ্ছ্বসিত সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও হাসপাতালের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আগামী শনিবার (১১ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পরিদর্শনকালে তিনি স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘২০ হোস্টেল প্রকল্প’-এর আওতায় দু’টি ছাত্রী হোস্টেলের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এছাড়া, বৃক্ষরোপণ এবং এক আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করবেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বর্তমানে নানা প্রস্তুতি চলছে। সাবেক এবং বর্তমান শিক্ষার্থীরা এই পরিদর্শনকে মিলনমেলার সঙ্গে তুলনা করছেন।

আরও পড়ুন: পূজামণ্ডপে মুসলমানদের উপস্থিতি সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ: খাদ্যমন্ত্রী

তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন ডিএমসিয়ান পরিবারকে উচ্ছ্বসিত করেছে। এ সফরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।

শিক্ষার্থীদের মতে, দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠান নানা সংকটেও নীরবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এই আগমন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদেরও আরও উৎসাহিত করবে। একইসঙ্গে, প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমানের উপস্থিতি তাদের কাছে বিশেষ আনন্দের বিষয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা -কে বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও এ প্রতিষ্ঠানের অবদান অত্যন্ত অবিস্মরণীয়।

তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঢাকা মেডিকেলের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বহু পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রিয় ক্যাম্পাসে আসছেন, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত আবেগঘন এবং আনন্দের।

আরও পড়ুন: ভারতের পথে যুব মহিলা লীগ নেত্রী সুলতানা বেগম আটক

ঢামেক শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. বেলাল হোসেন নাজিম বলেন, ‘দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিরলস কাজ করার অঙ্গীকার আমাদের অনুপ্রাণিত করে। বর্তমান সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপ সুপরিকল্পিত এবং আধুনিক। ঢাকা মেডিকেলে প্রধানমন্ত্রীর আগমন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মকর্তাদের আরও অনুপ্রাণিত করবে বলেই আমি বিশ্বাস করি।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদর সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এবং কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মাহমুদুর রহমান নোমান বলেন, ‘আগামী ১১ জুলাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগমন ডিএমসিয়ানদের জন্য গৌরব, আবেগ এবং নতুন আশার বার্তা নিয়ে আসবে। এই আয়োজন আমাদের ঐতিহ্যকে নতুনভাবে তুলে ধরবে এবং তরুণ প্রজন্মকে দায়িত্বশীল নেতৃত্বে উদ্বুদ্ধ করবে।’

তিনি বলেন, ২০০১-০২ সালে ঢামেকসুর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কর্মস্পৃহা তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।

ঢামেক শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. বাদশা বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ শুধু দেশের সর্ববৃহৎ চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয়, প্রতিটি জাতীয় সংকট, দুর্যোগ, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং মানবিক বিপর্যয়ে মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ছাত্রদলের একজন সাবেক কর্মী এবং এই প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর সহধর্মিণীর ঢাকা মেডিকেল পরিদর্শনকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই।

আরও পড়ুন: গ্রীষ্মের আগেই ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও এই প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থী। এ সফরের মাধ্যমে ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসা, শিক্ষা, গবেষণা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন আরও বেগবান হবে এবং দেশের স্বাস্থ্যখাতকে আধুনিক, মানবিক ও জনমুখী করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এমবিবিএস কোর্সের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাকিবুল হাসান বাসস’কে বলেন, ‘নিজ ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রীকে পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এ সুযোগে স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয় তাঁর কাছে সরাসরি তুলে ধরতে পারব। আমরা বিশ্বাস করি, তিনি বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবেন এবং অন্যান্য খাতের মতো স্বাস্থ্যখাতকেও আরও এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।’

উল্লেখ্য, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ১৯৪৬ সালের ১০ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয়। রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত এ সরকারি মেডিকেল কলেজ বর্তমানে দেশের অন্যতম শীর্ষ চিকিৎসাবিজ্ঞান বিষয়ক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এখানে স্নাতক পর্যায়ে পাঁচ বছর মেয়াদি এমবিবিএস এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

আরও পড়ুন: ‘ভাই ফটো তুললেন না, বিজিবি দেখলে বিপদ’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্থানীয় নির্বাচনে ১২ ফেব্রুয়ারির অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় নির্বাচন কমিশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:০৫ এম


স্থানীয় নির্বাচনে ১২ ফেব্রুয়ারির অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় নির্বাচন কমিশন

প্রেক্ষাপট আলাদা হলেও আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করতে চায় নির্বাচন কমিশন। ভোটকেন্দ্র স্থাপন থেকে শুরু করে সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

