ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মায়ের মামলা


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মায়ের মামলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ইয়াসিন মিয়া (৫০) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে শিশুটির মায়ের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শিশুটির পরিবার অভিযোগ করেছে যে, ঘটনার পর অভিযুক্তের পক্ষের লোকজনের হুমকির কারণে তারা মামলা করতে দেরি করেছেন। শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে কসবা থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য শিশুটিকে থানায় আনা হলে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে পুলিশ ও তার স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শিশুটিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন: জামায়াতের দাবি, আইজিপির বক্তব্য সংবিধান ও আইনের শাসনের পরিপন্থী

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বাদৈর ইউনিয়নের হাতুরাবাড়ী গ্রামের বাজারে সয়াবিন তেল কিনতে যায় শিশুটি। বাজার থেকে তেল নিয়ে ফেরার পথে ফার্নিচারের দোকানের মালিক ইয়াসিন মিয়া শিশুটির হাত ও মুখ চেপে ধরে দোকানে নিয়ে যান। সেখানে জোরপূর্বক শিশুটির কাপড় খুলে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় চিৎকার করলে শিশুটিকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে তার হাতে ২০ টাকার একটি নোট দিয়ে দোকান থেকে বের করে দেওয়া হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, হত্যার ভয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে শিশুটি তার মাকে ঘটনাটি জানায়। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও অভিযুক্তের বংশের লোকজনকে জানান। এ কারণে মামলা করতে দুই থেকে তিন দিন দেরি হয় বলে জানিয়েছে শিশুটির পরিবার।

শিশুটির বাবা জানান, ঘটনার পর বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শুক্রবার রাতে বাদৈর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে দুই পক্ষের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে ১২ জনের সমন্বয়ে একটি বিচারক প্যানেল গঠন করে অভিযুক্তকে ক্ষমা চাওয়ানোর মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়।

তবে শিশুটির বাবা ওই বিচার মেনে না নিয়ে আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা জানান। এ সময় অভিযুক্ত ইয়াসিন মিয়া, বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম, কামাল হোসেন, শহিদ মিয়াসহ প্রতিপক্ষের লোকজন মামলা করলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ কারণে পরিবারটি প্রথমে মামলা করতে ভয় পায়। পরে সন্তানের প্রতি নির্যাতনের বিচার চেয়ে শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে শিশুটির মা থানায় মামলা করেন।

আরও পড়ুন: ক্রসফায়ারের চিন্তা পুলিশের ব্যর্থতা ও ফ্যাসিবাদী মানসিকতার প্রকাশ: আমীনের উদ্বেগ

অভিযোগের বিষয়ে বাদৈর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম বলেন, ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে দুই বংশের লোকজন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বৈঠকে বসেছিলেন। ধর্ষণের বিচার প্রচলিত আইন অনুযায়ী হবে, গণ্যমান্য ব্যক্তিরা করবেন না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে শিশুটির পরিবারকে সহযোগিতা করাই তাদের উদ্দেশ্য ছিল। অভিযুক্ত তাঁর আপনজন হলেও তার বিচার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পর চিকিৎসক ডা. শায়লা প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য তাকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, হাতুরাবাড়ীতে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন: ‘জয় বাংলা’ স্লোগান গ্রহণ করে রাজ্যকে বৃহত্তর বাংলাদেশে পরিণত করতে চেয়েছিল তৃণমূল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কোহলি নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, জেমস প্যামেন্ট প্রশংসা করেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৫ এম


কোহলি নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, জেমস প্যামেন্ট প্রশংসা করেছেন

টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়ার পর, বর্তমানে শুধুমাত্র ওয়ানডে খেলছেন বিরাট কোহলি। তাই প্রতিটি সিরিজের আগে নিজেকে প্রস্তুত করা তার জন্য আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নিজের শেষ নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য প্রস্তুতি নিতে কোনো কিছুর অভাব রাখছেন না কোহলি। তিনি নেটে ঘাম ঝরাচ্ছেন, যাতে খেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে পারেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মুম্বাইয়ের ব্রাবোর্ন স্টেডিয়ামে ব্যাটিং অনুশীলন করছেন কোহলি। নিউজিল্যান্ড-ভারত ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে আগামী ৪ নভেম্বর। তিনি কয়েক দিনের মধ্যেই নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা দেবেন।

যেহেতু এটি কোহলির খেলোয়াড় হিসেবে শেষ নিউজিল্যান্ড সফর, তাই ওয়ানডে সিরিজে তার প্রতি বিশেষ নজর থাকবে। বিশেষ করে আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপে কোহলি ও রোহিত শর্মার খেলা নিয়ে আলোচনা চলছে নিয়মিতভাবে।

