মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৫৩ পি.এম
রাজধানী ঢাকায় ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড এবং অন্যান্য আকস্মিক দুর্যোগের মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত শহর প্রতিরক্ষা দল (টিডিপি) স্বেচ্ছাসেবকদের কাজে লাগানোর লক্ষ্যে আনসার-ভিডিপি ও ফায়ার সার্ভিসের মধ্যে সমন্বয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকার খিলগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ড, জোন এবং থানা এলাকায় প্রশিক্ষিত টিডিপি স্বেচ্ছাসেবকদের দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়। তাদের প্রশিক্ষণ এবং মোতায়েন ব্যবস্থাপনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এছাড়া আনসার-ভিডিপির স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ককে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানোর সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
আনসার-ভিডিপির ডিজিটাল ডাটাবেজে থাকা প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের দুর্যোগের সময়ে প্রথম সাড়াদানকারী হিসেবে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তারা দ্রুত সাড়া দেওয়ার পাশাপাশি উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ এবং মানবিক পুনর্বাসন কার্যক্রমে অংশ নিতে সক্ষম হবেন।
বৈঠকে প্রস্তাবিত এক লাখ টিডিপি স্বেচ্ছাসেবী সদস্যকে আনসার-ভিডিপির মৌলিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড এবং অন্যান্য আকস্মিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ দেওয়ার রূপরেখা নিয়েও আলোচনা হয়। এর মাধ্যমে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবী সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং অগ্নিনির্বাপণসহ জরুরি পরিস্থিতিতে দুই বাহিনীর সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। মাঠপর্যায়ে পেশাদারিত্ব বাড়াতে প্রশিক্ষণ সহায়তা এবং কৌশলগত তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়েও দুই বাহিনীর মহাপরিচালক আলোচনা করেন।
ভবিষ্যতে জাতীয় সংকট এবং মানবিক দুর্যোগ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার কাজ শেষে উপকূলে ফেরার সময় বরগুনার তালতলীর একটি মাছ ধরার ট্রলার প্রচণ্ড ঢেউয়ের কারণে ডুবে গেছে। ট্রলারে অবস্থানরত ১৩ জেলের মধ্যে ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, এখনও দুই জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে সাগরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিখোঁজ জেলেদের মধ্যে তালতলী উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের বড় ভাইজোড়া এলাকার মো. মনির হোসেনের ছেলে মো. রাকিব (১৯) এবং নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের পাওয়াপাড়া এলাকার হরমুজ আলী হাওলাদারের ছেলে মো. নবী হোসেন (৪৫) অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া ১১ জেলের মধ্যে ছয়জন তালতলী উপজেলার, চারজন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার এবং একজন খুলনা জেলার বাসিন্দা।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তালতলী উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের সওদাগরপাড়া এলাকার আল-আমিন ও গোলাম রাব্বির যৌথ মালিকানাধীন ‘এফবি জান্নাত-জুনায়েদ’ নামের ট্রলারটি গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে পটুয়াখালীর মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে ১৩ জেলেকে নিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে যায়।
সোমবার সাগরের আবহাওয়া খারাপ হয়ে উঠলে জেলেরা ট্রলার নিয়ে উপকূলে ফিরতে শুরু করেন। মঙ্গলবার সকালে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরে পৌঁছালে প্রচণ্ড ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারটি উল্টে যায় এবং ডুবে যায়।
দুর্ঘটনার পর সাগরে ভাসমান ১১ জেলেকে অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলার এসে উদ্ধার করে। পরে তারা ওই ট্রলারে নিরাপদে উপকূলে ফিরে আসেন। তবে নিখোঁজ দুই জেলের সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি।
উদ্ধার হওয়া জেলে ও ট্রলারের মালিক মো. আল-আমিন জানান, ‘প্রচণ্ড ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারটি হঠাৎ উল্টে যায়। আমরা ১১ জন সাঁতরে বের হতে পারলেও ভেতরের কেবিনে দুজন আটকে পড়েন। পরে সাগরে ভাসতে থাকা অবস্থায় অন্য একটি ট্রলার আমাদের দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে। তবে সাগর প্রচণ্ড উত্তাল থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে নিখোঁজ দুজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।’
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, ‘দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। নিখোঁজ দুই জেলেকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া জেলেদেরও খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা গোয়াইনঘাটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে থানা পুলিশের কঠোর অবস্থান রয়েছে।
গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওমর ফারুকের নির্দেশনায় গত ৩ জুলাই থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮১ দিনের মধ্যে বিভিন্ন অপরাধে ২৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এ সময়ের মধ্যে মাদক মামলায় ৩২ জন, চোরাচালান মামলায় ২৩ জন, জিআর পরোয়ানায় ৬১ জন, জিআর সাজায় ১৩ জন, সিআর পরোয়ানায় ৪০ জন, সিআর সাজায় ১১ জন এবং নিয়মিত মামলায় ৬৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২৮টি মাদক মামলায় ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসব অভিযানে উদ্ধার করা হয় ১৬০ লিটার চোলাই মদ, ২ হাজার ৫৭৫ বোতল ভারতীয় এসকাফ কফ সিরাপ, ১৬৭ বোতল ও ৪২ ক্যান বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় মদ, ১ হাজার ৬৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৬১ দশমিক ৫ পুরিয়া গাঁজা। উদ্ধার করা এসব মাদকের আনুমানিক মূল্য ৬০ লাখ টাকার বেশি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গোয়াইনঘাট সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ায় চোরাচালান