ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

কুয়াকাটায় সাগরের ভাঙনে পুলিশ বক্স বিলীন, মেরিন ড্রাইভ ও বেড়িবাঁধ হুমকিতে


কুয়াকাটায় সাগরের ভাঙনে পুলিশ বক্স বিলীন, মেরিন ড্রাইভ ও বেড়িবাঁধ হুমকিতে

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে অবস্থিত ট্যুরিস্ট পুলিশের সার্ভিস বক্সটি সাগরের ভাঙনের কারণে সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়ে গেছে। একইসাথে, মেরিন ড্রাইভের সানসেট পয়েন্টসহ বিস্তীর্ণ এলাকা ভাঙনের কবলে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাগররক্ষা বাঁধ এবং নবনির্মিত মেরিন ড্রাইভ সড়কও হুমকির সম্মুখীন হয়েছে।

কুয়াকাটায় ১৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙনের অবস্থা তুলে ধরতে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে মেরিন ড্রাইভ এবং বেড়িবাঁধের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। সেই আশঙ্কা এখন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবারের উত্তাল সাগরের ঢেউয়ের তাণ্ডবে ট্যুরিস্ট পুলিশের সার্ভিস বক্সটি সম্পূর্ণভাবে সাগরে বিলীন হয়ে যায়। এছাড়া, মেরিন ড্রাইভের সানসেট পয়েন্টেও ভাঙনের প্রভাব দেখা গেছে। জিরো পয়েন্ট থেকে পশ্চিমে লেম্বুর বন পর্যন্ত সাগররক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে সিসি ব্লকগুলো দেবে গেছে এবং স্থানচ্যুত হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কিছু এলাকায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেললেও, সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে যে কোনো মুহূর্তে সাগররক্ষা বাঁধ ভেঙে কুয়াকাটার লোকালয়ে লোনা পানি প্রবাহিত হতে পারে।

আরও পড়ুন: বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে ২ মাস পর ১৪০৫ নম্বর ফেইজ থেকে উত্তোলন শুরু

দীর্ঘদিন ধরেই কুয়াকাটা সৈকতে তীব্র ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে উত্তাল ঢেউয়ের কারণে সৈকত ক্রমাগত লোকালয়ের দিকে এগিয়ে আসছে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময় সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি স্থানীয়রা ভাঙন প্রতিরোধের জন্য আন্দোলন করে আসছেন। ভাঙন ঠেকাতে পাউবোর পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে তিনটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছিল। তবে বিভিন্ন কারণে সেগুলো অনুমোদন পায়নি। সর্বশেষ, গত বছর ৭৫৯ কোটি টাকা ব্যয়ে আরেকটি প্রকল্প প্রস্তাব পাউবো জমা দিয়েছে, কিন্তু সেটিও এখনও অনুমোদন পায়নি, ফলে ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

বর্তমানে জিরো পয়েন্টের পশ্চিম প্রান্তে সাগরের বড় বড় ঢেউ সরাসরি বেড়িবাঁধে আছড়ে পড়ছে। এর ফলে বাঁধের সামনে থাকা সিসি ব্লকগুলো নড়বড়ে হয়ে স্থানচ্যুত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বাঁধের স্থায়িত্ব মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়বে।

কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জহিরুল ইসলাম মিরন মন্তব্য করেন, "জিরো পয়েন্টে বর্তমানে যেখানে বেড়িবাঁধ রয়েছে, সেখানে একসময় সমুদ্র ছিল অন্তত দেড় কিলোমিটার দূরে। ভাটার সময় পর্যটকদের দীর্ঘ সৈকত পেরিয়ে সাগরে নামতে হতো। গত ৩০ থেকে ৩৫ বছরে সেই দেড় কিলোমিটার সৈকত সাগরে বিলীন হয়ে এখন সমুদ্র বেড়িবাঁধের কাছে এসে ঠেকেছে।"

