রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:১১ পি.এম
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিস্তৃত অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করেছে। নিয়োগ-পদায়ন, বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্য, টেন্ডার ও উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন, এবং বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করে ভিলা ও ব্যবসায় বিনিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আর্থিক অনিয়ম ও লেনদেনের যে পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে, তা প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছায়। যুগান্তর দুদকের সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
সূত্র জানাচ্ছে, এর মধ্যে দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ সবচেয়ে বড়। বাকি অর্থের অভিযোগ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, বিভিন্ন পদে নিয়োগ, প্রকল্প, টেন্ডার এবং ঘুস লেনদেনের সঙ্গে জড়িত।
গত ২ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ বদলি, কেনাকাটা সিন্ডিকেটসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে অনুসন্ধানে। দুদক জানায়, নতুন অভিযোগটি আগের অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে।
ডিসি পদায়নেও টাকার খেলা
দুদক জানাচ্ছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। একইভাবে সারা দেশে ৩৬ জন ডিসি পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। ৩৬ জনের ক্ষেত্রে অভিযোগে উল্লেখিত সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ অঙ্কের সম্ভাব্য লেনদেনের পরিমাণ ৭২ কোটি থেকে ৩৬০ কোটি টাকা। বিষয়টি অনুসন্ধানে যাচাই করবে দুদক।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার বাণিজ্যের সঙ্গেও আসিফ মাহমুদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
প্রকল্পে ১২০০ কোটি টাকা বাড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আবেদনে। ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদের নিজ উপজেলা মুরাদনগরের জন্য গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। ওই প্রকল্পের বরাদ্দ ও অর্থ গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
১০ কোটি ঘুসে ওয়াসার এমডি নিয়োগ
ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য ১০ কোটি টাকা উৎকোচ নেওয়ার বিষয়টিও অনুসন্ধান করছে দুদক। এলজিইডির সাবেক চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুর রশীদ খানকে ৫২ কোটি টাকা ঘুসের বিনিময়ে নিয়োগ এবং ৬৫ কোটি টাকার বিনিময়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সিইও হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতেও কোটি কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
বিদেশে ১১ হাজার কোটি
দুদক দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চার দেশে মোট অর্থপাচারের অভিযোগ ১১ হাজার কোটি টাকা। এসব অর্থ দিয়ে বিভিন্ন দেশে বিলাসবহুল ভিলা কেনা এবং ব্যবসায় বিনিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের গ্রিন গ্রুপে বিনিয়োগ এবং সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা রাখার অভিযোগও করা হয়েছে।
দুদকে দেওয়া আবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, আসিফ মাহমুদের দুই বোনজামাই ও এক ভাগ্নের মাধ্যমে বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে।
বাবা-এপিএস-পিওর বিরুদ্ধেও অভিযোগ
অভিযোগে আসিফ মাহমুদের বাবা বিল্লাল হোসেন ও এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ করা হয়েছে। তার পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ঘুস লেনদেনে তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া হেলিকপ্টারে কম্বল বিতরণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় এবং বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থানে গুলিভর্তি ব্যাগ নিয়ে প্রবেশের ঘটনাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাশাপাশি পাঁচ তারকা হোটেলে নিয়মিত যাতায়াত, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও গাড়ি ব্যবহারের বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এসব বিষয়েই অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।
আগের অনুসন্ধানে যা ছিল
এর আগেও আসিফ মাহমুদসহ সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
ওই অনুসন্ধানে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও পদায়নের মাধ্যমে ৭৬ লাখ টাকা, ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং পদোন্নতির পর পছন্দের জায়গায় পদায়নের জন্য ২ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের টেন্ডার, কেনাকাটা ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগের কথাও বলা হয়। চার সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিমকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এখন বড় পরিসরে অনুসন্ধান
নতুন অভিযোগে একাধিক মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশন, উন্নয়ন প্রকল্প, নিয়োগ-পদায়ন এবং চার দেশে অর্থপাচারের অভিযোগ একসঙ্গে এসেছে। বিশেষ করে বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের তথ্য থাকায় বিষয়টি বড় পরিসরে অনুসন্ধানের আওতায় এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পর্যটনের জন্য পরিচিত ইন্দোনেশিয়ার বালি এবার ক্রিকেটের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হতে চলেছে। এখানে নির্মিত হচ্ছে বালি ইন্টারন্যাশনাল ওভাল।