বুধবার (৮ জুলাই) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে নির্বাচন নিয়ে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সংলাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা উল্লেখ করেন।

এসময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবজারভেশন মিশনের সুনির্দিষ্ট ১৯টি প্রস্তাবনার কথা জানিয়ে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচন কমিশন পরামর্শগুলোকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে। একইসাথে, সামনের দিনগুলোতে ইইউর সঙ্গে বিষয়গুলো সুষ্ঠুভাবে সমন্বয় করা হবে।

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালায় কাজ চলছে। ইসির দক্ষতা এবং পর্যবেক্ষকদের প্রস্তাবিত বিষয়গুলো সঠিকভাবে আমলে নিলে সামনে ভালো কিছু সম্ভব হবে।

এসময় ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় আগামীতেও সম্পৃক্ত থাকতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তারা নারী, সংখ্যালঘু ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে কীভাবে আরও বেশি নির্বাচনব্যবস্থায় সম্পৃক্ত করা যায়, সেটি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ-পাকিস্তান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:০৯ এম


বাংলাদেশ-পাকিস্তান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ

বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ বৈঠকে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ, আধুনিক নগর নিরাপত্তা, পুলিশ বাহিনীর পেশাগত প্রশিক্ষণ এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের ওপর সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হল এ বৈঠক, যেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির ইন্টেরিয়র ও মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভী।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (উপপ্রধান তথ্য অফিসার/পরিচালক) ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিষয়বস্তু জানানো হয়েছে।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা সহযোগিতা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ, আধুনিক নগর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

আলোচনার শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ চলতি বছরের মে মাসে পাকিস্তানের ইন্টেরিয়র মন্ত্রীর সফল বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে স্মরণ করেন। তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ওই সফরের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অবৈধ পাচার এবং অপব্যবহার রোধে যে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে, তা দুই দেশের সীমান্ত ও সমাজে সুরক্ষা প্রদানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, দুই দেশের অভিন্ন ইতিহাস এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় করার উদ্দেশ্যে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

দীর্ঘ ১৪ বছর বিরতির পর চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে ঢাকা-করাচি রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর বিষয়ে তিনি আরো বলেন, এর ফলে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের মানবিক সংকটের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করেন।

তিনি জানান, প্রয়োজনীয় পারিবারিক নথিপত্রের (Family Tree) অভাবে অনেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পাকিস্তানি নাগরিক এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা দেশটির ‘কম্পিউটারাইজড ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড’ (CNIC) পাওয়ায় জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন। এর ফলে তারা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বিষয়টিকে সম্পূর্ণ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করার এবং দ্রুত স্থায়ী সমাধানের জন্য পাকিস্তানের মন্ত্রীকে বিশেষ অনুরোধ জানান।

নগর নিরাপত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সফল অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের ৪০টিরও বেশি প্রধান শহরে বাস্তবায়িত ‘সেফ সিটি’ (Safe City) উদ্যোগ ও আধুনিক নগর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত অনুকরণীয় হতে পারে।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সিনিয়র সচিব (যিনি বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব) বিগত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের সফরে ইসলামাবাদ, লাহোর, মুলতান ও করাচির ‘সেফ সিটি’ মডেল সরেজমিনে পরিদর্শন করে এসেছেন। এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ হোক নিরাপত্তায় আরো উন্নত, পাকিস্তান কারিগরি এবং কৌশলগত সহযোগিতা প্রদান করতে পারে।

এদিকে, বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা বাড়াতে পুলিশ কর্মকর্তাদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য পাকিস্তানের সহযোগিতা কামনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গত অতীতে সৌদি আরবে অবস্থানরত অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের জটিল বিষয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে কাজ করেছে। আগামীতে এ ধরনের বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সংকটে দুই দেশের নিবিড় পরামর্শ ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, মায়ানমার যেন তাদের নাগরিকদের দ্রুত, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই উপায়ে ফিরিয়ে নেয়, সেজন্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পাকিস্তানের জোরালো ও ধারাবাহিক সমর্থন প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।

পাকিস্তানের ইন্টেরিয়র (স্বরাষ্ট্র) মন্ত্রী বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানালে তিনি ধন্যবাদ জানান। এছাড়া সুবিধাজনক সময়ে তিনি পাকিস্তান সফর করবেন বলেও জানান।

বৈঠকে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি প্রবাসীর ৭০ হাজার রিয়াল আত্মসাতের অভিযোগ, দেশে ফিরে প্রবাসীকে প্রাণনাশের হুমকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:১৪ এম