কুয়াকাটা উন্নয়ন ও সংরক্ষণ কমিটির সদস্য মো ফারুক মীর জানান, "দেড় কিলোমিটার বিস্তৃত সৈকত ছাড়াও একসময় বেড়িবাঁধের সামনে সরকারি-বেসরকারি অসংখ্য স্থাপনা ছিল। কয়েক বর্গকিলোমিটারজুড়ে ফয়েজ মিয়ার নারিকেল বাগান, এলজিইডির বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট কাম রেস্ট হাউজ, ইকোপার্ক, ঝাউবন, সাগরঘেঁষা সড়ক, হোটেল-মোটেলসহ অনেক স্থাপনাই এখন বিলীন বা হুমকির মুখে। সর্বশেষ ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্সটিও সাগরে চলে গেছে।"

আরও পড়ুন: দৌলতপুরে ১১ বস্তা সার আটক, দীপু ট্রেডার্সকে ২ লাখ টাকা জরিমানা

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ বলেন, "গত ২৫ থেকে ৩০ বছরে কুয়াকাটা আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এখানে চার শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। ব্যবসায়ীরা কয়েক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু সাগরভাঙনের কারণে এখন পুরো পর্যটনশিল্পই হুমকির মুখে। বিষয়টি নিয়ে আমরা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগের পাশাপাশি দফায় দফায় চিঠি দিয়েছি। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধ করা না গেলে কুয়াকাটার পর্যটনশিল্প বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।"

কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, "কুয়াকাটায় ভাঙন প্রতিরোধের জন্য একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের ব্যয় বেশি হওয়ায় হয়তো অনুমোদন পেতে বিলম্ব হচ্ছে। তাই কম ব্যয়সাপেক্ষ একটি বিকল্প প্রকল্প প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রস্তাবনাটি তৈরি হলে তা সরকারের কাছে দাখিল করা হবে। ধাপে ধাপে এ প্রকল্পের মাধ্যমে সাগরভাঙন প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।"

পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন এমপি বলেন, "প্রাথমিকভাবে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প অনুমোদনের কাজ চলছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই কুয়াকাটায় সাগরভাঙন রোধে স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন: এনসিপি কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, দুর্বৃত্তদের হামলা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মহিপুরে আলীপুর মৎস্য বন্দর বিএফডিসির ম্যানেজার শরিফুল ইসলামের অবৈধ অটোচার্জ ধান্ধাবানিজ্য, লক্ষ লক্ষ দূর্নীতি ও অনিয়ম, নিরব কতৃপক্ষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৪ পি.এম


মহিপুরে আলীপুর মৎস্য বন্দর  বিএফডিসির ম্যানেজার শরিফুল ইসলামের অবৈধ অটোচার্জ ধান্ধাবানিজ্য, লক্ষ লক্ষ দূর্নীতি ও অনিয়ম, নিরব কতৃপক্ষ
পটুয়াখালীর মৎস্য বন্দর আলীপুরের বিএফডিসি মার্কেটে চলছে অবৈধ উপায়ে ধান্ধা বানিজ্য ও সীমাহীন নৈরাজ্য। দেশে যখন বিদ্যুতের সংকট চলছে। সরকার বিদ্যুৎ অপচয় রোধে অতিরিক্ত আলোক সজ্জা, রাত আটটায় মার্কেট বন্ধ সহ সংকট মোকাবেলায় নানামুখী উদ্যেোগ নিয়েছে। ঠিক সেই মুহুর্তে কলাপাড়ার মৎস্য বন্দর আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের বিএফডিসি মার্কেটে চলছে তার উল্টোটা। খোদ বিএফডিসি মার্কেটের ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম সরকারি মিটার থেকে অটোচার্জ ও সাব মিটার বানিজ্যের মাধ্যমে মাসে প্রায় লাখ টাকা আত্মসাৎ করছে এমন অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিএফডিসি অফিসের সরকারি মিটার থেকে অবৈধভাবে লাইন দিয়ে রাত দিনে মিলে প্রতিদিন গড়ে অর্ধশত ব্যাটারী চালিত অটোভ্যান চার্জ দেয়া হয়। প্রতিটি অটোভ্যান থেকে মাসে ১ হাজার থেকে ১৫ শত টাকা করে নেওয়া হয়।
 
