সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:০৬ পি.এম
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পলাতক সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মনিরুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী সাবেক অতিরিক্ত সচিব সায়লা পারভিনসহ চার জনের বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে ৩৮ কোটি টাকা অর্জনের অভিযোগে দুটি মামলা দায়ের করেছে। মামলার অন্য দুই আসামি মনিরুলের শ্যালক ও তার স্ত্রী।
রোববার, রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির উপ-পরিচালক মোজাম্মেল হক এই তথ্য প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুলের বিরুদ্ধে কুয়েতের দুটি এনজিওর অর্থ আত্মসাৎ এবং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আগে এসবি অফিস থেকে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্ত চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পূর্ববিরোধের কারণে ইউসুফ হোসেন নামের এক মোটরসাইকেল রাইডারকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার, উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের আমজাদের বাজারে এই ঘটনাটি ঘটে। নিহত ইউসুফ কনকাপৈত বাজারের নিকটবর্তী কনকাপৈত দক্ষিণ পাড়ার ব্যাংক কর্মকর্তা কাজী একরামের ছোট ভাই ছিলেন।
স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন মজুমদার দুপুরে ইউসুফের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। নিহত কাজী মো. ইউসুফ এলাকায় ইসলামী সংগীতশিল্পী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তবে সম্প্রতি জীবিকার তাগিদে মোটরসাইকেল রাইডার হিসেবে কাজ শুরু করেন।
স্থানীয় সূত্র ও নিহতের স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত দুই-তিন দিন আগে কনকাপৈত স্কুল মাঠে বালু লোড-আনলোড নিয়ে বাতিসা ইউনিয়নের আমজাদের বাজারের 'ফারিহা এন্টারপ্রাইজ'-এর স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম আজাদের মালিকানাধীন ট্রাক্টরচালকের সঙ্গে ইউসুফের বাকবিতণ্ডা হয়। ওই সময় আবুল কালাম আজাদ ইউসুফকে আমজাদের বাজারের সীমানায় না যাওয়ার জন্য হুমকি দেন।
সোমবার সকালে কাজী ইউসুফ যখন আমজাদের বাজারে যান, তখন ফারিহা এন্টারপ্রাইজের আবুল কালাম আজাদ ও তাঁর সঙ্গীরা তাঁর ওপর হামলা চালান। হামলার ফলে ইউসুফ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে খবর পেয়ে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী জানান, ‘ইউসুফ হোসেন নামে অসুস্থ এক ব্যক্তিকে স্বজনরা হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় পাঠানো হয়।’
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন জানান, ‘ট্রাক্টরে বালু লোড-আনলোড নিয়ে কাজী ইউসুফ নামের এক ব্যক্তির বাকবিতণ্ডা হয়েছিল। সকালে আমজাদের বাজারে গেলে তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে; তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।’
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে কৃপেশ রায় (৪০) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলার উত্তর বাদাঘাট ইউনিয়নের রাজারগাঁও গ্রামসহ এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে অভিযুক্ত কৃপেশ রায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত কৃপেশ রায় রাজারগাঁও গ্রামের শ্রী ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র রায়ের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য ছিলেন বলে এলাকায় পরিচিত। তবে তিনি বর্তমানে চাকরিতে আছেন, নাকি অব্যাহতি নিয়েছেন এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও মুসল্লিদের দাবি, গত রবিবার (২৫ অক্টোবর) কৃপেশ রায়ের নামে পরিচালিত ‘Kripash Ray’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে মহানবী (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কৃপেশ রায় দাবি করেছেন, পারিবারিক জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাঁর চাচাতো ভাই পন্টি রায় তাঁকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে তাঁর ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে অথবা ভুয়া পোস্ট দিয়ে এ ধরনের মন্তব্য করেছেন। এ বিষয়ে আইনি সুরক্ষা চেয়ে সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে তিনি নিজেই তাহিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানা গেছে।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ জানান, কৃপেশ রায় দাবি করেছেন, একটি চক্র তাঁকে ফাঁসানোর জন্য এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনাটির সত্যতা যাচাই এবং দায়ী ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জলবায়ু পরিবর্তন এবং মারাত্মক উদ্ভিদ রোগের আক্রমণের কারণে বিশ্বজুড়ে কলা চাষ বর্তমানে এক ভয়াবহ সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, ক্যাভেন্ডিশ জাতের কলা বর্তমানে অস্তিত্বের জন্য লড়াই করলেও সংকট কাটিয়ে ফলটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য নতুন আশার দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
