মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:০৮ এম
মালয়েশিয়ায় যেতে ব্যর্থ হওয়া ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের মধ্যে ১০ হাজার কর্মীকে বিনা খরচে দেশটিতে পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মালয়েশিয়াগামী ৩৩ হাজার কর্মীর মধ্যে ১৭ হাজার ৭৭৭ জন কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আদালত নতুন উদ্যোগের আওতায় তাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছে।
সোমবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় আদালতে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। প্রতিবেদনে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের আলোচনা করা হয়। এ সংক্রান্ত দায়ের করা রিটের শুনানি শেষে আদালত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করে।
সরকারের ঘোষিত জিরো কস্ট স্কিমের আওতায় মালয়েশিয়ায় পাঠানোর জন্য নির্ধারিত ১০ হাজার কর্মীর মধ্যে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে চিহ্নিত ১৭ হাজার ৭৭৭ জন ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, যেসব জনশক্তি রপ্তানিকারক এজেন্সি কর্মী পাঠাতে ব্যর্থ হয়েছে এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বলে চিহ্নিত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা সম্পর্কে আদালতকে অবহিত করা হয়।
শুনানির এক পর্যায়ে সরকারের নিযুক্ত আইনজীবী আদালতকে জানান, সরকার নতুন একটি উদ্যোগের মাধ্যমে কোনো খরচ ছাড়াই ১০ হাজার কর্মীকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ব্যবস্থা করছে।
পূর্ণাঙ্গ শুনানি শেষে আদালত মন্তব্য করে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে চিহ্নিত ১৭ হাজার ৭৭৭ জন কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে না পারায় আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এ প্রেক্ষাপটে জিরো কস্ট স্কিমের আওতায় মালয়েশিয়ায় পাঠানোর জন্য নির্ধারিত ১০ হাজার কর্মীর ক্ষেত্রে এসব ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত।
এছাড়া, মামলাটি চার মাসের জন্য মুলতবি রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এবং এ বিষয়ে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে একটি রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপাল-চীন সীমান্তে হিমবাহ ধসের কারণে আকস্মিক বন্যায় হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গত বুধবারের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারানোর সংখ্যা ৯০০-এর বেশি। অপরদিকে, নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় পাঁচ হাজার ব্যক্তি। সময়ের সাথে সাথে এই সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে।
এদিকে, বন্যায় দুর্গতদের উদ্ধার কার্যক্রম ষষ্ঠ দিনে প্রবাহিত হচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধানে নেপালের বন্যাদুর্গত এলাকায় ২০ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যাদের মধ্যে সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত। অপরদিকে, চীনের অধীন তিব্বত অঞ্চলে সেনাবাহিনী ও পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার দুই হাজারের বেশি উদ্ধারকর্মী কাজ করছেন।
গতকাল সোমবার নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে জানানো হয়, বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে ৪২৪৭ জন হয়েছে, যার মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক। এছাড়া, বন্যায় দুর্গত ১০ হাজার ৪৫১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গত রোববার চীনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে জানানো হয়, বন্যায় দেশটিতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হয়েছেন ৫৪৬ জন, যাদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে এই আকস্মিক দুর্যোগকে ‘অকল্পনীয় ও হৃদয়বিদারক’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘রাসুয়ায় ভোটকোশি নদীতে ব্যাপক আকারের বন্যা মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। তবে বিরূপ আবহাওয়া, দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থা ও ক্রমাগত ঝুঁকির প্রতিকূল পরিবেশ অতিক্রম করে নাগরিকদের জীবন রক্ষায় আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, নেপালের সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থার ২১ হাজারের বেশি কর্মী উদ্ধার অভিযানে যুক্ত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, বন্যায় আহত ২৬৭ ব্যক্তিকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৫৬ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। এছাড়া, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহযোগিতাও প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তহবিল থেকে দেওয়া হচ্ছে।
বালেন শাহ বলেন, বন্যায় দুর্গতদের আশ্রয়ের জন্য রাসুয়া ও নুয়াকোটের বিভিন্ন স্থানে ২৬টি আশ্রয়শিবির স্থাপিত হয়েছে। রবিবার পর্যন্ত সেখানে তিন হাজার ৪৫৪ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
বন্যায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় নেপালের মর্গগুলোতে লাশ ধারণক্ষমতা পূর্ণ হয়ে গেছে। এই কারণে কর্তৃপক্ষ ডিএনএ নমুনা রেখে কিছু লাশ দাফন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সোমবার কিরগিজস্তান সফররত চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সাংবাদিকদের জানান, বন্যায় নিখোঁজ চীনা ও বিদেশি নাগরিকদের সন্ধানে বেইজিং জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া, বন্যায় দুর্গতদের পুনর্বাসন ও আহতদের চিকিৎসার জন্য সরকার কাজ করছে।
এদিকে, নেপালের ত্রিশূলী নদীতে হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্পের টানেলে আটকেপড়া ৯০০-এর বেশি কর্মীকে উদ্ধারের জন্য উদ্ধারকর্মীরা জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে তিনশর বেশি কর্মীকে উদ্ধার করা হয়েছে। টানেলে আটকেপড়া কর্মীদের সহায়তায় ড্রিল মেশিন দিয়ে গর্ত খুঁড়ে ওই পথ দিয়ে বাতাস ও খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।
তবে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে শুক্রবার থেকে নেপালে কয়েক দফায় উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখতে হয়েছে। গত রোববার রাতভর বৃষ্টি ও নদীর পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়েছিল। পরে পানির মাত্রা কমে গেলে উদ্ধার অভিযান আবার শুরু হয়, জানায় সেনাবাহিনী।
এছাড়া, নেপালে উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য বিশেষ দল পাঠিয়েছে চীন ও ভারত। জাতিসংঘ, রেডক্রস, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকা থেকেও ত্রাণ সহায়তা পাঠানো হয়েছে দেশটিতে।
এর আগে বুধবার নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে হিমবাহ ধসের ঘটনা ঘটে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, দুই দেশের সীমান্তে হিমালয় পর্বতের দুর্গম ল্যাঙ্গট্যাঙ্গ লিরেঙ্গ শৃঙ্গের হিমবাহ ধস হয়েছিল। বিশাল আকৃতির এই হিমবাহ সীমান্তের লেন্দে নদীতে পড়ে পানি প্রবাহ বন্ধ করে দেয়। কিছু সময় পর জমে যাওয়া পানি প্রচণ্ড শক্তি নিয়ে তা অতিক্রম করলে পুরো অঞ্চলে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লোকসানে জর্জরিত রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোর আর্থিক সংকটের বোঝা এবার সোনালী ব্যাংকের ওপর চাপ পড়েছে। ব্যাংকটি সরকারি এসব প্রতিষ্ঠানে দেওয়া ঋণের বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে আদায় করতে পারছে না। এসব ঋণের বিপরীতে সরকারের দেওয়া গ্যারান্টির মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। এর ফলে সোনালী ব্যাংক প্রায় ৭,০০০ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ঋণ পরিশোধে সরকারের হস্তক্ষেপের জন্য আবেদন করেছে ব্যাংকটি। পাশাপাশি, ব্যাংকের ব্যালান্সশিটের ওপর চাপ কমানোর জন্য বকেয়া ঋণের বিপরীতে সরকারি বন্ড ইস্যু অথবা নতুন করে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