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, মার্কেটে প্রায় অর্ধশতাধিক মাছের আড়ৎ রয়েছে। প্রতিটি আড়তে একটি করে সাব মিটার রয়েছে। এসব সাব মিটার ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে বানিজ্যিক রেটে বিল নেওয়া হয়।
অথচ বিএফডিসি মার্কেটটি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এবং সরকারী প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সর্বনিম্ন বিদ্যুৎ বিল নেয়া হয়। আর এই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে বিএফডিসি মার্কেটের ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম অটোভ্যান চার্জের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে আসছে গত তিন বছর ধরে। 
 
স্থানীয় ও বিএফডিসি অফিস সুত্রে জানা যায়, গত আগস্ট মাসে ১৬ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল এসেছে বিএফডিসি মার্কেটে। অথচ অটোভ্যান ও সাব মিটার থেকে মাসে প্রায় লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। উত্তোলনকৃত এসব টাকার নেই কোন রশিদ কিংবা হিসাব। ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম দাবি করেন মার্কেটের শুরু থেকেই চার্জ বানিজ্য চলে আসছে। এ থেকে ৫ বছরে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবী।
 
গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ গভীর রাতে আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে অবস্থিত বিএফডিসি মার্কেটে ৩৫ থেকে ৪০ টি অটোভ্যান চার্জ দেয়া হচ্ছে। ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে গিয়েও দেখা গেছে ১৫-২০টি অটোভ্যান চার্জ দেয়া রয়েছে।
 
মার্কেটের সাথে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি জানান, মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মাছ আনা নেয়ার কাজে ব্যবহ্নত ৬০-৭০ টি অটোভ্যান দিন রাতে চার্জ দেয়া হয়। অটোভ্যান চার্জের টাকা রাজস্ব খাতে জমা না দিয়ে ম্যানেজার, হিসাব রক্ষক সহ কর্মকর্তা ভাগ ভাটোয়ারা করে নিচ্ছে। 
 
অটোভ্যান চার্জ বানিজ্য, সাব মিটার বানিজ্যসহ আড়তগুলোর রাজস্বে শুভঙ্করের ফাঁকিসহ নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বিষয় জানতে চাইলে বিএফডিসি মার্কেটের ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম অটোভ্যান বানিজ্যের কথা স্বীকার করলেও এবিষয়ে তিনি ডকুমেন্টারি বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, ব্যবসায়ীদের অনুরোধে অটোভ্যান চার্জ দেওয়ার সূযোগ করে দিয়েছেন। এ টাকা সরকারি খাতে জমা হয় কিনা এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে না পেরে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে মার্কেটের ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে ফোন দিয়ে তার অফিসে জড়ো করে। প্রথমে বিএফডিসি মার্কেটের শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি সালাউদ্দিন, এর কিছুক্ষণ পরে আসে লতাচাপলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ সুলতান মুসুল্লি, লতাচাপলী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সেচ্ছাসেবক দলের মহিপুর থানার সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান মিলন, আলীপুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, ট্রলিং বোট ব্যবসায়ী আবুল হোসেন কাজীসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী।
এসব ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে বিএফডিসি মার্কেটের অন্যান্য কর্মকর্তারা ট্রলিংয়ের মাছ টানতে বাধা দেয়া হচ্ছে বলে উস্কানি দেয়া হয়। তাদেরকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়। তবে আগত ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অনেকেই তাতে সাড়া দেননি।
 
এসময় বিএনপির সভাপতি গনমাধ্যম কর্মী দের  বলেন, ম্যানেজার অটোভ্যান চার্জ দিয়ে সরকারি বিল দিয়ে যা থাকে তাতে ওনার পকেট খরচ চলে। 
 
ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম তার নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা ধামাচাপা দিতে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে ভোরের কাগজের কুয়াকাটা প্রতিনিধি, কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনু, তার সহযোগী দৈনিক তৃতীয় মাত্রার কুয়াকাটা প্রতিনিধি রুমী শরীফকে মব সৃষ্টি করে হেনস্তার চেস্টা করে ব্যর্থ হন।
 
বিএফডিসি মার্কেটের আরেকটি  সুত্র জানায়, মার্কেটে প্রায় অর্ধশত আড়ৎ রয়েছে। এসব আড়ৎ গুলোতে গভীর সমুদ্র থেকে মাছ শিকার করে নিয়ে এসে এখানে খোলা বাজারে বিক্রি করে থাকে। গভীর সমুদ্রের কোন কোন ট্রলারে দেড়শো থেকে দুই'শ মন ইলিশ নিয়ে এসে আড়ৎ এ ৩০-৪০ লাখ টাকায় বিক্রি করছে। যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছে। এসব মাছ থেকে আসা সরকারি রাজস্বের হিসাবেও ব্যাপক গড়মিল রয়েছে। দেড়শো মন ইলিশ বিক্রির বড় দাগের মাছের রাজস্বের হিসেব নেই। আড়তদারদের সাথে সন্ধি করে নামমাত্র রাজস্ব দেখিয়ে আসছে। বড় অংশই চলে যায় কর্মকর্তা কর্মচারীদের পকেটে।
স্থানীয়রা জানান, আলীপুর বিএফডিসি মার্কেট ও মহিপুর মাছের আড়ৎ থেকে গত পাঁচ বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা লোপাট করা হয়েছে।
 
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) মার্কেট তৈরী ও রক্ষণাবেক্ষণে খাতে ব্যাপক টাকা সরকারকে গচ্ছা দিতে হচ্ছে প্রতি বছর। সেখানে কর্মকর্তা কর্মচারীরা বিএফডিসি কতৃপক্ষের অনুমতি ব্যাতিরেকে অবৈধ ব্যাটারী চালিত অটোভ্যান চার্জ, সাব মিটার বানিজ্য এবং  মাছ বেচাকেনায় রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সরকারি সাইনবোর্ড ব্যবহার করে লক্ষ লক্ষ টাকা নানাভাবে লোপাট করে আসছে দীর্ঘদিন ধর।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবী, এসব অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা বন্ধ না হলে এ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি লাভের মুখ দেখবে না কখনো। 
 
এবিষয়ে কুয়াকাটা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম সম্রাট খান জানান, বিএফডিসি মার্কেটে অবৈধভাবে অটোভ্যান চার্জের বিষয়ে অবগত নন। এমনটা হয়ে থাকলে লাইন কেটে দেয়া হবে।
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তামাকপণ্যের বিস্তার রোধে প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ : জহির উদ্দিন স্বপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৪ পি.এম


তামাকপণ্যের বিস্তার রোধে প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ : জহির উদ্দিন স্বপন

ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপন মন্তব্য করেছেন যে, তরুণ প্রজন্মকে নিকোটিন আসক্তি থেকে সুরক্ষা দিতে নতুন ধরনের তামাকপণ্যের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশি তরুণদের ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট ও নিকোটিন পাউচ ব্যবহার প্রবণতা’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তামাক পণ্যের কার্যকর নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রচলিত তামাকপণ্যের পাশাপাশি ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট ও নিকোটিন পাউচের মতো নতুন পণ্যের বিপণন এবং সহজলভ্যতা তরুণদের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী। এ সময় সংসদ সদস্য ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং সিটিএফকের দক্ষিণ এশিয়া প্রোগ্রামসের আঞ্চলিক পরিচালক ডা. মাহিন মালিক বক্তব্য রাখেন।

আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান বলেন, তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং তরুণদের মধ্যে এসব পণ্যের ব্যবহার তাদের নিকোটিন আসক্তির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। নতুন ধরনের তামাকপণ্যের সহজলভ্যতা ও আকর্ষণীয় বিপণন তরুণদের এসব পণ্যের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে পারে। তাই তরুণদের সুরক্ষায় এসব পণ্যের ব্যবহার ও সহজলভ্যতা কমানোর পাশাপাশি বিজ্ঞাপন, প্রচার ও বিক্রির ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি।

খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী বলেন, তরুণদের নিকোটিন আসক্তি থেকে রক্ষা করতে এসব পণ্যের বিজ্ঞাপন, প্রচার ও পৃষ্ঠপোষকতা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিক্রির ক্ষেত্রে বয়স যাচাই নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী। গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সমন্বয়ক ডা. অরুনা সরকার।

গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বর্তমানে ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি) ও নিকোটিন পাউচের মতো নতুন ধরনের তামাকপণ্য ব্যবহার করছেন। আর ২৮ দশমিক ১ শতাংশ তরুণ জীবনে অন্তত একবার এসব পণ্য ব্যবহার করেছেন।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে পরিচালিত গবেষণায় ২০২৫ সালের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত অনলাইন জরিপের মাধ্যমে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী ৫২৪ জন তরুণের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণায় অংশ নেওয়া উত্তরদাতাদের মধ্যে ৭৮ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ এবং ২১ দশমিক ৮ শতাংশ নারী ছিলেন।

গবেষণায় আরও দেখা যায়, নতুন ধরনের তামাকপণ্যের মধ্যে ই-সিগারেটের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। অংশগ্রহণকারীদের ৪ দশমিক ৬ শতাংশ ই-সিগারেট, ১ দশমিক ৩ শতাংশ নিকোটিন পাউচ এবং শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি) ব্যবহার করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রবীণ রাব্বিরা যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার প্রতি সমর্থন জানালেন পশ্চিম তীরে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৪ পি.এম


প্রবীণ রাব্বিরা যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার প্রতি সমর্থন জানালেন পশ্চিম তীরে

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ব্রিটিশ রাব্বি (ইহুদি ধর্মীয় নেতা)। তারা সতর্ক করে বলেছেন যে, ফিলিস্তিনিদের ওপর চরমপন্থী বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা কোনোভাবেই সহ্য করা উচিত নয়।

গত মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে পণ্য আমদানির ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে তাদের নিজস্ব ঘরবাড়ি থেকে উৎখাত করার এই প্রক্রিয়া মূলত 'জাতিগত নিধন' (এথনিক ক্লিনজিং)-এর সামিল।

যদিও যুক্তরাজ্যের চিফ রাব্বি স্যার এফ্রাইম মির্ভিস সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং সতর্ক করে বলেছেন যে, এই পদক্ষেপ তাদের আরও উসকে দিতে পারে যারা "ইহুদিদের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ঘৃণা ব্যবহার করে।"

তবে অন্যান্য রাব্বি, বিশেষ করে ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রগতিশীল ধারার নেতারা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের এই পরিকল্পনাকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। তারা অন্যান্য ইহুদি নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন বসতি স্থাপনকারীদের এই সহিংসতাকে তারা চেপে না যান বা উপেক্ষা না করেন।

মাসোরতি জুডাইজম-এর প্রবীণ রাব্বি জোনাথন উইটেনবার্গ দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন: "পশ্চিম তীরে আজ যা ঘটছে তা হলো 'হিলুল হাশেম'—অর্থাৎ ঈশ্বরের পবিত্র নামের চরম অবমাননা। এমন পরিস্থিতিতে আমরা চুপ করে বসে থাকতে পারি না।" তিনি আরও যোগ করেন, "শান্তিতে বাঁচতে চাওয়া ফিলিস্তিনিদের জন্য এটি একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক পরিস্থিতি। এমনকি এটি ইসরায়েলের নিজেদের ভবিষ্যতের জন্যও ভয়াবহ।"