এই প্রসঙ্গে নিউজিল্যান্ডের সহকারী কোচ জেমস প্যামেন্ট সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন। তিনি মাসখানেক আগে বাংলাদেশ দলের ফিল্ডিং কোচ ছিলেন। আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি মুম্বাই ইন্ডিয়ানসে আট বছর ফিল্ডিং কোচ হিসেবে কাজ করার সময় রোহিতের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।

কোহলি ও রোহিতের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্যামেন্ট বলেন, "আমার মনে হয়, সব বড় খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারের শেষ যখন ঘনিয়ে আসে, তখন তাদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা হয়। কখন সরে দাঁড়াতে চান, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তারা অর্জন করেছেন।"

তিনি আরো বলেন, "যদি তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন যে দক্ষিণ আফ্রিকায় ওয়ানডে বিশ্বকাপ তাদের ক্যারিয়ারের একটি চূড়ান্ত লক্ষ্য, যেখানে তারা খেলতে চান, তাহলে তাদের সেই সুযোগ দেওয়া উচিত। এরপর বিষয়টি হয়ে দাঁড়ায় পারফরম্যান্স ও দলের প্রতি অবদানের।"

কোহলির পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে প্যামেন্ট বলেন, "আমি কখনো বিরাট কোহলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করিনি। তবে নিউজিল্যান্ড দলের সঙ্গে থাকাকালে কিংবা মুম্বাই ইন্ডিয়ানসে কাজ করার সময় তাকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। আমার চোখে, তিনি পেশাদারিত্বের চূড়ান্ত উদাহরণ। এমন একজনকে আমি সব সময় নিজের দলে চাইব। কারণ তিনি সত্যিকার অর্থেই একজন আদর্শ পেশাদার খেলোয়াড়।"

বর্তমানে ভারত নিউজিল্যান্ডে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলছে। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে শ্রেয়াস আইয়ারের দল ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুবদলকে শক্তিশালী ও আদর্শভিত্তিক সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: নুরুল ইসলাম নয়ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৬ এম


যুবদলকে শক্তিশালী ও আদর্শভিত্তিক সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: নুরুল ইসলাম নয়ন

ইসমে আজম

ঢাকা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি বলেছেন, যুবসমাজকে শিক্ষিত, দক্ষ, কর্মমুখী ও রাষ্ট্র গঠনের কাজে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে সংগঠনটিকে একটি শক্তিশালী ও আদর্শভিত্তিক সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে চান তারা।

তিনি উল্লেখ করেন, যুবদলের কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আগামীকাল ২৭ অক্টোবর যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস'কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, যুবসমাজের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত নেতাকর্মীদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়েও কথা বলেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে যুবদল সাধারণ সম্পাদক বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে যুবসমাজকে ঘিরে মানুষের যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি। বরং যুবসমাজের একটি অংশ অপরাধ ও দুর্বৃত্তায়নের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিল। এ পরিস্থিতি থেকে তরুণদের বের করে এনে রাষ্ট্র গঠনের কাজে নিয়োজিত করার লক্ষ্যেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যুবদল প্রতিষ্ঠা করেন।

তিনি বলেন, যুবকদের শক্তি, সাহস, মেধা, মনন ও গবেষণার ওপর ভিত্তি করেই সভ্যতার বিকাশ ঘটে। তাই কোনো দেশকে উন্নত করতে হলে যুবসমাজকে বাদ দিয়ে তা সম্ভব নয়। যুবসমাজের প্রতি নেতিবাচক ধারণা দূর করে তাদের ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে যুবদল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে।

যুবসমাজকে সংগঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে যুবদল।

যুবদলের দীর্ঘ সাংগঠনিক পথচলার মূল্যায়ন করতে গিয়ে সাধারণ সম্পাদক বলেন, কেন্দ্র থেকে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত সংগঠনটির বিস্তৃত কর্মী বাহিনী রয়েছে। গত ১৬-১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামেও যুবদলের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তবে যুবসমাজকে রাষ্ট্র গঠনের কাজে প্রত্যাশিত মাত্রায় সম্পৃক্ত করা সম্ভব হয়েছে কি না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সে জায়গায় আরও কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করি।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটি পরবর্তী সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেও বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে। গত ১৬-১৭ বছরে আন্দোলন-সংগ্রামে যুবদলের নেতাকর্মীরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।

তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে যুবদল।

দেশের যুবসমাজের একটি বড় অংশ বেকারত্বের চ্যালেঞ্জে রয়েছে উল্লেখ করে নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, যুবকদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, যুবসমাজকে শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়টি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই গুরুত্ব পেয়েছিল। বর্তমানেও তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা, স্টার্টআপের সুযোগ তৈরি, কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের উপযোগী জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যুবদলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকার তরুণদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে উদ্যোগী হলে যুবদলও তাদের সাধ্যমতো সহযোগিতা করতে চায়।

তিনি বলেন, যেসব যুবকের বিদেশ যাওয়ার আগ্রহ রয়েছে, তাদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা এবং বিদেশে কাজের সুযোগ পেতে সহায়তা করার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে। পাশাপাশি যাদের চাকরিতে প্রবেশের বয়স রয়েছে, তারা যেন নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পেতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বর্তমান প্রজন্মকে যুবদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, যুবদলে শিক্ষিত তরুণদের অংশগ্রহণকে তারা বিশেষ গুরুত্ব দিতে চান। তবে পেশা বা শিক্ষাগত যোগ্যতার কারণে কাউকে সংগঠনের বাইরে রাখার প্রশ্ন নেই। একজন উচ্চশিক্ষিত তরুণ যেমন যুবদল করতে পারেন, তেমনি একজন যানবাহনচালক কিংবা দোকানদারও সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন।

তার মতে, বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতা ক্রমেই কঠিন হচ্ছে। এ প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে তরুণদের শিক্ষিত ও দক্ষ হতে হবে। সে কারণে যুবদল তরুণদের শিক্ষা, কর্মমুখী প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন কাজে পারদর্শী করে তোলার বিষয়ে উদ্যোগী হতে চায়।

তিনি বলেন, যুবকরা যেন যুবদলকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন এবং সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার বহুমুখী পথ খুঁজে পান, সে লক্ষ্যেই তারা কাজ করতে চান।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত নেতাকর্মীদের পরিবারের পাশে যুবদল।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যুবদলের নেতাকর্মীদের হতাহত হওয়া এবং গত ১৬-১৭ বছরে আন্দোলন-সংগ্রামে হামলা, মামলা ও হত্যার শিকার হওয়া নেতাকর্মীদের পরিবারের পুনর্বাসনের বিষয়ে জানতে চাইলে নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, সব পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। তবে কোনো পরিবার অসহায় অবস্থায় রয়েছে বলে খবর পেলে তারা সহযোগিতার উদ্যোগ নেন।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ নেতাকর্মীদের পাশাপাশি অসুস্থ ও আহত নেতাকর্মীদেরও সহায়তা করা হয়েছে। যুবদলের অনেক ক্যান্সার আক্রান্ত নেতাকর্মীকে চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও সহায়তা করা হয়েছে।

কোনো পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল হলে অন্তত মাসিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংগঠনের সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে সবার জন্য সমানভাবে সহযোগিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

তবে ভবিষ্যতে সরকারের মাধ্যমে এসব পরিবারকে আরও সহযোগিতা করা যায় কি না, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

শহীদ পরিবারের সদস্যদের সরকারি কার্যক্রমে যুক্ত করা কিংবা তাদের জন্য বিশেষ সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ে সংগঠনের কোনো দাবি রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের দাবি তাদের রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলেছেন তারা।

তিনি বলেন, এসব বিষয়ে সব সময় সংবাদমাধ্যমে প্রচার করা হয়নি। বিএনপি সরকারে দায়িত্বে থাকায় বিষয়গুলোকে সংবাদ তৈরির উপাদান হিসেবে না দেখে কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিতে চান তারা। এ জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।

উদ্দেশ্যপ্রনোদিত হয়ে যুবদলের বিরুদ্ধে 'চাঁদাবাজির' ন্যারেটিভ ছড়ানো হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুবদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ও নেতিবাচক আলোচনার বিষয়ে নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, যুবদল একটি শক্তিশালী সংগঠন। এ সংগঠন থেকে উঠে আসা অনেক নেতা বর্তমানে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি বলেন, যুবদলের কোনো কোনো জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পরবর্তী সময়ে বিএনপির একই পর্যায়ের দায়িত্বে গেছেন। তার বিশ্বাস, আগামী নির্বাচনে যুবদলের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেতাকর্মী মনোনয়ন চাইবেন এবং তাদের অনেকে মনোনয়নও পেতে পারেন।

সাধারণ সম্পাদক বলেন, যুবদলের নেতাকর্মীদেরও পরিবার রয়েছে এবং তাদের চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকতে হয়। কোনো নেতা কোনো পরিস্থিতিতে জুলুমের শিকার হলে বা কোনো বিরোধ মোকাবিলা করতে গেলে পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে অনেক সময় ঢালাওভাবে অভিযোগ করা হয়।