গত ১৯ আগস্ট অর্থ বিভাগের সচিবকে লেখা একটি চিঠিতে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী খান উল্লেখ করেন, "অনাদায়ী ঋণের বিপরীতে উচ্চ হারে নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে।" তিনি সতর্ক করেন যে, এতে ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি বিপুল পরিমাণে বাড়বে এবং ব্যাংকের মুনাফার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি) এবং এর অধীন ৯টি চিনিকলকে বিভিন্ন সময়ে সোনালী ব্যাংক মোট ৩,১০৫ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। বিএসএফআইসির অনুকূলে বিতরণ করা ঋণের বিপরীতে ব্যাংকটির পাওনা রয়েছে ২,৭৬২ কোটি টাকা।
দীর্ঘদিন ঋণ পরিশোধ না হওয়ায় এর সঙ্গে সুদ ও অন্যান্য চার্জ যুক্ত হয়ে মোট পাওনা দাঁড়িয়েছে ৭,১৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২৫৩ কোটি টাকা পরিশোধের পর নিট বকেয়া রয়েছে ৬,৯৩৮ কোটি টাকা।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বিএসএফআইসির জন্য বিতরণ করা ঋণের বিপরীতে ১,০০০ কোটি টাকার সরকারি গ্যারান্টি ছিল। কিন্তু ওই গ্যারান্টির মেয়াদ গত বছরের ডিসেম্বরে শেষ হয়ে গেছে। এর আগে বিএসএফআইসি ও চিনিশিল্পের ঋণের বিপরীতে সোনালী ব্যাংকের অনুকূলে ইস্যু করা মোট ৬টি সরকারি গ্যারান্টির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। তবে বর্তমানে এসব গ্যারান্টির মেয়াদও শেষ হয়ে যাওয়ায় ঋণগুলো নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে।
চিনিকলগুলোর ঋণের একটি অংশ বিএসএফআইসি, সংশ্লিষ্ট চিনিকল এবং সোনালী ব্যাংকের মধ্যে সম্পাদিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে মঞ্জুর ও বিতরণ করা হয়। সরকারি গ্যারান্টি ও ত্রিপক্ষীয় চুক্তি থাকায় এতদিন হিসাবগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও অশ্রেণিকৃত রাখা হয়েছিল। তবে সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রান্তিকে এসব ঋণ আবার শ্রেণিকৃত বা খেলাপি হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে সোনালী ব্যাংক।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ঋণখেলাপি হওয়া ঠেকাতে এবং ব্যাংকের পাওনা সমন্বয়ের জন্য সোনালী ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়ে আসছে। ২০২৫ সালের মার্চে ব্যাংকটি বিএসএফআইসি ও এর আওতাধীন চিনিকলগুলোর ঋণের বিপরীতে সুদ মওকুফ করে অবশিষ্ট আদায়যোগ্য অর্থের বিপরীতে সরকারি বন্ড ইস্যুর উদ্যোগ নিতে অর্থ বিভাগকে অনুরোধ জানিয়েছে।
একই বছরের ১৩ এপ্রিল অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়, বিএসএফআইসি ও সোনালী ব্যাংকের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তবে ওই সভায় কী সিদ্ধান্ত বা সুপারিশ হয়েছিল সে বিষয়ে পরে সোনালী ব্যাংককে কিছু জানানো হয়নি।
চলতি বছরের শুরুতে সোনালী ব্যাংক আবারও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন জানায়। বকেয়া অর্থ পরিশোধ অথবা সমপরিমাণ সরকারি গ্যারান্টি দেওয়ার জন্য গত ৬ জানুয়ারি অর্থ বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়। এরপর ২৬ এপ্রিল আবারও চিঠি দিয়ে সরকারি গ্যারান্টি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। সবশেষে গত ১৯ আগস্ট একই দাবি জানিয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়।
সোনালী ব্যাংক বলেছে, চিনিকলগুলোর ঋণ হিসাব শ্রেণিকৃত হওয়া ঠেকাতে এবং বকেয়া অর্থ সমন্বয়ের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সরকারি গ্যারান্টি, সরকারি বন্ড ইস্যু অথবা বকেয়া অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
