সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৮:২৯ পি.এম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের সোমবারের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। আইজিপি বলেছেন, "যেখানে ক্রসফায়ার প্রয়োজন হয়, সরকার যদি এলাউ করে তাহলে আমরা সেটাই করব।"
দলটির সহকারী সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানান। তিনি বলেন, আইজিপির এই বক্তব্য চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে এবং এটি সংবিধান ও আইনের শাসনের পরিপন্থী। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে। "আমি তার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।"
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রধান দায়িত্ব বাংলাদেশ পুলিশের। পুলিশ নাগরিকদের সেবক, শাসক নয়। আইজিপি ঢাকার চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা ‘কমিউনিটি ইসলামিকের’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেছেন।
জুবায়ের বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে দেশের নাগরিকদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা ছিল না, বাকস্বাধীনতা ছিল না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে নাগরিকদের হত্যা, ক্রসফায়ার ও গুম করা হতো। আইজিপি আলী হোসেন ফকির তার বক্তব্যের মাধ্যমে সেই একই কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তির হুমকি দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির মধ্যে আইজিপির এমন বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য ও অনভিপ্রেত। তার বক্তব্য দেশে ভয়ের সংস্কৃতিতে ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত দেয় এবং রাষ্ট্রকে নতুন সংকটের দিকে নিয়ে যাওয়ার চক্রান্তের নকশা। সরকারের এবং সরকার দলীয় বিভিন্ন স্তরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হচ্ছে যে, দেশে বিএনপির সন্ত্রাসীদের দমন করতে না পারা, চাঁদাবাজি বন্ধ ও মাদক নির্মূল করতে না পারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চরম ব্যর্থতার পরিচয়। নাগরিকদের জীবনযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী নগরীতে পুলিশের পৃথক অভিযানে মাদক কারবারি ও সেবনকারী সহ ২২জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গত ২৪ ঘন্টায় নগরীর বিভিন্ন থানার অভিযানে গাঁজা, ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল ও মোনোড্রিল সিরাপ সহ তাদের গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই মাদকসেবীকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার বিকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার (সদর), মোঃ গাজিউর রহমান।
তিনি জানান, রবিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে দামকুড়া থানা পুলিশ সোনাইকান্দি এলাকা থেকে ২ বোতল মোনোড্রিল সিরাপ সহ মৃত একরাম আলীর ছেলে মোঃ রাজন আলীকে (৪৪) গ্রেফতার করে। পেশাদার মাদক কারবারী রাজনের বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় ১৫টি মাদক মামলা ও ১টি নন-এফআইআর প্রসিকিউশন রয়েছে।
এরআগে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মহানগর ডিবি পুলিশ পবা থানার সবসার গ্রাম থেকে ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ মৃত ইনসান আলীর ছেলে মোঃ বাবু সরকারকে (৫৫) গ্রেফতার করে। একই দিন দুপুর সোয়া ৩টার দিকে রাজপাড়া থানার আইডি বাগানপাড়া এলাকা থেকে মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন, ১৭ পিস ট্যাপেন্টাডল, ৮ পিস ইয়াবা ও ১২৬ গ্রাম গাঁজাসহ মোঃ আব্দুর রবের স্ত্রী মোসাঃ খালেদা বেগম (২৮) ও মৃত চেরু মিয়ার ছেলে মোঃ সজিব হোসেনকে (২৮) গ্রেফতার করা হয়।
একই দিন রাতে পবা থানা পুলিশ জোতকান্দর গ্রাম থেকে ৪৫ পিস ইয়াবাসহ মোঃ আব্দুল্লাহ আল সুইট (২০) ও তাঁর ভাই মোঃ সাগর আলীকে (২১) গ্রেফতার করে।
এদিকে সোমবার নগরীর শাহমখদুম থানা এলাকা থেকে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় বোয়ালিয়া থানার সিরোইল কলোনীর মৃত খালেকের ছেলে মোঃ লিটন এবং শাহমখদুম থানার হরিয়ার ডাইংয়ের মোঃ ফুয়াদ আলীর ছেলে মোঃ সাজিউল ইসলামকে গ্রেফতার করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লিটনকে ৪৫ দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা এবং সাজিউলকে ১ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৪০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সোমবার সকালে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।#
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নাগরিকদের দ্রুত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করতে থানার সংখ্যা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা নিয়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। বর্তমানে চারটি থানা নিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হলেও ভবিষ্যতে আরও চারটি থানা স্থাপনের মাধ্যমে এ সংখ্যা আটটিতে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিএমপি কমিশনার মো. আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর বান্দ রোডে বিএমপির নিজস্ব কার্যালয়ে সংস্থাটির ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।