বিশ্বের জনপ্রিয় ফলগুলোর মধ্যে টমেটোর পরেই কলার অবস্থান রয়েছে। প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৩ কোটি ৯০ লাখ টন কলা উৎপাদিত হয়।
কলার এক হাজারের বেশি জাত বিদ্যমান, কিন্তু বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষের ফলের পাত্রে মূলত ক্যাভেন্ডিশ জাতের কলাই দেখা যায়। ১৯৫০-এর দশক থেকে পানামা রোগের কারণে ‘গ্রোস মিশেল’ জাতের কলা হারিয়ে যায়। এরপর বাজারে এই ‘ক্যাভেন্ডিশ’ জাতটি দখল করে নেয়। এই সময় বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত এই কলা মূলত প্রজননে অক্ষম ক্লোন হওয়ায় সব গাছের জিন একই এবং রোগ সংক্রমণের ঝুঁকিও সমান।
বর্তমানে ক্যাভেন্ডিশ জাতটি ট্রপিক্যাল রেস ৪ বা টিআর৪ নামক রোগের হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। নরউইচের আর্লহ্যাম ইনস্টিটিউটের ফসলের জিনোমবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ড. হোসে দে ভেগা জানান, এই রোগ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে ছড়িয়ে অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং লাতিন আমেরিকায় পৌঁছেছে।
তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগজনক খবরটি আসে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, বিশ্বের শীর্ষ কলা রপ্তানিকারক দেশ ইকুয়েডর থেকে।
ড. ভেগার মতে, এই রোগ বিশ্বজুড়ে কলার সরবরাহকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে, যা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের লাখো মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা ও জীবিকার জন্য একটি বড় হুমকি। গুয়াতেমালা থেকে মালাবি পর্যন্ত চাষিরা এই প্রভাবে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। তবে এই বিপর্যয় ঠেকাতে গবেষকরা নতুন সাফল্যের দাবি করেছেন।
শীর্ষস্থানীয় কলা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান চিকুইটা এবং ফসল উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা কি-জিনের যৌথ গবেষণা উদ্যোগ ‘ইয়েলোওয়ে’ জানিয়েছে, তারা প্রজননক্ষম ক্যাভেন্ডিশ কলার একটি জাত উদ্ভাবন করেছে। এর মাধ্যমে সংকরায়ণের সাহায্যে রোগ প্রতিরোধী এবং বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক নতুন জাতের কলা তৈরির পথ প্রশস্ত হয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় সাজেকের সার্বিক পরিস্থিতি, স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন সমস্যা ও জননিরাপত্তা নিয়ে হেডম্যান ও কারবারিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদের মিনি সম্মেলন কক্ষে এ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন মজুমদার, সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন, রাঙ্গামাটি থেকে আগত ১০৬ নং কামিলাছড়ি মৌজার হেডম্যান ভবতোষ দেওয়ান, ৩ নং লংগদু মৌজার হেডম্যান কল্যাণ মিত্র চাকমা এবং বিলাইছড়ি উপজেলার ১২৪ নং নাড়াইছড়ি মৌজার হেডম্যান শান্তি বিজয় চাকমাসহ বিভিন্ন এলাকার হেডম্যান ও কারবারিরা। এছাড়া সভায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সাজেকের বর্তমান পরিস্থিতি, স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন সমস্যা এবং জননিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমেনা মারজান মন্তব্য করেন, "সভায় বাঘাইছড়ির হেডম্যান ও কারবারিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছি। সরকারি সুবিধাভোগী হেডম্যান ও কারবারি কেউ কি এই আন্দোলন আছেন কিনা।" তিনি আরও জানান, হেডম্যান কারবারিরা জানিয়েছেন, "যারা আন্দোলন করছেন তারা কেউ সরকারি সুবিধাভোগী বা কারবারি নন।"
এছাড়াও অনেক বিষয়ের উপর আলোচনা হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয়দের সঙ্গে সভা হবে। আশা করছি ভালো কিছু হবে। উক্ত সভায় রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি এমপি, ডিসি এসপিগণ অংশ গ্রহণ করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