এদিকে সোনালী ব্যাংকের নিজস্ব দায়-সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির (অ্যালকো) সভাতেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় চিনিশিল্প খাতের অসমন্বিত ঋণ হিসাব সমন্বয়ের জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যে ব্যাংক গ্যারান্টি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, সরকারি গ্যারান্টির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী এসব ঋণের বিপরীতে বিপুল পরিমাণ প্রভিশন রাখতে হবে। এতে সোনালী ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি বেড়ে যেতে পারে এবং মুনাফার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে সোনালী ব্যাংককে একক ঋণগ্রহীতার ক্ষেত্রে নির্ধারিত ঋণসীমা বা সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার লিমিট অতিক্রমকারী ঋণগুলো নির্ধারিত সীমার মধ্যে নামিয়ে আনার অগ্রগতি জানাতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে একাধিকবার ফোন ও বার্তা দেওয়া হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের আওতায় রয়েছে ১৫টি চিনিকল। ২০২০ সালে সরকার ৬টি চিনিকল বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে চালু থাকা ৯টি চিনিকলের মধ্যে অধিকাংশই লোকসানে রয়েছে।
বিএসএফআইসির কর্মকর্তারা বলছেন, চিনিকলগুলোর উৎপাদন মূল্য ও সরকার নির্ধারিত মূল্যের পার্থক্যের কারণে ট্রেড গ্যাপ তৈরি হচ্ছে। ট্রেড গ্যাপের কারণে চিনিকলগুলো লোকসান দিচ্ছে, এমনটি মনে হতে পারে। ট্রেড গ্যাপ ও ভর্তুকি বাবদ ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে সরকারের কাছে বিএসএফআইসির পাওনা ৮,০৪১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এটি পাওয়া গেলে এ ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হতো না বলে তারা জানান।
এ বিষয়ে জানতে বিএসএফআইসির চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান সুরুজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অফিসে গিয়ে কথা বলতে বলেন। পরে তার অফিসে গিয়েও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে পূর্ণাঙ্গ রোবোটিক সার্জারি। রাজধানীর মাদানী অ্যাভিনিউয়ে ইউনাইটেড হেলথকেয়ারে ‘মেডবট তুমাই এন্ডোস্কোপিক সার্জিক্যাল রোবট’-এর মাধ্যমে সোমবার দুটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।
এই অস্ত্রোপচারের মধ্যে রয়েছে ৫৭ বছর বয়সী এক পুরুষের পিত্তথলির পাথর অপসারণের জন্য রোবোটিক কোলেসিস্টেকটমি এবং ৪৫ বছর বয়সী এক নারীর জরায়ুতে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণের চিকিৎসার জন্য রোবোটিক হিস্টেরেকটমি।
ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান ও প্রধান পরামর্শক অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন প্রথম অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারটি পরিচালনা করেন হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক ও প্রধান অধ্যাপক ডা. সামছাদ জাহান শেলি।
অধ্যাপক রফিকুস সালেহীন মন্তব্য করেন, "এটি একটি মাইলফলক। আমরা এই পরিবর্তনের অংশ হতে পেরেছি।" তিনি জানান, রোবোটিক সার্জারিতে ব্যবহৃত রোবটের বাহু ৩৬০ ডিগ্রি পর্যন্ত ঘুরতে সক্ষম। মানুষের হাতের তুলনায় এর নড়াচড়া বেশি হওয়ায় শরীরের সংকীর্ণ ও জটিল জায়গায় অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয় তুলনামূলক নিখুঁতভাবে।
এতে গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি ও আশপাশের অঙ্গ নিরাপদ রাখা, কম কাটাছেঁড়া, কম রক্তক্ষরণ এবং দ্রুত সুস্থ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। প্রথম অস্ত্রোপচার করা রোগীকে এক থেকে দুই দিনের মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার কথা জানান তিনি।
রোবোটিক সার্জারি প্রচলিত অস্ত্রোপচারের তুলনায় ব্যয়বহুল। অধ্যাপক রফিকুস সালেহীন জানান, এ পদ্ধতিতে চিকিৎসার খরচ প্রচলিত অস্ত্রোপচারের তুলনায় প্রায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি হতে পারে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশে রোবোটিক সার্জারির ব্যবহার বাড়লে ভবিষ্যতে খরচ কমে আসবে।
তিনি বলেন, "রোবোটিক সার্জারির নির্ভুলতা ও অন্যান্য সুবিধার কারণে বর্তমানে অনেক রোগী উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান। দেশে এ সেবা চালু হওয়ায় তাদের একটি অংশ এখন দেশেই চিকিৎসা নিতে পারবেন।" ইউনাইটেড হেলথকেয়ারে রোবটটি আগে থেকেই আনা হয়েছিল। বেশ কয়েকজন চিকিৎসক বিদেশে গিয়ে এর ব্যবহারের ওপর প্রশিক্ষণও নিয়েছেন। তবে রোবোটিক সার্জারির জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন পাওয়ার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্রোপচার শুরু করা হয়।