এছাড়াও, দুটি মাঠকে শুধুমাত্র ভেন্যু হিসেবে নয়, বরং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের একটি উন্নতমানের ক্রিকেট উন্নয়ন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পরিকল্পনা রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার।
ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের তথ্য অনুযায়ী, বালি ইন্টারন্যাশনাল ওভালকে কেন্দ্র করে ইন্দোনেশিয়ার একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের ক্রিকেট কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্য হলো, এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় ক্রিকেটারদের প্রশিক্ষণ ও প্রতিভা বিকাশের সুযোগ বৃদ্ধি করা এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের সক্ষমতা তৈরি করা।
প্রকল্পটির উন্নয়নে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (ওয়াকা) সহায়তা নেয়া হচ্ছে। তারা পিচ, মাটির মান, পানি নিষ্কাশন ও সেচ ব্যবস্থার মতো বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করছে।
ওয়াকার হাই-পারফরম্যান্স ও প্রতিভা উন্নয়ন বিভাগের ব্যবস্থাপক ক্রিস ব্রাবাজন মন্তব্য করেছেন, ‘এই প্রকল্প ইন্দোনেশিয়ার ক্রিকেটে পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা রাখে।’
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এটি নিউজ জানিয়েছে, ২০২৭ সালের মে মাসে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক বাছাইপর্বে ভেন্যুটি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এই বাছাইপর্বে আটটি দলের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।
আইসিসির পূর্ব এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কর্মকর্তারাও এই প্রকল্পটিকে ইন্দোনেশিয়ার ক্রিকেটের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করছেন।
ইন্দোনেশিয়ার ক্রিকেটের সাম্প্রতিক অগ্রগতি এই পরিকল্পনাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। দেশটির নারী ক্রিকেট দল এশিয়া কাপে জায়গা করে নিয়েছে এবং জাতীয় পর্যায়ে ক্রিকেটের পরিধিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে উন্নত অবকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা বেড়ে গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্রিকস নেতাদের সতর্ক করেছেন প্রযুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে। তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বিশ্বে যৌথ অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে এতদিনের অর্জনগুলোকে নষ্ট করে দিতে পারে। বর্তমান আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বে কোনো সংকটই আর একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।
রবিবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের উপস্থিতিতে বক্তব্য রাখেন মোদি। তিনি বলেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্বব্যাপী কোনো দেশকেই প্রভাবমুক্ত রাখছে না।
মোদি আরও বলেন, মহামারি, জলবায়ুজনিত দুর্যোগ ও সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন প্রমাণ করেছে যে বর্তমান পরস্পরনির্ভর বিশ্বে কোনো সংকটই শুধু একটি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকে না। এ কারণে সংকট মোকাবিলায় ব্রিকসের সক্ষমতা ও স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, সংক্রামক রোগের বিস্তার ঠেকানো এবং তা মোকাবিলায় ব্রিকসের সমন্বিত আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ঐকমত্য হয়েছে। এ বিষয়ে আগাম সতর্কতা ও তথ্য সমন্বয়ের নির্দেশিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে।
ভারতের সভাপতিত্বে ব্রিকসের কার্যক্রমে স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়ন—এই চারটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মোদি। বিশ্ব নেতাদের সহযোগিতায় অভিন্ন লক্ষ্যকে ‘উভয়ের জন্য লাভজনক’ বাস্তবতায় রূপ দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে নেতারা যৌথ ছবি তোলেন। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি জানাচ্ছে, অনুষ্ঠানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আগের দিন প্রকাশিত নয়াদিল্লি ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সর্বোচ্চ সংযমের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের স্থায়ী দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে ব্রিকস। গাজায় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে ইসরায়েলের আইনগত বাধ্যবাধকতার কথাও উল্লেখ করা হয়।
নয়াদিল্লি ঘোষণায় একতরফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দ্রুত প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বাড়তে থাকা সুরক্ষাবাদী নীতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, নির্বিচারে শুল্ক বৃদ্ধি ও পরিবেশবান্ধব বাণিজ্য বাধার নামে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে এবং উদীয়মান অর্থনীতিগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের নতুন চেয়ারম্যান ও রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার (দীপু)কে সম্মাননা স্মারক প্রদান ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ। এ সময় জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কোনো জনগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য করা হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ কার্যালয়ে এ সম্মাননা ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