তার দাবি, কখনো কখনো সংগঠনের সঙ্গে বর্তমানে যুক্ত নন এমন ব্যক্তিদেরও যুবদলের পরিচয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে তথ্যের ঘাটতির কারণে আবার কিছু ঘটনায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যুবদলের নাম জড়ানোর প্রবণতা আমরা দেখতে পেয়েছি।

তিনি বলেন, এসব আলোচনা নিয়ে তারা অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন নন। বরং সততা, মেধা, যোগ্যতা ও সাহসের ভিত্তিতে যুবদলকে একটি শক্তিশালী আদর্শভিত্তিক সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য।

সাধারণ সম্পাদক বলেন, সংগঠনের এক হাজার নেতাকর্মীর ভালো কাজ যেন একজন বিপথগামী নেতার কারণে নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে তারা আন্তরিক। এ কারণেই অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন সময়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তবে যুবদলের পরিচয়ে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তাদের সবাই যে বর্তমানে সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত, এমন নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, গত ১৬-১৭ বছরে যুবদলের কোনো কিছু নেতাকর্মীর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা অফিস দখল হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পরে কেউ নিজের ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে বিরোধ ও সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এসব ঘটনায় অভিযোগের যথার্থতা যাচাই না করেই অনেক সময় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নে নতুন প্রক্রিয়া।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণসহ বিভিন্ন পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠনের জন্য জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) আহ্বান এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্বাচনের মানদণ্ড সম্পর্কে জানতে চাইলে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রার্থীদের সাংগঠনিক পথচলা ও আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা যাচাই করে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রার্থীদের সিভিতে তাদের পদ-পদবি, আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান এবং মামলার সংখ্যা উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। এসব তথ্যের পাশাপাশি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে প্রার্থীদের সাংগঠনিক নিষ্ঠা ও ত্যাগ সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, শুধু ঘরে বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে কমিটি গঠন করতে চান না তারা। বরং যাচাই-বাছাইয়ের একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করতে চান, যাতে ত্যাগী নেতাকর্মীরা বঞ্চিত না হন।

তার মতে, সিভি সংগ্রহ ও সাক্ষাৎকার গ্রহণের মাধ্যমে প্রার্থীদের মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। সংগঠনের জন্য যারা আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করাই এ প্রক্রিয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নতুন মানবিক বাংলাদেশের প্রত্যাশা।

যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নেতাকর্মী ও দেশের যুবসমাজের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় সাধারণ সম্পাদক বলেন, গত ১৬-১৭ বছর ফ্যাসিবাদবিরোধী ধারাবাহিক আন্দোলনে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতৃত্ব দিয়েছেন।

তিনি বলেন, তারেক রহমান বাংলাদেশে এসে ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ বলেছিলেন এবং নির্বাচনের আগে তার পরিকল্পনা ইশতেহারে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন। সেই পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলা এবং একটি মানবিক রাষ্ট্রে রূপ দেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান তারা, যেখানে প্রতিহিংসাপরায়ণতার স্থান থাকবে না। বিএনপির সঙ্গে যারা রয়েছেন, তাদের কাছে যেমন দেশ নিরাপদ থাকবে, তেমনি বিএনপির সঙ্গে যারা নেই, তাদের কাছেও বাংলাদেশ সমানভাবে নিরাপদ থাকবে।

তিনি বলেন, নতুন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বর্তমান বিএনপি সরকারকে সহযোগিতা করতে চায় যুবদল। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংগঠনটির যুবশক্তিকে কাজে লাগানো হবে.

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে, সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৬ এম


বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে, সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে, যা টানা ঊর্ধ্বগতির পর ঘটেছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশের মতো হ্রাস পেয়েছে। তবে সৌদি আরবে হুথিদের চলমান হামলার কারণে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বিদ্যমান রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৩২ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) এর দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলার ১৪ সেন্ট বা ২ দশমিক ০৭ শতাংশ কমে ১০১ ডলার ১৩ সেন্টে নেমে আসে। একই সময়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ ডলার ১২ সেন্ট বা ১ দশমিক ৮২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১১৪ ডলার ৬০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।

গত সপ্তাহের শেষে তেলের দাম প্রায় ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছিল। শুক্রবার সৌদি আরবে হুথিদের হামলার পর সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাওয়ায় তেলের দাম প্রায় ৩ ডলার বেড়ে যায়। পুরো সপ্তাহে ব্রেন্টের দাম ৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