অধ্যাপক রফিকুস সালেহীন জানান, বৃহস্পতিবার ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদনের কপি তাঁদের হাতে পৌঁছায়। এরপর সোমবার দুটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।
অধ্যাপক সামছাদ জাহান শেলি মন্তব্য করেন, প্রতিবেশী কয়েকটি দেশে রোবোটিক সার্জারি চালু হলেও বাংলাদেশ এতদিন এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিল। এখন দেশে এ ধরনের আধুনিক চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি জানান, শিগগির হৃদরোগ, নিউরো, ইউরোলজি, জেনারেল, গাইনি ও থোরাসিক বিভাগেও রোবোটিক সার্জারি সম্প্রসারণ করা হবে।
দীর্ঘমেয়াদে দেশে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসার জন্য রোগীদের বিদেশমুখিতা কমানো তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রিমোট রোবোটিক পদ্ধতিতে স্টেন্ট স্থাপনের একটি প্রক্রিয়া করা হয়েছিল। তবে সেটি পূর্ণাঙ্গ রোবোটিক সার্জারি ছিল না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।
ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক অধ্যাপক ডা. মোফাসসেল উদ্দিন আহমেদ বলেন, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে করা প্রক্রিয়া এবং ইউনাইটেড হেলথকেয়ারে সম্পন্ন হওয়া দুটি অস্ত্রোপচার সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বলেন, হৃদরোগ হাসপাতালে স্টেন্ট স্থাপনের প্রক্রিয়ার একটি অংশে রোবটের সহায়তা নেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে ইউনাইটেড হেলথকেয়ারে থাকা বিশেষায়িত রোবট সরাসরি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছে।
তিনি আরও বলেন, হৃদরোগ হাসপাতালে রোবটটি প্রদর্শনের জন্য আনা হয়েছিল এবং সেটি দিয়ে ধারাবাহিকভাবে দ্বিতীয় কোনো অস্ত্রোপচার করা হয়নি। এ কারণে ইউনাইটেড হেলথকেয়ারে সম্পন্ন হওয়া অস্ত্রোপচারকে দেশে সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া প্রথম পূর্ণাঙ্গ রোবোটিক সার্জারি বলা হচ্ছে।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক আকতার হোসেন জানান, প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের পর ইউনাইটেড হেলথকেয়ারসহ দুটি বেসরকারি হাসপাতালকে রোবোটিক সার্জারি করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য বর্তমানে অনলাইনে টাকার বিনিময়ে প্রকাশ্যে কেনাবেচা হচ্ছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য, মোবাইলের অবস্থান, কল রেকর্ড, জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, কর শনাক্তকরণ নম্বর এবং মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাব—সবকিছুই নির্দিষ্ট দামে পাওয়া যাচ্ছে। কারও এনআইডি পেতে মাত্র ১৭ মিনিট, মোবাইলের অবস্থান পেতে ১৬ মিনিট এবং তিন মাসের কল রেকর্ড পেতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগছে।
তথ্য যাচাই ও অনুসন্ধানী প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে এই চিত্র উঠে এসেছে।
গত ১৫ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত একটি শব্দ ব্যবহার করে ফেসবুকে ৬৭৫টি পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৬০৫টি পোস্টে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন ছিল। এসব পোস্টের সূত্র ধরে ১০টি সক্রিয় ওয়েবসাইটের সন্ধান পাওয়া যায়, যেখানে বিভিন্ন তথ্যের নির্দিষ্ট মূল্যতালিকা রয়েছে।
অনুসন্ধানে তিন বিক্রেতার কাছ থেকে টাকা দিয়ে এনআইডি, অবস্থান ও কল রেকর্ড কেনা হয় ডিসমিসল্যাবের পক্ষ থেকে। পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলে বিক্রি করা তথ্য সঠিক পাওয়া যায়। এমনকি একজনের এনআইডিতে দুই মাস আগে সংশোধন করা মায়ের নামও হালনাগাদ অবস্থায় পাওয়া গেছে।
১৭ মিনিটে এনআইডি, ১৬ মিনিটে অবস্থান
একজন ব্যক্তির সম্মতি নিয়ে তার মোবাইল নম্বর ও ৫০০ টাকা অগ্রিম দেওয়ার পর মাত্র ১৭ মিনিটে এনআইডির কপি পায় ডিসমিসল্যাব। অন্য একটি পরীক্ষায় ১৫০ টাকা দিয়ে ভোটার নম্বর ও জন্মতারিখ দেওয়ার পর পাওয়া যায় এনআইডির ‘সার্ভার কপি’।
