০৪:২০ পি.এম
সুন্দরবনে বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করার দাবি, অপহৃত জেলে-বাওয়ালিদের উদ্ধার এবং বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় আন্দোলন শুরু হয়েছে। জেলার শ্যামনগরে পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করছেন উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দা ও বনজীবীরা।
রবিবার (১ নভেম্বর) ছিল কর্মসূচির শেষ দিন। এদিন তারা মাছ ধরার জাল পুড়িয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। একইসঙ্গে আন্দোলনকারীরা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বনদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করার দাবি জানান।
সকাল ১০টার দিকে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের হরিনগর বাজারে এবং সকাল ১১টার দিকে উপজেলা সদরের গাবুরা ইউনিয়নের উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সুন্দরবননির্ভর জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: নড়াইলে অনলাইন প্রতারণা ও জুয়ার অভিযোগে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন ও একাধিক সিমসহ ৪ জন গ্রেফতার
পরে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)’র কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সুন্দরবনে মাছ, কাঁকড়া ও মধু আহরণ করতে গেলে বিভিন্ন বনদস্যু বাহিনীকে টাকা দিতে হচ্ছে। কিছু বাহিনী নৌকাপ্রতি ৭০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা বা তারও বেশি দাবি করছে। টাকা দেওয়ার পর জেলেদের হাতে নির্দিষ্ট নম্বর লেখা কাগজ বা নোট দেওয়া হয়, যা দেখিয়ে বনে প্রবেশ করতে হয়। টাকা দিতে না চাইলে মারধর, নির্যাতন ও অপহরণের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
জেলেরা জানান, একাধিক বাহিনীকে টাকা দিতে গিয়ে মাছ ও কাঁকড়া আহরণের আয় থেকে বড় অংশই চলে যাচ্ছে। ফলে অনেককে ঋণ করে জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে। সামনে শুঁটকি মাছের মৌসুম আসলেও বনদস্যুদের ভয়ে অনেকে বনে যেতে পারছেন না। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
এক জেলে বলেন, বনে যাওয়ার আগে স্থানীয় এজেন্টের মাধ্যমে বনদস্যুদের টাকা দিতে হয়। এক লাখ টাকা দেওয়ার পর একটি নির্দিষ্ট নম্বর লেখা নোট দেওয়া হয়। সেটি ছাড়া বনে গেলে মারধর ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। তার ভাষ্য, বিভিন্ন বাহিনীকে টাকা দিতে গিয়ে জেলেদের পক্ষে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: পূর্বধলায় মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সভা, গঠন হলো নির্মূল কমিটি
আরেক জেলে জানান, আগে একটি বাহিনীকে টাকা দিলেই চলতো, কিন্তু এখন একাধিক বাহিনীকে টাকা দিতে হচ্ছে। কেউ ৭০ হাজার, কেউ ৮০ হাজার; কেউ আবার এক লাখ টাকারও বেশি দাবি করছে। এভাবে টাকা দিয়ে বনে মাছ ধরতে গেলে তাদের হাতে তেমন কিছুই থাকে না।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ও আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক সালাউদ্দিন লিটন বলেন, বনদস্যুমুক্ত সুন্দরবনের দাবিতে আমরা পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলাম। আজ (রবিবার) কর্মসূচির শেষ দিন। এদিন ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
প্রধান সমন্বয়ক জানান, আগামীকাল সোমবার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। এরপর বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে দাবি জানানো হবে।
তিনি বলেন, কোস্টগার্ড, বনবিভাগ, নৌপুলিশ, এসআরবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালানো হলে বনদস্যুদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন: দুই মাসেও সন্ধান নেই, মেয়ে কিংবা লাশ ফিরে পেতে মায়ের আকুতি
আগামী সাত দিনের মধ্যে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন এবং কার্যালয় অবরোধ করা হবে বলে জানান সালাউদ্দিন লিটন।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জামান কনক বলেন, উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড, বিজিবি ও থানা পুলিশের প্রতিনিধিদের নিয়ে সুন্দরবনের নিরাপত্তার বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোকে নিয়মিত টহল ও অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইউএনও বলেন, আন্দোলনকারীদের দেওয়া স্মারকলিপি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে যৌথ অভিযান পরিচালনার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল্লাহ পাটোয়ারী বলেন, বনদস্যুদের বিরুদ্ধে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
আরও পড়ুন: আজমির উসমানের প্রধান সহযোগী সন্ত্রাসী আক্তার নূর গ্রেপ্তার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন