বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৪৪ পি.এম
আসন্ন ফুটবল মৌসুমের প্রেক্ষাপটে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনী লিমিটেড। পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের মিডফিল্ডার মঈন আহমেদের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করার পর, এবার তারা সাবেক গোলকিপিং কোচ মুহাম্মদ আসলাম খানকে নিজেদের কোচিং প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত করেছে আকাশি-নীল শিবির।
এটি জানা গেছে যে, ২০২৬-২০২৭ বাংলাদেশ ফুটবল লিগ মৌসুমের জন্য আবাহনী কর্তৃপক্ষ আসলাম খানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে তার ভিসা প্রক্রিয়া চলছে এবং ভিসা হাতে পেলেই তিনি ঢাকায় এসে ক্লাবের কোচিং প্যানেলে যোগদান করবেন।
আরো পড়ুন
ইউরোপের বড় দলগুলোর নতুন কোচদের পরীক্ষা শুরু, নজরে ফরাসি কিংবদন্তি।
আসলাম খান পাকিস্তানের জাতীয় দলের গোলকিপিং কোচ হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন। हाल ही में পাকিস্তানের জাতীয় ফুটবল দলের কোচিং প্যানেলে পরিবর্তন আসায় তিনি বাদ পড়েন।
এদিকে, দেশের অন্যতম সেরা ট্যাকটিশিয়ান মারুফুল হককে টানা তৃতীয় মৌসুমের জন্য প্রধান কোচ হিসেবে বহাল রেখেছে আবাহনী। স্কোয়াড ও কোচিং কাঠামো পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সাবেক বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার শহীদ হোসেন স্বপনকে ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরো পড়ুন
টি-টোয়েন্টিতে লজ্জার রেকর্ড গড়লেন অভিষেক শর্মা।
ক্লাবটি গত দুটি বাংলাদেশ লীগ আসরে রানার্স-আপ হয়েছিল এবং ২০২৬-২০২৭ মৌসুমে ঘরোয়া শিরোপার জন্য তারা আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায়।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, চলতি মাসের শুরুতে আবাহনী পাকিস্তান জাতীয় দলের ২২ বছর বয়সী উইঙ্গার ও মিডফিল্ডার মঈন আহমেদকে দলে ভেড়ায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হওয়ার আগে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা এসেছে। তরুণ ফাস্ট বোলার কুয়েনা মাফাকা হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে সিরিজ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
মাফাকার ইনজুরির পূর্বে, প্রথম সারির দুই পেসার কাগিসো রাবাদা ও লুঙ্গি এনগিদি ইতিমধ্যেই অনুপস্থিত ছিলেন, যাঁরা দুজনই হ্যামস্ট্রিং সমস্যায় ভুগছেন। এর ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার পেস আক্রমণ কার্যত ভেঙে পড়েছে।
মাফাকার পরিবর্তে লিজাদ উইলিয়ামসকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে অটনিল বার্টম্যান এবং পিঠের চোটে নান্দ্রে বার্গারও দলের বাইরে থাকায় দক্ষিণ আফ্রিকার সিম আক্রমণ আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
সিরিজের প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার ডারবানে। দ্বিতীয় ম্যাচ রবিবার জোহানেসবার্গে এবং তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ ৩০ সেপ্টেম্বর পচেফস্ট্রুমে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে চীন ছেড়েছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করার জন্য। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেইজিং থেকে তাঁর রওনা হওয়ার খবর দিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ট্রাম্পের আমন্ত্রণে ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফর করবেন শি।
শি জিনপিং সফরের সময় ট্রাম্পের সঙ্গে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, বিশ্বশান্তি এবং উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। বেইজিংয়ের মতে, ছয় মাসের মধ্যে দুই নেতার দ্বিতীয় পারস্পরিক সফরটি সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় কৌশল গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষক ও গবেষণা বিভাগের পরিচালক কিয়ান ফেং মনে করেন, শির এই সফর বিশ্ববাজারের প্রত্যাশা এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, দুই নেতার সরাসরি যোগাযোগ চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বাড়াতে এবং বাজারে অনিশ্চয়তা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
কিয়ান ফেং আরও বলেন, ছয় মাসের মধ্যে ট্রাম্প ও শির দ্বিতীয় বৈঠক কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে দুই পক্ষ নিজেদের স্বার্থ ও সীমারেখা স্পষ্ট করার পাশাপাশি মতপার্থক্য নিয়ন্ত্রণের জন্য যোগাযোগের ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে পারে।