সৌদি প্রবাসীর ৭০ হাজার রিয়াল আত্মসাতের অভিযোগ, দেশে ফিরে প্রবাসীকে প্রাণনাশের হুমকি

সৌদি আরবে ব্যবসার কথা বলে এক প্রবাসীর ৭০ হাজার সৌদি রিয়াল (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬ লাখ টাকা) আত্মসাতের পর দেশে ফিরে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার বাসিন্দা আবু জাফর মোহাম্মদ ফারুকের বিরুদ্ধে।

বুধবার (৮ জুলাই) সকালে চৌমুহনী প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী প্রবাসী তাজুল ইসলাম লিটন।

তাজুল ইসলাম লিটন অভিযোগ করে বলেন, সৌদি আরবে অবস্থানকালে মোহাম্মদ ইউসুফের সঙ্গে তার ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে ব্যবসায় অংশীদার করার আশ্বাসে ইউসুফকে নগদ ৭০ হাজার রিয়াল দেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও তাকে ব্যবসায় অংশীদার করা হয়নি এবং কোনো লাভও দেওয়া হয়নি। পরে টাকা ফেরত চাইলে ইউসুফ নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন। স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশ-বৈঠকেও কোনো সমাধান না হওয়ায় সৌদি আরবের আদালতে মামলা করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত তার পক্ষে ৫০ হাজার রিয়াল ফেরত দেওয়ার রায় দেন। কিন্তু অভিযুক্ত উচ্চ আদালতে আপিলের কথা বলে সময় নিলেও শেষ পর্যন্ত কোনো আপিল না করে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী টাকা পরিশোধ না করেই বাংলাদেশে চলে আসেন।

তিনি আরও বলেন, দেশে ফিরে পাওনা টাকা চাইতে গেলে অভিযুক্ত ও তার সহযোগীরা উল্টো তাকে এবং তার পরিবারকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছেন। পাশাপাশি প্রাণনাশেরও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এতে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে তার কষ্টার্জিত অর্থ উদ্ধার এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবু জাফর মোহাম্মদ ফারুকের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তিন দেশের সঙ্গে ড্রোন চুক্তি স্বাক্ষর করলেন জেলেনস্কি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:২০ এম


তিন দেশের সঙ্গে ড্রোন চুক্তি স্বাক্ষর করলেন জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছেন যে, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া ও নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে একসঙ্গে দেশের একটি নতুন ড্রোন চুক্তি সই হয়েছে। এসব নতুন চুক্তির মাধ্যমে রাশিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনের অর্জিত প্রযুক্তিগত দক্ষতার যথাযথ ব্যবহার করা হবে।

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এক পোস্টে জানান, এর মাধ্যমে ইউক্রেনের মোট ড্রোন চুক্তির সংখ্যা নবমবারে পৌঁছেছে। রাশিয়ার আগ্রাসনের শুরুতে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে, ইউক্রেনের ড্রোন সক্ষমতা অত্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু গত কয়েক বছরের মধ্যে দেশটি একটি অত্যাধুনিক ড্রোন শিল্প গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে।

জেলেনস্কি এসব চুক্তির জন্য বিভিন্ন দেশে সফর করেছেন, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। সেখানে উপসাগরীয় দেশগুলো সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। ডেনমার্কের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, এই সমঝোতা যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদন, প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময় এবং অস্ত্র রপ্তানিতে আরো স্বচ্ছতা ও সহযোগিতার অনেক সুযোগ সৃষ্টি করবে।

তিনি জানান, ইউক্রেনে যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদনের পরিকল্পনা প্রথম ডেনমার্কের কাছ থেকেই এসেছে। তাই যুদ্ধের সময় কার্যকারিতা প্রমাণিত ইউক্রেনীয় অস্ত্র রপ্তানির সুযোগ ডেনমার্কের জন্য প্রাসঙ্গিক এবং যৌক্তিক।

ন্যাটো সম্মেলনের প্রথম দিন শেষে জেলেনস্কি আরও জানান, ইউক্রেনের এই সম্মেলনে অংশ নেওয়ার অধিকার ন্যায্য। তিনি উল্লেখ করেন, কিয়েভের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে আরো শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমর্থনকে আরও জোরালো করা। গত সপ্তাহে কিয়েভে দুটি হামলার পর তিনি রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন। সর্বশেষ হামলায় রাজধানী কিয়েভে ১৯ জন নিহত হয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%