উইটেনবার্গ আরও বলেন: "আমাদের অবশ্যই প্রতিবাদ জানাতে হবে। মানবিকতা, ন্যায়বিচার এবং স্বয়ং ইসরায়েল ও ইহুদি ধর্মের স্বার্থেই আমাদের কথা বলতে হবে। আমরা মুখ ফিরিয়ে থাকতে পারি না।" সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের সাথে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি গ্রাম 'উম্ম আল-খাইর' সফর করে নিজের চোখে সহিংসতা প্রত্যক্ষ করেছিলেন রাব্বি উইটেনবার্গ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার সঠিক সময়।"

এদিকে বুধবার প্রকাশিত 'ইউগভ'-এর এক তাৎক্ষণিক জরিপে দেখা গেছে, শতকরা ৫২ ভাগ উত্তরদাতা ব্রিটিশ সরকারের এই বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করেছেন, যেখানে মাত্র ১৭ ভাগ মানুষ এর বিরোধিতা করেছেন।

বুধবার 'প্রাইম মিনিস্টার্স কোশ্চেনস' (পিএমকিউ) সেশনে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ কমন্সে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম বলেন, "আজকের এই কঠিন ও বিপজ্জনক বিশ্বে ব্রিটেনকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। ব্রিটেনকে নেতৃত্বের ভূমিকা দেখাতে হবে এবং সব ধরনের অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।" নিউ লন্ডন সিনাগগের রাব্বি জেরেমি গর্ডন, যিনি সরকারের এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তিনি বলেন: "চরমপন্থী বসতি স্থাপনকারী এবং তাদের সমর্থকদের সামনে নিশ্চুপ থাকা, নিষ্ক্রিয়তা প্রদর্শন করা কিংবা তাদের তুষ্ট করার চেষ্টা করা সম্পূর্ণ ভুল।"

তিনি আরও বলেন, "এসব বসতি স্থাপনকারীদের কৌশলই হলো—বিশ্বের ভালো মানুষ বা ইহুদিরা তাদের সমস্ত অবৈধ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে নমনীয়ভাবে দেখবে অথবা এড়িয়ে যাবে।" লন্ডনের কিংসটন লিবারেল সিনাগগের রাব্বি লেভ টেলরও এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা জারি করে "সরকার সঠিক পথেই এগোচ্ছে।"

বিতর্কিত 'ই-ওয়ান' করিডোরে ইসরায়েলের নতুন করে বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঠিক সেই মুহূর্তে যুক্তরাজ্য সরকার এই পদক্ষেপ নিল। উল্লেখ্য, ই-ওয়ান এলাকায় নতুন কোনো নির্মাণকাজ শুরু হলে তা পশ্চিম তীরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশকে পূর্ব জেরুজালেম থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। ফলে ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন ও অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ভৌগোলিক সম্ভাবনা সম্পূর্ণ নস্যাৎ হয়ে যাবে।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, অধিকৃত ভূখণ্ডে নির্মিত সমস্ত ইসরায়েলি বসতি সম্পূর্ণ অবৈধ—যা ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) কর্তৃক পুনর্নুমোদিত হয়েছিল। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিলিব্যান্ডের এই ঘোষণার পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের সাথে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হলেও, কানাডা ও ফ্রান্সসহ বিশ্বের আরও ১১টি দেশ যুক্তরাজ্যের এই পথ অনুসরণ করে একই ধরণের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের এই বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার টাইমিং নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করা থেকে বিরত ছিলেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে তিনি প্রথমে ইসরায়েলের সাথে কথা বলে তাদের মনোভাব জানতে চান।

টেক্সাসে একটি রিপাবলিকান কনভেনশনে যাওয়ার পথে ইউকে-র বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে ট্রাম্প বলেন: "আমি বিষয়টি দেখেছি এবং আমি শিগগিরই ইসরায়েলের সাথে কথা বলব। তারা কী ভাবছে তা আমি আগে জেনে নিতে চাই।" তিনি আরও বলেন, "সেখানে ঠিক কী ঘটছে তা আমি খুব ভালো করেই বুঝতে পারছি, কিন্তু আমি জানতে চাই হঠাৎ করে কেন যুক্তরাজ্য এই সিদ্ধান্ত নিল?"