সপ্তাহান্তেও হামলা অব্যাহত ছিল। শনিবার সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হামলার দাবি করে হুথিরা। রোববার সৌদি আরব জানায়, তারা আরও কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের প্রধান বিমানবন্দরে রোববার আংশিক কার্যক্রম শুরু হলেও সশস্ত্র গোষ্ঠীটি ওই স্থাপনায় হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে।

এদিকে, আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে ২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে সিঙ্গাপুরে অপরিশোধিত তেল মজুতের পরিকল্পনা করেছে সৌদি আরব। সোমবার দুই দেশের জ্বালানিমন্ত্রীরা এ তথ্য প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, লুইজিয়ানার একটি তেল শোধনাগারে সরবরাহ বিঘ্নের প্রভাব মোকাবিলায় দেশটির কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত থেকে ৪ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইমরান খানসহ দেড় হাজার বন্দিকে ইসলামাবাদের নতুন কারাগারে স্থানান্তরের পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৬ এম


ইমরান খানসহ দেড় হাজার বন্দিকে ইসলামাবাদের নতুন কারাগারে স্থানান্তরের পরিকল্পনা

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের সেক্টর এইচ-১৬-তে অত্যাধুনিক মডেল কারাগারের প্রথম পর্যায়ের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। কারাগারটি উদ্বোধনের প্রস্তুতি চলছে, যা আগামী ১ থেকে ১০ নভেম্বরের মধ্যে হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানসহ প্রায় দেড় হাজার বন্দিকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে নতুন এই কারাগারে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে দুই হাজার বন্দিকে স্থানান্তরের পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা কমিয়ে দেড় হাজার করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে তিনটি ব্যারাক, ৩৫ শয্যার একটি ছোট হাসপাতাল, মসজিদ ও রান্নাঘরের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ চলমান থাকবে। ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে, অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে এই পর্যায়ের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

নতুন এই কারাগারটি ইসলামাবাদের সেক্টর এইচ-১৬-তে ৯০ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে। জাতীয় মহাসড়ক কর্তৃপক্ষকে কারাগারটির সঙ্গে মোটরওয়ে ও কাশ্মীর হাইওয়ের সংযোগ সড়ক উন্নয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কারাগারের কাছে একটি বড় ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণের নকশা ও প্রকল্প প্রস্তাব তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ছিল ৩৫০ কোটি পাকিস্তানি রুপি। তবে নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে চার বছরে ব্যয় ২ হাজার কোটি রুপি ছাড়িয়ে গেছে।

প্রথম ধাপে বিচারাধীন বন্দিরা

প্রথম পর্যায়ে আদিয়ালা কারাগার থেকে শুধুমাত্র বিচারাধীন বন্দিদের স্থানান্তর করা হবে, যাঁদের মামলার বিচার আদালতে চলছে। সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের স্থানান্তর এই ধাপে করা হবে না।

নতুন কারাগার থেকে বাড়তি নিরাপত্তার মধ্যে বিচারাধীন বন্দিদের সরাসরি আদালতে হাজির করা সম্ভব হবে। সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের স্থানান্তর ২০২৭ সালে শুরু হতে পারে, আগামী ফেব্রুয়ারিকে সম্ভাব্য সময় হিসেবে উল্লেখ করেছেন কারা সূত্রগুলো।

কারা সূত্র জানায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ২০ থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আদিয়ালা কারাগার থেকে নতুন কারাগারে স্থানান্তর করা হতে পারে। তাঁর জন্য একটি বিশেষ ওয়ার্ড নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে এবং সেখানে ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) নজরদারি ব্যবস্থা স্থাপনের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

আদিয়ালা কারাগার কর্তৃপক্ষের সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইসলামাবাদের বাসিন্দা বন্দি ও বিচারাধীন আসামিদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। নভেম্বরের মধ্যে তাদের স্থানান্তরের প্রস্তুতি চলছে।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি ইতিমধ্যে নতুন কারাগারটি পরিদর্শন করেছেন এবং কর্তৃপক্ষকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আধুনিক সুযোগ-সুবিধা

নতুন মডেল কারাগারটিতে খেলাধুলার মাঠ, পাঠাগার, মসজিদ, ইমামবাড়া ও গির্জাসহ বিভিন্ন সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। নারী ও শিশুদের জন্যও পৃথক ওয়ার্ড নির্মাণ করা হয়েছে।

ইসলামাবাদের জন্য আধুনিক সংশোধনাগার গড়ে তোলার পাশাপাশি আদিয়ালা কারাগারের ওপর চাপ কমানো এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে রাজধানীর আদালতগুলোতে বিচারাধীন মামলার আসামিদের আদালতের কাছাকাছি কারাগারে রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%