তাঁর মতে, দুই দেশের মধ্যে নতুন কিছু সহযোগিতা চুক্তি বা সমঝোতা হলে অর্থনৈতিক পারস্পরিক নির্ভরতা আরও গভীর হতে পারে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের সম্পর্ক পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার ধারণার বিপরীতে বাস্তব সহযোগিতার সুযোগ বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞ কিয়ান ফেং মনে করেন, বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে। জনস্বাস্থ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিয়ন্ত্রণ এবং বৈশ্বিক জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুল্ক, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন বাধা এখনো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। কিয়ান ফেং মনে করেন, এসব কাঠামোগত সমস্যা সমাধান করে বাস্তব সহযোগিতা বাড়ানো গেলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও স্থিতিশীল হতে পারে।
শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং অন্যান্য যোগাযোগ নিয়েও আলোচনা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। নিরাপত্তাকেন্দ্রিক নীতির কারণে শিক্ষার্থী বিনিময় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সহযোগিতা কমেছে, যা পুনরুদ্ধারে দুই পক্ষের উদ্যোগ প্রয়োজন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ ও সহযোগিতা বাড়াতে, মতপার্থক্য যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণের পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধিতে অবদান রাখতে আগ্রহী। তথ্যসূত্র: তাস, এএফপি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার অ্যাশলি নফকে পাকিস্তানের সাদা বলের বোলিং কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদত্যাগের বিষয়ে অবহিত করেছেন। তবে, জাপানে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান গেমস পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন।
নফকে নেদারল্যান্ডস ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি রায়ান কুকের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন, যিনি পরিবারের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর জন্য পদত্যাগ করেছেন। খবর দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
নফকে প্রায় ১৬ মাস ধরে পাকিস্তানের হয়ে এই দায়িত্ব পালন করেছেন। এদিকে, পিসিবি পুরুষ জাতীয় দলের বোলিং কোচের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের জনগণ যখন নানা সংকটে রয়েছে, তখন প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্যদের আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি মন্তব্য করেন, ‘গোটা সমাজ একটি সংকটের মধ্যে রয়েছে। আর আমরা সংসদ সদস্যরা আমাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াবো? এটা প্রশ্নই ওঠে না। সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে, এ ধরনের কোনো উদ্যোগ যেন গ্রহণ না করা হয়। যদি হয়, তাহলে আমরা সুস্পষ্টভাবে বিরোধিতা করবো।’
বুধবার রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিট সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘আমরা সংসদ সদস্য হতে গিয়েছি জনগণের প্রয়োজনে, বেতনের বিনিময়ে সংসদ সদস্যগিরি করতে যাইনি। ১৮ কোটি মানুষের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হলে তখন সবার সঙ্গে অংশীদার হতে আমাদের আপত্তি থাকবে না।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে জামায়াতে ইসলামী সরকারি প্লট না নেওয়া এবং শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। পরে সংসদে এ বিষয়ে সিদ্ধান্তও হয়েছে।’
‘আমরা বলেছিলাম, সরকারি প্লট নেবো না। সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি কেনার সুযোগ আছে, সেটাও নেবো না। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা পেরেছি। সরকারি দলও একই সিদ্ধান্ত নেয়ায় তাদের অভিনন্দন জানিয়েছি,’ বলেন তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘তারা সংসদকে জনগণের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চান। আমাদের কপাল-কিসমত গড়ার জন্য আমরা সংসদে যাইনি। সরকারি দল হোক, বিরোধী দল হোক- সবাই বলেছেন, আমি শাসক নই, সেবক হতে চাই। তাহলে শাসকের মানসিকতা থাকবে কেন? সেবকের মানসিকতা থাকা উচিত।’
সংসদে বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের নোটিশ আলোচনার সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘জ্বালানি, সার, বিদ্যুৎ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিশু ধর্ষণ ও হত্যা এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তারা দফায় দফায় নোটিশ দিয়েছেন। কিন্তু সব নোটিশ আলোচনায় আনা হচ্ছে না।’
তিনি জানান, ‘একটি অধিবেশনে তেলের সংকট নিয়ে তাদের নোটিশের পর সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের পাঁচজন করে সদস্য নিয়ে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল।’ তার মতে, কমিটি গঠনের পর মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া আতঙ্কও কমে যায়।