রোধেও কঠোর অবস্থানে রয়েছে থানা পুলিশ। ১৭টি চোরাচালান মামলায় ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় চোরাই পণ্য ও চোরাচালানে ব্যবহৃত যানবাহন জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৩ লাখ ১২ হাজার ৫০০ শলাকা ভারতীয় নাসির বিড়ি, যার আনুমানিক মূল্য ৫ লাখ ২০ হাজার ২০০ টাকা; ১ হাজার ৯০০ কেজি ভারতীয় জিরা, যার আনুমানিক মূল্য ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা; ৯ হাজার ৮৭২ পিস বিভিন্ন কোম্পানির ভারতীয় চকলেট ও অন্যান্য সামগ্রী এবং ২২০ বোতল ভারতীয় অলিভ অয়েল, ডাবর আমলা হেয়ার অয়েল ও বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী। এছাড়া চোরাচালানে ব্যবহৃত একটি পুরোনো রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজি, একটি পিকআপ, একটি ডিআই পিকআপ, ইঞ্জিনচালিত কাঠ ও বারকি নৌকা এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, ধারাবাহিক অভিযানের ফলে মাদক ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে চাপ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে থানার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগও উঠেছে।
পুলিশের ভাষ্য, অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের কারণে একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে এসব অপপ্রচারে কান না দিয়ে অপরাধ দমনে অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, গোয়াইনঘাট উপজেলাকে মাদক, চোরাচালানসহ সব ধরনের অপরাধমুক্ত করতে থানা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান, কোনো অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দিয়ে অপরাধ দমনে পুলিশকে সহযোগিতা করুন। তিনি আরও বলেন, সীমান্ত অপরাধ দমন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি এবং কঠোর অভিযান ভবিষতেও অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসে, তখন দেশের মধ্যে খুন, সন্ত্রাস এবং বিদেশে অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড চলমান রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইয়ের পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।
মঙ্গলবার বিকালে শহরের চাষাঢ়ায় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ইসলামী যুব আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদ আল আমিন বুলবুল হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
রেজাউল করীম বলেন, "চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশবাসী সুন্দর বাংলাদেশ পাওয়ার আশা করেছিল; কিন্তু বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পর বাস্তবে তা হয়নি।" তিনি উল্লেখ করেন যে, বিগত সরকারের আমলের ধারাবাহিকতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। তাই দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং দুর্নীতিবাজদের প্রতিহত করার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, "যদি সরকার কোন ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিচ্ছি।"
এছাড়া, তিনি জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তা তুলে ধরে সরকারকে জনবান্ধব সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।
শহীদ জাহিদ আল আমিন বুলবুলের হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচারের জোর দাবি জানান এবং অবিলম্বে সিফাত বাহিনীর জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের দায়িত্বশীল বুলবুলের হত্যাকারীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, "আমার ভাইয়ের বিচার আদায় না করে আমরা কেউ রাজপথ ত্যাগ করবো না।"
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, "শহীদ বুলবুলের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না এবং যতদিন পর্যন্ত হত্যাকারীদের যথাযথ বিচার নিশ্চিত না হবে, ততদিন আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।" তিনি বলেন, "সরকার যদি অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতে কালক্ষেপণ বা টালবাহানা করে, তাহলে আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে।"
তিনি আরও বলেন, সারা দেশে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এর দায়ভার নিতে হবে। তিনি সংবিধান এবং আইন সংসদে কেবল চর্চা না করে, তা রাষ্ট্র যথাযথভাবে প্রয়োগ করার জন্য তাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চান।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন, সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ দ্বীন ইসলাম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি বাস এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশার মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে তিনজনের মৃত্যু ঘটেছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার লচনা এলাকায় সাতগাঁও হাইওয়ে থানার সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় ইতোমধ্যে শনাক্ত হয়েছে। তিনি শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভৈরবগঞ্জ বাজারসংলগ্ন মাজদিহি এলাকার অমৃত সিংয়ের ছেলে জয় সিং (২৩)। তবে নিহত অপর দুজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শ্রীমঙ্গল থেকে মিরপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ‘আলম এশিয়া পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস লচনা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই সংঘর্ষের ফলে অটোরিকশাটি সম্পূর্ণরূপে দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং তিনজন গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তিনজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, রাত ৯টার দিকে তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাদের মৃত্যু ঘটেছিল। দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাতগাঁও হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) মাধ্যমে একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি দুজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানায়, নিহতদের মরদেহ বর্তমানে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