বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:০৮ পি.এম
ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সরকার ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে ১০০ কোটি ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়নের জন্য নির্ধারিত।
আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে এ চুক্তির স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইএসডিবি) গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসের উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মিজানুর রহমান এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গ্রুপের পক্ষে সংস্থাটির ডিরেক্টর জেনারেল (কান্ট্রি প্রোগ্রামস) আনাসি আইসামি।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এই তথ্য প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তানভীর গনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গ্রুপের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারাও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এই প্রকল্পের আওতায় ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বছরে ৩০ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের চাহিদার ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হবে।
এই প্রকল্পটি ২০৩০ সালের নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আইএসডিবি চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসের।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদারিত্ব, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
তারা আশা প্রকাশ করেন যে, আগামীতে বাংলাদেশ ও আইএসডিবির মধ্যকার সহযোগিতা ও উন্নয়ন অংশীদারিত্ব আরো জোরদার হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : দক্ষিণ আফ্রিকার সফরে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় এবং শেষ আনঅফিসিয়াল চার দিনের ম্যাচে ট্রিপল সেঞ্চুরির ইনিংস খেলে রেকর্ড বইয়ে নাম লিখিয়েছেন বাংলাদেশ ‘এ’ দলের অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়।
প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের ৫১২ রানের জবাবে, বাংলাদেশ ম্যাচের শেষ দিনে ৮ উইকেটে ৬৭৬ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ১৬৪ রানের লিড অর্জন করে। হৃদয় ৩৫০ রানে অপরাজিত ছিলেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬৪ রানে পিছিয়ে থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের শেষ দিনে বিনা উইকেটে ১৮ রান তোলে। এরপর দুই দল ম্যাচটি ড্র মেনে নেয়। বাংলাদেশ প্রথম আনঅফিসিয়াল চার দিনের ম্যাচে ইনিংস ও ৪১৩ রানে পরাজিত হয়েছিল।
পচেফস্ট্রুমে নিজেদের প্রথম ইনিংসে তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সংগ্রহ ছিল ৬ উইকেটে ৪৭১ রান। হৃদয়ের দল ৪ উইকেট হাতে রেখে ৪১ রানে পিছিয়ে ছিল। দিন শেষে হৃদয় ২০৪ রানে অপরাজিত ছিলেন।
চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনে বাংলাদেশ দ্রুত ২ উইকেট হারায়। নাইম হাসান ১৬ ও হাসান মুরাদ ১১ রানে আউট হন। ৫১৯ রানে বাংলাদেশ অষ্টম উইকেট হারায়। এরপর রেজাউর রহমান রেজাকে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের বিরুদ্ধে দাপট দেখান হৃদয়।
৩৮১ বলে হৃদয় আড়াইশ রান পূর্ণ করেন। ট্রিপল সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে তিনি খুব বেশি সময় নেননি। ৪৫০ বলে তিনশতে পৌঁছান হৃদয়। এরপর দ্রুত রান তুলে মাত্র ৩১ বলে পরবর্তী পঞ্চাশ রান সংগ্রহ করেন হৃদয়। অর্থাৎ ৪৮১ বল খেলে ২৭টি চার ও ১০টি ছক্কায় ৩৫০ রানে অপরাজিত থেকে ৮ উইকেটে ৬৭৬ রানে দলীয় ইনিংস ঘোষণা করেন হৃদয়। এই ইনিংসটি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার সর্বোচ্চ রান। পূর্বে তার সর্বোচ্চ রান ছিল ২১৭।
নবম উইকেটে রাজার সাথে ১৫৭ রানের জুটি গড়েন হৃদয়। এই জুটিতে ১১০ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় অনবদ্য ৩১ রান করেন রাজা। দক্ষিণ আফ্রিকার কাইল সিমন্ডস ২৩৯ রানে ৪ উইকেট নেন।
বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সাড়ে তিনশ রানের ইনিংস খেললেন হৃদয়। এই ইনিংস খেলার মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েন। সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান বোর্ড প্রধান তামিম ইকবালের ৩৩৪ রানকে তিনি টপকে যান। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) সেন্ট্রাল জোনের বিপক্ষে রেকর্ড ইনিংস খেলেছিলেন তামিম।
বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি করলেন হৃদয়। এর আগে রাকিবুল হাসান ৩১৩ এবং তামিম ৩৩৪ রানের ইনিংস খেলেছেন।