বিএমপি কমিশনার বলেন, নগরবাসীর কাছে পুলিশি সেবা আরও সহজলভ্য করা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে ভবিষ্যতে নতুন চারটি থানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মহানগরে পুলিশের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে এবং সাধারণ মানুষ তুলনামূলক দ্রুত সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ। দীর্ঘ দুই দশক ধরে মহানগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ দমন এবং জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব পালন করে আসছে সংস্থাটি। বর্তমানে চারটি থানার মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রায় ৫৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ মহানগরে জনসংখ্যা, যানবাহন ও নাগরিক চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে পুলিশের দায়িত্বও বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে থানা বাড়ানোর পরিকল্পনাকে নগরীর নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিএমপি সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটিতে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৮০০ সদস্য কর্মরত রয়েছেন। তবে নতুন চারটি থানা কোথায় স্থাপন করা হবে, কবে নাগাদ এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে এবং এর জন্য কী পরিমাণ জনবল ও অবকাঠামো প্রয়োজন হবে—সে বিষয়ে অনুষ্ঠানে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সোমবার দুপুরে বিএমপি কার্যালয় প্রাঙ্গণে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ। পরে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, পরিবর্তিত নগর বাস্তবতায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি নিরাপদ নগর গড়ে তুলতে পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগের সঙ্গে নগরবাসীর সহযোগিতাও জরুরি।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো, অভিযোগ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া সহজ করা এবং অপরাধ মোকাবিলায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন থানা স্থাপনের পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর সুফল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় জনবল, পরিবহন, কার্যালয় ও অন্যান্য অবকাঠামোগত প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, বরিশাল মহানগরে থানার সংখ্যা চার থেকে আটটিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা নগর পুলিশের সেবা সম্প্রসারণের একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। এখন পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের সময়সূচি, নতুন থানার অবস্থান এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন নগরবাসী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন নরসিংদী জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ বিল্লাল হোসেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি যুবদলের সর্বস্তরের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। একই সঙ্গে সংগঠনের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, গৌরবোজ্জ্বল আদর্শ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল এবং বেগবান করার দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
শুভেচ্ছা বার্তায় মোঃ বিল্লাল হোসেন নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, "বর্তমান প্রেক্ষাপটে যুবদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে ইস্পাতকঠিন ঐক্য বজায় রাখতে হবে।" তিনি সংগঠনের সাংগঠনিক শক্তিকে আরও সুসংহত করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দলের আদর্শ ও মূল লক্ষ্যকে সামনে রেখে গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে যুবদল সর্বদা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও যেকোনো রাজপথের লড়াইয়ে ও সাধারণ মানুষের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াতে যুবদল প্রস্তুত থাকবে।
সংগঠনের অভ্যন্তরীণ ভিত্তি মজবুত করার তাগিদ দিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, যুবদলের নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সুদৃঢ় ঐক্য বজায় রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। পাশাপাশি দেশ ও জনগণের কল্যাণে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংগঠনের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই শুভক্ষণে নরসিংদী জেলা যুবদলের এই নেতা যুবদলের উত্তরোত্তর সাফল্য, রাজনৈতিক সমৃদ্ধি এবং সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও কল্যাণ কামনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