আর একটি নম্বরের তিন মাসের কল রেকর্ডের জন্য ১ হাজার ৫০ টাকা দেওয়ার আড়াই ঘণ্টার মধ্যে ফাইল পাওয়া যায়। সর্বশেষ ২০টি নম্বর, কলের সময় ও কলের ধরন প্রকৃত কল তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলে সবই মিলে যায়।
আরেক বিক্রেতার ওয়েবসাইটে ১ হাজার ৫০০ টাকায় মোবাইলের সর্বশেষ অবস্থান, সংশ্লিষ্ট টাওয়ার, ঠিকানা ও মানচিত্রের অবস্থান দেওয়ার কথা ছিল। টাকা দেওয়ার ১৬ মিনিটের মধ্যে সেই তথ্যও সরবরাহ করা হয়।
তালিকায় আরও যা যা রয়েছে
ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে পাওয়া ওয়েবসাইটগুলোর মূল্যতালিকায় ৫০ থেকে ২০০ টাকায় এনআইডির ‘সার্ভার কপি’, ২৫০ টাকায় মোবাইল নম্বর থেকে এনআইডি, ৯০০ টাকায় তিন মাসের কল তালিকা, ১ হাজার ৮০০ টাকায় ছয় মাসের কল তালিকা এবং ১ হাজার ৫০০ টাকায় ‘লাইভ লোকেশন’ দেওয়ার কথা রয়েছে। ৭ হাজার টাকায় নগদের হিসাব এবং ৭ হাজার ৫০০ টাকায় বিকাশ-সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার তালিকাও পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্টের প্রথম পৃষ্ঠা, টিআইএন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ, এসএমএসের তালিকা ও মোবাইল ফোনের পরিচিতি নম্বরের তথ্যও বিক্রির তালিকায় রয়েছে।
এই বাজারের কার্যক্রমও বেশ সংগঠিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রেতা সংগ্রহ করা হয়। পরে মধ্যস্বত্বভোগীরা বিক্রেতা ওয়েবসাইটে টাকা জমা দিয়ে তথ্যের অর্ডার করেন। বিকাশ, নগদ, রকেট ও উপায়ের মাধ্যমে টাকা নেওয়া হয়। এরপর হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম ও ফেসবুকে বেশি দামে তথ্য বিক্রি করা হয়।
এক মাসে ১১২ নম্বর, ৩৬ গ্রুপ
এক মাসের অনুসন্ধানে অন্তত ১১২টি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে তথ্য বিক্রির প্রচারণা পাওয়া গেছে। একটি গ্রামীণফোন নম্বর ৭৫টি পোস্টে ব্যবহার করা হয়েছে। ৩৬টি সক্রিয় ফেসবুক গ্রুপে বারবার ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন পাওয়া যায়।
অনুসন্ধানে একটি ওয়েবসাইটের মালিকের পরিচয়ও পাওয়া যায়। তিনি মুঠোফোন মেরামতের কাজ করেন। তার দাবি, তিনি অন্য একটি গোষ্ঠীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন। তবে সরকারি সার্ভারে ঢোকার পদ্ধতি বা এ দাবির কারিগরি সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবিরের মতে, কোনো ব্যক্তির হালনাগাদ তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভেতরের কারও সম্পৃক্ততা অথবা তথ্যভাণ্ডারের নিরাপত্তার কোনো দুর্বলতা কাজে লাগানোর আশঙ্কা থাকে।
তিন বছরেও বন্ধ হয়নি
ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির ঘটনা নতুন নয়। গত তিন-চার বছর ধরে ফেসবুক, টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের বিভিন্ন গ্রুপে এনআইডি ও ফোনের তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন পাওয়া যাচ্ছে।
২০২৪ সালে সরকারি পর্যায়ের অনুসন্ধানে নাগরিকের এনআইডি ও কল রেকর্ড ২১টি হোয়াটসঅ্যাপ, ৪৮টি টেলিগ্রাম এবং ৭২০টি ফেসবুক গ্রুপ ও পেজে বিক্রির তথ্য পাওয়া যায়। মোট ৭৮৯টি গ্রুপ ও পেজে এ ধরনের তথ্য কেনাবেচার সন্ধান মিলেছিল। কিছু ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ব্যবহৃত লগইন তথ্যের অপব্যবহারের বিষয়ও সামনে আসে।
এরপরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং ২০২৬ সালে এসে ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে শত শত বিজ্ঞাপন ও সক্রিয় ওয়েবসাইটের সন্ধান মিলেছে।
বারবার ফাঁস হচ্ছে তথ্য
ব্যক্তিগত তথ্যের ঝুঁকি শুধু অনলাইনে তথ্য বিক্রির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গত কয়েক বছরে সরকারি ডেটাবেজ, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা নিয়েও একের পর এক ঘটনা সামনে এসেছে।
২০২৩ সালে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের একটি সরকারি ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা দুর্বলতার কারণে প্রায় ৫ কোটি নাগরিকের নাম, জন্মতারিখ, এনআইডি, ফোন নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য অনলাইনে উন্মুক্ত হয়ে যায়। ঘটনাটি সরাসরি হ্যাকিং নয়; কারিগরি দুর্বলতার সুযোগে তথ্য উন্মুক্ত হয়ে পড়েছিল।