দেশের বাইরে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবেও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেছেন হৃদয়। পূর্বে সর্বোচ্চ রান ছিল সাবেক ওপেনার শাহরিয়ার হোসেনের। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে করাচিতে ডিফেন্স হাউজিং অথরিটির বিপক্ষে ২১৮ রান করেছিলেন শাহরিয়ার।
দক্ষিণ আফ্রিকায় দ্বিতীয় সফরকারী ব্যাটার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি করলেন হৃদয়। এর আগে একমাত্র সফরকারী ব্যাটার হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৯৪৮ সালে এমসিসির হয়ে ৩০০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ইংল্যান্ডের ডেনিস কম্পটন।
দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের নজির গড়েন হৃদয়। এই ক্ষেত্রে সবার উপরে আছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনার স্টিভেন কুক। ২০০৯ সালে লায়ন্সের হয়ে ৩৯০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন কুক।
দিনের শেষভাগে ১২ ওভার ব্যাট করে দক্ষিণ আফ্রিকা বিনা উইকেটে ১৮ রান তোলে। এরপর ম্যাচটি ড্র মেনে নেয় দুই দল। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ ‘এ’ এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের মধ্যে তিন ম্যাচের আনঅফিসিয়াল ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পুলিশ উল্টোপথে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে এক মন্ত্রীর গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। এই ঘটনা ঘটেছে আজ বৃহস্পতিবার সকালে সার্কিট হাউজ রোডে। কালের কণ্ঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন ট্রাফিক পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।তিনি জানান, ‘একজন মন্ত্রীর গাড়ি সকাল ৯টা ৮ মিনিটে সার্কিট হাউজ সড়কের উল্টো পথে সচিবালয়ের দিকে যাচ্ছিল। ট্রাফিক পুলিশ পতাকাবাহী গাড়িটি থামিয়ে দেয়। গাড়ির নং ঢাকা মেট্রো –ঘ- ১৮-২১২৫।'তিনি আরও বলেন, 'চালককে জানানো হয় যে, এভাবে উল্টো পথে গাড়ি চালানো ঢাকা মেট্রোপলিট পুলিশের আইনের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। দুইটি মামলা হয়েছে এবং তিন হাজার, তিন হাজার করে মোট ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।'ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ‘রেঞ্জ রোভার’ গাড়ির চালক আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মন্ত্রীর গাড়ি যখন উল্টো পথে যাচ্ছিল, সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর বহর পাশের সড়ক দিয়ে সচিবালয় অভিমুখে অতিক্রম করছিল।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাড়িটি বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রীর ছিল। ওই সময় মন্ত্রী গাড়িতে উপস্থিত ছিলেন।ট্রাফিক কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো মন্ত্রীর গাড়ি উল্টো পথে চলার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এটি নজিরবিহীন ঘটনা। অতীতে মন্ত্রীর গাড়ি গন্তব্যে দ্রুত পৌঁছানোর জন্য অথবা যানজট এড়াতে উল্টো পথে যাওয়ার ঘটনা গণমাধ্যমে এসেছে, কিন্তু মামলার ঘটনা এই প্রথম।মন্ত্রী কিংবা সচিবের গাড়ি উল্টো পথে যাওয়ার এই ঘটনার পরিণতি দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জন্য একটি বার্তা হিসেবে চিহ্নিত হবে বলে মনে করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহ, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : মহেশপুরের একটি এলাকায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ ওষুধসহ এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আজ বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে উপজেলার নেপা গ্রামে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন বাঘাডাংঙ্গা গ্রামের সোহারাব হোসেনের ছেলে জাকরিয়া (২৯) এবং তার স্ত্রী পারভিন খাতুন (১৯)।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মহেশপুর থানা পুলিশের একটি টিম নেপা গ্রামের আব্দুল মালেকের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে পালানোর চেষ্টা করার সময় ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া জাকারিয়া ও তার স্ত্রী পারভীন খাতুনকে আটক করা হয়।
পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘরের বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখা ৬ হাজার ৭শ’ পিস অবৈধ এবং বিক্রয় নিষিদ্ধ ভারতীয় ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল জাতীয় ওষুধ উদ্ধার করে পুলিশ।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান বাসসকে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ মাদক ও মাদকজাতীয় বিক্রয় নিষিদ্ধ অবৈধ ওষুধের চোরাচালান দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংস্কারের পর, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ঢালে তরতর করে বেড়ে উঠছে লাউডগা। মাচার নিচে দুলছে শত শত লাউ। মাচা চলে গেছে যেন দিগন্ত ছাড়িয়ে। প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ মাচার শেষ প্রান্ত দেখা যায় না। চরের বালুমাটিতে সবুজের সমারোহ দিচ্ছে সম্ভাবনার হাতছানি।এমন দৃশ্য এখন ধরলার চরে। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সারডোব থেকে ফুলবাড়ী উপজেলার খোঁচাবাড়ি বাজার পর্যন্ত প্রায় দু কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঁধের ঢালে এই অভিনব চাষ সাড়া ফেলেছে এলাকায়। বাঁধের মাটির ক্ষয়রোধ ও অব্যবহৃত জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদকে ইতিবাচকভাবে দেখছে চরবাসী ও কৃষিবিভাগ।স্থানীয়রা জানায়, ২০১৭ সালের বন্যায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি ভেঙে যায়। গত বছর ভাঙা অংশ মেরামতসহ বাঁধটি সংস্কার করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এর পর থেকে বাঁধের ঢালে চাষাবাদ চলছে স্থানীয়দের।বৃহস্পতিবার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ঢালের কোথাও লাউ, কোথাও বাঁশ; কোথাও কলাগাছ কিংবা অন্যান্য সবজি। এতে বৃষ্টিতে ভাঙনের হাত থেকে বাঁধের ঢাল রক্ষা পাচ্ছে, আবার আবাদ করে লাভবান হচ্ছে চরবাসী। কেউ কেউ বাণিজ্যিক ভিত্তিতেও সবজি চাষ করছে।বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ করছেন এমন কয়েকজনের দেখা মেলে সরেজমিন গিয়ে। জিয়াউল হক জিয়া, আব্দুল হাকিম ও আলতাফ হোসেন রয়েছেন তাদের মধ্যে। হলোখানা ও রাঙামাটি গ্রামে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঁধের দুই পাশের ঢালে মাচায় লাউ চাষ করেছেন যৌথভাবে।জিয়াউল হক জানান, গতবছরই সীমিত পরিসরে বাঁধের ঢালে লাউচাষ করেন। সাফল্য দেখে উৎসাহিত হয়ে এবছর বড় পরিসরে চাষ করছেন। এক মাস আগে গর্তে গোবর দিয়ে উচ্চ ফলনশীল জাতের লাউচারা রোপণ করেন। এরপর জিআই তার ও বাঁশ দিয়ে তৈরি করেন দীর্ঘ মাচা। নিয়মিত সেচ ও পরিচর্যা করে স্বপ্নকে হাতের মুঠোয় নিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন।সরেজমিন দেখা যায়, পানি সেচের জন্য নলকূপ স্থাপনে ব্যস্ত তারা। জানান, চরে এমনিতে তাপপ্রবাহ বেশি। তার ওপর এবার অনাবৃষ্টির দাপট। খরার কারণে সেচ দিতে হচ্ছে বেশি। পাশের বিল থেকে নিয়মিত সেচ দেওয়ায় অনাবৃষ্টি ক্ষতি করতে পারেনি চারার। গর্তে দেওয়া হয়েছে নানা ধরনের রাসায়নিক সার। পরিচর্যা তো চলছেই।মাচায় দুলতে থাকা শত শত লাউ দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। এরই মধ্যে কিছু লাউ বাজারে বিক্রি করেছেন। প্রতিটি লাউ বিক্রি করেছেন ৩০ টাকা দরে। এবছর তারা লাউ ও লাউ শাক বিক্রি করে তিন লাখ টাকা আয় করার স্বপ্ন দেখেছেন। আবাদে খরচ পড়বে এক লাখ টাকা।ঢালের মাচা থেকে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও বড়বাড়িতে পিকআপ বোঝাই করে আড়তে নেওয়া হচ্ছে লাউ। সেখানে বিক্রি হচ্ছে প্রায় হাজার খানেক লাউ, প্রতিটির দাম ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা।জিয়াউলদের পাশেই রাঙামাটি গ্রামের আশরাফুল, মফিজুল ও সোহাগের লাউয়ের মাচা। প্রায় আধা কিলোমিটার অংশজুড়ে তাদের মাচার বিস্তৃতি। সবাই ক্ষুদ্র কৃষক। লাউ চাষের পর তারা স্বপ্ন দেখছেন স্বাবলম্বী হওয়ার।পশ্চিমে হলোখানা গ্রামের আকবর আলী সিরাজুল ইসলাম লাউয়ের পাশাপাশি কলা, বাঁশ ও করলাসহ নানা সবজি চাষ করেছেন।এলাকাবাসী জানায়, বাঁধের ঢালে সবজির ব্যাপক চাষ আশা জাগিয়েছে কৃষকদের। এর মধ্য দিয়ে ভূমিহীনরাও চাষের জন্য পেয়েছে জমির ঠিকানা।সারডোব গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হক জানান, গত বছর থেকে বাঁধের ঢালে সবজি চাষ করা হচ্ছে। এবছর বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কয়েকজন লাউসহ সবজি চাষ করেছেন। সাফল্য দেখে অনেকেই এই অপ্রচলিত চাষ করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। এর মাধ্যমে শুধু উদ্যোক্তারা লাভবান হননি, এলাকায় সবজির চাহিদা পূরণ ও কর্মসংস্থান হয়েছে।কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডেও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুন্না হক জানান, বাঁধের সুরক্ষার জন্য এধরনের চাষবাস বেশ উপকারী। তাই তারা চাষে বাঁধা দেননি। এর মাধ্যমে বাড়তি উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছে কৃষক।কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘বাঁধ ও সড়কের ঢালে সবজি চাষের দিকে ইদানিং অনেক কৃষক ঝুঁকে পড়েছে। বিশেষ করে ভূমিহীন কৃষকরা বাঁধের ঢালে চাষ করে লাভবান হচ্ছে। কৃষি বিভাগ এ ব্যাপারে সব সময় কৃষকদের উৎসাহিত করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