দেশের শিল্প ও বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, উৎপাদন কমে গেলে শিল্পমালিকেরা সংকটে পড়বেন, শ্রমিক ছাঁটাই হতে পারে। এতে শুধু শ্রমিক নয়, তাদের পরিবারও অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পড়বে।
‘একজন লোক বিপদে পড়ার মানে একটা পরিবার বিপদে পড়া। তার সন্তানদের লেখাপড়া, খাওয়া-দাওয়া, চিকিৎসা- সবকিছুই বিপদে পড়ে যায়। এই জায়গাগুলো সত্যকে সত্য হিসেবে তুলে ধরা না হলে আমরা জনগণের স্বার্থ রক্ষা করতে পারব না,’ বলেন তিনি।
জামায়াতের সাম্প্রতিক লংমার্চ নিয়ে সমালোচনার জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, ‘কর্মসূচিগুলো শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খলভাবে পালন করা হয়েছে।’ কর্মসূচি বানচাল করতে কেউ আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে থাকলে তার দায় তাদের বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমি আগামীকাল লংমার্চ করবো, আর আজকে ককটেল ফুটাবো, বাসে আগুন দেবো, ঢাকাকে অস্থির করবো- এটা কোনো পাগলও করবে না। আমি তো চাইবো আমার কর্মসূচি সফল হোক।’
জামায়াতের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যানবাহনে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি বানচাল করার জন্য যদি কেউ এ ধরনের প্যানিক পরিস্থিতি তৈরি করে থাকে, দায় তাদের।’
সাম্প্রতিক জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এক লিটার জ্বালানির দাম ২০ টাকা বাড়লে এর প্রভাব শুধু গাড়িচালকের ওপর পড়ে না; পরিবহন ব্যয়, পণ্য পরিবহন ও বাজারদরেও এর প্রভাব পড়ে।’
তিনি বলেন, ‘বাইক চালক যে চাকরির পয়সা দিয়ে চলে, বাইক চালাতে হয়- সেই ভাইটা বোঝে ২০ টাকা বাড়লে তার কী হয়েছে। যাত্রীদের ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়ে। পণ্য পরিবহনে সরাসরি প্রভাব পড়ে। বাজারে সবকিছুর দাম বেড়ে যায়।’
সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের স্বার্থে গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরতে হবে।’ তার অভিযোগ, কখনো কখনো কোনো বক্তব্যের অংশবিশেষ নিয়ে ‘ফটোকার্ড’ তৈরি করে প্রচার করা হয়, এতে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
তিনি বলেন, ‘আমি ইন্টারভিউতে যা বলি, ফটোকার্ডে তা আসে না। মিসলিড করা হয়। কাটপিস—লেজ নাই, মাথা নাই, মাঝখান থেকে শুধু পেট উঠিয়ে দেয়া হয়। এর মাধ্যমে মানুষ কনফিউজড হয়।’
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো গণমাধ্যমের ওপর অসঙ্গত আচরণ হলে সেটিও সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরা প্রয়োজন। এতে সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য রাজনৈতিক দলগুলো একটি রেফারেন্স পাবে।
‘আপনাদের হাউস আপনি বলবেন না, তো আরেক হাউস বলুক। কেউ না কেউ বলুক। জিনিসটা যখন সারফেসে আসবে, তখন আমরা কথা বলার সুযোগ পাব,’ বলেন তিনি।
গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, গণমাধ্যম ঠিক থাকলে রাষ্ট্রের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিও শক্তিশালী থাকে।
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের তিনটা সাংবিধানিক স্তম্ভ-সংসদ, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ। সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত না হলেও এই তিনটার চেয়ে পাওয়ারফুল মিডিয়া। মিডিয়া ঠিক থাকলে বাকি তিন পিলারের মেরুদণ্ড সোজা থাকবে।’
গণমাধ্যমের মালিক ও সাংবাদিকদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। সাংবাদিকদের বেতন-বোনাস ও অন্যান্য অধিকার নিয়ে সংসদের ভেতরে এবং বাইরে কথা বলার আশ্বাস দেন।
সাংবাদিকদের নিজেদের সংগঠনের মাধ্যমে সমস্যাগুলো লিখিতভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এসব সমস্যা পেলে তাদের পক্ষে সংসদে ও সংসদের বাইরে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা সহজ হবে।’
বিদেশ সফরের প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতা হওয়ার পর বিভিন্ন দেশে সফরে গেলেও তিনি সরকারি খরচে যাননি।’ রাষ্ট্রীয় অর্থের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চান না বলেও জানান তিনি।
নিজের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি বাসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সেটি তাকে স্থায়ীভাবে দেয়া হয়নি; সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালনের জন্য ব্যবহারের সুযোগ দেয়া হয়েছে।’ সেখানে বিভিন্ন কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, সংগঠন ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিনি বৈঠক করেন বলে জানান।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা'ছুম, মাওলানা আব্দুল হালিম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল ইসলাম খান মিলন, মোবারাক হোসাইন, মোয়াযম হোসাইন হেলাল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ও সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ দলটির কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