শুভেচ্ছা বিনিময়কালে চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার বলেন, রাঙামাটি জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের বৈষম্য করা হবে না। পার্বত্য অঞ্চলের সব জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন গঠিত রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ কাজ করবে।
তিনি বলেন, কোনো জনগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য করা হবে না। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং সরকারের ওপর জনগণ আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে পারেন। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা অনুযায়ী জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
দীপন তালুকদার আরও বলেন, গত ১৭ বছরে রাঙামাটির অনেক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বিসিক কুটির শিল্পের কথা উল্লেখ করে বলেন, একসময় ৮৫ জন জনবল থাকলেও বর্তমানে সেখানে মাত্র ১৬ জন কর্মরত রয়েছেন। জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তরিত বিভাগগুলোও পর্যায়ক্রমে কার্যকর ও গতিশীল করে জেলার উন্নয়নের ধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, জেলার অন্যান্য জনগোষ্ঠীর মতো বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নেও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও মুখপাত্র নির্মল বড়ুয়া মিলন বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দীপন তালুকদারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি জেলার সব জনগোষ্ঠীর জন্য রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা বৈষম্যহীনভাবে নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাঙামাটিতে বসবাসরত বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর সদস্যদের প্রতিও বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।
নির্মল বড়ুয়া মিলন আরও বলেন, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯-এর আওতায় জেলার অন্যান্য জনগোষ্ঠীর ন্যায় বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে তিনি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান উপদেষ্টা অজিতানন্দ মহাথেরো, উপদেষ্টা সমরজিত বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় কমিটির অরবিন্দ্র বড়ুয়া, রাঙামাটি জেলা কমিটির সহ-সভাপতি উদয়ন বড়ুয়া ও নয়ন বিকাশ বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক অপু বড়ুয়া, অর্থ সম্পাদক ডা. প্রকাশ চৌধুরী বড়ুয়া, রাঙামাটি পৌর কমিটির সভাপতি শিপু রঞ্জন বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়াসহ কেন্দ্রীয়, জেলা, পৌর ও উপজেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সম্মাননা স্মারক প্রদান ও শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে রাঙামাটি শহরের আসামবস্তী এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠনের কার্যালয়ে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, গত ২০ আগস্ট রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার (দীপু)কে চেয়ারম্যান করে ১৫ সদস্যের রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ পুনর্গঠন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। পুনর্গঠিত পরিষদে সদস্য হিসেবে রয়েছেন—শাশ্বত চাকমা, বিল্টু চাকমা, সুবিমল চাকমা, অনিল বরণ চাকমা, উথোয়াইমং মারমা, পাইচিং মং মারমা, প্রেমা তালুকদার, তিমথী খিয়াং, সুপর্ণ দেব বর্মণ, মোহাম্মদ মানুনুর রশিদ, মো. তোফাজ্জল হোসেন, মোহাম্মদ ফারুক, নন্দিতা দাশ ও চন্দ্রা চাকমা।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত পুনর্গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের দায়িত্ব পালন করবে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালে গঠিত পরিষদ বাতিল করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে দুর্গম পার্বত্য এলাকার মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) খাগড়াছড়ি রিজিয়ন ও জেলা সদর হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে এই চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে সার্জারি, মেডিসিন, চর্মরোগ, স্ত্রীরোগ ও চক্ষু বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী চলা এই কার্যক্রমে মোট ৮৬১ জন রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয়।
খাগড়াছড়ি রিজিয়নের আওতাধীন বিভিন্ন জোনের উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনায়, প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকার রোগীদের জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলে দুর্গম এলাকার পাহাড়ি ও বাঙালি জনগণের অনেকেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা গ্রহণের সুযোগ পান।
আয়োজকেরা জানান, যোগাযোগব্যবস্থা ও ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে পার্বত্য অঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এ ধরনের উদ্যোগের ফলে ওই এলাকার মানুষ প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত চিকিৎসা ও পরামর্শ সহজে পাওয়ার সুযোগ পান।
পার্বত্য অঞ্চলে সম্প্রীতি ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে বিভিন্ন মানবিক সহায়তা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