তবে জানা গেছে, গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী বার্নহামের সাথে এক ফোনালাপে যখন তাকে এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছিল, তখন ট্রাম্প এর বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো আপত্তি জানাননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের জন্য ১,১০০ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় সম্মানিতে বরাদ্দ : ধর্মমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৫ পি.এম


ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের জন্য ১,১০০ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় সম্মানিতে বরাদ্দ : ধর্মমন্ত্রী

ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) জানিয়েছেন, ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের রাষ্ট্রীয় সম্মানি কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

আজ সকালে রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।

মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ) আরও জানান, এই বরাদ্দের মাধ্যমে ৮৬ হাজার ৭০৯টি প্রতিষ্ঠানের ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীকে রাষ্ট্রীয় সম্মানির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ধর্মীয় প্রধানদের সম্মানী প্রকল্পের পাইলটিং পর্যায়ে ৪ হাজার ৬৮৩ জন ইমাম, ৪ হাজার ৩১২ জন মুয়াজ্জিন, ৩ হাজার ৭৮৪ জন খাদেম, ৫৮৬ জন পুরোহিত, ৪২২ জন সেবাইত, ৯৫ জন বৌদ্ধ অধ্যক্ষ এবং ৬৭ জন উপাধ্যক্ষসহ মোট ১৩ হাজার ৯৪৯ জনকে ভাতা প্রদান করা হয়েছে।

মন্ত্রী পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, মহান আল্লাহ হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে ‘রহমাতাল্লিল আলামীন’ হিসেবে প্রেরণ করেছেন। মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ পৃথিবীর সবার জন্য এক শাশ্বত আলোকবর্তিকা। তিনি ছিলেন অনিন্দ্য ও অনুপম চরিত্রের অধিকারী। একজন আদর্শ মানুষের প্রয়োজনীয় সব ইতিবাচক গুণ তাঁর পুণ্যময় চরিত্রে বিদ্যমান ছিল। মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে সবাইকে জীবন গড়ার আহ্বান জানান তিনি।

হজ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর ইতিহাসে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে হাজিরা তাদের অব্যয়িত অর্থ ফেরত পেয়েছেন- এমন নজির নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বলিষ্ঠ উদ্যোগ ও সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশে সেই নজির স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে।’

তিনি জানান, ২০২৬ সালের হজে সরকারি ব্যবস্থাপনার আওতায় মোট ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজির অনুকূলে ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ২০২৩ সালে যেখানে হজের বিমানভাড়া ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে তা কমিয়ে এ বছর মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় আনা সম্ভব হয়েছে।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদের কাছে আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য বিশেষ দোয়া চাই। মহান আল্লাহ তাআলা যেন তাঁকে সব ধরনের ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করেন।’

নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, ২০০৮ ও ২০০৯ সালে রাজনৈতিক মামলার কারণে তিনি চরম সংকটে পড়েছিলেন। ওই সময়ই তার হিপ জয়েন্ট ভেঙে যায় এবং চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে যেতে হয়। তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের অত্যাচার ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে এটিকে আল্লাহর অশেষ রহমত হিসেবে দেখেন তিনি। পরবর্তীতে দুবাই বিমানবন্দরে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতার হলেও মহান আল্লাহর ওপর সুদৃঢ় বিশ্বাসের শক্তিতে তিনি অলৌকিকভাবে মুক্তি পান বলে উল্লেখ করেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিকল্পনা ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক ঘোষণার ধারাবাহিকতায় ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৫’-এর আওতায় ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে। উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও আধুনিক জ্ঞানচর্চায় বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আরও এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুন আক্তারের প্রবন্ধে মুগ্ধ হয়ে ধর্মমন্ত্রী তাকে ব্যক্তিগতভাবে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি অন্য ১১ জন বিজয়ী শিক্ষার্থীকে উৎসাহিত করতে আরও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন।

অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%