২০২৪ সালেও সরকারি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে একাধিক হামলা ও তথ্য নিরাপত্তার ঘটনা ঘটে। নভেম্বরে তিতাস গ্যাসের ফায়ারওয়ালের ‘রুট অ্যাকসেস’ ডার্ক ওয়েবে বিক্রির জন্য তোলার ঘটনা সামনে আসে। একই সময়ে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সে র্যানসমওয়্যার হামলায় বিপুল পরিমাণ তথ্য চুরির দাবিও ওঠে।
আর্থিক খাতও বাদ যায়নি। সিটি ব্যাংকের গ্রাহকদের কিছু আর্থিক বিবরণী অননুমোদিতভাবে দেখা ও পরে তা বিক্রির চেষ্টা হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, একটি সিস্টেম ত্রুটির সুযোগ নিয়ে সীমিতসংখ্যক বিবরণীতে প্রবেশ করা হয়েছিল।
২০২৫ সালে ব্যাংকিং খাতসহ দেশের সাইবার অবকাঠামোতে ধারাবাহিক হামলার সতর্কতা জারি হয়। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভাণ্ডারেও অনুপ্রবেশ ও তথ্য চুরির ঘটনা সামনে আসে। ২০২৬ সালেও সরকারি ও প্রতিরক্ষা খাত লক্ষ্য করে সাইবার হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এর মধ্যেই অনলাইনে ৬০ লাখ বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীর জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। হ্যাকার গোষ্ঠীটির দাবি, এসব সিভি একটি চাকরির ওয়েবসাইটের তথ্যভাণ্ডার থেকে নেওয়া। সিভিগুলোতে নাম, ফোন নম্বর, ঠিকানা, ই-মেইল, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণের তথ্য থাকার কথা বলা হয়েছে।
বিজ্ঞাপনের সঙ্গে ১৪৮টি সিভির নমুনাও প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে বেশিরভাগ সিভি পুরোনো; অনেকগুলো ২০১১ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে হালনাগাদ করা। নমুনায় থাকা কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা আগে সংশ্লিষ্ট চাকরির ওয়েবসাইটে সিভি আপলোড করেছিলেন বলে জানা গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি তথ্য ফাঁসের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
তথ্য আছে, জবাবদিহি কোথায়
ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে পাওয়া চিত্র বলছে, ব্যক্তিগত তথ্যের কেনাবেচা এখন আর বিচ্ছিন্ন কয়েকজনের কাজ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট, মধ্যস্বত্বভোগী, মোবাইল আর্থিক সেবা এবং তাৎক্ষণিক তথ্য সরবরাহের একটি কাঠামো।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, আইন ও নীতিমালায় ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও বাস্তবে নাগরিকের তথ্য কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কার তথ্য কোথা থেকে বের হচ্ছে, কারা তা সংগ্রহ করছে, কারা বিক্রি করছে এবং তথ্যভাণ্ডারের নিরাপত্তা ভেঙে পড়লে দায় নিচ্ছে কে—এখন এসব প্রশ্নের জবাবদিহিই সবচেয়ে জরুরি।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা সমকালকে বলেন, ব্যক্তিগত তথ্য আলাদাভাবে ফাঁস হলেও একাধিক উৎসের তথ্য এক জায়গায় চলে এলে ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। নাম, এনআইডি, ফোন নম্বর, ঠিকানা, অবস্থান ও পেশাগত তথ্য মিলিয়ে একজন ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচয় তৈরি করা সম্ভব। এসব তথ্য ব্যবহার করে প্রতারণা, পরিচয় জালিয়াতি ও লক্ষ্যভিত্তিক ফিশিংসহ নানা ধরনের অপরাধ করা সহজ হয়। এনআইডির তথ্য ফাঁসের ঘটনা নতুন নয়।
কিন্তু এ ধরনের ঘটনায় অপরাধীদের বিচার হয়েছে—এমন নজির খুব কম। ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। অথচ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বারবার সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। দেশের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই নাজুক। তাই তথ্য ফাঁসের পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কোন উৎস থেকে তথ্য বের হচ্ছে এবং কীভাবে তা বাইরে যাচ্ছে, সেটি শনাক্ত করে পুরো ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