বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৫৪ পি.এম
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন জানিয়েছেন, নাগরিক ভোগান্তি দূরীকরণের লক্ষ্যে তিনটি ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিনি গোরহাঙ্গা রেলগেট এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের অগ্রগতি, সড়কের বর্তমান অবস্থা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার সার্বিক বিষয় সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন।
এ সময় রাসিক প্রশাসক সংশ্লিষ্টদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে গোরহাঙ্গা রেলগেট ও আশপাশের এলাকার সড়কের খানাখন্দ দ্রুত মেরামত এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন।
রাসিক প্রশাসক সাংবাদিকদের বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নাগরিক সেবা সুনিশ্চিত করতে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি।" তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ফ্লাইওভারগুলোর নির্মাণকাজ স্থবির ছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ফ্লাইওভারগুলোর কাজ দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছেন। নাগরিক ভোগান্তি দূরীকরণে তিনটি ফ্লাইওভারের কাজ দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন হবে। নির্মাণকাজ শেষ হলে নাগরিকদের জন্য তা উন্মুক্ত করা হবে। নগরবাসীর চলাচলে স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনসহ বিভিন্ন নাগরিক দুর্ভোগ নিরসনে সিটি করপোরেশন গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। চলমান উন্নয়নকাজগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথভাবে সম্পন্ন করার পাশাপাশি কাজের মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাজশাহী সিটি করপোরেশন কর্তৃক বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের সব ওয়ার্ডে এ অভিযান পরিচালিত হবে। তিনি বলেন, "সবার সহযোগিতায় আমরা ডেঙ্গুমুক্ত নগরী গড়তে কাজ করে যাচ্ছি।"
পরিদর্শনকালে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের জিএম আহমেদ হোসেন মাসুম, রাসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, নির্বাহী প্রকৌশলী নিলুফার ইয়াসমিনসহ সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে স্বস্তি এনে চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ১ শতাংশ। এই সময়ের মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ১ হাজার ৮৯৪ কোটি মার্কিন ডলার। এটি আগের বছরের একই সময়ের ১ হাজার ৬৭৪ কোটি ডলারের তুলনায় ২২০ কোটি ডলার বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পর্যালোচিত ছয় মাসের মধ্যে মোট পাঁচ মাসেই প্রবাসী আয় ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। এর মধ্যে গত আগস্ট মাসে সর্বোচ্চ ২২ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। চলতি বছরের মার্চে ৩৭৫ কোটি ডলার আসার পর এপ্রিলে ৩১৩ কোটি এবং মে মাসে এসেছে ৩৪৩ কোটি ডলার। জুনে প্রবাহ কিছুটা স্থির (২৮১ কোটি ডলার) থাকলেও জুলাইয়ে তা আবার বেড়ে ২৮৬ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। এরপর আগস্টে আসে ২৯৬ কোটি ডলার।
এই ছয় মাসে দেশের রেমিট্যান্সের সবচেয়ে বড় উৎস ছিল মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি দেশ। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে সর্বোচ্চ ৩০৮ কোটি ৮ লাখ ডলার এসেছে। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য থেকে ২৯৪ কোটি ২ লাখ, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২২৬ কোটি ৭২ লাখ, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৭১ কোটি ৬৫ লাখ এবং মালয়েশিয়া থেকে ১৪৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার দেশে এসেছে। মূলত এই পাঁচ দেশ থেকেই মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৬০ দশমিক ৭ শতাংশ আয় পরিবাহিত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের ওপর প্রবাসীদের আস্থা বৃদ্ধি এবং হুন্ডি নিরুৎসাহিত করতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর কারণেই এই প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ইতিবাচক ধারা বজায় থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনীতিতে আরও স্থায়িত্ব আসবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সহযোগিতায়, শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবার জন্য দুটি আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স সংযুক্ত করেছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে নতুন অ্যাম্বুলেন্স দুটি উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম এবং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নতুন অ্যাম্বুলেন্স দুটিতে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সিলিন্ডার, ফার্স্ট এইড বক্সসহ আধুনিক সুবিধা রয়েছে। এর পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা, হটলাইন নম্বর, স্ট্রেচার ও হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা এবং দ্রুত রোগী পরিবহনের সুবিধাও থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার থেকে সরাসরি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) রোগী নেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে।
এদিকে, গুরুতর অসুস্থ হলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের সুপারিশক্রমে এসব অ্যাম্বুলেন্সে সড়কপথে ঢাকায় নেওয়ার সুবিধা থাকবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
নতুন অ্যাম্বুলেন্স পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের প্রধান কর্মকর্তা মাহফুজা সিদ্দিকা লিপি। তিনি জানান, "আমাদের মেডিকেল সেন্টারে অ্যাম্বুলেন্স সংকট অনেক দিন ধরেই ছিল। নতুন অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে আজ সেই সংকট কিছুটা দূর হবে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা আশাবাদী, মেডিকেল সেন্টারের অন্যান্য সমস্যাগুলোও প্রশাসন দূর করবে।"
উদ্বোধনকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, "আমরা অনেক আগে থেকেই অ্যাম্বুলেন্সের বিষয়ে কাজ শুরু করেছি। আজ একটি অ্যাম্বুলেন্স এসে পৌঁছেছে, আরেকটি আসছে। এই দুটি অ্যাম্বুলেন্সই আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহার করা হবে। একটি আধুনিক অ্যাম্বুলেন্সে যা যা প্রয়োজন, তার সবই এখানে রয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "আমাদের ছেলেমেয়েরা গুরুতর অসুস্থ হলে রামেকের ওপর নির্ভর করতে হয়। ইউজিসির সহযোগিতা পেলে আমরা আমাদের মেডিকেল সেন্টারেই চার-পাঁচটি আইসিইউ বেড স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছি। সেখানে আইসিইউ বিশেষজ্ঞও থাকবেন। খুব দ্রুতই লোকবল সংকটেরও সমাধান হবে। আমাদের মেডিকেল সেন্টার আরও বড় করা, আধুনিক মেশিন সংযুক্ত করাসহ বিস্তর পরিকল্পনা রয়েছে। সময়ের সঙ্গে আপনারা সবকিছুই পাবেন। আমি কর্মে বিশ্বাসী।"
উদ্বোধনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আসলাম হোসেন, ছাত্রউপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এএইচএম খুরশিদ আলম, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. এস এম কামরুজ্জামান, অফিসার সমিতির সহ-সভাপতি রোকনুজ্জামান মামুন, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